নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন

[প্রকাশের তারিখঃ ১৬ অক্টোবর, ২০১৩]
বাংলাদেশের মানুষ পরিবর্তন চায়।
কিন্তু স্থায়ী পরিবর্তনের জন্য পরিবর্তনটা দেশের আপামর জনসাধারণের মধ্য দিয়েই আসতে হবে।

মানুষ কিভাবে পরিবর্তন আনবে?

গ্রামের মানুষগুলো …

গ্রামের মানুষগুলো এক হয়ে কি গ্রামের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসতে পারে না?
যেসব যুবক আড্ডা দিয়ে সময় কাটাত, তারা কি চাইলেই পারে না এক হয়ে নতুন নতুন উদ্যোগ নিয়ে সবার চোখে “হিরো” হয়ে উঠতে?
কোন নির্দিষ্ট জাতি ধর্ম বর্ণ গোষ্ঠী দল বা পেশার মানুষের উপর যাতে অন্যায় না হয়, সবাই এক হয়ে কি তা নিশ্চিত করতে পারে না?  #MinorityRights
পারে না যৌতুক, বাল্যবিবাহ এবং এসব থেকে উদ্ভূত বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা, যেমন নারী নির্যাতন, এর বিরুদ্ধে সবাই মিলে অবস্থান নিতে? #WomenEmpowerment
শুরু হোক না গ্রামে গ্রামে বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিযোগিতা – বছর শেষের উৎসবে প্রত্যেকে নিজ নিজ গ্রাম নিয়ে গর্ব করুক – কোন গ্রাম হয়ত শিক্ষায়, কোন গ্রাম কৃষিতে, আর কোন গ্রাম নারী অধিকার এবং মর্যাদা রক্ষায়।

তরুণ প্রজন্ম …

আমাদের আছে প্রাণশক্তিতে ভরপুর বিশাল একটা তরুণ প্রজন্ম

দেশের ৫০ ভাগ মানুষের বয়স ২৩ বা তারও কম। এই তরুণদের মাঝে স্বপ্ন, উদ্যম, উৎসাহের কোন ঘাটতি নেই। ওরা পরাজয় খুব একটা দেখেনি – তাই পরাজয় খুব একটা মানতেও চায় না। ওরা পছন্দ করে একসাথে সময় কাটাতে।

দেশের তরুনরা না হয় দল বেঁধে নতুন নতুন উদ্যোগ নিয়ে সমস্যা সমাধানে ঝাঁপিয়ে পড়ল – হতে পারে নিজেদের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন সমস্যা, হতে পারে নিজেদের এলাকার। কেউ হয়ত উদ্ভাবন করে বসলো এমন কিছু যা দিয়ে অনেক অনেক মানুষের জীবনের একটা দিক পুরোপুরি বদলে যাবে।

আমাদের আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর তরুণ প্রজন্ম হয়ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোকে সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাইবে! #YouthEmpowerment

 

আর বাকিরা …

বাকিরাও তখন বসে থাকবে কেন?

ব্যবসায়ী সমাজ এই বিশাল কর্মযজ্ঞে তাদের অভিজ্ঞতা নিয়ে দুহাত বাড়িয়ে দেবেন – নিজেদেরও মুনাফা হল, অনেক মানুষের জীবন পরিবর্তনের অংশও হওয়া গেলো।
তরুণদের সাথে পাল্লা দিয়ে পেশাজীবীরা নিজ নিজ দায়িত্ব আরও সৃজনশীলতা, আরও দক্ষতার সাথে সম্পাদন করবেন।
দেশের আলোকিত মানুষরা উন্নত নৈতিক চরিত্র এবং মূল্যবোধ সমৃদ্ধ সুনাগরিক গড়ে তুলতে অবদান রাখবেন।
সত্য এবং সুন্দরের স্বপ্নে সবাইকে অনুপ্রাণিত করবেন সাহিত্যিক আর শিল্পীরা
পেশাজীবী আর শ্রদ্ধেয় শিক্ষক সমাজ এক হয়ে মনের মত করে গড়ে তুলবেন নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান।
আইনজীবীরা এক হয়ে লড়বেন জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আর জনগণ সকল অন্যায়, অবিচার তা যেকোন বেক্তি, প্রতিষ্ঠান বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে হোক না কেন – সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন।
সত্য অনুসন্ধান ও প্রকাশ করবেন এবং জনগণ তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন সাংবাদিকরা
শিক্ষাবিদদের অনুপ্রেরণায় দেশের প্রত্যেক নাগরিক হয়ে উঠবেন চিন্তাশীল – নিজেদের জ্ঞান বিচারবুদ্ধি যুক্তি বিবেচনা দিয়ে তারা সিদ্ধান্ত নেবেন।
দেশের বুদ্ধিজীবী আর সুশীল সমাজ বাস্তব কর্ম পরিকল্পনায় নিজেদের মেধার সবটুকু ঢেলে দিবেন।
গড়ে উঠবে এমন সংগঠন, যে সংগঠন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিভিন্ন উদ্যোগ এর সমন্বয় করবে, দেশের বিভিন্ন সমস্যার নতুন নতুন সমাধান বের করে বাস্তবায়ন করবে, জাতিধর্মবর্ণ নির্বিশেষে প্রত্যেক শ্রেণীপেশার মানুষের স্বার্থ যাতে সংরক্ষিত হয় তা গনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সবার মতামতের ভিত্তিতে নিশ্চিত করবে।

 

আর আমাদের রাজনীতিবিদরা?

রাজনীতিবিদরাও তখন স্বার্থ ভুলে সবার সাথে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করবেন।

না মিলিয়ে পার পাবেই বা কেমন করে!

 

স্বপ্নের বাংলাদেশ

এভাবে প্রত্যেকেই যখন নিজ নিজ অবস্থানে থেকে নিজের চেয়েও বড় কোন স্বপ্নে নিজেকে যুক্ত করবেন, দেশটাও তখন স্বপ্নের মত করে গড়ে উঠবে।

বড় কোন স্বপ্নকে সামনে রেখে সেই লক্ষ্যে কাজ করার মত আনন্দ আর কিছু আছে?

 

আমরা কি তবে স্বপ্ন দেখতে পারি?

আমরা কি স্বপ্ন দেখতে পারি, আগামী নির্বাচনের আগেই দেশের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে?

 

নতুন রাজনীতির সূচনা

আগামী নির্বাচনটা হবে কালো টাকা, পেশি শক্তির প্রভাব মুক্ত।  #SayNoToCorruption

প্রত্যেক এলাকার সাংসদ প্রার্থীরা মনোযোগ দিবেন সবাইকে নিয়ে নিজ নিজ এলাকার বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে। যিনি এই কাজ সবচেয়ে দক্ষতা আর সৃজনশীলতা আর সততার সাথে করে সবার আস্থা অর্জন করতে পারবেন, এলাকার জনগণ তাকেই বেছে নেবেন। তিনি হবেন জনগণের নন্দিত নেতা। তিনি জানেন, দলে বা সরকারে পদের চাইতেও বেশি স্থায়ী এবং গুরুত্বপূর্ণ হল জনগণের হৃদয়ে স্থান।

আমরা কি আশা করতে পারি না, আগামী নির্বাচন হবে মেধা ভিত্তিক? সাংসদ পদ প্রার্থীরা জরিপ করে জনগনের মন বোঝার চেষ্টা করবেন এবং সেই অনুযায়ী মন জয়ের চেষ্টা করবেন। তারা শুধু নিজেদের বক্তব্য জনগণকে শোনাবেন না, বরং তাদের আগ্রহ বেশি থাকবে জনগণের বক্তব্য, আশা আকাঙ্ক্ষা, সমস্যা শোনায় এবং সেইসব আশা আকাঙ্ক্ষা, সমস্যা বাস্তবায়নে বাস্তব কর্ম পরিকল্পনা গ্রহণে।

আমরা কি আশা করতে পারি না, অন্তত কয়েকটি এলাকায় কয়েকজন সাংসদ প্রার্থী বা মনোনয়ন প্রত্যাশী খুব দ্রুত এই ধরনের উদ্যোগ নিয়ে সবার জন্য উদাহরণ সৃষ্টি করবেন – আমাদের মিডিয়া তাদের উদ্যোগকে আনুপ্রানিত করবে – আর তাতে – যারা উদ্যোগ গ্রহণ করা থেকে পিছিয়ে থাকবেন, নির্বাচনে জয়ের সম্ভবনায়ও তারা পিছিয়ে পড়বেন। এই বোধোদয় রাজনীতিতে সুস্থ প্রতিযোগিতার সূচনা করতে পারে।

পরিবর্তনের এই হাওয়া দ্রুত স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি নির্বাচন আর নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাঝে ছড়িয়ে পড়বে। আর এভাবেই দেশের রাজনীতিতে নতুন ধারার সূচনা হবে।

 

নতুন ধারার রাজনৈতিক দল

বাংলাদেশের নতুন ধারার রাজনীতিতে রাজনৈতিক দলগুলোও হবে নতুন ধারার।

গনতন্ত্রের চর্চা শুধু দেশ পরিচালনায় না, বরং রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ কর্ম পরিকল্পনায়ও ফুটে উঠবে। দলের শীর্ষ পদসহ প্রতিটি পদে নিয়োগ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নির্ধারিত হবে। এতে যোগ্য বাক্তিদের বিজয় সুনিশ্চিত হবে। দলের প্রত্যেক নেতাকর্মী সমর্থক এবং তাদের মতামত হয়ে উঠবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যেক দলের সৎ, যোগ্যতর নেতাকর্মী সমর্থকরা এই শুভ পরিবর্তনে ভূমিকা রাখবেন।

স্থানীয় থেকে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক – দলের প্রতিটি পর্যায়ে একক কর্তৃত্বের বদলে ক্ষমতার ভারসাম্য থাকবে। আর ক্ষমতার ভারসাম্য থাকলে নিশ্চিত হবে জবাবদিহিতা। প্রতিটি নির্বাচনে প্রার্থী নির্বাচনেও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রাধান্য পাবে। জনগণের আস্থা, জনগণের মন জয় করে দলের নেতা কর্মীরা প্রার্থিতা নিশ্চিত করবেন।

দেশের কোন রাজনৈতিক দল যদি দ্রুত এসব ইতিবাচক পরিবর্তন এনে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে, তা দেশের সব রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য অনুকরণীয় আদর্শ হয়ে থাকবে।

 

আগামীর সরকার

নতুন ধারার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিযোগিতার মাধ্যমে যে দল বা জোট ক্ষমতায় আসবে, দেশের এবং দেশের জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে তারা নতুন নতুন লক্ষ্যমাত্রা এবং সেসব লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে সৃজনশীল কর্মসূচি হাতে নেবে। আগামী সরকার বিভিন্ন সূচকে উন্নতিকে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে নিয়ে কর্ম পরিকল্পনা হাতে নেবে – জিডিপি প্রবৃদ্ধির হারকে ৮% এ উন্নীত করবে, মাথাপিছু আয়ের দিক দিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোকে ছাড়িয়ে যাবে, দুর্নীতির সূচকে ব্যাপক উন্নতি দেখাবে, অপরাধ শক্তভাবে দমন করে বিভিন্ন অপরাধ সূচকে (index) উন্নতি দেখাবে, বিভিন্ন সামাজিক সূচকে (যেমন শিক্ষা, শিশু মৃত্যু হার ইত্যাদি) লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করবে।

নিজেদের মানদণ্ডে নিজেদের সাফল্য, অপরের বার্থতার প্রচার নয়, বরং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডই সাফল্য – বার্থতার মূল্যায়ন করবে।

 

 

আমরা দেখতে চাই দারিদ্রমুক্ত, অন্যায়-অপরাধ-দুর্নীতি মুক্ত সুখী সমৃদ্ধ উন্নত বাংলাদেশ

“নেক্সট ইলেভেন” এ থাকা ১১ টি দেশের একটি বাংলাদেশ – একদিন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ হয়ে উঠবে এমন স্বপ্ন আমরা দেখতেই পারি।

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s