বাংলাদেশ ক্রিকেট দল নিয়ে স্বপ্ন

আমাদের দেশের বিভেদের রাজনীতিতে একমাত্র বাংলাদেশ ক্রিকেট দলই এক একটা সাফল্য দিয়ে সারা দেশকে ঐক্যবদ্ধভাবে আনন্দ উল্লাসের উপলক্ষ এনে দিয়েছে।

এক একটা সাফল্যে আমরা দেখবাসী আনন্দে চিৎকার করে উঠি, রাস্তায় নেমে একসাথে উল্লাস করি।

বাংলাদেশ ক্রিকেট দল বাংলাদেশীদের গর্ব।

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ১১ জন যখন মাঠে নামেন তখন ১৬ কোটি হৃদয় এবং তাদের প্রার্থনাকে সাথে নিয়ে নামেন।

আমাদের ক্রিকেট দলটা এখন দারুন কম্বিনেশান।

ওপেনিং এ নামা তামিম ইকবাল অনেক বছর ধরে দেশ সেরা ব্যাটসম্যান।

২, ৩, ৪ এর জন্য – শামসুর, আনামুল, মমিনুল, ইমরুল, মার্শাল আইয়ুব, শাহরিয়ার নাফিস, নাজিমুদ্দিন, অলক কাপালি, জুনায়েদ সিদ্দিকী আর জহুরুল – প্রতি ম্যাচে এতজন থেকে ৩ জনকে বেছে নিতে হবে – কী কঠিন একটা কাজ – ক্রিকেট খেলাটা ১১ জনের না হয়ে ১৪ জনের হলেই মনে হয় ভাল হত!

মিডল অর্ডারটা সত্যিই দারুণ! বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান, নির্ভরতার প্রতীক অধিনায়ক মুশফিক, তরুণ নাসিরকে নিয়ে গড়া।

এতই দারুণ যে মাহমুদুল্লাহ, জিয়াউর রহমান, ফরহাদ রেজা আর “ছক্কা” নাঈমের মত অলরাউন্ডারদের কাকে ছেড়ে কাকে নেবেন তা নির্বাচকদের “মধুর” মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়!

অনেক বছর ধরে “বাম হাতি স্পিনারের দেশ” হয়ে ছিল “বাংলাদেশ”।

সোহাগ গাজী এসে তা পাল্টে দিলেন। তিনি শুধু ডানহাতি স্পিনারই নন, ব্যাট হাতে সেঞ্চুরি ও হাঁকাতে পারেন!

পেসার হিসেবে “নড়াইল এক্সপ্রেস” দেশসেরা মাশরাফি (আমাদের “ম্যাশ”), দ্রুতগতির রুবেল, “ইয়া লম্বা” (এবং অবশ্যই – “হ্যান্ডসাম”) শাহাদাত, “বিশ্বকাপের হিরো” শফিউল, আল আমিন, রবিউল, আবুল হাসান, নাজমুল – বেছে নেওয়াই তো কঠিন! এত পেসারের কারণে আমরা তাপস বৈশ্য কিংবা বামহাতি মঞ্জুরুল, রাসেলদের ভুলে যেতে বসেছি।

তারপরও যখন বিশ্বমানের স্পিনার আব্দুর রাজ্জাক বাকি থাকে তখন আমরা সোহরোওয়ারদি শুভ, এনামুল হক (জুনিয়র), ইলিয়াস সানি, আরাফাত সানিদের কথাও অনেক সময় ভুলে যাই!

আমাদের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরিয়ান মেহরাব হোসেন অপি আর শাহরিয়ার হোসেন বিদ্যুতদের খোঁজ কেউ দিতে পারেন? বিদ্যুৎ তো জিম্বাবুয়ের সাথে ঐ ম্যাচে ৯৫ করেছিলেন, আর ওপেনিং এ দুশো রানের জুটি, নাকি?

সাকিব আর তামিম অনেক বছর ধরে আমাদের সেরা পারফর্মার। ২০১১ বিশ্বকাপের পর ডেবিউ হওয়া নাসির এলেন আর জয় করলেন! আর ২০১৩ তে এলেন, জয় করলেন মমিনুল আর সোহাগ গাজী!

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ম্যাচ আনালাইসিস, প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের শক্তি-দুর্বলতা চিহ্নিত করা, ব্যাটিং প্র্যাকটিস – এসবের জন্য প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ভাবনা ছিল। কোনদিন হয়ত ভাবনাগুলো বাস্তবে পরিণত হবে।

কোচ বব উলমার কিংবা জন বুকাননদের কম্পিউটার সখ্যতার কথা আমরা কে না জানি!

ProBatter প্রযুক্তি

“ক্যাপ্টেইন ফ্যান্টাস্টিক” “আবেগপ্রবণ” মুশফিকুরের নেতৃত্বাধীন দলটি বিশ্বকাপ জয় করে আনবে আর পুরো দেশ একটা উৎসবের দেশে পরিণত হবে – দেশবাসী সেই স্বপ্নে বিভোর!

“আমরা করব জয়!”

প্লেইলিস্ট

রেফরেন্স


৯৭ এ আমাদের শুরু

গণজাগরণ মঞ্চের প্রথম বর্ষপূর্তি

গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলন আমাদের দেখিয়েছে, আমরা একাত্তরের মতোই বারবার জাগতে পারি। গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলন আমাদের দেখিয়েছে, দেশের জনগণ ঐক্যবদ্ধ হলে অহিংসভাবে যে কোন ন্যায্য দাবি আমরা আদায় করে নিতে পারি।

রানা প্লাজা ধ্বসে আক্রান্তদের পাশে দাঁড়ানো আর সাম্প্রদায়িক হামলায় ক্ষতিগ্রস্থ সনাতনী ধর্মাবলম্বীদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ ছিল প্রশংসনীয়।

স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সকল অন্যায়, অবিচার, দুর্নীতি, অনিয়মের বিরুদ্ধে অহিংস এবং সৃজনশীল কর্মসূচীর মাধ্যমে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর হিসেবে আমরা গণজাগরণ মঞ্চকেই দেখতে চাই।

প্রথম বর্ষপূর্তিতে গণজাগরণ মঞ্চ সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন।

আরও