আজকের উপলব্ধিতে বাংলাদেশ (৯/৯/১৪)

1. রাজনীতি – দেশজুড়ে

 

2. কৃষিতে নবজাগরণ
 
কৃষিতে নবজাগরণ ঘটানোর লক্ষ্যে 
  • দেশেই উদ্ভাবিত এবং উৎপাদিত হবে নতুন নতুন কৃষি প্রযুক্তি। প্রযুক্তি ব্যবহার করার ফলে  কৃষকের উৎপাদনশীলতাবাড়বে। কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে একজন কৃষক অনেক বড় জমি চাষ করতে পারবেন। উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির সাথে বাড়বে কৃষকের আয়। 
    • উৎপাদনশীলতা  বাড়ার ফলে কৃষকের চাহিদা কমে যাওয়ায় কৃষকরা শহরে শিল্প কারখানা বা ব্যবসার দিকে মনোনিবেশ করবেন।
    • মাত্র কয়েক বছর আগের চিত্র ছিল – দেশের প্রায় দুই তৃতীয়াংশ মানুষ পেশায় কৃষক এবং তারা মোট জিডিপির (দেশে উৎপাদিত মোট পণ্য ও সেবার) ৫ ভাগের ১ ভাগ উৎপন্ন করেন। গত কয়েকবছরে গার্মেন্টস শিল্প এবং প্রবাসে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে অবস্থা পাল্টেছে। কৃষকের সংখ্যা কমেছে। তারপরও দেশে উৎপাদিত মোট পণ্য ও সেবার সিংহভাগ উৎপন্ন করেন – এরাই:
      • কৃষক
      • গার্মেন্টস শ্রমিক (মোট রপ্তানি ২২ বিলিয়ন ডলারের বেশি, পাশাপাশি দেশের বস্ত্রের চাহিদা মেটানো; দেশের মোট জিডিপি ১৮০ বিলিয়ন ডলারের মত; পিপিপি হিসেবে জিডিপি ৩০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি;)
      • প্রবাসীকর্মী    
    • আমাদের এখন Knowledge Based Economy (জ্ঞান ভিত্তিক অর্থনীতি) র দিকে যাওয়ার সময় এসেছে।

 

  • তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কৃষি পণ্য সরাসরি কেনাবেচা এবং মোবাইল কমার্স প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা হবে যাতে মধ্যভোগীর (Middleman) এর প্রয়োজন না পড়ে এবং কৃষক সরাসরি ন্যায্যমূল্যে শস্য এবং কৃষি ফসল বিক্রি করতে পারেন।
  • ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রে দেশের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় আনা হবে। যেমন আমাদের দেশের গার্মেন্টস শিল্পের প্রয়োজনীয় তুলা বিদেশ থেকে বেশি দামে আমদানি করা হয়। আমরা নিজেরাই যদি প্রয়োজনীয় তুলা উৎপন্ন করতে পারতাম – তাহলে গার্মেন্টস শিল্পের খরচ কমে যেত – যা গার্মেন্টস শিল্পের বিকাশে সহায়ক হত।
    • কিছুদিন আগে এমনই একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যেসব জমিতে তামাক উৎপাদিত হত – সেসব জমিতে তুলা উৎপাদনের জন্য প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
  • উচ্চ ফলনশীল জাতের ফসল উৎপাদনের জন্য দেশে কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা হবে। Biotechnology তে আমাদের সম্ভাবনা উজ্জ্বল। আমাদের ড. মাকসুদ আলম দেশী বিজ্ঞানী – ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়ে পাটের জীবন রহস্য উন্মোচন (DNA sequence) করেছেন। এতটুকুতে আমাদের বসে থাকলে চলবে না। সেই জ্ঞান ব্যবহার করে প্রাকৃতিক দুর্যোগ সহনশীল এবং পোকামাকড়ের আক্রমণ প্রতিরোধী উচ্চ ফলনশীল পাট এবং অন্যান্য ফসল উদ্ভাবনের দিকে যেতে হবে। Functional Genomics নিয়ে দেশেই গবেষণা হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের Genetic Engineering and Biotechnology Department গুলোতে কিন্তু দেশের সেরা শিক্ষার্থীরাই ভর্তি হন। Biotechnology র জন্য প্রয়োজনীয় Bioinformatics এর কাজ আমাদের Computer Science and Engineering graduate রা-ই করবেন। প্রত্যেককে নিজেকে আরও ভালভাবে গড়ে তুলে বড় challenge নেওয়ার জন্য প্রস্তুত হতে হবে!
3. Knowledge Based Economy কি?

  • কৃষক শারীরিক কাজের মাধ্যমে ফসল উৎপাদন করেন
  • গার্মেন্টস কর্মীরাও শারীরিক কাজের মাধ্যমে বস্ত্র উৎপাদন করেন
  • প্রবাসী কর্মীদের বড় অংশ শারীরিক কাজের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করেন

অন্যদিকে, একজন চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ার বা ম্যানেজার কিন্তু জ্ঞান দিয়ে অর্থ উপার্জন করেন। Knowledge Based Economy হল এমন Economy – যেখানে অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতার একটা বড় অংশ ঘটে জ্ঞানের প্রয়োগের মাধ্যমে – জনসংখ্যার একটা বড় অংশ জ্ঞানভিত্তিক কাজ (Knowledge Based Work) করে।

Knowledge Based Economy কিন্তু 20th Century র phenomenon.
18th Century তে প্রায় সবাই কৃষিকাজের মাধ্যমে বা ব্যক্তিগত শিল্পের মাধ্যমে (যেমন মৃৎশিল্প, pottery) অর্থ উপার্জন করতেন।
এরপর 19th Century তে James Watt [1] উদ্ভাবন করলেন Steam Engine [2] (আরও পরে উদ্ভাবিত হল Electric Generator) – যার শক্তি ব্যবহার করে ট্রেইন চলা শুরু করলো, কারখানায় সূচনা হল Machine এর। তখন Industrial Economy র সূচনা হল – তাও ছিল মূলত শারীরিক স্রমের। 18th Century তে ব্যক্তিগত পর্যায়ে উৎপাদন 19th Century তে replaced হল Industry তে সম্মিলিত উৎপাদনের মাধ্যমে।

20th Century তে মানুষের জ্ঞানের পরিধি বাড়ল। Industry র যন্ত্রপাতি Design করার জন্য Engineer দের প্রয়োজন পড়লো। বড় বড় Industry পরিচালনা করার জন্য Manager এর প্রয়োজন পড়ল। সূচনা হল Knowledge Based Economy র।

Knowledge Based Economy র প্রসারে সাহায্য করলো Computer এবং Communication Industry র বিকাশ। Computer এমন একটা যন্ত্র – যা জ্ঞান, তথ্য নিয়ে কাজ করতে পারে (এর আগের যন্ত্রগুলো Physical কাজ করতো, কিন্তু Computer কাজ করে জ্ঞান-তথ্য নিয়ে)। কোন কিছু নির্ধারণ করে দিলে (যেমন – এই তথ্যগুলো নিয়ে এটা এটা করতে হবে) কম্পিউটার করে ফেলতে পারে। Communication এর কারণে সবার মাঝে যোগাযোগ বাড়ল, তথ্য আদান প্রদান সহজ হল (আমাদের গ্রামের কৃষক তার মোবাইল ফোন ব্যবহার করে ফসলের দাম জেনে নিতে পারেন)।

 

James Watt



Steam Engine




References

  1. James Watt 
  2. Steam engine 

4. দেশে একটা Research Institute গড়ে তোলা হবে।

  • বিজ্ঞান এবং গণিতের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সমাধান হবে।
  • Published হবে High Impact সব Paper.
  • Industry তে applicable Technology উদ্ভাবিত হবে।
  • DNA sequencing, Microarray Analysis, Functional Genomics নিয়ে কাজ হবে।
  • PhD, Post Doctorate করতে দেশ সেরা মেধাবীরা আসবেন।
  • পৃথিবীর সেরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে PhD ডিগ্রী প্রাপ্ত এবং সেরা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বাংলাদেশীদের দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।
  • বাইরে পড়াশোনা শেষ করে যোগ দেবেন আমাদের গণিত এবং অন্যান্য অলিম্পিয়াডের সোনার ছেলেমেয়েরা।
এমন একটা Research Institute.
(এটা আমার ছোটবেলার স্বপ্ন!)
ড. মাহবুব মজুমদার, প্রফেসর ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল, প্রফেসর ড. মাকসুদ আলম, ড. আবেদ চৌধুরী – সহ অনেকেরই পরিকল্পনা (এবং স্বপ্ন!) রয়েছে।
সামনের দিনগুলোতে প্রকল্প হাতে নেওয়া হবে।

5. জ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষতা সম্পন্ন ব্যক্তিরা একটি Center এ এসে collaboratively জ্ঞান চর্চা, জ্ঞানের আদান প্রদান করলে এবং জ্ঞান চর্চাকে উৎসাহ দিলে – কি ঘটে কি ঘটে – তার দৃষ্টান্ত আমরা ইতিহাসে বারবার দেখেছি।

2000 বছর আগের গ্রীক সভ্যতার Plato, Aristotle [8], Socrates, Pythagoras, Euclid [9] রা জ্ঞান চর্চা করে মানুষের জ্ঞানকে অনেক দূর এগিয়ে দিয়েছিলেন। Alexandria র কথা আমরা সবাই জানি।

1000, 1100, 1200 খ্রিস্টাব্দে Abbasid Caliphate [2] – Baghdad এ House of Wisdom [3] প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সেই সময়ে জ্ঞানের প্রসার হয়েছিল এই House of Wisdom এ – “Algebra” আর “Algorithm” – শব্দ দুটো এসেছে House of Wisdom এর Scholar-Mathematician “Al-Khwarizmi” (Algorithm) এবং তার লেখা বইএর নাম (Al-jibr – Algebra) থেকে [1]।

তখনকার দিনে জ্ঞান বিকাশের এসব ক্ষেত্রে যা হয়েছিল – তা হল

    • অনেক বইএর একটা লাইব্রেরি তৈরি করা হত – Library of Alexandria [4], House of Wisdom [3] (আমাদের মনে রাখতে হবে – তখনও Gutenberg [5] ছাপাখানা invent করেননি – কাজেই সব বই হাতে লেখা)
    • দেশের Rulers রা উৎসাহ দিতেন, পৃষ্ঠপোষকতা করতেন (Scholar রা বড় স্থাপত্য, ব্রীজ ডিজাইন করে দিতেন)
    • সমাজে Scholar দের value বেশি ছিল – Scholarship এ সবাই উৎসাহ পেতো
    • বিভিন্ন Background এর লোক এসে একত্রিত হয়ে জ্ঞান চর্চা, জ্ঞানের আদান প্রদান, আলোচনা করতো – Creativity র জন্য, নতুন জ্ঞান সৃষ্টির জন্য এটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

Ancient Greece এ trade এর জন্য Mediterranean এর Port গুলোতে আসতেন বিভিন্ন Background, বিভিন্ন সভ্যতার মানুষরা। তারা আলোচনা করতেন, বিভিন্ন সভ্যতার জ্ঞান আদান প্রদান করতেন (আমাদের মনে রাখতে হবে তখন Communication Technology বলতে কিছু ছিল না – কাজেই এক সভ্যতার অর্জিত জ্ঞান সহজে আরেক সভ্যতায় transfer হত না – Trade and Commerce এর কারণে এক সভ্যতার মানুষ আরেক সভ্যতার মানুষের কাছে যেতেন – পণ্য কেনা বেচা করতে। জ্ঞান আদান প্রদান হত – তখনই)।

আবার Chinese Civilization অনেক বছর পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নিজেদের নিয়ে ছিলেন। ফলে Renaissance (Da Vinci, Michelangelo) [6] এবং তার পরবর্তীতে Galileo, Newton, Industrial Revolution এর সময় Europe এ জ্ঞানের যে বিস্ফোরণ ঘটেছিল – তা Chinese দের কাছে এসে পৌঁছায়নি।

এক সভ্যতার জ্ঞান আরেক সভ্যতায় transmit হওয়ার আরেকটা উপায় ছিল Conquest. Alexander The Great [7] যেসব রাজ্য জয় করতেন – সেসব রাজ্যের জ্ঞানও হরণ করে নিতেন!

6. অর্থনীতি – শিল্প – বাণিজ্যে অগ্রগতি
7. নারীদের অনুপ্রেরণা

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s