আমাদের প্রাণের গণিত উৎসব ২০১৪

এবার আঞ্চলিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছিল জানুয়ারি মাসে। প্রতিযোগিতা হয়েছে ২২টি অঞ্চলে। গত বছর হয়েছিল ১৭টি অঞ্চলে। প্রাথমিক, জুনিয়র, সেকেন্ডারি ও হায়ার সেকেন্ডারি—এই চারটি বিভাগে ২৩ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী এতে অংশ নেয়। তাদের মধ্যে বিজয়ী এক হাজার ৫৫ জনকে নিয়ে গতকাল শুক্রবার থেকে ঢাকায় শুরু হলো দুই দিনের জাতীয় উৎসব।দেশে গণিতের এই উৎসব শুরু হয়েছিল ২০০৩ সালে। এবার হলো তার যুগপূর্তি। এই এক যুগের সাফল্য—দেশের তরুণদের নয়টি অলিম্পিয়াডে অংশ নিয়ে একটি রৌপ্য, আটটি ব্রোঞ্জসহ নয়টি পদক জয়।

উৎসবের জমকালো সাজে সাজানো হয়েছিল সেন্ট যোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের বিরাট মাঠটি।

বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াডের পতাকা উত্তোলন করেন দেশের গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির সভাপতি অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী। তিনি নবীন শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দিয়ে বলেন, প্রতিবছরই অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা বাড়ছে। ভবিষ্যতে হয়তো এই মাঠে আর জায়গাই হবে না। আমাদের দেশের শিক্ষার্থীরা বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষা গ্রহণ করছে। তিনি বলেন, যেভাবে আমাদের তরুণ প্রজন্ম শিক্ষা-বিজ্ঞানের চর্চায় এগিয়ে এসেছে, তাতে ২০৩০ সালের মধ্যে বিজ্ঞানে আমাদের নোবেল পুরস্কার পাওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা আছে।

আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডের পতাকা উত্তোলন করে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে এস তাবরেজ বলেন, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক এই আয়োজনের সঙ্গে জড়িত হয়ে আনন্দিত। গণিত অলিম্পিয়াড থেকে দেশের প্রতিযোগীরা ব্রোঞ্জ ও রৌপ্যপদক জয় করেছে। ভবিষ্যতে স্বর্ণপদকও জয় করবে বলে তিনি শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করেন।

দেশের সব ধর্মের মানুষ যেন মিলেমিশে একসঙ্গে বসবাস করতে পারে, সে জন্য নবীন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানালেন কমিটির সহসভাপতি অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল। তিনি বলেন, ‘এই দেশে মুসলিম, হিন্দু, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ—সবাইকে মিলেমিশে একসঙ্গে থাকতে হবে। হিন্দুদের বাড়িতে আগুন দেওয়া হচ্ছে। তাদের অনেকেই হয়তো এই উৎসবে আসতে পারছে না। সবাই যেন আসতে পারে, তোমাদের সেই দায়িত্ব নিতে হবে। তা না হলে শুধু অঙ্ক নিয়ে মেতে থাকা আর পদক জয় করা অর্থবহ হবে না।’

প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান তাঁর বক্তব্যে বিগত এক যুগে গণিত অলিম্পিয়াডের কার্যক্রম ও সাফল্য তুলে ধরে বলেন, ছোট করে শুরু হলেও আজ গণিত উৎসব দেশের একটি বিশাল উৎসবে পরিণত হয়েছে। শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্য আনবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খোদাদাদ খান, লুৎফুজ্জামান, মোহাম্মদ কায়কোবাদ, এফ আর খান, আনোয়ার হোসেন, রাশেদ তালুকদার, মোহিত কামাল, মুসা ইব্রাহীম, মুনির হাসান প্রমুখ।

সূত্র – গণিত উৎসবে প্রাণের স্ফুরণ

অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসান শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথোপকথনের একপর্যায়ে জানতে চাইলেন, তারা দেশের প্রধানমন্ত্রী হলে কে কী করবে?
একজন উঠে বলল, ‘প্রধানমন্ত্রী একা কোনো দেশকে ভালো করতে পারে না। সবাই মিলে দেশকে ভালো করতে হয়। প্রধানমন্ত্রী হলে সবাইকে নিয়ে দেশকে ভালো করার কাজ করব।’ তার পর থেকে নিজের জন্য, দেশের জন্য ভালো কাজ করার প্রেরণা ও প্রত্যয়ই প্রধান সুর হয়ে থাকল পুরো অনুষ্ঠানে।

রুবিকস কিউব প্রতিযোগিতা। আগের ২২ সেকেন্ডের জাতীয় রেকর্ড ভেঙে দিয়ে ১৮ সেকেন্ডে কিউব মিলিয়ে নতুন রেকর্ড করে চ্যাম্পিয়ন হয় হাসান জহিরুল ইসলাম। দ্বিতীয় হুমায়ূন কবির ও তৃতীয় শাকিব বিন রশিদ।

এরপর শুরু হয় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। প্রথমেই গণিতে অবদান এবং গণিত উৎসবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় দেশের প্রবীণ গণিতবিদ লুৎফুজ্জামান ও খোদাদাদ খানকে দেওয়া হয় আজীবন সম্মাননা।
আরও নতুন চারটি পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয় এবার। এগুলো হলো প্রকৌশলী লুৎফর রহমান স্মৃতি পুরস্কার, জামাল নজরুল ইসলাম স্মৃতি পুরস্কার, গৌরাঙ্গ দেব রায় স্মৃতি পুরস্কার ও জেবুন্নেছা হোসেন পুরস্কার। এরপর বিতরণ করা হয় আগের দিনে সুডোকু প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের পুরস্কার। প্রথম হয়েছে রিফা মুহাইমিনা রহমান, দ্বিতীয় সাহিকা আহমেদ ও তৃতীয় হয়েছে হাসান ইশরাক।

বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির সভাপতি জামিলুর রেজা চৌধুরী বলেন, সারা দেশে গণিত উৎসবের মধ্যে দিয়ে শিক্ষার্থীদের মন থেকে গণিতভীতি দূর হয়েছে। সারা বিশ্বে এই উৎসব একটি ব্যতিক্রমী উৎসব হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

অনুষ্ঠানে আরও আলোচনা করেন গণিত অলিম্পিয়াডের কোচ মাহবুব মজুমদার, প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম ও আনিসুল হক। উপস্থিত ছিলেন জ্যোতির্বিজ্ঞানী এ আর খান, এফ আর সরকার, জিনবিজ্ঞানী আবেদ চৌধুরী, বিজ্ঞান লেখক রেজাউর রহমান, সেন্ট যোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের অধ্যক্ষ ব্রাদার রবি পিউরিফিকেশন, উপাধ্যক্ষ ব্রাদার বিকাশ ডি রোজারিও সিএসসি, তাজিমা মজুমদারসহ অনেকে।

এরপর গণিত প্রতিযোগিতায় জাতীয় পর্যায়ে চারটি বিভাগের বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণীর পালা। এবার প্রাথমিক, জুনিয়র, সেকেন্ডারি ও হায়ার সেকেন্ডারি এই চারটি বিভাগে প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থী আঞ্চলিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে বিজয়ী এক হাজার ৫৫ জন অংশ নেয় জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায়। এদের মধ্যে ৮১ জন বিজয়ীকে গতকাল পদক, ক্রেস্ট, সনদ ও বিশেষ পুরস্কারের অর্থ দেওয়া হয়। এদের মধ্যে চার বিভাগে সেরাদের সেরা হয়েছে প্রাথমিকে শাহাদাৎ হোসাইন, জুনিয়রে তাহমিদ আনজুম, সেকেন্ডারিতে প্রীতম কুণ্ডু ও হায়ার সেকেন্ডারিতে নূর মোহাম্মদ শফিউল্লাহ।

উৎসব সঞ্চালনায় ছিলেন গণিত অলিম্পিয়াডের একাডেমিক কাউন্সিলর মাহমুদুল হাসান ও তামিম শাহরিয়ার।

সবাই মিলে ‘আমরা করব জয়’ গানটি গেয়ে জীবনের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার প্রত্যয় নিয়ে বাড়ি ফেরে নবীন প্রজন্ম।সূত্র – জীবনের স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রত্যয়

আরও 

বাংলাদেশ ক্রিকেট দল নিয়ে স্বপ্ন

আমাদের দেশের বিভেদের রাজনীতিতে একমাত্র বাংলাদেশ ক্রিকেট দলই এক একটা সাফল্য দিয়ে সারা দেশকে ঐক্যবদ্ধভাবে আনন্দ উল্লাসের উপলক্ষ এনে দিয়েছে।

এক একটা সাফল্যে আমরা দেখবাসী আনন্দে চিৎকার করে উঠি, রাস্তায় নেমে একসাথে উল্লাস করি।

বাংলাদেশ ক্রিকেট দল বাংলাদেশীদের গর্ব।

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ১১ জন যখন মাঠে নামেন তখন ১৬ কোটি হৃদয় এবং তাদের প্রার্থনাকে সাথে নিয়ে নামেন।

আমাদের ক্রিকেট দলটা এখন দারুন কম্বিনেশান।

ওপেনিং এ নামা তামিম ইকবাল অনেক বছর ধরে দেশ সেরা ব্যাটসম্যান।

২, ৩, ৪ এর জন্য – শামসুর, আনামুল, মমিনুল, ইমরুল, মার্শাল আইয়ুব, শাহরিয়ার নাফিস, নাজিমুদ্দিন, অলক কাপালি, জুনায়েদ সিদ্দিকী আর জহুরুল – প্রতি ম্যাচে এতজন থেকে ৩ জনকে বেছে নিতে হবে – কী কঠিন একটা কাজ – ক্রিকেট খেলাটা ১১ জনের না হয়ে ১৪ জনের হলেই মনে হয় ভাল হত!

মিডল অর্ডারটা সত্যিই দারুণ! বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান, নির্ভরতার প্রতীক অধিনায়ক মুশফিক, তরুণ নাসিরকে নিয়ে গড়া।

এতই দারুণ যে মাহমুদুল্লাহ, জিয়াউর রহমান, ফরহাদ রেজা আর “ছক্কা” নাঈমের মত অলরাউন্ডারদের কাকে ছেড়ে কাকে নেবেন তা নির্বাচকদের “মধুর” মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়!

অনেক বছর ধরে “বাম হাতি স্পিনারের দেশ” হয়ে ছিল “বাংলাদেশ”।

সোহাগ গাজী এসে তা পাল্টে দিলেন। তিনি শুধু ডানহাতি স্পিনারই নন, ব্যাট হাতে সেঞ্চুরি ও হাঁকাতে পারেন!

পেসার হিসেবে “নড়াইল এক্সপ্রেস” দেশসেরা মাশরাফি (আমাদের “ম্যাশ”), দ্রুতগতির রুবেল, “ইয়া লম্বা” (এবং অবশ্যই – “হ্যান্ডসাম”) শাহাদাত, “বিশ্বকাপের হিরো” শফিউল, আল আমিন, রবিউল, আবুল হাসান, নাজমুল – বেছে নেওয়াই তো কঠিন! এত পেসারের কারণে আমরা তাপস বৈশ্য কিংবা বামহাতি মঞ্জুরুল, রাসেলদের ভুলে যেতে বসেছি।

তারপরও যখন বিশ্বমানের স্পিনার আব্দুর রাজ্জাক বাকি থাকে তখন আমরা সোহরোওয়ারদি শুভ, এনামুল হক (জুনিয়র), ইলিয়াস সানি, আরাফাত সানিদের কথাও অনেক সময় ভুলে যাই!

আমাদের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরিয়ান মেহরাব হোসেন অপি আর শাহরিয়ার হোসেন বিদ্যুতদের খোঁজ কেউ দিতে পারেন? বিদ্যুৎ তো জিম্বাবুয়ের সাথে ঐ ম্যাচে ৯৫ করেছিলেন, আর ওপেনিং এ দুশো রানের জুটি, নাকি?

সাকিব আর তামিম অনেক বছর ধরে আমাদের সেরা পারফর্মার। ২০১১ বিশ্বকাপের পর ডেবিউ হওয়া নাসির এলেন আর জয় করলেন! আর ২০১৩ তে এলেন, জয় করলেন মমিনুল আর সোহাগ গাজী!

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ম্যাচ আনালাইসিস, প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের শক্তি-দুর্বলতা চিহ্নিত করা, ব্যাটিং প্র্যাকটিস – এসবের জন্য প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ভাবনা ছিল। কোনদিন হয়ত ভাবনাগুলো বাস্তবে পরিণত হবে।

কোচ বব উলমার কিংবা জন বুকাননদের কম্পিউটার সখ্যতার কথা আমরা কে না জানি!

ProBatter প্রযুক্তি

“ক্যাপ্টেইন ফ্যান্টাস্টিক” “আবেগপ্রবণ” মুশফিকুরের নেতৃত্বাধীন দলটি বিশ্বকাপ জয় করে আনবে আর পুরো দেশ একটা উৎসবের দেশে পরিণত হবে – দেশবাসী সেই স্বপ্নে বিভোর!

“আমরা করব জয়!”

প্লেইলিস্ট

রেফরেন্স


৯৭ এ আমাদের শুরু

বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুনগত পরিবর্তনের গল্প – ২

২০১৩ সালের নভেম্বরে যেটা ভাবছিলাম – “নাগরিক শক্তি” আর “প্রতীকঃ বই” – এই দুটো মানুষের মুখে মুখে পৌঁছাতে হবে। অনুভব করছি, বেশ খানিকটা পৌঁছেছে।

পরিকল্পনা করছিলাম, বাংলাদেশ সঠিকভাবে পরিচালিত হলে স্বপ্নের বাংলাদেশ কেমন হবে তার এবং সেই স্বপ্নের বাংলাদেশে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের জীবনের একটা চিত্র জনগণের সামনে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তুলে ধরে সবাইকে অনুপ্রাণিত করতে হবে। অনুভব করছি, ভিডিও চিত্র দেখার আগেই মানুষ অনুপ্রাণিত।

২০১৩ সালের জানুয়ারি ফেব্রুয়ারির দিকে নিজেকে প্রশ্ন করেছিলাম, আমি যদি রাজনীতিতে আসি, তাহলে সবচেয়ে বড় কি পরিবর্তন আনতে পারবো? উত্তরটা ছিল, প্রত্যেকটা মানুষের মাঝে যে বিপুল শক্তি, বিপুল সম্ভাবনা লুকিয়ে আছে, সেই বিশাল বিপুল শক্তি সম্ভাবনাকে জাগিয়ে তুলতে পারবো – ঠিক যেভাবে আমার নিজের মাঝে লুকিয়ে থাকা সম্ভাবনাকে আমি কিছুটা হলেও বিকশিত করেছি।

এরপর ২০১৩ সালের মার্চ এপ্রিলের দিকে যখন একটা রাজনৈতিক দল গঠন নিয়ে প্রথম ভাবছিলাম, তখনও আমার প্রধান লক্ষ্য – মানুষের সেই অন্তর্নিহিত শক্তি সম্ভাবনাকে জাগ্রত করা।

এক একটা মানুষ – কি বিশাল বিপুল সম্ভাবনা তার মাঝে! আর ১৬ কোটি মানুষের শক্তি! তার সামনে বাঁধা হয়ে কিছু দাঁড়াতে পারে না। একটা মানুষের সম্ভাবনা-শক্তিকে বৃথা যেতে দেওয়া ঠিক হবে না। তাই লক্ষ্য ঠিক করেছিলাম, ১৬ কোটি মানুষকে যোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে আর তাদের শক্তি সম্ভাবনাকে জাগ্রত করতে হবে।

বাংলাদেশের ডেমোগ্রাফিও ভিশনটার পক্ষে সহায়ক। বেশির ভাগ মানুষ ছোট, নাহয় কিশোর, খুব বেশি হলে তরুণ। ৫০ ভাগের বেশি মানুষের বয়স ২৩ বা তারও কম। যুক্তরাষ্ট্রে ৫০ ভাগ মানুষের বয়স ৩৭ এর কম, বাকি ৫০ ভাগ মানুষের বয়স ৩৭ বা এর চেয়ে বেশি। যুক্তরাজ্যে বয়সটা ৪০ আর জাপানে ৪৪। [1]
এই বিশাল কিশোর-তরুণ জনগোষ্ঠীকে গড়ে তোলার সুযোগ কেউ কি হারাতে চাইবে?

এখন গভীর আগ্রহ নিয়ে সামনের দিকে তাকাচ্ছি।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুনগত পরিবর্তনের গল্প লেখার অপেক্ষায় রইলাম। আমি জানি গল্পটা অনেক সুন্দর হবে।

পরিবর্তনের গল্প

মানুষের অন্তর্নিহিত শক্তি সম্ভাবনাকে জাগ্রতকরণ

রেফারেন্স

নাগরিক শক্তির আত্মপ্রকাশ ঘোষণা

জেনেরাল সেক্রেটারি সাহেব সেক্রেটারিয়েটের মিটিং ডাকবেন এবং সকলের সাথে আলোচনা করে “নাগরিক শক্তি”র আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানের তারিখ নির্দিষ্ট করবেন। আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানের তারিখ ঘোষণার একক ক্ষমতা প্রেসিডেন্ট কর্তৃক জেনেরাল সেক্রেটারি সাহেবের উপর অর্পিত হল। সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করে সম্ভাব্য সবচেয়ে কাছের দিন তারিখ হিসেবে নির্দিষ্ট হবে। নির্দিষ্ট তারিখে আত্মপ্রকাশ ঘোষণা দেওয়া হবে।

মিডিয়াতে এবং জনগণের মনে নাগরিক শক্তির অবস্থান প্রতিটি অতিবাহিত দিনের সাথে দৃঢ় থেকে দৃঢ়তর হবে – সেই লক্ষ্যে পরিকল্পনা।

জেনেরাল সেক্রেটারি সাহেব কো-জেনেরাল সেক্রেটারি সাহেবদের সাথে নিয়ে নাগরিক সমাজ, ব্যবসায়ী সমাজ এবং তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিদের নিয়ে আলোচনা ও মতবিনিময় সভা আয়োজন করবেন।

জনগণ নাগরিক শক্তির সেক্রেটারিয়েটের সক্রিয়তা দেখতে চায়। ব্যক্তিগত উদ্যোগেই হোক আর সম্মিলিতভাবে হোক জনগণের সামনে আসতে হবে।
নির্বাচনকালীন সহিংসতায় প্রায় দেড় শতাধিক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। সনাতনী ধর্মাবলম্বীদের উপর হামলা হয়েছে। দেশের মানুষের বড় চাওয়া জানমালের নিরাপত্তা। নাগরিক শক্তি এই লক্ষ্যে কাজ করবে। প্রথম ধাপ হবে নাগরিক শক্তির সাথে যুক্ত সকল ব্যক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

পরবর্তীতে নাগরিক শক্তির সম্পূর্ণ লিডারশীপ বড় কলেবরে জনগণের সামনে আসবেন।

কর্মসূচী ঘোষণা 

আমাদের প্রতিটি কর্মসূচী (মাদক বিরোধী, যৌতুক বিরোধী, দুর্নীতি বিরোধী) জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষা, চাওয়া পাওয়াকে ধারণ করবে। তবেই জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ থাকবে।

কর্মসূচীর মাধ্যমে জনগণের দাবি দাওয়া আদায় করে নিতে হবে।

বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা


গণতন্ত্র চর্চার অংশ হিসেবে নাগরিক শক্তি শক্তিশালী  বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে।
আমরা বিএনপি-জামায়াতের দেড় শতাধিক খুনের জনসম্পৃক্তহীন আন্দোলন দেখতে চাই না। আমরা দেখতে চাই, সকল অন্যায় অবিচার দুর্নীতি অনিয়মের বিরুদ্ধে লক্ষ লক্ষ প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর।

সরকারের ভুল ত্রুটি ধরিয়ে দিয়ে, জনগণকে অবহিত করে সরকারকে সঠিক পথে রাখতে হবে।

আত্মপ্রকাশ ঘোষণা অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য সূচি 

(কিছু অংশ পরবর্তীতে লিডারশীপ পরিচিতি অনুষ্ঠানে থাকবে)

  • মুক্তিযোদ্ধারা বাংলাদেশ নিয়ে তাদের স্বপ্নের কথা তুলে ধরবেন।
  • বিভিন্ন শ্রেণী পেশা (অন্যান্যদের মধ্যে একজন কৃষক, একজন গার্মেন্টস কর্মী, একজন রিকশা চালক থাকবেন) বিভিন্ন জাতি (পাহাড়ি) ধর্মের মানুষ তাদের প্রত্যাশা, আশা আকাঙ্খার কথা তুলে ধরবেন। (নাগরিক শক্তি জনগণের দল।)
  • একজন তরুণ ব্লগার একজন মাদ্রাসা ছাত্রকে ব্লগ লেখা শিখিয়ে দেবেন এবং মাদ্রাসা ছাত্র ইসলাম কিভাবে আমাদের পথ প্রদর্শক হতে পারে তা নিয়ে একটি ব্লগ পাবলিশ করবেন। আমাদের চিন্তা ভাবনা, মূল্যবোধ, ধ্যান – ধারণায় পার্থক্য থাকতে পারে – কিন্তু একসাথে বসে আলোচনা করলে আমাদের মাঝের দূরত্বটুকু দূর হয়ে যায়।
  • কয়েকজন তরুণ দেশ নিয়ে তাদের স্বপ্ন, আশা আকাঙ্খা প্রত্যাশা তুলে ধরবেন। 
  • বাংলাদেশের মানুষ পরিকল্পনাবিহীন অপরাজনীতি দেখে অভ্যস্ত। জনগণ জানে না সুপরিকল্পিত সুশাসন দেশকে কোথায় নিয়ে যেতে পারে। বাংলাদেশ সঠিকভাবে পরিচালিত হলে স্বপ্নের বাংলাদেশ কেমন হবে তার এবং সেই স্বপ্নের বাংলাদেশে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের জীবনের একটা চিত্র জনগণের সামনে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তুলে ধরে জনগণকে সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্নে উজ্জীবিত করা হবে। দৃঢ়তার সাথে জনগণকে জানানো হবে স্বপ্নের বাংলাদেশের লক্ষ্যে পরিবর্তন এবারই আসছে।
  • জাতি ধর্ম বর্ণ শ্রেণী পেশা নির্বিশেষে কারও উপর যাতে কখনও অন্যায় না হয়, জনগণকে এলাকায় এলাকায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে তা নিশ্চিত করতে আহ্বান জানান হবে এবং দলটি এক্ষেত্রে জনগণের পাশে থাকবে।
  • নাগরিক শক্তি জনগণের দল। জনগণ সব ধরণের মাধ্যম (ওয়েব, সেল ফোন, ইমেইল ইত্যাদি) ব্যবহার করে যাতে দলটির কাছে প্রত্যাশা, মতামত, আশা আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরতে পারে সে লক্ষ্যে বাবস্থা।
  • কয়েকটি দল বিলুপ্ত ঘোষণা করে স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে সকলে মিলে নাগরিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে – ট্রাঞ্জিশানটা স্মুথ হবে – সবাইকে নাগরিক শক্তির অংশ করে নেওয়া। প্রত্যেক দলের দলীয় প্রধান ঘোষণা দেবেন।
  • প্রশ্ন উত্তর পর্ব। 
  • ওয়েবে আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচারিত হবে।
  • স্থানীয় পর্যায়ে আয়োজন। লাইভ টেলিকাস্টিং। কেন্দ্রীয়ভাবে আত্মপ্রকাশ ঘোষণার সাথে সাথে স্থানীয় আয়োজন শুরু হবে।   
  • মেম্বারশিপ ফর্ম (সেল ফোন, ওয়েব, কাগজ – সুনাগরিক হিসেবে দেশের জন্য কি ভূমিকা রাখতে চান, দলীয় সদস্য হিসেবে কোন কোন ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে চান – তা লিখবেন।)
  • জনগণকে প্রতিটি কর্মকাণ্ডে যত বেশি সম্পৃক্ত করা যাবে – জনগণের সাথে দলটির তত বেশি আবেগের সম্পর্ক গড়ে উঠবে।
  • নাগরিক শক্তির অনলাইন প্রেসেন্স
  • মিনি বুকলেট – নাগরিক শক্তি সম্পর্কিত সব লেখার সংকলন।
  • দলটা আমাদের সবার। সবার মতামতের ভিত্তিতেই পরিচালিত হবে দল এবং দেশ। স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে উঠবে তারুণ্যের শক্তিতে। তরুণদের জন্য প্ল্যাটফর্ম গড়ে দেওয়া হবে যাতে তারা বিভিন্ন কল্যাণমুখী, উদ্ভাবনী উদ্যোগ নিতে পারে। তরুণ তরুণীরা সবচেয়ে বেশি উৎসাহ নিয়ে কাজ করবে। টীম গড়ে তুলতে হবে। সবাই একসাথে বসে মিটিং এর পাশাপাশি ভার্চুয়ালি একসাথে কাজ করতে পারে, সাজেশান দিতে পারে, যোগাযোগ দিতে পারে সে লক্ষ্যে বাবস্থা – ফেইসবুক গ্রুপ। তরুণতরুণীদের মাঝ থেকেই ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে উঠবে। নাগরিক শক্তির সুষ্ঠু এবং কল্যাণমুখী রাজনীতির চর্চা তরুণ তরুণীদের রাজনীতিতে আগ্রহী করবে। 

বিশ্ব রেকর্ড গড়ে জাতীয় ঐক্য

ঘড়ির কাঁটায় তখন একটা ৩৫ মিনিট। জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে ঠায় দাঁড়িয়ে ২৭ হাজার ১১৭ জন। সবার হাতে একখণ্ড করে বাংলাদেশ। চারদিকে সবুজ আর মাঝখানটায় লাল। গতকাল সোমবার এই মানুষগুলো আর লাল-সবুজ মিলেমিশে রূপ নিল একটি জাতীয় পতাকায়। 

বাংলাদেশের বিজয় দিবসকে স্মরণ করে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানব জাতীয় পতাকা নির্মাণের লক্ষ্যে সেনাবাহিনীর সহায়তায় এই আয়োজন করেছিল রবি আজিয়াটা। 

বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানব পতাকা গড়ে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে স্থান করে নিয়েছে বাংলাদেশ। আজ শনিবার গিনেস বুক কর্তৃপক্ষ এই অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে গত বছর করা পাকিস্তানের জাতীয় মানব পতাকার রেকর্ড আনুষ্ঠানিকভাবে ভেঙে দিল বাংলাদেশ।

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৩ লাখের বেশি বাঙালি এক সময়ে একসঙ্গে গাইলেন তাদের প্রাণের জাতীয় সংগীত। যেনো এতো আবেগ আর এতো সুর আগে কখনও দেখেনি বিশ্ববাসী।

১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের ৪৩তম বিজয় দিবসে সোমবার বিকেল ৪টা ৩১ মিনিটে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমবেত মানুষেরা একসঙ্গে পরম আবেগে সমবেত কণ্ঠে গেয়ে উঠলেন- ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি।’

বিশ্ব রেকর্ডে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত

বিজয় ৪:৩১

বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানব পতাকা তৈরির পর এবার একসঙ্গে সর্বাধিক কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে গিনেস বুকে নাম ওঠানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

আগামী ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের উদ্যোগে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে এই আয়োজন করা হবে।

গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর সবচেয়ে বড় মানব পতাকা তৈরির উদ্যোগেও সহযোগিতা করেছিল সশস্ত্র বাহিনী।
বৃহস্পতিবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ২৬ মার্চ সর্বাধিক গণজামায়েতে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে বাংলাদেশের নাম সংযোজনের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানটি আয়োজনে বৃহস্পতিবার সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের সভাপতিত্বে ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে সমন্বয় সভা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, আনসার বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিজিএমইএর সভাপতি, বিকেএমইএ ও বিটিএমএর প্রতিনিধিরাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।

বিজয় দিবসে শেরেবাংলা নগরের প্যারেড গ্রাউন্ডে লাল-সবুজ বোর্ড মাথার ওপর তুলে ধরে ২৭ হাজার ১১৭ জন কিশোর-তরুণ অংশ নেন। ওই উদ্যোগে সহযোগিতা করেছিল মোবাইল ফোন অপারেটর রবি।

জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে বিশ্ব রেকর্ডের উদ্যোগ

লক্ষ লক্ষ মানুষ এক হয়ে যখন জাতীয় সঙ্গীত গাইবে তখন দেশের প্রতি সবার ভালবাসা মমত্ববোধ বাড়বে এবং লক্ষ লক্ষ মানুষের মাঝে ঐক্য, হৃদ্যতার বন্ধন গড়ে উঠবে। বিশ্ব রেকর্ডের মাধ্যমে সারা পৃথিবীর কাছে আমাদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে। তারা আমাদের সাথে বাণিজ্য সম্প্রসারণে আগ্রহী হবে। আর লক্ষ লক্ষ মানুষের ঐক্যের মাধ্যমেই আমরা দেশ থেকে সকল অন্যায় অপরাধ দুর্নীতি সমূলে উৎপাটন করে সুখী সমৃদ্ধ স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তুলবো। প্রকৃতপক্ষে রাজনীতিবিদরা দেশের মানুষকে দুইটি দলে ভাগ করে বিভেদ তৈরি করে নিজেরা অন্যায় অপরাধ দুর্নীতি করছে। এর বিরুদ্ধে চাই তৈরি করে দেওয়া মিথ্যে বিভেদ ভুলে লক্ষ কোটি মানুষের ঐক্য। এসব অনুষ্ঠান সেই ঐক্যের পথে এক একটি ধাপ।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুনগত পরিবর্তনের গল্প – ১ [আমি রাজনীতিতে কিভাবে – ২]

১.

৯১ এর নির্বাচনের সময় আমি ছিলাম অনেক ছোট – রীতিমত ৪ বছরের বাচ্চা ছেলে!খুব একটা না বুঝলেও এটুকু বুঝতাম আমি ধানের শিষের সাপোরটার। আর মামা ছিলেন নৌকার সাপোরটার। আমাকে মজা করে বলতেন, ধানের শীষ ডুবে যাবে।

শেষ পর্যন্ত অবশ্য মামার নৌকাই ডুবল!

মানুষ কারও না কারও পক্ষে ভোট দেয় এবং ভোট যার পক্ষে বেশি পড়ে সে জিতে – ইলেকশান কিভাবে হয় এটা চিন্তা করে বুঝেছিলাম আরও কিছুদিন পরে। আব্বুকে জিজ্ঞেস করে জেনে নিয়েছিলাম আমার ধারণা ঠিক কিনা।

মাঝখানে ৪ বছর সৌদি আরবে কাটিয়ে ‘৯৭ এর ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আসি।

পত্রিকা খুললেই চোখে পড়ত আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসের খবর – এক এক নেতা এক এক এলাকায় (নারায়ণগঞ্জ, ফেনী, লক্ষ্মীপুর) সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। আবার কারও কারও ব্যাংক থেকে ঋণ খেলাপির খবর। #TowardsCrimeFreeBangladesh  #StopDrugTrafficking

২০০১ এর সময় আমি পড়তাম ক্লাস নাইনে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পুরো সময়টা ভালমত ফলো করলাম। নির্বাচন ও হল।

এরপর থেকে পত্রিকা খুললেই দেখি দুর্নীতি আর অনিয়মের খবর। যোগ্য ব্যক্তিরা সরকারে মূল্যায়ন পেলেন না।  #SayNoToCorruption

বুঝলাম, এভাবে দেশ চলতে পারে না। পরিবর্তন আসতেই হবে।

২.

২০০৩ সাল থেকে অধ্যাপক ডাঃ বদরুদ্দোজা চৌধুরী এবং ডঃ কামাল হোসেন পরিবর্তনের কথা বললেন।

বিকল্প ধারা আর গণফোরামের খবরগুলো পত্রিকাতে খুঁজে বের করতাম। কী গভীরভাবে চাইতাম বাংলাদেশের “পচা” রাজনীতিতে গুনগত পরিবর্তন আসুক!

দুই নেতার নেতৃত্বাধীন দুই দল মিলে সারা দেশে জনগণের বক্তব্য শোনার অনুষ্ঠানের আয়োজন করলেন। চমৎকার একটা ব্যাপার। এখনকার মত এত চ্যানেল, এত অনুষ্ঠান তখন ছিল না। কাজেই রাজনৈতিক সমাবেশে সাধারণত নেতাদের বক্তব্য শুনেই ফিরে যেতে হয়। এমন একটা সময়ে এই ধরণের অনুষ্ঠান প্রশংসনীয়। চট্টগ্রামের অনুষ্ঠানে আমিও গিয়েছিলাম – জীবনে প্রথমবারের মত কোন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে!

মানুষ নিজের চাওয়া পাওয়া জানাতে চায়। আগ্রহ নিয়ে তাদের কথা শুনলে তারা কত খুশি হয়!

বিএনপি সরকারের কর্মীরা এসব অনুষ্ঠানে ডিম ছুড়ে মারাসহ ব্যাপকভাবে দমন চালিয়ে দুই দলের যে সম্ভাবনা ছিল তাকে থামিয়ে দিল।

৩.

২০০৭ সালে নোবেল বিজয়ী প্রফেসর ডঃ মুহম্মদ ইউনুস পরিবর্তনের ডাক দিলেন।

একটা রাজনৈতিক দল গঠন করবেন। মিডিয়ার মাধ্যমে পরিকল্পনা জানিয়ে জনগণের মতামত চাইলেন।

এবার আশা ছিল, পরিবর্তন আসবেই। পরিছন্ন ভাবমূর্তি, প্রশ্নাতীত সততা, মেধা, প্রশাসনিক দক্ষতা, নাগরিক সমাজের একটা বড় অংশের সমর্থন, গ্রামীণ ব্যাংকের সারাদেশে লক্ষ লক্ষ গ্রাহকের মাধ্যমে গ্রামে গ্রামে পরিচিতি, তরুণ প্রজন্মের আইডল – বাংলাদেশের একমাত্র নোবেল পুরস্কার বিজয়ী।

কিন্তু এবারও আগের কাহিনী – আরও ব্যাপকভাবে।

বিকল্প ধারা – গণফোরামের উপর বিএনপি এককভাবে দমন চালিয়েছিল। ২০০৬ তে অধ্যাপক ডাঃ বদরুদ্দোজা চৌধুরী এবং কর্নেল (অবঃ) ডঃ অলি আহমেদ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি গঠনের পরপরও বিএনপি দ্রুত দমনের পথে গিয়েছিল। আরও আগে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী আলাদা হওয়ার পর আওয়ামী লীগ দমন (খুনসহ) চালিয়েছিল।

এবার দুই দল সম্মিলিতভাবে তাদের সুবিধাভোগী গোষ্ঠীকে সাথে নিয়ে দমনের পথে গেল। মিথ্যা এবং আপত্তিকর নানা শব্দও  ব্যবহার করল (যেমন “ঘুষখোর”; যিনি সামাজিক ব্যবসা নামে এমন ব্যবসা চালু করেছেন যেখান থেকে মালিক শুধুমাত্র প্রাথমিক বিনিয়োগ তুলে নেওয়া ছাড়া কোন লভ্যাংশ নেবেন না, যার প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংকের ৯৭ শতাংশ মালিকানা গরিব মহিলাদের হাতে এমন আদর্শ ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা চালানোর জন্য এসব শব্দ!)।  

বাংলাদেশের তরুণ সমাজ যে পরিবর্তন চাইছিল ২০০৭ এও তা অঙ্কুরেই বিনষ্ট হল।

৪.

এরপর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় প্রশংসনীয় নানা উদ্যোগে সুন্দর বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখা শুরু করলাম।

এমন একটা দেশ – সারাদেশের মানুষের কোন জাতীয় পরিচয়পত্র, ডেটাবেইসে সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেই! ছবিযুক্ত ভোটার আইডি কার্ডের মাধ্যমে আমরা তা পেলাম।

বিচার বিভাগেও প্রয়োজনীয় সংস্কার এল।

শক্তিশালী নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি বাংলাদেশের অনেকদিনের অভাব একটা শক্তিশালী দুর্নীতি দমন কমিশনও পেলাম।

দুর্নীতিবাজ নেতাদের গ্রেপ্তার দেখে স্বস্তি ফিরে এলো। বাংলাদেশের জনগণের মাঝে অনেক জনপ্রিয়তা পেলো।

দুর্নীতিতে বিশ্বসেরার খেতাব জেতা বাংলাদেশে একটা নতুন যুগের সূচনা হল বলে বাংলাদেশের জনগণ আশা করল।

৫.

এরপর ২০০৮ এর নির্বাচন। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলো।

নতুন মন্ত্রিসভার পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির অনেকে প্রশংসা করলেন। প্রথম ১ বছরে মনে হল, ছাত্রলীগ আর যুবলীগের টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দুর্নীতিবাজদের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে যে পরিবর্তনের আশা দেখেছিলাম তা দীর্ঘস্থায়ী হবে। এসময়কার সার্ভেই ও তাই বলে – প্রথম বছরে আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা বেড়ে গিয়েছিল।

এরপরই আমাদের সামনে প্রকাশিত হওয়া শুরু করল দুর্নীতি, সন্ত্রাস আর অনিয়মের মহোৎসবের খবর। বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিবর্তনের যে আশা করেছিলাম – এবার সে আশায় গুড়ে বালি – কয়েক বছরের জন্য হলেও।

৬.

অবশেষে ২০১৩ সালের শেষ তিন মাসে আমরা বাংলাদেশের রাজনীতিতে সত্যি সত্যিই নতুন সূর্যের উদয়ের পথে এগুনোর লক্ষ্যে একত্রিত হলাম। অন্যায় অবিচার দুর্নীতি মুক্ত একটা সুখী, সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন আমাদের একত্রিত করল।

পরবর্তী: সম্মিলিতভাবে সবাই জনগণের সামনে আসবেন।

এবার আমরা জনগনকে সাথে নিয়েই সামনে আসবো। কারণ আমরা জানি, জনগণের ঐক্যের শক্তিই সবচেয়ে বড় শক্তি।

আরও

নাগরিক শক্তির অনলাইন প্রেসেন্স

Website

  • মেম্বারশিপ ফর্ম – SMS verification; চাইলে ফেইসবুক আকাউন্ট লিঙ্ক জুড়ে দিতে পারেন। কোন কোন ক্ষেত্রে দক্ষতা-আগ্রহ, দেশের জন্য কোন ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে চান, দলের সদস্য হিসেবে কিভাবে ভূমিকা রাখতে চান, দলের কোন অঙ্গ সংগঠনের সাথে যুক্ত হতে চান। কাগজের ফর্ম পূরণ করেও মেম্বার হিসেবে যোগ দেওয়া যাবে।
  • মতামত ফর্ম – দলের জন্য, দেশের কল্যাণে যে কোন মতামত।  
  • Blog (Anyone can submit; Moderation) সাইট ব্লগে প্রত্যেকের চিন্তা ভাবনা, প্রত্যাশা প্রকাশ করার সুযোগ দেওয়া হবে।
  • Forum on different topics. বিভিন্ন বিষয়ে আলাদা আলাদা থ্রেডে আলোচনা। আপাতত ফোরাম হবে অনলাইনে মতামত জানানোর মূল মাধ্যম। পরবর্তীতে তরুণদের মতামত নিয়ে বিভিন্ন ফিচার সমৃদ্ধ অনলাইন প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা হবে।  
  • Video (Youtube API), Image Gallery
  • News, Links
  • Mobile Optimized (m.nagorikshakti.org) গ্রামে সবাই ফোন ব্যবহার করে এক্সেস করবে।
  • Facebook / Google+ / Twitter login for commenting, forums etc. সবাই পড়তে পারবে, কিন্তু সাইটে কমেন্ট করতে / মতামত দিতে ফেইসবুক লগইন। (তা নাহলে স্প্যাম, উদ্দেশ্য প্রণোদিত কমেন্ট – অ্যাডমিন মডারেশান এর পর পাবলিশ) 
  • Development: Drupal, WordPress, phpBB – (quick setup, bug-free code) 
  • স্বপ্নের বাংলাদেশের ভিডিও
  • সিকিউরিটি

Facebook

  • Page
  • Groups। তরুণ তরুণীরা সবচেয়ে বেশি উৎসাহ নিয়ে কাজ করবে। তরুণ তরুণীদের মাঝ থেকেই ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে উঠবে। টীম গড়ে তুলতে হবে। সবাই একসাথে বসে মিটিং এর পাশাপাশি যাতে ভার্চুয়ালি একসাথে কাজ করতে পারে, সাজেশান দিতে পারে, যোগাযোগ দিতে পারে সে লক্ষ্যে বাবস্থা – “ফেইসবুক গ্রুপ”। 
  • Image with writings (more people read); নাগরিক শক্তি, প্রতীক – বই trademarked। লেখাগুলো ভাগ করে ইমেইজ হিসেবে শেয়ার দেওয়া হবে (দলের নাম, প্রতীক থাকবে ইমেইজে) – সবাই পড়বে, লাইক – শেয়ার দিবে এবং এভাবে ছড়িয়ে পড়বে। বড় একটা লেখায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ কথা থাকলে অনেক সময় কিছু না কিছু অমনোযোগের কারণে মিস হয়ে যায়। কারও মনে একটা অংশ দাগ কাটে, অন্য কারও মনে আরেকটা অংশ। দুচার লাইনের ছোট ছোট লেখা পুরোটা সবাই মনোযোগ দিয়ে পড়ে।  
  • ডিজিটাল মিডিয়া / সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, তারুণ্য। স্বপ্নের বংলাদেশের ভিডিও (দলের নাম, প্রতীক) -> লিংকঃ ফেইসবুক, ইউটিউব পেইজ, ওয়েব সাইট। দলটা আমাদের সবার। সবার মতামতের ভিত্তিতেই পরিচালিত হবে দল এবং দেশ। স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে উঠবে তারুণ্যের শক্তিতে। তরুণদের জন্য প্ল্যাটফর্ম গড়ে দেওয়া হবে যাতে তারা বিভিন্ন কল্যাণমুখী, উদ্ভাবনী উদ্যোগ নিতে পারে। 

Twitter

  • International Audience
  • Hashtag: #Nagorik

Youtube

  • Youtube Channel: স্বপ্নের বাংলাদেশের ভিডিও, দেশ নিয়ে ভিডিও, দলীয় কর্মকাণ্ডের ভিডিও
  • পুরো ভিডিও; ছোট ক্লিপ্স (বেশি মানুষ দেখবে)

Google+

E-Mail

  • সবাই যাতে মতামত জানাতে পারে সেজন্য বেশ কয়েকটি ই-মেইল অ্যাড্রেস। 

Mobile

  • Quick polling; survey (যে কোন বিষয়ে দ্রুত জনগণের মতামত নিতে ব্যবহার) 
  • SMS
  • People should be given the opportunity to express their opinions. SMS Server. 
  • বেশ কয়েকটা নাম্বার। তথ্য দেওয়ার জন্য, মতামত নেওয়ার জন্য।  

নাগরিক শক্তির পক্ষে গনজোয়ার

নাগরিক শক্তির শক্তিঃ

  1. মুক্তিযোদ্ধা সমাজ 
  2. নাগরিক সমাজ
  3. ব্যবসায়ি সমাজ
  4. তরুণ প্রজন্ম
  5. গ্রামীণ নারী
  6. মাদ্রাসা সংশ্লিষ্ট, আলেমসমাজ
  7. ক্ষুদ্র ও মাঝারী ব্যবসায়ী 
  8. পাহাড়ি জনগোষ্ঠী
  9. কৃষক সমাজ
  10. রাজনৈতিক দল, নেতাকর্মীরা
  11. ঘোষণা দেওয়ার পর আমাদের “স্টার-প্যাকড” নেতৃত্ব

আমাদের অত্যন্ত শক্তিশালী তিনটি নেটওয়ার্ক আছে – তিনটি নেটওয়ার্কের প্রতিটির আওতায় মিলিয়ন মিলিয়ন মানুষ আছেন।

আরও দুটি ডেমগ্রাফিক আছে – প্রত্যেকটি কয়েক মিলিয়ন মানুষের।

গ্রামীণ নারী – ৫০ লক্ষ +

মাদ্রাসা সংশ্লিষ্ট, আলেমসমাজ – ৩০ লক্ষ +

গার্মেন্টস কর্মী – ৪০ লক্ষ

শেয়ারবাজারে ক্ষতিগ্রস্থ বিনিয়োগকারী – ৩০ লক্ষ +

তরুণ ভোটার – (১৮ – ৩৫ বছর) – মোট ভোটারের ৪৫%, অর্থাৎ ৯ কোটি + ভোটারের মধ্যে প্রায় ৪ কোটি+।
এদের overwhelming majority নাগরিক শক্তির সাথে থাকবে।

ফেইসবুক ব্যবহারকারি – আনুমানিক ৫০ লক্ষ – এই সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। এদের overwhelming majority নাগরিক শক্তির সাথে থাকবে।

নারী ভোটার – ৪ কোটি ৫০ লক্ষ +।

মেডিক্যাল কলেজগুলোতে আনুমানিক ৬০ ভাগ ছাত্রী। গ্রামীণ ব্যাংক – ৮৪ লক্ষ গ্রাহক, ৯৭% নারী। গার্মেন্টস – ৪০ লক্ষ কর্মীর মধ্যে প্রায় ৮৫% নারী কর্মী।

আমাদের এলাকা ভিত্তিক ভোটার হিসাবে যেতে হবে।

নাগরিক শক্তির পরবর্তী লক্ষ্য

কৃষক সমাজ
আমাদের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে এদের সংগঠিত করা হবে।
(প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।)

ভিন্ন ধর্মাবলম্বী, জাতিগোষ্ঠী (প্রায় ৮০ লক্ষ ভোটার)
বিএনপি-জামায়াত জোট সুযোগ পেলে ঝাপিয়ে পড়বে। আওয়ামী লীগের পক্ষে নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব না। একমাত্র নাগরিক শক্তির পক্ষে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব। নাগরিক শক্তি ক্ষমতায় গিয়ে ২০০১ নির্বাচন উত্তর সংখ্যালঘু নির্যাতন, রামু, পটিয়া, অন্যান্য হামলা এবং সাম্প্রতিক নির্বাচনকালীন হামলাগুলোর সুষ্ঠু বিচারের মাধ্যমে বাংলাদেশে চিরদিনের জন্য সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠিত করবে। এখন জনগণকে সংগঠিত করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে ভিন্ন ধর্মাবলম্বী, জাতিগোষ্ঠীর মন জয় করতে হবে।
(প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।)

প্রবাসে কর্মরতদের পরিবার।
প্রবাসে প্রায় ১ কোটি কর্মী কর্মরত আছেন। তাদের পাঠানো ফরেইন রেমিটেন্সের অর্থ আমাদের অর্থনীতিতে একটা নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তারা একটা নতুন ডেমগ্রাফি গড়ে তুলছে। তাদের কারও কারও পরিবারের একটা অংশ গ্রামে থাকলেও ছেলেমেয়েরা শহরে পড়াশোনা, কাজ করছে। এই ডেমগ্রাফির আশা আকাঙ্ক্ষা স্বপ্ন বোঝার চেষ্টা করতে হবে। প্রবাসে কর্মরতদের বিভিন্ন সমস্যা যেমন উন্নত কাজের পরিবেশ, থাকার পরিবেশ এবং সর্বোপরি স্বাস্থ্য সুবিধা নিশ্চিত করতে ক্ষমতায় গিয়ে বাংলাদেশ এম্বেসিগুলোর ভূমিকা বাড়ানো হবে এবং এখন সবাইকে সাথে নিয়ে সরকারকে যথাযথ উদ্যোগ নিতে চাপ দেওয়া হবে। এক একটি দেশে কর্মরতদের পরিবারদের নিয়ে এক একটি সংগঠন গড়ে তোলা যায়। এভাবে শুরু করতে পারলে যারা সংগঠনে আছেন তারাই নিজেদের শক্তিশালী করতে, অধিকার দাবি দাওয়া আদায় করতে অন্যদের অন্তর্ভুক্ত করবেন।
(প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।)

এরা সবাই যখন পরিবার, পরিচিতদের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়বে!

সাথে যোগ দেবেন প্রাজ্ঞ রাজনীতিবিদরা।

আমাদের “স্টার-প্যাকড” নেতৃত্বের পাশে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো!

সবার উপরে আমাদের ভিশন এবং জনগণের পাশে থেকে জনগণের জন্য উন্নয়নের রাজনীতি করার অভিপ্রায়। আর মেধা – নেটওয়ার্ক এবং উন্নত ইলেকশান ক্যাম্পেইন স্ট্রাটেজি

মানুষ সমাজসেবকদের ভোট দেবেন নাকি সন্ত্রাসীদের গডফাদার, দুর্নীতিবাজদের ভোট দেবেন?

সন্ত্রাসীদের গডফাদাররা, দুর্নীতিবাজরা কালো টাকা, পেশি শক্তি ব্যবহার করতে না পারলে (নির্বাচনী আচরণবিধি সঠিকভাবে প্রয়োগ হলে) তাদের কে ভোট দেবে? অভিজ্ঞতা থেকে জানি, এসব নির্যাতনকারী, খুনি সন্ত্রাসীদের গডফাদারদের বিরুদ্ধে মানুষের চরম ক্ষোভ – কাউকে পেলে ছাড়বেন না – প্রাণের ভয়ে চুপ করে থাকেন।

আর আওয়ামী বাংলাদেশ – জাতীয়তাবাদী বাংলাদেশের নামে দেশ বিভক্তি নয় – এবার নাগরিক শক্তির নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ।

গণজোয়ার উঠবে!

আগামী নির্বাচনে নাগরিক শক্তির লক্ষ্য মোট প্রদত্ত ভোটের ৭০%+ ভোট নিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার।







কয়েকমাস আগের সার্ভেইতে AL – ৩৪% এবং BNP – ৪৮%।

শেয়ার বাজার ধ্বস (কারসাজির মাধ্যমে ৩০ লক্ষাধিক বিনিয়োগকারির সর্বস্ব কেড়ে নেওয়া), গ্রামীণ ব্যাংকে অন্যায় হস্তক্ষেপ (৮৪ লক্ষ গ্রাহকের ব্যাংককে ভেঙে ১৯ টুকরা করার প্রচেষ্টা; এমন একটি ব্যাংক যেটি শুধুমাত্র দারিদ্র্য দূর করেনি, ব্যাংকের মালিকানায় গ্রাহকদের অংশও দিয়েছে), দুর্নীতি (হলমার্ক, পদ্মা সেতু ইত্যাদি), সন্ত্রাসী কার্যকলাপ (ত্বকী হত্যা, সাগর-রুনি হত্যা), চাঁদাবাজি (ছাত্র লীগ, যুব লীগ, পরিবহণক্ষেত্র ইত্যাদি), মাদক ব্যবসা করে দেশের তরুণ সমাজকে বিপথে নেওয়া, আস্তিক-নাস্তিক প্রচার – এসব কারণে AL এর এই দশা। ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত সিটি করপরেশান নির্বাচনগুলোতে আমরা এর প্রতিফলন দেখেছিলাম। গত কয়েক মাসে সমর্থন আরও বেশ খানিকটা কমেছে।

BNP কি মহান কিছু করেছে? আমরা উত্তরটা জানি। AL এর দুঃশাসনে অতিষ্ঠ জনগণ পরিবর্তন চায়। আস্তিক – নাস্তিক প্রচারও পক্ষে গেছে, যদিও ২০০১-২০০৬ তে আমরা এদেরকে দুর্নীতিতে আকণ্ঠ নিমজ্জিত দেখেছিলাম।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে নির্বিচারে মানুষ খুন, অবরোধ-হরতালের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি ধ্বংস জনগণ ভালভাবে নেইনি। BNP র সাংগঠনিক দুর্বলতা, নেতাকর্মীদের কমিটমেন্টের অভাব ফুটে উঠেছে।

BNP র কোন কালেই কোন আদর্শ ছিল না। ভোটের আগে ইসলামী চেতনার একটা মুখোশ ধারণ করে ক্ষমতায় গিয়ে দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হয়ে সেই চেতনা জলাঞ্জলি দিয়েছে। ইসলামী চেতনার মুখোশ নিয়ে সুযোগ পেলে জামায়াত ইসলামীর নেতৃত্বে সংখ্যালঘুদের উপর ঝাপিয়ে পড়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ধ্বংস করেছে। আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আর অসাম্প্রদায়িকতার আদর্শ যা ছিল এবার তা ভূলুণ্ঠিত করেছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে স্বৈরাচারী চেতনাকে তারা গ্রহণ করেছে। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে তারা শুধু বার্থ হয়নি, বরং ভূমিদস্যুতাকে লক্ষ্য হিসেবে নিয়ে সর্বদলীয় সাম্প্রদায়িক হামলা চালিয়েছে।

দেশ এবং জনগণ এখন নাগরিক শক্তির নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার অপেক্ষায়।

আরও
নাগরিক শক্তির ইলেকশান ক্যাম্পেইন স্ট্রাটেজি

নাগরিক শক্তির আত্মপ্রকাশ ঘোষণা অনুষ্ঠান

জেনেরাল সেক্রেটারি, কো-জেনেরাল সেক্রেটারি, সিনিয়র জয়েন্ট জেনেরাল সেক্রেটারি এবং জয়েন্ট জেনেরাল সেক্রেটারির দায়িত্বে যারা আছেন সবাই একত্রিতভাবে নাগরিক শক্তির আত্মপ্রকাশ ঘোষণা অনুষ্ঠান আয়োজনের দায়িত্ব নেবেন। এই লক্ষ্যে সবাইকে নিয়ে একসাথে বসা দরকার। জেনেরাল সেক্রেটারি সাহেব সেক্রেটারিয়েটের সবাইকে এক টেবলে আনার উদ্যোগ নেবেন।

আত্মপ্রকাশ ঘোষণা অনুষ্ঠানে

  • জনগণের ভোটের অধিকার রক্ষায় নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে এবং
  • হরতাল – অবরোধ, জ্বালাও – পোড়াও, সংখ্যালঘু নির্যাতন, ব্যবসাবাণিজ্য এবং শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস সহ সবরকম ধ্বংসাত্মক কর্মসূচী বন্ধ করে শান্তির পক্ষে 

রাজধানী ঢাকায় কর্মসূচী ঘোষণা। জনগণ অহিংসভাবে অধিকার আদায় করে বাড়িতে ফিরবে।

মটো – “আমরা করবো জয়”

“আর নয় ধ্বংসের গান,

জনতার ঐকতান,

সৃষ্টির সুরে হবে গান একদিন।

আমরা মানি নাকো বাঁধা বন্ধন।

সাম্যের সত্যের জয় একদিন।

একদিন সূর্যের ভোর,

একদিন স্বপ্নের ভোর,

একদিন সত্যের ভোর আসবে।

পৃথিবীর মাটি হবে মধুময়,

বাতাস হবে মধুময়,

আকাশ হবে মধুময় একদিন।

বুকের গভীরে আছে প্রত্যয়,

আমরা করবো জয়।”

ঘোষণা অনুষ্ঠান এবং কর্মসূচীর পরিকল্পনা একসাথে চলবে।

দুটি দাবির পক্ষে সারাদেশে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ অভিযান এবং জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করার কাজ শুরু করতে হবে।

জনগণকে আন্দোলনে আনার জন্য emotion arouse করতে হবে। আন্দোলনের থিমটার সাথে যারা একাত্মতা প্রকাশ করে তারাই আবেগ দিয়ে আন্দোলন গড়ে তুলবে। গণজাগরণের আন্দোলন গড়ে উঠেছিল তরুণদের মাঝে “মুক্তিযুদ্ধের আবেগ এবং মুক্তিযুদ্ধকালীন গণহত্যার উপর ঘৃণা”কে কেন্দ্র করে।হেফাজতের আন্দোলন গড়ে উঠেছিল “নাস্তিক্যবাদের বিরুদ্ধে ইসলাম রক্ষার আবেগ”কে কাজে লাগিয়ে। দেশ এখন যে পর্যায়ে – গীতা সেনরাও আন্দোলনে নামবে। সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হওয়া, সুন্দর জীবনের স্বপ্ন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ, “আমরা করবো জয়”, “বাংলাদেশ রুখে দাঁড়াও” সবার আবেগকে নাড়া দেবে।

শেয়ারবাজারে কতিপয় দুর্নীতিবাজের কারসাজির কাছে সর্বস্ব হারানো ৩০ লক্ষের অধিক বিনিয়োগকারির অধিকার রক্ষায় নাগরিক শক্তি আন্দোলন গড়ে তুলবে এবং আইনের আশ্রয় নেবে।

সাগর রুনি হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতেও আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। বিচার না হলে আরেকজন সাগর কিংবা আরেকজন রুনিকে প্রাণ দিতে হবে।

গণতন্ত্র চর্চার অংশ হিসেবে আমাদের বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা পালন করতে হবে। সরকারের ভুল ত্রুটিগুলো জনগণের সামনে তুলে ধরে সরকারকে সঠিক পথে রাখতে হবে, জনগণের ন্যায্য দাবিদাওয়া আদায় করতে হবে।