নাগরিক শক্তির অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনার রূপরেখা

নাগরিক শক্তি সরকার গঠন করে যেসব অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নেবেঃ

  • বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূচকে (মাথাপিছু আয়, জিডিপি প্রবৃদ্ধি, দুর্নীতি হ্রাস ইত্যাদি) উন্নতিকে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে নেওয়া হবে। কিছু সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রার উল্লেখ থাকবে ইশতেহারে। বিভিন্ন সূচকে উন্নতিকে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে নিয়ে কর্ম পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হবে –
    • জিডিপি প্রবৃদ্ধির হারকে বর্তমান ৬% থেকে যত দ্রুত সম্ভব ১০% এ উন্নীত করা হবে। জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৮% হলে মাথাপিছু আয় দ্বিগুণ হতে ৯ বছর (rough estimate) লাগবে। হার ১০% হলে দ্বিগুণ হতে ৭ বছর (rough estimate) লাগবে। ১২% হলে দ্বিগুণ হতে ৬ বছর লাগবে। {(1+ 0.08)^x = 2, x = 9} {(1.10)^x = 2, x = 7.27} {(1.12)^x = 2, x = 6.12}
    • মাথাপিছু আয়ের দিক দিয়ে কয়েক বছরে প্রতিবেশী দেশগুলোকে ছাড়িয়ে যাওয়ার লক্ষ্য থাকবে। ভারতের মাথাপিছু জিডিপি (পিপিপি) $3,991, পাকিস্তানের $3,144, আর বাংলাদেশের $2,083; হিসাবটি খুব সহজ। মাথাপিছু জিডিপির দিক দিয়ে পাকিস্তানকে ছাড়িয়ে যেতে দেশে উৎপাদিত মোট পণ্য ও সেবার পরিমাণ দেড়গুণ করতে হবে আর ভারতকে ছাড়িয়ে যেতে দেশে উৎপাদিত মোট পণ্য ও সেবার পরিমাণ দ্বিগুণ করতে হবে। অন্যভাবে বললে, দেশে এখন যেসব প্রতিষ্ঠান আছে, প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠান যদি পণ্য / সেবা উৎপাদন দ্বিগুণ করতে পারে তবে সম্মিলিতভাবে আমরা প্রতিবেশী দেশগুলোকে ছাড়িয়ে যেতে পারবো।
    • দুর্নীতি দমন সূচকে ব্যাপক উন্নতি আনা হবে
    • অপরাধ শক্তভাবে দমন করে বিভিন্ন অপরাধ দমন সূচকে উন্নতি ঘটানো হবে।
    • বিভিন্ন সামাজিক সূচকে (যেমন শিক্ষা, শিশু মৃত্যু হার ইত্যাদি) লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা হবে
    • নিজেদের মানদণ্ডে নিজেদের সাফল্য, অপরের বার্থতার প্রচার নয়, বরং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডই সাফল্য – বার্থতার মূল্যায়ন করবে।
  • ভিন্ন ভিন্ন সেক্টরের জন্য স্বল্প মেয়াদী এবং দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ।
    • আইসিটি সেক্টর এক্সপোর্টকে বর্তমান প্রতি বছর ১০০ মিলিয়ন ডলার থেকে কিভাবে দ্রুত ১ বিলিয়ন ডলার এবং পরবর্তীতে গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রি (বর্তমানে প্রতি বছর প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার) কে ছাড়িয়ে যাওয়া যায় সেই লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং সবাইকে সাথে নিয়ে বাস্তবায়ন।
    • গার্মেন্টস শিল্পের প্রসারে প্রয়োজনে দেশের জমিতে দেশীয় কৃষকদের মাধ্যমে স্বল্প খরচে তুলা উৎপাদন হবে। গার্মেন্টস এর কিছু কাজ যান্ত্রিক উদ্ভাবনের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় করা যাতে একই সময়ে উৎপাদন আরও বাড়ানো যায়। দেশে নির্মিত পণ্যবাহী জাহাজ দিয়ে বিদেশে গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানি করা হবে।
    • এভাবে এক একটা সেক্টরের জন্য সামগ্রিক পরিকল্পনা।
  • প্রযুক্তি দিয়ে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানঃ
    • নিরাপদ পানি  [9]
    • স্বল্প মূল্যে বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন এবং সরবরাহ (যেমন রিকশার / সাইকেলের চাকার ঘূর্ণনে বিদ্যুৎ উৎপন্ন [10] হতে পারে যে বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।) কুইক রেন্টাল ইত্যাদির মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করায় বিদ্যুতের দাম বেড়ে গেছে।
    • মোবাইল ফোনের সার্বজনীন ব্যবহারের সর্বোচ্চ সদ্যবহার করে বিভিন্ন রকম সার্ভিস প্ল্যাটফর্ম চালু করা (ভালু আডেড সার্ভিস হতে পারে) যাতে ডেভলাপাররা তাদের সৃজনশীলতা দিয়ে বিভিন্ন রকম মোবাইল ভিত্তিক সার্ভিস দিতে পারে এবং জনগণ সেই সার্ভিসগুলো ব্যবহার করে লাভবান হতে পারে।
    • যান্ত্রিক উদ্ভাবনের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয় করা।
    • জৈব প্রযুক্তিবিদ, জৈব তথ্য প্রযুক্তিবিদদের [11] উন্নত প্রশিক্ষণ দিয়ে দেশের এবং রপ্তানি বাণিজ্যে ভূমিকা রাখার জন্য যোগ্য করে গড়ে তোলা হবে।
    • উৎসাহী জনগণকে প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রযুক্তি উদ্ভাবনে সক্ষম করে গড়ে তোলা হবে।
  • দেশের ৫০ ভাগ মানুষের বয়স ২৩ বা তার কম। এই বিশাল তরুণ প্রজন্মকে, যারা কর্মক্ষেত্রের জন্য নিজেদের তৈরি করছে, তাদের অগ্রাধিকার দিয়ে গড়ে তোলা হবে (এবং সাথে বাবসা বান্ধব, বিনিয়োগ বান্ধব, উদ্যোক্তা বান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা লক্ষ লক্ষ তরুনের জন্য) যাতে তারা নিজেদেরকে এবং দেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। একটা সামগ্রিক পরিকল্পনা – কত হাজার তরুনের শিক্ষা, দক্ষতা কোথায়, তাদের কর্মসংস্থান / উদ্যোগ কিরকম হতে পারে।
  • অর্থনীতিবিদদের নেতৃত্বে “ন্যাশনাল ইকোনমিক অ্যান্ড প্ল্যানিং কাউন্সিল” গঠন করা হবে। অর্থনীতিবিদদের নেতৃত্বে এই কাউন্সিলে যোগ দেবেন শিল্প বাবসায়ি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি বাবসায়ি, প্রকৌশলী, নগর পরিকল্পনাবিদ, স্থপতি, পরিসংখ্যানবিদ, কৃষক এবং শ্রমিক সমাজের প্রতিনিধিরা। বাবসা বান্ধব, বিনিয়োগ বান্ধব, উদ্যোক্তা বান্ধব, শিল্প বান্ধব নীতিমালা প্রনয়ন এবং বাস্তবায়ন।
    • বাংলাদেশের “উৎপাদনের” এর সমস্ত “input” (Land, Labor, Capital) এর statistics নিরূপণ করা যায়। আমাদের technological possibility কতটুকু, উন্নত শিক্ষা এবং উদ্ভাবনের মাধ্যমে কতটুকু বাড়ানো যাবে তাও নিরূপণ করা যায়। এভাবে দেশের “Production-possibility Frontier” নিরূপণ করা যায়। দেশের “input”, “output” এবং “technology” নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নেওয়া যায়।
  • সামাজিক ব্যবসা [3] এবং সামাজিক এন্টারপ্রাইস প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে ব্যবসা-উদ্যোগের ধারণা প্রয়োগ করা হবে।
  • দুর্নীতি কমিয়ে দিতে পারলে [4] আরও অনেক কিছুর সাথে যে ব্যাপারটি ঘটবে তা হল, আমাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার বেশ খানিকটা বেড়ে যাবে। আইনের শাসন প্রতিস্থিত হলে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার আরও বাড়বে। প্রবৃদ্ধির হারে আরও যোগ হবে যদি ভয় দেখিয়ে জনগণকে হরতাল পালনে বাধ্য করার সংস্কৃতি বন্ধ করা যায়। দুর্নীতি হ্রাস পেলে অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বগুলো যোগ্য বেক্তিদের হাতে নাস্ত হবে এবং যোগ্য বেক্তিরা অধিকতর দক্ষতার সাথে কর্ম সম্পাদন করবেন। দুর্নীতি কমলে ব্যবসায়িদের ঘুষ – চাঁদা দিতে হবে না। ভারতের মাথাপিছু জিডিপি (পিপিপি) $3,991, পাকিস্তানের $3,144, আর বাংলাদেশের $2,083; বাংলাদেশের জিডিপির মোট আকার – $324.628 বিলিয়ন। ধরা যাক, শীর্ষ দুর্নীতিবাজদের কালো টাকা দেশে ফিরিয়ে এনে বিনিয়োগ করা হল এবং তাতে ১ বছরে পণ্য এবং সেবার আকার বাড়ল $108 বিলিয়ন। তাহলে মাথাপিছু জিডিপি হবে $2,776; কালো টাকা ফিরিয়ে আনতে পারলে এবং দুর্নীতি রুখে দিতে পারলে, সেই সাথে বাবসা-বিনিয়োগ-উদ্যোক্তা-শিল্প বান্ধব পরিকল্পনা হাতে নিয়ে বাস্তবায়ন করতে পারলে মাথাপিছু আয়ের দিক দিয়ে কয়েক বছরে ভারত-পাকিস্তানকে ছাড়িয়ে যাওয়া সম্ভব।
  • সিন্ডিকেট তৈরি করে মনোপলির মাধ্যমে দাম বাড়িয়ে দেওয়ার দায়ে অভিযুক্তদের শক্তভাবে প্রতিরোধ করা হবে – আইনের আওতায় আনা হবে।
  • উন্নত অবকাঠামো তৈরি + জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ + রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা > অধিকতর বিনিয়োগ > জিডিপি প্রবৃদ্ধি
  • দেশের জনগণকে ভয় দেখিয়ে, “জ্বালাও – পোড়াও” চালিয়ে, জানমালের ক্ষতি করে অর্থনীতির জন্য চরমভাবে ক্ষতিকর হরতাল পালনে কেউ যাতে বাধ্য করতে না পারে – সে লক্ষ্যে কঠোর বাবস্থা
  • উদ্যোক্তাদের নতুন বাবসা শুরু করার প্রক্রিয়া সহজ করার জন্য বাবস্থা গ্রহণ – সমস্যাগুলো সমাধান করা। উদ্যোক্তাদের জন্য স্বল্প সুদে ঋণ ব্যবস্থা, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল, ইঙ্কিউবেটার ফার্ম প্রতিষ্ঠায় সহায়তা।
  • আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তরুণ তরুণীরা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উদ্যোক্তা প্রতিযোগিতায় পুরষ্কার জয় করে আনছে [5]। দেশে উদ্যোক্তা বান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে পারলে যে বিপ্লব ঘটবে – এসব তারই নির্দেশক।
  • ব্যবসার ক্ষেত্রে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও ব্যবসায়ের খরচ কমিয়ে আনার লক্ষ্যে ব্যবস্থা।
  • বাংলাদেশীদের বিদেশে বিশেষ করে “Emerging Economy” গুলোতে এবং Developed Countries এর high growth rate কোম্পানিগুলোতে বিনিয়োগের সুযোগ করে দেওয়ার লক্ষ্যে ব্যবস্থা।
  • আইসিটি খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে এই খাতের বিকাশে সামগ্রিক পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন। দক্ষ আইসিটি পেশাজীবী, উদ্যোক্তা গড়ে তোলা, সারা দেশে দ্রুতগতির ইন্টারনেট ছড়িয়ে দেওয়া, আইসিটি ভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলতে দূরদর্শী পরিকল্পনা হাতে নেওয়া।
  • বিভিন্ন সম্ভাবনাময় শিল্প (শিপ বিল্ডিং, ইলেক্ট্রনিক্স, মেডিক্যাল ডিভাইস [6], অটোমোবাইল, পর্যটন, বায়োটেকনোলজি, বায়ো ইনফরমেটিক্স সার্ভিস, ওষুধ শিল্প প্রভৃতি) কে চিহ্নিতকরণ, লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ, অগ্রাধিকার দিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ, ক্ষেত্র সংশ্লিষ্ট সমস্যা সমাধান এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়ন। বাংলাদেশে একটা “ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিভলিউশান” খুবই সম্ভব। নাগরিক শক্তি Fortune Global 500 [7] এ বাংলাদেশী একটা Corporation কে দেখতে চায়।
  • বাংলাদেশী পণ্য রপ্তানির উপযোগী নতুন নতুন দেশ এবং বাজার নির্ধারণ করে সেসব দেশ এবং বাজারে বাংলাদেশী পণ্য রপ্তানির লক্ষ্যে উদ্যোগ নেওয়া হবে। [2]
  • পর্যটন শিল্পের বিকাশে বিদেশী পর্যটকদের নিরাপত্তা দেওয়া, প্রয়োজনীয় ফ্লাইট কানেক্টিভিটি, Beautiful Bangladesh কে বিশ্বব্যাপী মার্কেটিং, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সাথে সম্মিলিত প্যাকেজ চালু সহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
  • ইন্ডাস্ট্রি – অ্যাকাডেমিয়া কলাবরেশান। SUST, DU, BUET, NSU সীমিত আকারে শুরু করেছে। পণ্য গবেষণা এবং পণ্য ডেভলাপমেন্টে ইউনিভার্সিটি এবং ইন্ডাস্ট্রি একত্রে কাজ করবে।
  • বাংলাদেশকে বিভিন্ন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির অফশোরিং এর কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এবং বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন – অবকাঠামো, জ্বালানি, দক্ষ কর্মী, কূটনৈতিক উদ্যোগ, বিশ্বব্যাপী মার্কেটিং। চায়নাতে ম্যানুফাকচারিং এর খরচ যে বেড়ে গেছে [8] এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আমরা বাংলাদেশকে অফশোরিং এর কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলবো।
  • ক্ষুদ্র এবং মাঝারি শিল্পের বাবসায়িদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া
  • শেয়ারবাজার নিয়ে কেউ যাতে কারসাজি করতে না পারে সেই লক্ষ্যে বাবস্থা গ্রহণ। শেয়ার বাজারে বিনিয়োগকারিদের আস্থা ফিরিয়ে আনা। কোম্পানির মূল্যমান নির্ধারণে আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করা। (The stock market capitalization of the Dhaka Stock Exchange in Bangladesh crossed $10 billion in November 2007 and the $30 billion mark in 2009, and USD 50 billion in August 2010. Bangladesh had the best performing stock market in Asia during the recent global recession between 2007 and 2010, due to relatively low correlations with developed country stock markets. [1]) তদন্ত করে দায়িদের বিরুদ্ধে বাবস্থা নেওয়া হবে। জনগণের অর্থ জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা হবে।
  • বিভিন্ন সমস্যা নিরসনে সৃজনশীল কার্যকরী উদ্যোগ নেওয়া। যেমন ঢাকার যানজট সমস্যা নিরসনে নগর পরিকল্পনাবিদ, প্রকৌশলীদের নিয়ে কার্যকরী উদ্যোগ। ঢাকার এক লক্ষ মানুষ যদি প্রতিদিন এক ঘণ্টা সময় জ্যামে আটকে থাকে তাহলে প্রতিদিন এক লক্ষ ঘণ্টা হারিয়ে যাচ্ছে যা উৎপাদনশীল কাজে দেওয়া যেত।
  • শিল্পের বিকাশে (যেমন – শুল্ক মুক্ত প্রবেশাধিকার ইত্যাদি) কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করা, কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া।
  • দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা। সিন্ডিকেট ভেঙ্গে ফেলা। মূল্যস্ফীতি ঘটতে না দেওয়া।
  • Financial system এ সংস্কার আনা হবে। স্টক মার্কেটের উপর আস্থার পরিবেশ তৈরি করা হবে। ব্যাংকগুলোতে অবাবস্থাপনা, দুর্নীতি দূর করা হবে। ঋণ খেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর বাবস্থা নেওয়া হবে। ঋণ দেওয়ার আগে ঋণ গ্রহীতার ব্যাকগ্রাউন্ড পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে চেক করার আন্তর্জাতিক রীতি চালু করা হবে। দেশে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল শিল্প গড়ে তোলা হবে।
  • দেশের প্রকৌশলীরা বিভিন্ন শিল্পে উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডে আত্মনিয়োগ করবেন। তাদের উন্নত প্রশিক্ষনের বাবস্থা করা। প্রবাসে যারা কাজ করছেন তাদের যোগ্য সুযোগ সুবিধা দিয়ে, দেশে উন্নত শিল্প গড়ে তুলে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
  • দেশের সম্পদ আহরণ, সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহারে দেশী বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, বিশেষজ্ঞদের কাজে লাগানো হবে। প্রবাসে আছেন এমন দেশীয় বিশেষজ্ঞদের কনসালটেন্ট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে। প্রয়োজনে মেধাবী ব্যক্তিদের উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
  • দেশের বিনিয়োগের সম্ভাবনাRecent (2011) trends for investing in Bangladesh as Saudi Arabia trying to secure public and private investment in oil and gas, power and transportation projects, United Arab Emirates (UAE) is keen to invest in growing shipbuilding industry in Bangladesh encouraged by comparative cost advantage, Tata, an India-based leading industrial multinational to invest Taka 1500 crore to set up an automobile industry in Bangladesh, World Bank to invest in rural roads improving quality of live, the Rwandan entrepreneurs are keen to invest in Bangladesh’s pharmaceuticals sector considering its potentiality in international market, Samsung sought to lease 500 industrial plots from the export zones authority to set up an electronics hub in Bangladesh with an investment of US$1.25 billion, National Board of Revenue (NBR) is set to withdraw tax rebate facilities on investment in the capital market by individual taxpayers from the fiscal 2011-12. In 2011, Japan Bank for International Cooperation ranked Bangladesh as the 15th best investment destination for foreign investors. [1] এমন আরও অনেক অনেক investment আসবে উন্নত অবকাঠামো তৈরি, জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, আর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারলে।
  • দীর্ঘ মেয়াদি এবং স্বল্প মেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়ে বাজেট এ বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ দেওয়া এবং বরাদ্দকৃত অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিতকরণ – বিভিন্ন মন্ত্রনালয়, স্থানীয় সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। কর আদায়ে স্বচ্ছতা আনা। শুল্ক নির্ধারণে বেক্তি স্বার্থ নয়, বরং জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া। যেমন
    • সিগারেট আমদানির উপর শুল্ক বাড়ানো
    • কম্পিউটার, নেটওয়ার্কিং যন্ত্রাংশ এবং অন্যান্য তথ্যপ্রযুক্তি পণ্যের আমদানির উপর শুল্ক কমানো। [12]
  • প্রবাসে কর্মসংস্থান
    • শ্রমিক রপ্তানি বাড়াতে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হবে।
    • আন্তর্জাতিক চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে দক্ষ শ্রমিক, দক্ষ কর্মী গড়ে তোলা হবে।
  • Foreign remittance এর অর্থ যাতে সরাসরি দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর জন্য বিনিয়োগ করা হয় – সেই লক্ষ্যে বাবস্থা। তা না হলে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে। দেশের উৎপাদন না বাড়িয়ে অর্থ সরবরাহ বেড়ে গেলে যা হওয়ার কথা।
  • আমাদের দেশের নারীরা অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন। তাদের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া। যেমন গার্মেন্টস এর কিছু কাজ যান্ত্রিক উদ্ভাবনের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় করা যাতে একই সময়ে উৎপাদন আরও বাড়ানো যায়। এতে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে এবং তারাও অধিকতর বেতন দিয়ে পরিবারে আরও বেশি অবদান রাখতে পারবেন। একইসাথে নারীদের নিরাপত্তার জন্য উদ্যোগ নেওয়া।
  • গ্রামের উন্নয়ন
    • শিক্ষায় সাফল্য, স্বাস্থ্য সুবিধা প্রদান, তথ্য প্রযুক্তির বিকাশ, কৃষিতে উদ্ভাবন ইত্যাদি ক্ষেত্রে গ্রামে গ্রামে প্রতিযোগিতা শুরু করা যায়। বিভিন্ন ক্যাটেগরিতে সেরা গ্রাম, সেরা উদ্যোক্তা ইত্যাদি নির্বাচন করা যায়। (প্রত্যেক গ্রামের মানুষ নিজের গ্রাম, নিজের ইউনিয়ন, নিজের থানা নিয়ে গর্ব করে।) এতে গ্রামের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
    • বিভিন্ন সামাজিক সূচকে উন্নতির লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে কর্ম পরিকল্পনা হাতে নেওয়া।
  • দারিদ্র বিমোচন
    • শিক্ষা (শুধুমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না) এবং প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিয়ে দরিদ্রদের ক্ষমতায়ন।
    • সরকারি পরিকল্পনা
    • এনজিওগুলো যাতে দেশের দারিদ্র বিমোচনে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে কাজ করতে পারে – সেই পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে বাবস্থা নেওয়া। এনজিওগুলোর কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা আনা।
রেফরেন্স

  1. Economy Of Bangladesh
  2. Bangladesh looks to diversify
  3. Yunus Social Business
  4. দুর্নীতি দূরীকরণ এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নতি
  5. বিশ্বজয়ী তারুণ্য
  6. ডঃ সিদ্দিক-ই রব্বানিঃ TEDxDhaka: Dr. K. Siddique-e Rabbani – Innovating Healthcare Technology for the deprived 80%
  7. Fortune Global 500
  8. The end of cheap China
  9. Professor Wins $1 Million Prize for Providing Clean Water, One Village at a Time
  10. Can Rickshaw-pullers Generate All the Energy Bangladesh Needs?
  11. Jute genome decoded: Golden fibre to become healthy, high yielding, weather-tolerant; Hawaii-based Bangladeshi scientist leads team to landmark discovery
  12. বাজেটে ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দের আহ্বান


নাগরিক শক্তির অর্থনৈতিক দর্শন (Economic Philosophy)

নাগরিক শক্তির অর্থনৈতিক দর্শনের মূলে রয়েছে দুটি বিষয়

  • প্রত্যেকটি মানুষের মাঝে বিপুল শক্তি লুকিয়ে আছে। এই শক্তি জাগ্রত হয় এমন ব্যবস্থা চালু করতে হবে।
  • Win-win, Non-zero sum games. এমন ব্যবস্থা যেখানে সব পক্ষই জিতবে।

 

নাগরিক শক্তি প্রত্যেকটি মানুষের মাঝে যে বিপুল শক্তি লুকিয়ে আছে তাকে জাগ্রত করতে উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসুবিধা নিশ্চিত করা এবং ব্যবসা-শিল্প-বিনিয়োগ-উদ্যোক্তা বান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলবে। সামাজিক ব্যবসার বিকাশের মাধ্যমে সমাজের সমস্যাগুলো দূর করে গণ মানুষের উপরে ওঠার ক্ষেত্র তৈরি করবে। জনসাধারণের বিকাশের জন্য বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলবে।

এক একটা মানুষ যেখানে বিশাল শক্তি হতে পারে সেখানে ১৬ কোটি মানুষকে জাগিয়ে তুলতে পারলে আমাদের আর পিছে ফিরে তাকাতে হবে না। কাজেই দেশের ১৬ কোটি মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করা নাগরিক শক্তির লক্ষ্য। আমরা ১টি মানুষের শক্তিকেও বৃথা যেতে দিতে চাই না (শুধু শীর্ষ অপরাধীদের বাদ দিয়ে)।

একদিকে শিল্পের বিকাশ এবং অন্যদিকে জনকল্যাণমুখী অর্থনীতি চালু করে নাগরিক শক্তি বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে একটি অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে গড়ে তুলবে।

সমাজতান্ত্রিকরা মনে করেন, পুঁজিবাদের বিকাশ ঘটলে পুঁজিবাদীরা শ্রমিক শ্রেণী থেকে লুট করে ধনী হন। কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি, এমন পদ্ধতি চালু করা সম্ভব যেখানে সব পক্ষ সর্বোচ্চ লাভবান হবে, সব পক্ষই জিতবে। পুঁজিবাদের বিকাশ ঘটলে মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। শিল্পের মালিকরা শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে ব্যবস্থা নিলে, কারখানার পরিবেশ উন্নত করলে অধিকতর উৎপাদনশীলতা থেকে মালিকরা লাভবান হন। শ্রমিকদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটলে তারা শিল্প পণ্য আরও বেশি কেনেন। এভাবে শিল্পের বিকাশ ত্বরান্বিত হয়।

আমাদের দেশের সমস্যা হল, দুষ্ট রাজনীতির কারণে আইন শৃঙ্খলার উরধে উঠে দুর্নীতি সন্ত্রাসে নিমজ্জিত একদল লুটেরা শ্রেণীর উদ্ভব ঘটেছে। নাগরিক শক্তি জনগণকে নিয়ে এই অপরাধী শ্রেণীর হাত থেকে জনগণকে রক্ষা করবে।

নাগরিক শক্তির অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে আরও

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s