দুর্নীতি দূরীকরণ এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অর্থনৈতিক অগ্রগতি

রাজনীতিতে নানা হতাশার মাঝে বাংলাদেশের যে কটা বিষয় নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আমরা গর্ব করতে পারি তার একটা হল গত দশ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে দেশের উচ্চ জিডিপি (GDP) প্রবৃদ্ধির হার (৬-৭%)। অপরদিকে, একটি ক্ষেত্র রয়েছে যেটিতে আন্তর্জাতিক বিশ্বে আমাদের অবস্থান লজ্জাজনক – দেশে দুর্নীতির ব্যাপকতা
  • দুর্নীতি কমিয়ে দিতে পারলে আরও অনেক কিছুর সাথে যে ব্যাপারটি ঘটবে তা হল, আমাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার বেশ খানিকটা বেড়ে যাবে।
  • আইনের শাসন প্রতিস্থিত হলে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার আরও বাড়বে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জমি দখল বন্ধ হলে সাধারণ জনগণের সম্পত্তি জনগণের কাছেই থেকে যাবে।
  • প্রবৃদ্ধির হারে আরও যোগ হবে যদি ভয় দেখিয়ে জনগণকে হরতাল পালনে বাধ্য করার সংস্কৃতি বন্ধ করা যায়।

দেশে দুর্নীতি করে জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে (হলমার্ক কেলেঙ্কারি ইত্যাদি)।

জনগণের টাকা “কালো টাকা”য় রূপান্তরিত হচ্ছে এবং এই কালো টাকা চলে যাচ্ছে দেশের বাইরে। এই সম্পদ দেশে ফিরিয়ে আনতে পারলে জিডিপি বেশ খানিকটা বাড়বে।

 

একটা রুই-কাতলা আকারের দুর্নীতি ছিল পদ্মা সেতু দুর্নীতি। পদ্মা সেতু দুর্নীতি দেশের ৩ কোটি জনগোষ্ঠীকে পিছিয়ে দিয়েছে এবং অর্থনৈতিক উন্নতি, শিল্প প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণকে থামিয়ে দিয়েছে।

কুইক রেন্টাল দুর্নীতি আরেকটি বড় আকারের দুর্নীতি।

দুর্নীতি হ্রাস পেলে অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বগুলো যোগ্য ব্যক্তিদের হাতে নাস্ত হবে এবং যোগ্য ব্যক্তিরা অধিকতর দক্ষতার সাথে কর্ম সম্পাদন করবেন (অযোগ্য বেক্তিদের দুর্নীতি করে, ঘুষ দিয়ে পদ দখল বন্ধ হবে)।

কথায় আছে, গুণীর কদর না হলে সে দেশে গুণী জন্মায় না। ভাল কাজের, দক্ষতার, মেধার মূল্যায়ন হলে প্রত্যেকে আরও ভাল কাজ করবে, দেশের চেহারা পাল্টে যাবে। দুর্নীতি দূরীকরণ বাবসা সহজ করায় ভূমিকা রাখবে। বাবসায়িদের পদে পদে ঘুষ-চাদা দিতে হবে না। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে।

জনগণকে জোর করে হরতাল-অবরোধ পালনে বাধ্য করাকে রুখে দিতে পারলে জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়বে। হিসাব মতে – একদিনের হরতালে ক্ষতি হয় প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা। বাস্তবে ক্ষতি আরও বেশি বলেই আমরা মনে করি। সেই সাথে আছে “জালাও-পোড়াও” – যানবাহন, কারখানা কোন কিছুই এর হাত থেকে রেহাই পায় না। দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি আরও অনেক বেশি – বিদেশি বিনিয়োগ কারিরা কি হরতাল দেখে পিছিয়ে পড়েন না?

ভারতের মাথাপিছু জিডিপি (পিপিপি) $3,991, পাকিস্তানের $3,144, আর বাংলাদেশের $2,083। [2013]
বাংলাদেশের জিডিপির মোট আকার – $324.628 বিলিয়ন। ধরা যাক, শীর্ষ দুর্নীতিবাজদের কালো টাকা দেশে ফিরিয়ে এনে বিনিয়োগ করা হল এবং তাতে ১ বছরে পণ্য এবং সেবার আকার বাড়ল $108 বিলিয়ন। তাহলে মাথাপিছু জিডিপি হবে $2,776।

এক হিসাব মতে, দেশের শীর্ষ ৯০ জন ধনী বেক্তির সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ $15 বিলিয়ন।

$15 বিলিয়ন কতটুকু তা বুঝতে আমরা বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের দিকে তাকাই। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ৩ ধনী কার্লোস স্লিম, বিল গেটস এবং ওয়ারেন বাফেটের প্রত্যেকের সম্পদের পরিমাণ $55 থেকে $75 বিলিয়ন ডলার। বিশ্বে বিলিয়নেয়ার (প্রায় সাত হাজার আটশ কোটি টাকার মালিক) আছেন ১৪২৬ জন [2]

দুর্নীতি রুখে দিতে পারলে এবং সেই সাথে বাবসা-বিনিয়োগ-উদ্যোক্তা-শিল্প বান্ধব পরিকল্পনা হাতে নিয়ে বাস্তবায়ন করতে পারলে মাথাপিছু আয়ের দিক দিয়ে বছরখানেকের মাঝে ভারত-পাকিস্তান দুই প্রতিবেশীকে ছাড়িয়ে যাওয়া সম্ভব

“নেক্সট ইলেভেন” [4] এ থাকা ১১ টি দেশের একটি বাংলাদেশ – একদিন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ হয়ে উঠবে এমন স্বপ্ন আমরা দেখতেই পারি।

রেফরেন্সঃ

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s