তরুণদের অফুরন্ত সম্ভাবনা বিকাশে নাগরিক শক্তি

আমাদের তরুণ প্রজন্মের দৃষ্টিভঙ্গিতে একইসাথে আধুনিকতা এবং আপন শেকড়, ঐতিহ্যকে ধারণ করা – এই দুইয়ের প্রশংসনীয় সংমিশ্রণ লক্ষ্য করার মত।

ওরা আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে। চলাফেরা, দৃষ্টিভঙ্গিতে ওরা আধুনিক। আধুনিক জ্ঞান – বিজ্ঞানে ওদের দখল।

একইসাথে ওরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে হৃদয়ের গভীরে ধারণ করে। প্রাণের টানে শাহবাগে ছুটে যায়। ক্রিকেটে ম্যাচ জেতার পর ওরা লাল-সবুজ পতাকা হাতে বেড়িয়ে পড়ে।

শুধুমাত্র তরুণ ভলান্টিয়ারদের মাধ্যমেই সারা দেশে গণিত উৎসবের মত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা ঘটে। রানা প্লাজা ধ্বসে ক্ষতিগ্রস্থদের দিকে ওরা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। নির্বাচনোত্তর হামলায় ক্ষতিগ্রস্থ সনাতনী সম্প্রদায়ের পাশে গিয়ে দাঁড়ায়। দলবেঁধে কাজ করাতেই ওদের আনন্দ।

সংখ্যায় ও ওরা এগিয়ে। দেশের ৫০ ভাগ মানুষের বয়স ২৩ বা তারও কম।

প্রাণশক্তিতে ভরপুর বিশাল এই তরুণ প্রজন্মের মাঝে স্বপ্ন, উদ্যম, উৎসাহের কোন ঘাটতি নেই। ওরা পরাজয় খুব একটা দেখেনি – তাই পরাজয় মানতেও চায় না। ওরা পছন্দ করে একসাথে সময় কাটাতে, connected হতে। connected হওয়ার এই ইচ্ছাটাকে জনকল্যাণমূলক নানা কাজে রুপান্তর করা যায় তরুণদের একত্রিত করে। দেশের তরুন তরুণীরা না হয় দল বেঁধে নতুন নতুন উদ্যোগ নিয়ে সমস্যা সমাধানে ঝাঁপিয়ে পড়ল – হতে পারে নিজেদের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন সমস্যা, হতে পারে নিজেদের এলাকার।


শুরুতে যা বলেছিলাম, বাংলাদেশে গণিত অলিম্পিয়াডের মত দেশ পাল্টে দেওয়া বিশাল কর্মযজ্ঞ ঘটছে শুধুমাত্র কিছু তরুণের স্বেচ্ছা কর্মোদ্যোগে [1]। 

কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু তরুণ তরুণী মিলে “কান পেতে রই” নামে একটা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে যেটি অনেক প্রাপ্তবয়স্ক হতাশাগ্রস্ত মানুষকে সুন্দর জীবনে ফিরিয়ে এনেছে।
ওদের দেখে প্রফেসর ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল লিখেছেন –

“তোমরা কিছু তরুণ-তরুণী মিলে নিঃসঙ্গ, বিপর্যস্ত, হতাশাগ্রস্তদের মানসিক সেবা দেবার জন্যে একটা হেলপ লাইন খুলেছ। এমনকি আত্মহত্যা করতে উদ্যত কেউ কেউ শেষ মূহূর্তে তোমাদের ফোন করেছিল বলে তোমরা তাদের মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে এনেছ। তোমরা এই বয়সেই মানুষের জীবন বাচাঁতে পার– কী আশ্চর্য!’


আমি আমার জীবনে একটা সত্য আবিস্কার করেছি; সেটি হচ্ছে, বড় কিছু করতে হলে সেটি ভলান্টিয়ারদের দিয়ে করাতে হয়, যে ভলান্টিয়াররা সেই কারণটুকু হৃদয় দিয়ে বিশ্বাস করে। কাজেই মানসিক সেবা দেওয়ার এই কাজটুকুও আসলে ভলান্টিয়াররা করে।” [2]

তরুণদের এই অফুরন্ত সম্ভাবনাকে কিভাবে কাজে লাগানো যায়?

তরুণরা আর দশজনের চাইতে নিজেকে আলাদা প্রমাণ করতে চাইবে! বিভিন্ন রকম কল্যাণমুখী প্ল্যাটফর্ম গড়ে দিয়ে ওদের কর্মস্পৃহা জাগিয়ে তোলা যায়।  

তরুণদের হাতের কাছেই Google. ওরা চাইলেই জ্ঞানের দিক দিয়ে যে কাউকে হারিয়ে দিতে পারে। নাগরিক শক্তি তরুণদের এই অমিত সম্ভাবনাকে কাজে লাগাবে।

আমাদের তরুণদের কেউ হয়ত উদ্ভাবন করে বসবে এমন কিছু যা দিয়ে অনেক অনেক মানুষের জীবনের একটা দিক পুরোপুরি বদলে যাবে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই তরুণ প্রজন্ম নিশ্চয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোকে সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাইবে!

সবরকম অন্যায় অবিচার দুর্নীতি অনিয়মের বিরুদ্ধে ওরা লক্ষ লক্ষ প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর হয়ে গর্জে উঠবে। দেশপ্রেমের বহিঃপ্রকাশ ঘটাবে দেশের জন্য কাজ করার মাধ্যমে। 


আমাদের নতুন প্রজন্মের তরুণরা যুক্তরাষ্ট্র – ইউরোপের তরুণ, শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী, ইঞ্জিনিয়ার, অর্থনীতিবিদদের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে নিজেদের অনেক অনেক উপরে নিয়ে যাবেন।

আর এরাই তো গড়ে তুলবে আমাদের আরাধ্যের স্বপ্নের আধুনিক বাংলাদেশ।


রেফরেন্স

তরুণ প্রজন্মের আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি

আমাদের তরুণ প্রজন্মের দৃষ্টিভঙ্গিতে একইসাথে আধুনিকতা এবং আপন শেকড়, ঐতিহ্যকে ধারণ করা – এই দুইয়ের প্রশংসনীয় সংমিশ্রণ লক্ষ্য করার মত।

ওরা আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে। চলাফেরা, দৃষ্টিভঙ্গিতে ওরা আধুনিক। আধুনিক জ্ঞান – বিজ্ঞানে ওদের দখল।

একইসাথে ওরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে হৃদয়ের গভীরে ধারণ করে। প্রাণের টানে শাহবাগে ছুটে যায়। ক্রিকেটে ম্যাচ জেতার পর ওরা লাল-সবুজ পতাকা হাতে বেড়িয়ে পড়ে।

শুধুমাত্র তরুণ ভলান্টিয়ারদের মাধ্যমেই সারা দেশে গণিত উৎসবের মত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা ঘটে। রানা প্লাজা ধ্বসে ক্ষতিগ্রস্থদের দিকে ওরা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। নির্বাচনোত্তর হামলায় ক্ষতিগ্রস্থ সনাতনী সম্প্রদায়ের পাশে গিয়ে দাঁড়ায়। দলবেঁধে কাজ করাতেই ওদের আনন্দ।

আমাদের সমাজে একটা কথা প্রচলিত আছে যে, আমাদের কারও কারও মাঝে নাকি ভারত প্রীতি দেখা যায়। আবার কারও কারও মাঝে পাকিস্তান প্রীতি দেখা যায়।

তাই তরুণ প্রজন্মের কেউ কেউ ভাবে, ভারত – পাকিস্তানকে যে যত ঘৃণা করতে পারবে সে তত খাঁটি দেশপ্রেমিক!

কিন্তু একটা দেশের সব মানুষকে ঘৃণা করার ব্যাপারটা আসলে হাস্যকর!

আমাদের নেতাদের অনেকে তো আমাদের সাথে অন্যায় করেন। আমাদের কোন নেত্রী যদি পার্শ্ববর্তী কোন দেশের উপর অন্যায় করেন, আর তাতে যদি সেই দেশের মানুষরা আমাদের সবাইকে ঘৃণা করা শুরু করে, আমাদের দেশের যাদের আমরা সম্মান করি তাদেরও – ব্যাপারটা নিশ্চয় ঠিক হবে না। 

ভারত পাকিস্তান বা পৃথিবীর কোন দেশকে আমরা ঘৃণা করবো না। ‘৭১ এ যারা গণহত্যা চালিয়েছিলেন আমরা তাদের ঘৃণা করবো। সীমান্তে যারা আমাদের ভাই বোনদের হত্যা করেন, নির্যাতন চালান, আমরা তাদের ঘৃণা করবো।

আমরা ভারত পাকিস্তানের সাথে দেশ হিসেবে প্রতিযোগিতা করবো। প্রতিটা ক্ষেত্রে যত দ্রুত সম্ভব তাদের ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবো। ‘৭১ এ যারা মানবতাবিরধী অপরাধ চালিয়েছিলেন আমরা তাদের বিচার নিশ্চিত করবো। পৃথিবীর কোন দেশ আমাদের উপর অন্যায় করলে আমরা দৃঢ়তার সাথে প্রতিবাদ করবো

দেশের জন্য কাজ করার মাধ্যমে আমরা আমাদের দেশপ্রেমের বহিঃপ্রকাশ ঘটাবো।

আমাদের নতুন প্রজন্মের তরুণরা যুক্তরাষ্ট্র – ইউরোপের তরুণ, শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী, ইঞ্জিনিয়ার, অর্থনীতিবিদদের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে নিজেদের অনেক অনেক উপরে নিয়ে যাবেন।

আর এরাই তো গড়ে তুলবে আমাদের আরাধ্যের স্বপ্নের বাংলাদেশ।

আজকের পত্রিকার সংবাদ

আজকের পত্রিকার সংবাদে আমরা দেখেছি

“পাকিস্তানের জিও টেলিভিশনের নির্বাহী সম্পাদক ও জনপ্রিয় উপস্থাপক হামিদ মীর অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের গুলিতে আহত হয়েছেন।

১৯৭১ সালে ২৫ মার্চের রাতের গণহত্যার ভয়াবহতা সচক্ষে দেখতে একদল শিক্ষার্থী নিয়ে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে ছুটে আসেন প্রয়াত অধ্যাপক ও সাংবাদিক ওয়ারিস মীর। নির্মমতার চিত্র দেখে ক্ষুব্ধ সাংবাদিক ওয়ারিস তা নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেন দৈনিক জং পত্রিকায়।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে ভূমিকা রাখার জন্য ওয়ারিসকে সম্প্রতি সম্মাননা জানায় বাংলাদেশ সরকার। সেই ওয়ারিস মীরেরই সন্তান হামিদ মীর।”

– হামিদ মীর গুলিবিদ্ধ

বাংলাদেশের তরুণদের পাশে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্র সরকার সবসময় বাংলাদেশের তরুণদের পাশে থাকবে। 

এর অংশ হিসেবে গ্রান্ট ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। বাংলাদেশের তরুণরা এবং নাগরিক সমাজের সদস্যরা দ্রুত উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রস্তাব করে গ্রান্ট জিতে নেবেন এবং স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার অগ্রযাত্রায় নেতৃত্ব দেবেন।    

বাংলাদেশে তরুণ নেতৃত্বের ক্ষমতায়ন ও সুশীল সমাজের উন্নয়নে বাজেট নির্ধারণ করেছেন যুক্তরাষ্ট্র। এই খাতে কাজ করতে বেসরকারি সংগঠনগুলোর কাছ থেকে প্রকল্প বা কর্মসূচি প্রস্তাব চেয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ গণতন্ত্র, মানবাধিকার বিষয়ক ব্যুরো।

বাংলাদেশে দুটি পৃথক প্রকল্পে ৬ লাখ মার্কিন ডলার দেওয়ার কথা জানিয়েছে দেশটি।

বাংলাদেশের সিভিল সোসাইটিকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে প্রজেক্টে বাজেট ধরা হয়েছে ৩ লাখ ডলার। এছাড়া তরুণ নেতৃত্ব’র ক্ষমতায়নে বাজেট ধরা হয়েছে আরো ৩ লাখ ডলার।

বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের এক সরকারি নোটে ‘বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ নাগরিক অংশীদারিত্ব বাড়ানোর’ লক্ষ্যে আগ্রহীদের প্রকল্প প্রস্তাব, ধারণাপত্র ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনা উল্লেখ করে আবেদন করার আহবান জানানো হয়েছে।

সুশীল সমাজ ও সংগঠনগুলোকে আরো শক্তিশালী করতে নজরদারি, জবাবদিহিতা এবং বৃহত্তর পরিসরে অহিংস পন্থায় পর্যবেক্ষণের উদ্যোগের কর্মসূচি সম্বলিত আবেদন চাওয়া হয়েছে ব্যুরো’র পক্ষ থেকে।

প্রস্তাবের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার বিষয়ক ইস্যুতে কমিউনিটিকে এগিয়ে যেতে সমর্থনের উদ্যোগে নেতৃত্ব দিতে এবং সিভিল সোসাইটির সভা সমাবেশ করার সক্ষমতা তৈরি করতে হবে এ প্রকল্পের মাধ্যমে।

তবে প্রজেক্ট প্রস্তাবনায় একই ধরনের সিভিল সোসাইটির পরস্পরের মধ্যে কোয়ালিশন গঠন করে কো-অর্ডিনেশন এবং বিভিন্ন ‘সামাজিক প্লাটফর্মে’ বা বহুমাত্রিক মাধ্যমে গণসচেতনতা তৈরিতে প্রচারণার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।

বলা হয়েছে, প্রতিযোগিতামূলক প্রস্তাবনা রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নির্দিষ্ট কার্যক্ষেত্রের যৌক্তিকতা তুলে ধরবে। অংশগ্রহণকারী গ্রুপগুলোর মধ্যে বহুমাত্রিকতা নিশ্চিত করবে। এক্ষেত্রে আগে থেকেই উদ্যোগের ভিত্তি থাকবে এবং প্রযুক্তিগতভাবে ইনোভেটিভ বা উদ্ভাবনী ক্ষমতা’র অধিকারী হবে।

এ কর্মসূচির জন্য তরুণদের বয়স সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ থেকে ৩০ বছর।

বলা হয়েছে, প্রতিযোগিতামূলক প্রস্তাবনা সংশ্লিষ্ট সংস্কৃতিক কনটেক্সট বা প্রেক্ষিত, নির্দিষ্ট কার্যক্ষেত্রের যৌক্তিকতা তুলে ধরবে। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ধর্ম ও লিঙ্গভেদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করবে। প্রতিটি কর্মসূচির ক্ষেত্রেই ন্যূনতম ১৫ মাস সময়সীমা নির্ধারিত প্রস্তাবনাকে অধিকতর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে আবেদনের জন্য আবেদনকারীদের ব্যবহারিক নাম ও পাসওয়ার্ড পেতে http://www.grantsolutions.gov or http://www.grants.gov এ ঠিকানায় অনতিবিলম্বে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। আগামী ১৪ মে, সকাল ১১টা ৫৯ মিনিটের আগে ইলেক্ট্রনিক মাধ্যমে পৌঁছানো আবেদনকে যোগ্য আবেদন বলে গ্রহণ করা হবে বলেও জানানো হয়।

– বাংলাদেশে তরুণদের ক্ষমতায়নে অর্থ দেবে যুক্তরাষ্ট্র



গ্রান্টের জন্য আবেদন করার ওয়েবসাইট

নাগরিক শক্তির সোশ্যাল মিডিয়া স্ট্রাটেজি

নাগরিক শক্তির Website

  • মেম্বারশিপ ফর্ম – SMS verification; চাইলে ফেইসবুক আকাউন্ট লিঙ্ক জুড়ে দিতে পারেন। কোন কোন ক্ষেত্রে দক্ষতা-আগ্রহ, দেশের জন্য কোন ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে চান, দলের সদস্য হিসেবে কিভাবে ভূমিকা রাখতে চান, দলের কোন অঙ্গ সংগঠনের সাথে যুক্ত হতে চান। কাগজের ফর্ম পূরণ করেও মেম্বার হিসেবে যোগ দেওয়া যাবে।
  • মতামত ফর্ম – দলের জন্য, দেশের কল্যাণে যে কোন মতামত।  
  • Blog (Anyone can submit; Moderation) সাইট ব্লগে প্রত্যেকের চিন্তা ভাবনা, প্রত্যাশা প্রকাশ করার সুযোগ দেওয়া হবে।
  • Forum on different topics. বিভিন্ন বিষয়ে আলাদা আলাদা থ্রেডে আলোচনা। আপাতত ফোরাম হবে অনলাইনে মতামত জানানোর মূল মাধ্যম। পরবর্তীতে তরুণদের মতামত নিয়ে বিভিন্ন ফিচার সমৃদ্ধ অনলাইন প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা হবে।  
  • Video (Youtube API), Image Gallery
  • News, Links
  • Mobile Optimized (m.nagorikshakti.org) গ্রামে সবাই ফোন ব্যবহার করে এক্সেস করবে।
  • Facebook / Google+ / Twitter login for commenting, forums etc. সবাই পড়তে পারবে, কিন্তু সাইটে কমেন্ট করতে / মতামত দিতে ফেইসবুক লগইন। (তা নাহলে স্প্যাম, উদ্দেশ্য প্রণোদিত কমেন্ট – অ্যাডমিন মডারেশান এর পর পাবলিশ) 
  • Development: Drupal, WordPress, phpBB – (quick setup, bug-free code) 
  • স্বপ্নের বাংলাদেশের ভিডিও
  • সিকিউরিটি


Facebook

  • বাংলাদেশের ৫০ লক্ষের উপর মানুষ বর্তমানে Facebook ব্যবহার করে। তার চেয়েও বড় কথা – এই সংখ্যা অত্যন্ত দ্রুতগতিতে বাড়ছে। ব্যবহারকারীর সংখ্যা এক কোটিতে পৌঁছাতেও খুব বেশি সময় লাগবে না। 
  • Facebook Page
  • Facebook Groups: তরুণ তরুণীরা সবচেয়ে বেশি উৎসাহ নিয়ে কাজ করবে। তরুণ তরুণীদের মাঝ থেকেই ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে উঠবে। টীম গড়ে তুলতে হবে। সবাই একসাথে বসে মিটিং এর পাশাপাশি যাতে ভার্চুয়ালি একসাথে কাজ করতে পারে, সাজেশান দিতে পারে, যোগাযোগ দিতে পারে সে লক্ষ্যে বাবস্থা – “ফেইসবুক গ্রুপ”। 
  • Image with Quotes (বেশি User পড়ে); নাগরিক শক্তি, প্রতীক – বই trademarked। লেখাগুলো ভাগ করে ইমেইজ হিসেবে শেয়ার দেওয়া হবে (দলের নাম, প্রতীক থাকবে ইমেইজে) – সবাই পড়বে, লাইক – শেয়ার দিবে এবং এভাবে ছড়িয়ে পড়বে। বড় একটা লেখায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ কথা থাকলে অনেক সময় কিছু না কিছু অমনোযোগের কারণে মিস হয়ে যায়। কারও মনে একটা অংশ দাগ কাটে, অন্য কারও মনে আরেকটা অংশ। দুচার লাইনের ছোট ছোট লেখা পুরোটা সবাই মনোযোগ দিয়ে পড়ে।  
  • ডিজিটাল মিডিয়া / সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, তারুণ্য। স্বপ্নের বংলাদেশের ভিডিও (দলের নাম, প্রতীক) -> লিংকঃ ফেইসবুক, ইউটিউব পেইজ, ওয়েব সাইট। দলটা আমাদের সবার। সবার মতামতের ভিত্তিতেই পরিচালিত হবে দল এবং দেশ। স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে উঠবে তারুণ্যের শক্তিতে। তরুণদের জন্য প্ল্যাটফর্ম গড়ে দেওয়া হবে যাতে তারা বিভিন্ন কল্যাণমুখী, উদ্ভাবনী উদ্যোগ নিতে পারে।
  • পরবর্তীতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ Occasion এ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে একই সময়ে সবাই একই Profile Pic এবং Status দিবেন।
  • তরুণরা সোশ্যাল মিডিয়ায় সকল অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর হিসেবে ভূমিকা পালন করবেন। মানুষের চাওয়া পাওয়া তুলে ধরবেন।  


Twitter

  • International Audience
  • Hashtag: #Nagorik


Youtube

  • Youtube Channel: স্বপ্নের বাংলাদেশের ভিডিও, দেশ নিয়ে ভিডিও, দলীয় কর্মকাণ্ডের ভিডিও
  • পুরো ভিডিও; ছোট ক্লিপ্স (বেশি মানুষ দেখবে)


Video Media

  • স্বপ্নের বাংলাদেশের ভিডিও, দেশ নিয়ে ভিডিও, দলীয় কর্মকাণ্ডের ভিডিও। 
  • সেল ফোনের মাধ্যমে সারা দেশের মানুষের কাছে ছরিয়ে পড়বে।
  • পুরো ভিডিও; ছোট ক্লিপ্স (বেশি মানুষ দেখবে)
  • তরুণরা ভিডিও তৈরি করে আপলোড করবে। 
    • দেশে এবং প্রবাসীদের মাঝে ২০১৪ ক্রিকেট বিশ্বকাপ উপলক্ষে ফ্ল্যাশ মব তৈরি নিয়ে আলোড়ন থেকে ধারণা করা যায় এটা সাড়া ফেলবে।
    • তরুণদের কাছে “স্বপ্নের বাংলাদেশ” এর ভিডিও চিত্র / শর্ট ডকুমেন্টারি আহবান করা যায়। আমরা জানতে চাই, দেশ নিয়ে তরুণদের ভাবনা। জানতে চাই, তরুণরা স্বপ্নের বাংলাদেশে কি কি দেখতে চান। তরুণরা টীম গঠন করে তাদের সৃজনশীলতা দিয়ে স্বপ্নের বাংলাদেশ কেমন হবে তার একটা চিত্র ফুটিয়ে তুলে প্রস্তাব দেবেন। সবচেয়ে ভাল প্রস্তাবগুলোকে টীমের সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে স্পন্সরের মাধ্যমে ফান্ড দেওয়া হবে। ফান্ড দিয়ে বাছাইকৃত টিমগুলো ভিডিও চিত্র / শর্ট ডকুমেন্টারি তৈরি করবেন। সেরাদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হবে। সেরা ক্লিপ্স / ডকুমেন্টারিগুলো আমরা নাগরিক শক্তির ওয়েবসাইটে রাখব। ফেইসবুক, ইউটিউব, ফোন এর মাধ্যমে ছড়িয়ে দেব। আমাদের দলের নির্বাচনী ইশতেহারে কোন কোন প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করা যায় তা পর্যালোচনা করা হবে। সবচেয়ে বড় কথা – আমাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা থাকবে নতুন প্রজন্মের স্বপ্নগুলো বাস্তবায়নে। [2] 


Google+

  • Google+ Page
  • Google+ Community


E-Mail

  • সবাই যাতে মতামত জানাতে পারে সেজন্য বেশ কয়েকটি ই-মেইল অ্যাড্রেস। 


Mobile

  • Quick polling; survey 
    • যে কোন বিষয়ে দ্রুত জনগণের মতামত নিতে ব্যবহার। 
  • SMS
    • SMS Server.
  • People should be given the opportunity to express their opinions.  
  • বেশ কয়েকটা নাম্বার। তথ্য দেওয়ার জন্য, মতামত নেওয়ার জন্য।  

Database, Data Analytics & Mining

  • জনগণের আশা আকাঙ্খা সমস্যা প্রত্যাশা লিপিবদ্ধ করতে হবে। আমরা এ লক্ষ্যে নিজস্ব ডেটাবেইস গড়ে তুলব। ডেটাবেইসে 
    • বাংলাদেশ বিষয়ক সব তথ্য 
    • জনগণের আশা-আকাঙ্খা সমস্যা মতামত 
    • বিভিন্ন সার্ভেই রেসাল্ট 
    • আমাদের বিভিন্ন নেটওয়ার্ক 
    • সোশ্যাল মিডিয়া ডেটা
    • প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় দলীয় অবস্থান, প্রার্থীর অবস্থান, নির্বাচনী ফান্ডের হিসাব ইত্যাদি থাকবে। 
  • ডেটা এর উপর ডেটা অ্যানালাইসিস (Data Analysis), স্ট্যাটিস্টিক্যাল অ্যানালাইসিস (Statistical Analysis) হবে, সার্চ (Search) করার বাবস্থা থাকবে। [3]
  • নেটওয়ার্ক ম্যাপ করা 
    • আমাদের নেটওয়ার্কে কারা আছেন 
    • যারা নেটওয়ার্কের বাইরে আছেন তাদের কিভাবে নেটওয়ার্কের মাঝে থাকাদের দিয়ে জয় করা যায়। (নাগরিক শক্তির প্রচার জনগণের মাধ্যমে হবে – যারা আমাদের উপর আস্থা রেখেছেন, তারাই বাকিদের ঐক্যবদ্ধ হতে অনুপ্রাণিত করবেন।) 
    • দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া।



    রেফরেন্স

    নাগরিক শক্তির প্রতীক্ষায় তরুণ প্রজন্ম – ২

    তরুণদের মত প্রকাশের মাধ্যম 

    ৯৫.১৫% তরুণ মনে করেন – বাংলাদেশের বিভিন্ন গুরুত্ব পূর্ণ সিধান্তে তরুণদের মতামত গুরুত্ব দেওয়া উচিত।৮১.৭৬% তরুণ মনে করেন – বাংলাদেশের বিভিন্ন গুরুত্ব পূর্ণ সিধান্তে তরুণদের মতামত গুরুত্ব দেওয়া হয় না। ৯১% তরুণ মনে করেন – তরুণদের মতামত জানার ও জানানোর যথোপযুক্ত মাধ্যম বাংলাদেশে নেই।

    “৫ বছর পর পর নির্বাচন কিভাবে হবে তা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মাঝে মতভেদ আছে। তরুণরা কি চাই – তা নিয়ে কারও মাথাবাথা নেই। প্রকাশ করার কোন মঞ্চ নেই।”

    “নির্বাচন তরুণদের মতামত প্রকাশের একটা মাধ্যম। নির্বাচন যদি ঠিকভাবে না হয়, সবাই যদি participate না করে তরুণদের মতামত উপেক্ষিত হল।”
    প্রচলিত রাজনীতি 

    “মূল সমস্যা আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি। আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি কখনই একবিংশ শতাব্দীর রাজনৈতিক সংস্কৃতি না।”

    “ভোটের সময় আমাদের তরুণদের মনে করা হয় দ্রুত গতির ইন্টারনেট আর সহজ লভ্য সার্টিফিকেট দিয়ে কিনে ফেলা যাবে।” 

    “আমি নিজেও একসময় রাজনীতিতে বিশ্বাস করতাম না। রাজনীতিকে গালাগালি করতাম, ঘেন্না করতাম। কিন্তু খুব recently আমিও নিজস্ব উপলব্ধি থেকে মানুষের জন্য কিছু করার জন্য Politics এর সাথে কিছুটা হলেও involved হয়েছি।”
    মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রে বাঁধা

    “কোন কিছুর দোহাই দিয়ে হোক, সংবিধানের দোহাই দিয়ে হোক আমাদের বাঁধা আছে।”

    [‘কোনো ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েবসাইট বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করেন, যাহা মিথ্যা ও অশ্লীল, বা সংশ্লিষ্ট অবস্থা বিবেচনায় কেহ পড়িলে, দেখিলে বা শুনিলে নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ হইতে উদ্বুদ্ধ হইতে পারেন, অথবা যাহার দ্বারা মানহানি ঘটে, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটে বা ঘটার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়, রাষ্ট্র বা ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে বা করিতে পারে বা এ ধরনের তথ্যাদির মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে উস্কানি প্রদান করা হয়, তাহা হইলে তাহার এই কার্য হইবে একটি অপরাধ।’
    কোনো ব্যক্তি এমন অপরাধ করলে ‘তিনি অনধিক ১৪ বৎসর এবং ন্যূনতম সাত বৎসর এবং অনধিক এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।’ এ ধরনের আইন কোনো দেশে বলবৎ থাকলে সে দেশের নাগরিকেরা, বিশেষত ইলেকট্রনিক সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কতটা স্বাধীনতা ভোগ করতে পারে? এমন আইন যে সরকার প্রণয়ন ও বলবৎ করে, সেটা কেমন সরকার?] 


    “তরুণ কোন representative নেই। আমি যদি আমার বাবা বা মাকে বলতে যাই, বাবা মা আমি Politics করবো, আমার বাবা মা আঁতকে উঠবেন।” 

    “মতামত প্রকাশের চ্যানেলগুলো তৈরি হয় democratic society তে। মনে রাখতে হবে আমাদের একটা গনতান্ত্রিক সমাজ আছে কিনা।”

    “তরুণরা যা চাই, আমাদের যারা বৃদ্ধ – মনের দিক দিয়ে – তারা এটাকে সহজে মেনে নেবেন না। তাদের যে existing system তাতে আমাদের বাঁধা থাকবে নিজেদের express করার। তাই আমাদের unorthodox way ব্যবহার করতে হয়।”




    তরুণদের সাফল্য

    “স্বাধীনতার সময় থেকে ছাত্রছাত্রীদের অবদান আছে। কিন্তু আমাদের এখন সেই সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। সুযোগ দেওয়া হলে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ছাত্রছাত্রীদের অবদান আরও গুরুত্ব পূর্ণ হতে পারে।”

    “তরুণদের কারনেই আজকে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির রায় কার্যকর হয়েছে। এক্ষেত্রে আমরা সফল।”

    “ব্লগ, সোশ্যাল নেটওয়ার্ক আছে। Organized way তে গণজাগরণ মঞ্চ করে দেখিয়ে দিয়েছে কি সম্ভব।”

    তরুণরা innovation পছন্দ করেন, নতুন কিছু চান

    “একটা চেতনা আসা দরকার আমরাও কিছু করতে পারি। আমরা যতই ব্লগ করি, ফেইসবুকিং করি, At the end of the day আমাদের একটা প্লাটফরমে আসতে হবে। আমাদের রাজনীতিতে যেতে হবে শেষ পর্যন্ত একটা innovative কিছু করার জন্য। আমরা যতদিন না রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেব, আমরা যে পরিবর্তনটা চাই বাংলাদেশের জন্য সেই পরিবর্তনটা আনা সম্ভব না।”

    “তরুণরা এখন innovative কিছু চায়। innovative কিছু চিন্তা ধারা তারা প্রকাশ করতে চায় এবং তারা চাই যে একটা different কিছু হোক দেশের মধ্যে। দেশটা যাতে সুন্দরভাবে এগিয়ে যায়। কিন্তু তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না কারণ পুরনোরা ভাবে তাতে আগের মত দেশ চলবে না।”

    তরুণরা মতামত প্রকাশের জন্য নাগরিক সমাজের অংশ হতে চান 

    সিভিল সোসাইটি তে তরুণদের অংশগ্রহণ সিভিল সোসাইটির ভুমিকাকে আরও অর্থবহ করে তুলতে পারে – ৯৭%।

    “অভিজ্ঞ যারা সিভিল সোসাইটিতে আছেন তারা যদি তরুণদের আনেন – তাহলে তরুণরা সিভিল সোসাইটির অংশ হিসেবে মতামত প্রকাশ করতে পারবে।”

    “বাংলাদেশে সুশীল সমাজের সদস্য হতে হলে একটু বয়স্ক হতে হবে, অভিজ্ঞ হতে হবে – ধারণাটা তৈরি হয়ে আছে। আসলে নাগরিক সমাজের যে ধারণা পুজিবাদি সমাজে তৈরি হয়েছে সেটি আসলে মতামত প্রকাশের চ্যানেল তৈরি হওয়া। এখানে আসলে বৃদ্ধ – যুবক এরকম কোন identity নেই। সিভিল সোসাইটির সদস্যরা গোষ্ঠীবদ্ধ হয়ে মতামত প্রকাশ করতে পারেন। কিন্তু তরুণরা সেই নাগরিক সমাজের অংশ হয়ে মতামত জানাতে পারবে তার প্রধান প্ল্যাটফর্ম ছিল ছাত্র ইউনিয়নগুলো। যতদিন পর্যন্ত না ছাত্র ইউনিয়নগুলো নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে পারবে ততদিন পর্যন্ত তরুণরা তাদের মতামত প্রকাশ করতে পারবে না।”

    “তরুণ প্ল্যাটফর্মের অংশ হিসেবে তরুণরা নাগরিক সমাজে অংশগ্রহণ করতে পারে।”

    “নাগরিক সমাজের একটা existing প্লাটফর্ম আছে, কিন্তু তরুণদের মতামত জানানোর প্লাটফর্ম নেই।”

    “নাগরিক সমাজের অনুষ্ঠানগুলোতে কোন তরুণকে দেখা যায় না।”

    “নাগরিক সমাজের মূল ব্যাপার হল – নাগরিক মতামত তৈরি হওয়ার প্ল্যাটফর্ম তৈরি হওয়া। মূল ব্যাপার হল, নগরের লোকজন তাদের মতামতটা রাজনৈতিক পাইপ লাইনে দিতে পারছে কিনা।”

    মত প্রকাশের নতুন মাধ্যম

    “আমাদের তরুণদের মত প্রকাশের প্ল্যাটফর্ম নেই। আমরা অনলাইনে আক্টিভ হচ্ছি।”

    “ব্লগের মত আমাদের যেন একটা প্ল্যাটফর্ম থাকে – ওখানে গিয়ে আমরা দাবি দাওয়া জানাতে পারবো।”

    “মিডিয়াতে তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর সুযোগ করে দিতে হবে।”

    “তরুণদের আরও competent হতে হবে, আরও জানতে হবে, সজাগ হতে হবে।”

    “তরুণরা এখন volunteering করছে বিভিন্ন Organization এর সদস্য হিসেব। সরকার যদি এসব Organization কে recognize করে তাহলেও Platform তৈরি হবে।”

    “Politics is all about Power. And power comes from Organization. তাই আমার suggestion হবে তরুণরা যত দ্রুত সম্ভব বিভিন্ন মাধ্যমে যাতে সংগঠিত হয়। তাহলে তারা তাদের মতামতকে সবার কাছে পৌঁছে দিতে পারবে।”  

    “আমাদের Structured Organized একটা প্লাটফর্ম দরকার। আমাদের আরও elementary level থেকে grow up করতে হবে।”

    “Participation দুইভাবে হয়- formal ভাবে আর informal ভাবে। formal ভাবে বলতে যে democratic institution গুলো আছে। আরেকটা হচ্ছে থানা ভিত্তিক, জেলা ভিত্তিক, পেশা ভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তৈরি করে নেওয়া।

    ৩য় বিশ্বে জনগণ তাদের মতামত জানায় ethnic group এর মাধ্যমে। ethnic group গুলো কোন একটা কিছুর reaction হিসেবে তাৎক্ষনিক ভাবে সৃষ্টি হয়। হাজার হাজার লাখ লাখ জনতা ঐক্য বদ্ধ হয়। এটা তৃতীয় বিশ্বে একটা common phenomena.

    ডেভেলাপড দেশগুলোতে তরুণরা মতামত দিচ্ছে – তাদের identity ভিত্তিক গোষ্ঠীর মাধ্যমে। সরকারকে বাধ্য করছে – যে না তুমি আমার স্বার্থ লঙ্ঘন করতে পারো না। তরুণরা যতদিন না গোষ্ঠীবদ্ধ হবে ততদিন তরুণরা আবাল বৃদ্ধ বনিতার মত Justice থেকে বঞ্চিত হবে।”

    “গণতন্ত্রমুখী সমাজ না হলে তরুণরা কেন, বৃদ্ধরাও পলিসি মেইকিং এ অংশ নিতে পারবে না।”

    “প্রত্যেক মন্ত্রী বা ওই পর্যায়ের কারও under এ তরুণ একজন representative থাকতে হবে। তাতে আমাদের চিন্তা ভাবনার reflection থাকবে।”

    “রাজনৈতিক নেতাদের available Mail ID থাকা উচিত যেখানে আমরা আমাদের বক্তব্য পৌঁছে দিতে পারবো।”

    “আদিবাসী বা সংখ্যালঘুদের উপর যখন আক্রমণ হয় তখন কিছু কিছু Organization আছে যারা আমাদের সাপোর্ট করে।”  

    “ফেইসবুকে কেউ যখন একটা স্টেইটাস দিচ্ছে, তখন নিজের তাড়না থেকেই দিচ্ছে। আমরা নতুন নতুন এভিনিউ তৈরি করতে পারি মত প্রকাশের জন্য।”



    নাগরিক শক্তির প্রতীক্ষায় তরুণ প্রজন্ম – ১

    নতুন রাজনীতি

    “আমার মনে হয় আমাদের পৃথিবীতে যে change আসে – আমাদেরই সেই change আনতে হয়। Be the change you want to see.”
    “যে কোন Change এর জন্য Revolutionary Character লাগে। Charismatic কোন Leader থাকলে তার পিছনে এমনিতেই তরুণরা যাবে। কারণ আমরা ৫০% এর উপরে। আমাদের দেশে তো আমাদেরই Power বেশি। আমরা যদি এমন কোন তরুণ পাই – সে হতে পারে নতুন কোন বঙ্গবন্ধু , নতুন একজন জিয়া – এরকম একজন মানুষ হতে হবে। যে Actually আমাদের Move করাতে পারে।” 

    “আমাদের সবাই যখন voice raise করবে তখন সবার মধ্যে এই ভাবনা আসবে – কিছু করা দরকার।”

    “প্রাইমারিলি যা দরকার তা হচ্ছে একটা প্লাটফর্ম যেখানে লিডারশীপ ট্রেইনিং দেওয়া হবে, Ethics ট্রেইনিং দেওয়া হবে।”

    “মন্ত্রী যদি দুর্নীতি গ্রস্থ হন, আমরা পারবো তাদের বাই ফোরস চেইঞ্জ করাতে। তরুণরা এটা পারবো।”

    “বাংলাদেশের যে দুইটি রাজনৈতিক দল আছে, তাতে তরুণদের অংশগ্রহণ দেখতে পাই না। নতুন একটি রাজনৈতিক দল দেখতে চাই।”

    “দেশের জন্য contribute করতে চাই আমরা সবাই – আমি যাদের সাথে কথা বলেছি।”

    “আমি রাজনীতি করতে চাই। আমার মনে হয়, আমরা যদি না আসি – আমার মনে হয় না এটা বদলাবে। এখন যেসব existing দল আছে আমার মনে হয় না তারা আমাদের চাওয়া পাওয়ার কোন খেয়াল রাখে। আমি চাই যোগ্য কোন দল আসুক। নতুন কেউ আসুক। নতুন ধারার রাজনীতি।”

    “এখন যে অবস্থা আছে তাতে রাজনীতিতে involved হওয়া সম্ভব না, কিন্তু যদি নতুন একটা dimension created হয় তাহলে অবশ্যই।”

    “আমি রাজনীতি আসতে চাই, কারণ আমি যদি কাঁদা পরিস্কার করতে চাই, তাহলে অবশ্যই কাঁদায় নামতে হবে এবং গাঁয়ে কাঁদা লাগাত হবে।”

    “আমরা যারা সচেতন, আমরা যারা পরিবর্তন চাই, আমরা কেন এগুই না? আমরা সবাই – সুশীল সমাজ, তরুণ সমাজ সবাই মিলে কেন একটা প্ল্যাটফর্মে আসতে পারছি না?”

    “যতদিন পর্যন্ত না আমরা নতুন একটা দল না করবো, নতুন Political culture তৈরি করবো – ততদিন পর্যন্ত আমার মনে হয় না প্রচলিত দলগুলো আমাদের সাথে compete করার জন্য change আনবে।” 




    প্রচলিত রাজনীতি, নির্বাচন এবং নির্বাচনপূর্ব সহিংসতা


    ৮৯% তরুণ দেশের প্রচলিত রাজনীতিতে সন্তুস্ট নন।

    ৯৮% তরুণ মনে করেন মেধাবী তরুণদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণের জন্য প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলোতে ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন।

    ৯১% তরুণ মনে করেন – প্রচলিত রাজনীতি গনতন্ত্রামনা রাজনীতি বিকাশের উপযুক্ত নয়।

    “যারা রাজনীতিতে আসছেন তারা নির্দিষ্ট সময়ে কিছু Earn (রোজগার) করতে আসছেন।”

    “একজনকে মন থেকে ভোট দেব এমন কেউ নেই।”

    “এবার যে ইলেকশান হল এটা গনতান্ত্রিক কোন ইলেকশান না। গনতান্ত্রিক কোন প্র্যাকটিস হচ্ছে না।”

    “বর্তমান প্রধান মন্ত্রী বলেছেন গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থেই এই নির্বাচনটা করতে হয়েছে। কিন্তু আমরা দেখেছি বিরোধী দলকে দমন – নিপীড়ন। Where is Democracy যেখানে বিরোধী দলকে কোন সভা সমাবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না?”

    “শাহবাগে যে গণজাগরণ হয়েছিল, যুদ্ধাপরাধীদের রায়ের বিরুদ্ধে মানুষ যে প্রতিবাদ করেছিল, এই সহিংসতার (নির্বাচনের আগে) বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আসেনি।”

    “ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে।”

    “সংসদেই যেখানে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে কোন বিলে ভোট দিলে সদস্য পদ বাতিল হয়, সেখানে আমরা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কি গণতন্ত্র দেখবো?”
    – মাক্সিমাস তরুণকণ্ঠ | ১ম পর্ব

    বাংলাদেশ সংবিধানের ৭০-১ ধারা

    ৭০। (১) “কোন নির্বাচনে কোন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী রুপে মনোনীত হইয়া কোন ব্যক্তি সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হইলে তিনি যদি উক্ত দল হইতে পদত্যাগ করেন, অথবা সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোট দান করেন, তাহা হইলে সংসদে তার আসন শুন্য হইবে।” [1]

    তরুণদের রাজনীতি ভাবনা – ২

    “সারা দেশের মানুষ দুই দলের কাছে জিম্মি হয়ে আছি। আমার কাছে বাংলাদেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রে এটাই প্রধান বাধা হিসেবে মনে হয়।”

    – ইব্রাহীম

    “আমরা এখনও যদি চিহ্নিত করতে পারি কারা আমাদেরকে পিছনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে তাহলে আমরা আরও সচেতন হতে পারবো “

    – নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নাবিল আহমেদ

    “প্রত্যেক দলের মধ্যে যদি দেশপ্রেম জাগ্রত হয় তাহলেই এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব।”

    – মাদ্রাসা ছাত্র শামিম আহমেদ

    “দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার পালাবদল যে দুটি দলের মধ্যে হচ্ছে তাদের বাদ দিয়ে গণতান্ত্রিক উপায়ে নতুনদের হাতে দেশ পরিচালনা করার সুযোগ করে দিতে হবে।”

    – শম্পা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী


    তরুণদের রাজনীতি ভাবনা – ১

    আমাদের প্রাণশক্তিতে ভরপুর তরুণরা রাজনীতি সচেতন।
    তারা ইনোভেটিভ কিছু দেখতে চায়।
    তরুণরা চায় মতামত প্রকাশের অরগানাইজড প্ল্যাটফর্ম এবং নাগরিক সমাজে সক্রিয় অংশগ্রহণ।

    মাক্সিমাস তরুণকণ্ঠ | ২য় পর্ব

    গণজাগরণ মঞ্চের প্রথম বর্ষপূর্তি

    গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলন আমাদের দেখিয়েছে, আমরা একাত্তরের মতোই বারবার জাগতে পারি। গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলন আমাদের দেখিয়েছে, দেশের জনগণ ঐক্যবদ্ধ হলে অহিংসভাবে যে কোন ন্যায্য দাবি আমরা আদায় করে নিতে পারি।

    রানা প্লাজা ধ্বসে আক্রান্তদের পাশে দাঁড়ানো আর সাম্প্রদায়িক হামলায় ক্ষতিগ্রস্থ সনাতনী ধর্মাবলম্বীদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ ছিল প্রশংসনীয়।

    স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সকল অন্যায়, অবিচার, দুর্নীতি, অনিয়মের বিরুদ্ধে অহিংস এবং সৃজনশীল কর্মসূচীর মাধ্যমে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর হিসেবে আমরা গণজাগরণ মঞ্চকেই দেখতে চাই।

    প্রথম বর্ষপূর্তিতে গণজাগরণ মঞ্চ সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন।

    আরও

    জনকল্যাণের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে নাগরিক শক্তি

    নাগরিক শক্তি জনকল্যাণের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।

    নাগরিক শক্তি দেশের তরুণদের জন্য বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম গড়ে দেবে। এ লক্ষ্যে নাগরিক শক্তি দেশের নাগরিক সমাজ ও ব্যবসায়ী সমাজ এবং তরুণদের মাঝে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করবে।


    নাগরিক শক্তির সাথে যুক্ত যে কেউ এক একটা জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ লক্ষ্য হিসেবে নিয়ে কেন্দ্রকে জানাতে পারেন। দেশের জন্য কল্যাণকর মনে হলে কেন্দ্র থেকে সব ধরণের সহায়তা করা হবে। নাগরিক শক্তির নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে দেশের প্রতিটা অঞ্চলে পৌঁছা যাবে।


    কেউ লক্ষ্য হিসেবে নেবেন দেশের প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে কোন একটা প্রকল্প – হতে পারে দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে ঢেলে সাজানো। কেউ একটি এলাকার নারী অধিকার নিয়ে কাজ করবেন। কেউ যৌতুক প্রথার বিরুদ্ধে দেশব্যাপী গণসচেতনতা সৃষ্টি করবেন – সারা দেশের মানুষ তার সাথে যোগ দেবেন। সনাতনী ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তার জন্য জনগণকে সংগঠিত করবেন কেউ। কেউ তরুণ উদ্যোক্তাদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে নাগরিক শক্তির সহায়তায় সমাধানে কাজ করবেন। শিল্প বিকাশের পথে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানে নাগরিক শক্তির পুরো নেটওয়ার্ক ব্যবহার করবেন কোন শিল্প ব্যবসায়ী। আবার কেউ দেশের শিল্প শ্রমিকদের সমস্যা সমাধানে, তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে কাজ করবেন। 


    পুরো লক্ষ্যটাকে নাগরিক শক্তির পক্ষ থেকে কয়েক ভাগে ভাগ করে বাস্তবায়ন করা হবে। অগ্রগতি নির্দিষ্ট সময় অন্তর পর্যালোচনা করা হবে। সমস্যা, বাঁধাগুলো চিহ্নিত করা হবে এবং সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে।


    তরুণ তরুণীদের মাঝে স্বপ্ন, উদ্যম, উৎসাহের কোন ঘাটতি নেই। ওরা পরাজয় খুব একটা দেখেনি – তাই পরাজয় মানতেও চায় না। ওরা পছন্দ করে একসাথে সময় কাটাতে, connected হতে।connected হওয়ার এই ইচ্ছাটাকে জনকল্যাণমূলক নানা কাজে রুপান্তর করা যায় তরুণদের একত্রিত করে। বাংলাদেশে গণিত অলিম্পিয়াডের মত দেশ পাল্টে দেওয়া বিশাল কর্মযজ্ঞ ঘটছে শুধুমাত্র কিছু তরুণের স্বেচ্ছা কর্মোদ্যোগে। তরুণরা নিজেদের আর দশজনের চেয়ে আলাদা প্রমাণ করতে চাইবে! নাগরিক শক্তি বিভিন্ন রকম কল্যাণমুখী প্ল্যাটফর্ম গড়ে দিয়ে ওদের কর্মস্পৃহা জাগিয়ে তুলবে। তরুণদের হাতের কাছেই Google. ওরা চাইলেই জ্ঞানের দিক দিয়ে যে কাউকে হারিয়ে দিতে পারে। নাগরিক শক্তি তরুণদের এই অফুরন্ত সম্ভাবনাকে কাজে লাগাবে।   

    সন্ত্রাসমুক্ত সাম্প্রদায়িকতামুক্ত দেশ গড়ার লক্ষ্যে জনগণের ঐক্য

    জামায়াত ইসলামী বাংলাদেশী কোন দল না। একই নামে পাকিস্থানের একটি রাজনৈতিক দলের বাংলাদেশের শাখা ছিল এটি ৭১ পর্যন্ত। ৭১ এ তারা সক্রিয় ভাবে পাকিস্থানি সেনা বাহিনীকে সমর্থন করেছিল এবং গণহত্যায় অংশ নিয়েছিল। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উপর নির্মম হত্যাযজ্ঞ এবং নির্যাতন চালিয়েছিল। বুদ্ধিজীবীদের হত্যার মাধ্যমে নতুন দেশকে পঙ্গু করে দেওয়ার পরিকল্পনায় ও তারা ছিল।

    স্বাধীনতা যুদ্ধের বেশ কয়েক বছর পর তারা বাংলাদেশে সক্রিয় ভাবে রাজনীতি শুরু করে।

    জামায়াতে ইসলামীর সাথে অঙ্গাঙ্গী ভাবে জড়িত সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবির।

    আমরা মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হওয়ার পর জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসী এবং রাষ্ট্র বিরোধী কার্যকলাপ (পুলিশের উপর হামলা, জাতীয় পতাকা অবমাননা) লক্ষ্য করেছি।

    এর আগে ২০০১ সালে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উপর হামলায় আমরা ৭১ এর প্রতিচ্ছবি দেখেছিলাম। একই ছবি এবারের নির্বাচনের সময় ও দেখা গেলো।

    “রগ কাটা” শিবির হিসেবে তাদের কার্যকলাপ এবার মিডিয়ায় উঠে এসেছে।

    ২০০১ এর পর দেশে জঙ্গিবাদের উত্থানে জামায়াত শিবিরের প্রশ্রয় আমরা লক্ষ্য করেছি।

    যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে নাগরিক শক্তি বদ্ধপরিকর।

    জামায়াত- শিবিরের যেসব সদস্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত নাগরিক শক্তি অন্য সব সন্ত্রাসীদের মতই তাদের বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করাবে। এরা এখনও মনে প্রাণে ৭১ এর পূর্বের পাকিস্তানি চেতনাকে ধারণ করে।

    কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে, দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে, স্বাধীনতার সময়ে যাদের জন্মই হয়নি তাদেরও এরা ইসলামী চেতনা, লোক দেখানো আদর্শের কথা বলে দল ভারি করার চেষ্টা করেছে।

    আমাদের লক্ষ্য হবে তরুণ প্রজন্মকে বিপথে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করা। যাদের ভুল বুঝিয়ে ভুল পথে নেওয়া হয়েছে, তাদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা।

    মহানবী হজরত মুহম্মদ (স) আমাদের শিখিয়েছেন “দেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ”।
    আর যারা বিনা অপরাধে মানুষ খুন করতে পারে, তাদের মুখে ইসলামের কথা মানায় না।

    এ লক্ষ্যে দেশের সব বয়সের সব শ্রেণী পেশার মানুষকে একযোগে কাজ করতে হবে।

    ইসলামী চেতনার কথা বলে এবং সন্ত্রাসীদের ভাড়া করে তারা আক্রমণাত্মক কার্যকলাপ চালিয়ে শক্তি দেখাতে পারে। কিন্তু বেশ কয়েক মাস আগের জরিপে আমরা দেখেছিলাম, জামায়াত ইসলামীর সমর্থন শতকরা ৩ ভাগের কম। এ কয়েক মাসে নিবন্ধন অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা এবং নাক্কারজনক কার্যকলাপের মাধ্যমে তাদের সমর্থন আরও বেশ খানিকটা কমেছে।

    আমরা প্রচেষ্টা চালালে শুধুমাত্র ৭১ এর মানবতাবিরধী অপরাধী এবং কতিপয় চরমপন্থী (Extremist) সন্ত্রাসী ছাড়া জামায়াত-শিবির বলে কিছু থাকবে না।

    নাগরিক শক্তি দেশের জনগণকে সেই লক্ষ্যে নেতৃত্ব দেবে।


    রেফরেন্স 
    [2] Bangladesh Jamaat-e-Islami
    [3] Global Terrorism & Insurgency Attacks Rapidly Increase in Five Years, According to IHS Jane’s Terrorism and Insurgency Centre

    আরও 
    [1] জামাত নিষিদ্ধের দাবি ও বাস্তবতা
    [2] জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীসহ ১৪ জনকে ফাঁসির দণ্ডাদেশ দেওয়ার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামি।
    [3] বিশ্বের বেসরকারি সশস্ত্র সংগঠনের তালিকায় শিবির

    “২০১৩ সালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সবচেয়ে সক্রিয় অরাষ্ট্রীয় সশস্ত্র সংগঠনগুলোর তালিকায় তৃতীয় শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে ইসলামী ছাত্র শিবির।

    যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইএইচএস জেইন টেরোরিজম অ্যান্ড ইনসার্জেন্সি সেন্টার তাদের জরিপের ভিত্তিতে এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

    তাদের জরিপ অনুযায়ী, এধরনের অরাষ্ট্রীয় সশস্ত্র সংগঠনের মধ্যে প্রথম অবস্থানে রয়েছে থাইল্যান্ডের বারিসান রেভোলুসি নাসিওনাল এবং দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে তালিবান। এরপরেই রয়েছে বাংলাদেশের ইসলামী ছাত্রশিবির।

    আইএইচএস’র ওয়েবসাইটে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি এ তালিকা প্রকাশ করা হয়। বিভিন্ন দেশের উন্মুক্ত সূত্র থেকে প্রাপ্ত উপাত্তের ভিত্তিতে প্রতিবছর আইএইচএস জেইন টেরোরিজম অ্যান্ড ইনসার্জেন্সি সেন্টার সূচক অনুযায়ী এ তালিকা প্রস্তুত করা হয় প্রতিষ্ঠানটির ভোক্তাদের জন্য।

    ১৯৯৭ সাল থেকে আইএইচএস জেইন এ ধরনের উপাত্ত সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করে আসছে বলে জানানো হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে।

    স্বাধীনতার আগে জামায়াতে ইসলামী এই ছাত্রসংগঠনটির নাম ছিলো ইসলামী ছাত্রসংঘ। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ১৯৭৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ‘ইসলামী ছাত্রশিবির’ নাম নিয়ে পুনরায় আত্নপ্রকাশ ঘটে সংগঠনটির।

    ২০১২ সালের শেষদিকে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জামায়াত নেতাদের বিচার প্রক্রিয়া শুরুর পরপরই পুলিশের ওপর ঝটিকা মিছিল থেকে হামলা চালানো শুরু করে ইসলামী ছাত্র শিবির।
    এরপর বিভিন্ন সময়ে নাশকতা ও চোরাগোপ্তা হামলা চালিয়ে মানুষ হত্যা ও আহত করার জন্য সংগঠনটিকে দায়ী করে আসছে সরকার ও পুলিশ।”
     – ‘তৃতীয় বৃহত্তম সশস্ত্র সংগঠন ছাত্রশিবির’

    নাগরিক শক্তির অনলাইন প্রেসেন্স

    Website

    • মেম্বারশিপ ফর্ম – SMS verification; চাইলে ফেইসবুক আকাউন্ট লিঙ্ক জুড়ে দিতে পারেন। কোন কোন ক্ষেত্রে দক্ষতা-আগ্রহ, দেশের জন্য কোন ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে চান, দলের সদস্য হিসেবে কিভাবে ভূমিকা রাখতে চান, দলের কোন অঙ্গ সংগঠনের সাথে যুক্ত হতে চান। কাগজের ফর্ম পূরণ করেও মেম্বার হিসেবে যোগ দেওয়া যাবে।
    • মতামত ফর্ম – দলের জন্য, দেশের কল্যাণে যে কোন মতামত।  
    • Blog (Anyone can submit; Moderation) সাইট ব্লগে প্রত্যেকের চিন্তা ভাবনা, প্রত্যাশা প্রকাশ করার সুযোগ দেওয়া হবে।
    • Forum on different topics. বিভিন্ন বিষয়ে আলাদা আলাদা থ্রেডে আলোচনা। আপাতত ফোরাম হবে অনলাইনে মতামত জানানোর মূল মাধ্যম। পরবর্তীতে তরুণদের মতামত নিয়ে বিভিন্ন ফিচার সমৃদ্ধ অনলাইন প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা হবে।  
    • Video (Youtube API), Image Gallery
    • News, Links
    • Mobile Optimized (m.nagorikshakti.org) গ্রামে সবাই ফোন ব্যবহার করে এক্সেস করবে।
    • Facebook / Google+ / Twitter login for commenting, forums etc. সবাই পড়তে পারবে, কিন্তু সাইটে কমেন্ট করতে / মতামত দিতে ফেইসবুক লগইন। (তা নাহলে স্প্যাম, উদ্দেশ্য প্রণোদিত কমেন্ট – অ্যাডমিন মডারেশান এর পর পাবলিশ) 
    • Development: Drupal, WordPress, phpBB – (quick setup, bug-free code) 
    • স্বপ্নের বাংলাদেশের ভিডিও
    • সিকিউরিটি

    Facebook

    • Page
    • Groups। তরুণ তরুণীরা সবচেয়ে বেশি উৎসাহ নিয়ে কাজ করবে। তরুণ তরুণীদের মাঝ থেকেই ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে উঠবে। টীম গড়ে তুলতে হবে। সবাই একসাথে বসে মিটিং এর পাশাপাশি যাতে ভার্চুয়ালি একসাথে কাজ করতে পারে, সাজেশান দিতে পারে, যোগাযোগ দিতে পারে সে লক্ষ্যে বাবস্থা – “ফেইসবুক গ্রুপ”। 
    • Image with writings (more people read); নাগরিক শক্তি, প্রতীক – বই trademarked। লেখাগুলো ভাগ করে ইমেইজ হিসেবে শেয়ার দেওয়া হবে (দলের নাম, প্রতীক থাকবে ইমেইজে) – সবাই পড়বে, লাইক – শেয়ার দিবে এবং এভাবে ছড়িয়ে পড়বে। বড় একটা লেখায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ কথা থাকলে অনেক সময় কিছু না কিছু অমনোযোগের কারণে মিস হয়ে যায়। কারও মনে একটা অংশ দাগ কাটে, অন্য কারও মনে আরেকটা অংশ। দুচার লাইনের ছোট ছোট লেখা পুরোটা সবাই মনোযোগ দিয়ে পড়ে।  
    • ডিজিটাল মিডিয়া / সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, তারুণ্য। স্বপ্নের বংলাদেশের ভিডিও (দলের নাম, প্রতীক) -> লিংকঃ ফেইসবুক, ইউটিউব পেইজ, ওয়েব সাইট। দলটা আমাদের সবার। সবার মতামতের ভিত্তিতেই পরিচালিত হবে দল এবং দেশ। স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে উঠবে তারুণ্যের শক্তিতে। তরুণদের জন্য প্ল্যাটফর্ম গড়ে দেওয়া হবে যাতে তারা বিভিন্ন কল্যাণমুখী, উদ্ভাবনী উদ্যোগ নিতে পারে। 

    Twitter

    • International Audience
    • Hashtag: #Nagorik

    Youtube

    • Youtube Channel: স্বপ্নের বাংলাদেশের ভিডিও, দেশ নিয়ে ভিডিও, দলীয় কর্মকাণ্ডের ভিডিও
    • পুরো ভিডিও; ছোট ক্লিপ্স (বেশি মানুষ দেখবে)

    Google+

    E-Mail

    • সবাই যাতে মতামত জানাতে পারে সেজন্য বেশ কয়েকটি ই-মেইল অ্যাড্রেস। 

    Mobile

    • Quick polling; survey (যে কোন বিষয়ে দ্রুত জনগণের মতামত নিতে ব্যবহার) 
    • SMS
    • People should be given the opportunity to express their opinions. SMS Server. 
    • বেশ কয়েকটা নাম্বার। তথ্য দেওয়ার জন্য, মতামত নেওয়ার জন্য।  

    বাংলাদেশে গণিত অলিম্পিয়াডের সংস্কৃতি

    বাংলাদেশে গণিত অলিম্পিয়াডের সংস্কৃতির সূচনার পর বেশকিছু ব্যাপার আমরা লক্ষ্য করছি।

    আমরা লক্ষ্য করছি, অনেকগুলো ছেলেমেয়ে রাতদিন গণিত করে।

    স্কুল কলেজে আমরা গণিত বলতে exercise করি – কিছু নির্দিষ্ট ধাপ বা কম্পিউটার বিজ্ঞানের ভাষায় অ্যালগরিদম মেনে চলি মাত্র। কিন্তু গণিত অলিম্পিয়াডের সমস্যাগুলো সমাধানে ধাপগুলো বা অ্যালগরিদম নিজেকে দাঁড় করাতে হয়। অন্যকথায়, গণিত সৃষ্টি করতে হয়।

    একটা উদাহরণ দেই। দুটা সংখ্যাকে গুণ করতে আমরা না বুঝেই কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলি – প্রথমে দুটি সংখ্যার সবচেয়ে ডানের অঙ্ক দুটিকে গুণ করি, তারপর হাতে রাখি ইত্যাদি। কিন্তু গণিত অলিম্পিয়াডে এই ধাপ বা নিয়মগুলো – কোন ধাপের পর কোন ধাপ হবে – তা নিজেকে চিন্তা করে বের করতে হয় – অর্থাৎ গণিত সৃষ্টি করতে হয়। আমরা বলি, স্কুল কলেজে তোমরা exercise কর, আর আমরা গণিত অলিম্পিয়াডে problem solve করি। কাজেই এখনও যারা Problem Solving কর না, আশা করি, তোমরাও দ্রুত আমাদের দলে যোগ দেবে!

    একটা প্রজন্ম গড়ে উঠছে যাদের গড় IQ আগের প্রজন্ম গুলোর তুলনায় বেশি। অনেকগুলো ছেলেমেয়ে আগের চেয়ে ভালভাবে চিন্তা করতে পারে। আমাদের দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দৈনিক এ নিজের ছবি দেখা; বিশ্ব প্রতিযোগিতায় নিজ দেশকে represent করা – অনেক বড় inspiration

    আমরা লক্ষ্য করেছি, গণিত অলিম্পিয়াডের অনুষ্ঠানগুলোতে অনেক ভাল ভাল কথা হয়। আলোকিত মানুষ হওয়ার, দেশকে ভালবাসার অনুপ্রেরণা পায় ছেলেমেয়েরা। ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা দেশের গুণী মানুষদের কাছ থেকে দেখার সুযোগ পায়, প্রশ্ন করতে পারে, কথা বলতে পারে এবং অটোগ্রাফও নিতে পারে!

    দুটা চমৎকার ব্যাপারের একটা হল “গণিত শেখো, স্বপ্ন দেখো” – অনেকগুলো ছেলেমেয়ে নিজের জীবন নিয়ে দেশ নিয়ে বড় বড় স্বপ্ন দেখছে। আরেকটা হল একেবারে ক্লাস থ্রি – ফোরের ছেলেমেয়েরা ড. জাফর ইকবালের ভাষায় “পেন্সিল কামড়ে” অঙ্ক করতে আসে!

    আমরা লক্ষ্য করেছি, বাংলা মাধ্যমের বেশ কিছু ছেলেমেয়ে বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আন্ডারগ্রাজুয়েট লেভেল এ পড়ার সুযোগ পেয়েছে। মুন পড়ছে Harvard University তে [1], নাজিয়া MIT তে [2] (নাহলে “MIghTy” শব্দটা এভাবে লেখা আমাদের শেখা হত না!), ইশফাক Stanford University তে [3], তানভির Caltech এ [4] (আমাদের শ্রদ্ধেয় ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল এই বিশ্ববিদ্যালয়ে Post-Doctoral Researcher হিসেবে কর্মরত ছিলেন) [5], সামিন Cambridge University তে [6]।
    আগে গ্রাজুয়েট স্কুলগুলোতে আমরা এমএস বা পিএইচডি করতে যেতাম। ইংরেজি মাধ্যমের অবস্থাসম্পন্ন ছেলেমেয়েরা পড়তে পারত আন্ডারগ্রাজুয়েট লেভেলে। কিন্তু “বাংলা মাধ্যম” থেকে “স্কলারশিপ নিয়ে” “আন্ডার গ্রাজুয়েট” লেভেলে “বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে” পড়তে যাওয়াটা নতুন!

    “বাংলা মাধ্যম” থেকে “স্কলারশিপ নিয়ে” “আন্ডার গ্রাজুয়েট” লেভেলে “বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে” পড়ার পথ দেখানোর কৃতিত্বের একক দাবিদার বাংলাদেশ গণিত দলের কোচ ড. মাহবুব মজুমদার  [7]; যিনি নিজে MIT থেকে Electrical Engineering এ আন্ডারগ্রাড, Stanford University থেকে Civil Engineering এ মাস্টার্স এবং Cambridge University থেকে Theoretical PhysicsPhD করে Imperial College এ [8] Post Doctoral করছিলেন। ২০০৫ সালে বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াডের সাথে সম্পৃক্ত হন এবং স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে দেশে থেকে যান। বিদেশী ও ইঞ্জিনিয়ারিং আন্ডারগ্রাড ডিগ্রি থাকা এবং আরও কিছু কারণ দেখিয়ে তাকে Dhaka UniversityPhysics Department এ যোগ দিতে দেওয়া হয়নি। [9]

    ১৯০৫ এ আইনস্টাইনের “Miracle Year” [10] স্মরণে ২০০৫ সালের বাংলাদেশ জাতীয় গণিত অলিম্পিয়াডে আইনস্টাইন এবং পদার্থবিজ্ঞানের উপর একটা প্রশ্ন উত্তর পর্ব ছিল। সেখানে কিছু প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলাম। তাই গণিত ক্যাম্পে ড. মাহবুব মজুমদার আগ্রহের সাথে পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে আলোচনা করতেন। মেক্সিকোতে যাওয়ার আগে প্রেস কনফারেন্সে দেখি তিনি স্ট্রিং থিউরি (String Theory) র [11]  একটা জটিল পেপার নিয়ে হাজির!

    আরেকটা ব্যাপার লক্ষ্য করার মত। আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে আমাদের সাফল্যের মাত্রা দ্রুত বাড়ছে। আমাদের কিশোর – তরুণ গণিতবিদরা ২০০৬ সালে প্রথমবারের মত অনারেবাল মেনশান, ২০০৯ সালে প্রথমবারের মত ব্রোঞ্জ মেডাল, ২০১২ সালে প্রথমবারের মত সিলভার মেডাল জয় করে এনেছে। আমরা আশা করছি, এই ধারা অব্যাহত রেখে বাংলাদেশ গণিত দল ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াড থেকে গোল্ড মেডাল নিয়ে ফিরবে! গোল্ড মেডাল জয়ী সেই গণিতবিদ হতে পারো তুমিই!

    গণিত অলিম্পিয়াডের এই সংস্কৃতি সম্ভব হয়েছে কিছু তরুণ – তরুণীর স্বেচ্ছা কর্মোদ্যোগে। আমরা তাদের “মুভারস” (MOVERS – Math Olympiad Volunteers) বলে জানি। একটা শুভ উদ্যোগে দেশের তরুণ তরুণীদের উৎসাহী অংশগ্রহণ আমাদের প্রাণশক্তিতে ভরপুর তরুণ প্রজন্মকে সংজ্ঞায়িত করে।

    নাগরিক শক্তি গণিত অলিম্পিয়াডের এই সংস্কৃতিকে দেশে আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেবে।

    জনগণের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় নাগরিক শক্তির ভূমিকা

     

    দেশে এই মুহূর্তে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হল জনগণের জানমালের নিরাপত্তা।

    জনগণের জীবনের নিরাপত্তা যদি না থাকে, তাহলে বাকি সবকিছু অর্থহীন হয়ে যায়।

    সংখ্যালঘুদের (সংখ্যালঘু শব্দটা আমাদের পছন্দ না। আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় পরিচয় আমরা সবাই বাংলাদেশী। কিন্তু দেশের পরিস্থিতি সাপেক্ষে না চাইলেও শব্দটা আমাদের ব্যবহার করতে হয়।) সবচেয়ে বড় আতঙ্ক বিএনপি – জামায়াত জোট ক্ষমতায় এলে জামায়াতের নেতৃত্বে সংখ্যালঘু নির্যাতন-নিধন শুরু হতে পারে। ২০০১ এ তার দৃষ্টান্ত আছে। এবার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে জামায়াত যা করেছে, তা দেখে মনে হয়, এবার সেই ঘৃণ্য প্রক্রিয়া আরও গুরুতর হতে পারে। আওয়ামী লীগ যেভাবে বিরোধী দলীয় নেতাদের উপর দমন – নিপীড়ন চালিয়েছে, তাতে বিএনপি – জামায়াত জোট ক্ষমতায় এলে প্রতিশোধ- প্রতিহিংসা হতে পারে – এমন ভাবনা থেকে অনেকেই শঙ্কিত। মানবতাবিরধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে যারা সক্রিয় ছিলেন তারাও অনেকে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। (আমাদের অভিজ্ঞতা থেকে জানি, সম্পূর্ণ গুজবের উপর ভিত্তি করে নিরাপরাধ মানুষকে খুন করতে জামায়াত একের পর এক প্রচেষ্টা চালাতে পারে।) আরেকটি ভয়ের ব্যাপার – জামায়াত নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে জঙ্গিবাদকে প্রশ্রয় দিতে পারে। শাহবাগের আন্দোলন বন্ধ করতে জামায়াত কি করেছে – তা দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছে। ককটেল বোমা, জ্বালাও – পোড়াও এর মাধ্যমে সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেই আমাদের আশঙ্কা।

    নাগরিক শক্তি সংখ্যালঘুদের তথা দেশের সকল জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় সবার মাঝে একতার বন্ধন গড়ে তুলবে। সংখ্যালঘু এবং সংখ্যাগুরুদের মাঝে বন্ধন গড়ে তুলবে। সবাই মিলে বাংলাদেশ – এই সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করবে। একের উপর অন্যায় অন্যরা সহ্য করবে না।

    ক্ষমতায় গিয়ে জনসাধারণের নিরাপত্তাকে নাগরিক শক্তি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে। এ লক্ষ্যে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীতে আধুনিকায়ন, বিচার বিভাগে সংস্কার সহ প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে। ইসলামী চেতনা যাতে ভুল পথে না যায় সে লক্ষ্যে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে।

    লেখা শেষ করে যা দেখলাম – চাঁপাতলায় শুধুই কান্না

    আরও –
    রুখে দাঁড়াও বাংলাদেশ
    সংখ্যালঘুদের ওপর হামলাকারীদের বিচার চায় টিআইবি
    মুক্তিযুদ্ধ ও ইসলাম কারও একার নয়
    মানবিক প্রেমবোধ ও সহমর্মিতা
    সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী দেশে বিষবাষ্প ছড়াচ্ছে: মান্না
    দেশ ছেড়ে আমি কোথাও যাব না
    সাম্প্রদায়িক সহিংসতার শেষ কোথায়?

    “আমি মাঝে মাঝে কল্পনা করি আমি যদি এই দেশে একজন হিন্দু ধর্মাবলম্বী হতাম তাহলে আমার কেমন লাগতো। আমি জানি তাহলে গভীর হতাশায় আমার বুক ভেঙ্গে যেতো। আমি কোনো দোষ করিনি কিন্তু শুধুমাত্র একটি হিন্দু পরিবারে জন্ম নিয়েছি বলে আমার উপর যে নৃশংস অত্যাচার করা হচ্ছে তার জন্যে আমার বুকে যেটুকু ক্ষোভ জন্ম নিতো তার চাইতে শতগুণ বেশি অভিযোগ হতো আমার চারপাশের নির্লিপ্ত মানুষজনকে দেখে। কেউ কোনো কথা বলছে না। নীরবে এক ধরনের করুণা নিয়ে আমাকে দেখছে। সম্ভবত সবচেয়ে বেশি ক্ষোভ হতো রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর। প্রতিবার নির্বাচনের পর, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় হবার পর, রায় কার্যকর হবার পর আমাদের ওপর হামলা করা হবে। বি.এন.পি জামায়াত হামলা করবে, আওয়ামী লীগ বা বাম দলগুলো সেটা ঘটতে দেবে। খুব বেশী হলে নিরাপদ দুরত্বে থেকে প্রতিবাদ করবে কিন্তু বুক আগলে কেউ রক্ষা করতে এগিয়ে আসবে না। এই দেশে আমি যদি হিন্দু ধর্মাবলম্বী হতাম তাহলে নিশ্চয়ই আমার বার বার মনে হতো আমি এই দেশের মানুষ কিন্তু এই দেশটি আমাকে রক্ষা করছে না। আমি নিশ্চয়ই সৃষ্টিকর্তার কাছে অভিযোগ করে বলতাম তুমি কেন আমাকে এমন একটি দেশে জন্ম দিয়েছ যেই দেশ আমাকে রক্ষা করার দায়িত্ব নেয় না? যেই দেশে আমাকে প্রতি মুহূর্তে আতংকে থাকতে হয়?

    আমার মনে হয় এই দেশ নিয়ে আমাদের যত কল্পনা, যত স্বপ্ন, যত পরিকল্পনা সবকিছুকে পিছনে সরিয়ে সবার আগে আমাদের এখন একটি লক্ষ্য টেনে নিয়ে আসতে হবে। সেই লক্ষ্যটি হচ্ছে এই দেশে একটি হিন্দু শিশু যেন নিশ্চিন্ত নিরাপত্তায় তার মায়ের বুকে মাথা রেখে ঘুমাতে পারে। গভীর রাতে ধর্মান্ধ মানুষের উন্মত্ত চিৎকারে তাদের যেন উঠতে না হয়, আগুনের লেলিহান শিখায় আপনজনের আতংকিত মুখ দেখতে না হয়। একজন হিন্দু কিশোরীকে যেন তার বাবার রক্তশূন্য মুখের দিকে তাকিয়ে থরথর করে কাপঁতে কাপঁতে বলতে না হয়, “এখন কী হবে বাবা?”

    আমরা …… শুধুমাত্র হিন্দু এবং অন্য সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা চাই যেন তারাও ঠিক আমাদের মত এই দেশটিকে তাদের নিজেদের ভালোবাসার দেশ বলে ভাবতে পারে।

    আমি কার কাছে এটি চাইব জানি না, তরুণ প্রজন্মের কাছে চাইছি। তোমরা আমাদেরকে একটি নূতন বাংলাদেশ উপহার দাও। যে বাংলাদেশ থেকে সাম্প্রদায়িকতা বিষবাষ্প চিরদিনের জন্যে মুছে দেওয়া হবে। আমি জানি তোমরা পারবে।”

     – তরুণ প্রজন্মের কাছে প্রার্থনা: মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    এখনও ঘরে ফিরতে পারেনি সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকায় ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা
    ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলাকারীদের বিচারের দাবি জানিয়েছে নাগরিক সমাজ
    ব্রিটিশ পার্লামেন্ট হতাশা প্রকাশ করে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের আহ্বান
    জামায়াতের ভাবাদর্শ
    সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের হতাশা প্রকাশ
    মুক্তিযুদ্ধের সাহস নিয়ে জামায়াতকে প্রতিহত করতে হবে: ইমরান
    নিজভূমে পরবাসী হওয়াই নিয়তি?
    অঘটন-উত্তর বোধোদয়, নাকি রাজনীতি?
    বাংলাদেশ রুখে দাঁড়াও: আমাদের সুপারিশ
    গণজাগরণ মঞ্চের পর্যবেক্ষণ রিপোর্ট
    সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে

    সাম্প্রদায়িকতা বা সমাজের বিভেদকারী উপাদানগুলোর শিকড় যখন অন্যায়, অবিচার, অপরাধ, দুর্নীতি আর অসত্যের শিকড়ের সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়, তখন সে শিকড়কে খুঁজে বের করা এবং উপড়ে ফেলা এক দুঃসাধ্য কাজ হয়ে ওঠে। সুতরাং আমাদের সংস্কৃতি তথা রাজনীতি, সমাজনীতি, আর্থিক ব্যবস্থা, শাসনব্যবস্থা, বিচারব্যবস্থা ও শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে না ভাবলে সাম্প্রদায়িকতার মূলোৎপাটন করা যাবে না।
    যত দুঃসাধ্যই হোক, কাজটা তো শুরু করতে হবে। নতুন প্রজন্মের জাগরণ এ ব্যাপারে আমাদের আশাবাদী করে তোলে। আমরা তাদের দিকেই তাকিয়ে থাকি।

    স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে তরুণদের সম্পৃক্তকরণ – ১

    আমাদের Beautiful Bangladesh কে স্বপ্নের বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে প্রাণশক্তিতে ভরপুর তরুণ-তরুণীদের উপর আমাদের নির্ভরতা থাকবে সবচেয়ে বেশি।

    তরুণদের কাছে “স্বপ্নের বাংলাদেশ” এর ভিডিও চিত্র / শর্ট ডকুমেন্টারি আহবান করা যায়। আমরা জানতে চাই, দেশ নিয়ে তরুণদের ভাবনা। জানতে চাই, তরুণরা স্বপ্নের বাংলাদেশে কি কি দেখতে চান। তরুণরা টীম গঠন করে তাদের সৃজনশীলতা দিয়ে স্বপ্নের বাংলাদেশ কেমন হবে তার একটা চিত্র ফুটিয়ে তুলে প্রস্তাব দেবেন। সবচেয়ে ভাল প্রস্তাবগুলোকে টীমের সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে স্পন্সরের মাধ্যমে ফান্ড দেওয়া হবে। ফান্ড দিয়ে বাছাইকৃত টিমগুলো ভিডিও চিত্র / শর্ট ডকুমেন্টারি তৈরি করবেন। সেরাদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হবে। সেরা ক্লিপ্স / ডকুমেন্টারিগুলো আমরা নাগরিক শক্তির ওয়েবসাইটে রাখব। ফেইসবুক, ইউটিউব, ফোন এর মাধ্যমে ছড়িয়ে দেব। আমাদের দলের নির্বাচনী ইশতেহারে কোন কোন প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করা যায় তা পর্যালোচনা করা হবে। সবচেয়ে বড় কথা – আমাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা থাকবে নতুন প্রজন্মের স্বপ্নগুলো বাস্তবায়নে।

    একইসাথে দেশের সব নাগরিকদের কাছে বাংলাদেশ নিয়ে স্বপ্নের কথা লেখার আহবান করা যায়। প্রত্যেকে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্র, অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে লিখবেন। অর্থনীতিবিদরা লিখবেন দেশের অর্থনৈতিক বাবস্থা সংস্কার নিয়ে, বাবসায়ি-উদ্যোক্তারা লিখবেন বাবসা-বাণিজ্যের সংস্কার-সম্ভাবনা নিয়ে, আইনজ্ঞরা লিখবেন বিচার বিভাগ নিয়ে, শিক্ষাবিদরা লিখবেন শিক্ষাবাবস্থা নিয়ে, চিকিৎসকরা লিখবেন স্বাস্থ্য বাবস্থা নিয়ে, শিল্পী – সংস্কৃতি কর্মীরা লিখবেন সংস্কৃতি নিয়ে, প্রতিরক্ষা বাবস্থা নিয়ে লিখবেন বিশেষজ্ঞরা, প্রকৌশলীরা লিখবেন প্রযুক্তি ক্ষেত্রে সম্ভবনা নিয়ে, আলোকিত মানুষ ও আলোকিত সমাজ গড়ে তোলার উপায় নিয়ে লিখবেন কেউ কেউ। আমাদের ওয়েবসাইটে দেশ নিয়ে ভালবাসা আর স্বপ্নের কথার লেখাগুলো রাখা হবে। পরবর্তীতে নির্বাচিত লেখাগুলো বই আকারে প্রকাশ করা যায়।

    নাগরিক শক্তির নির্বাচনী ইশতেহার তৈরিতে লেখাগুলো ভূমিকা পালন করবে। জনগণের দল হিসেবে নাগরিক শক্তির সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা থাকবে জনগণের স্বপ্ন বাস্তবায়নে।

    গণজাগরণ বনাম হেফাজত নয়, গণজাগরণ এবং হেফাজত

    মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হলে জামায়াতে ইসলামী তাদের রক্ষা করতে সহিংসতা – অরাজকতা – চোরাগোপ্তা হামলা শুরু করে। কাদের মোল্লার রায়ে ফাঁসি না হয়ে যাবজ্জীবন হওয়ায় তরুণ সমাজ এবং দেশের জনগণ ধারণা করে, জামায়াতে ইসলামীর সহিংসতায় ভীত সরকার এই রায় দিয়েছে। রায়ের প্রতিবাদে বিক্ষোভ জানাতে ফেব্রুয়ারি মাসে তরুণ সমাজের ডাকে শাহবাগে জমায়েত হয় মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী জনগণ – সৃষ্টি হয় গণজাগরণ মঞ্চ

    আওয়ামী লীগ গণজাগরণ মঞ্চ থেকে মানবতাবিরধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সাহস সঞ্চয় করেই থেমে থাকেনি, কিছুদিনের জন্য যতটা সম্ভব মূল মঞ্চের দখলও নেয়। এসময় তারা বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীকে “রাজাকার” বলার মত নিন্দনীয় এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কাজ করে। ঘটনা পরম্পরা বিবেচনা করলে আমরা দেখি, মুক্তিযোদ্ধা বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী তারই কিছুদিন আগে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডঃ মহিউদ্দিন খান আলমগীরের ‘৭১ এ ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।

    জামায়াতে ইসলামী এসময় তাদের নেতাদের রক্ষা করতে সহিংসতার পাশাপাশি গুজব রটনার আশ্রয়ও নেয়। হঠাত চাঁদে দেখা যায় জামায়াত নেতা দেলোয়ার হোসেন সাঈদিকে! মক্কা শরিফের গেলাপেও নানা অবিশ্বাস্য ব্যাপার দেখা দেয়! (একজন মুসলিম কিভাবে নিজের ধর্ম নিয়ে এধরনের রটনা রটাতে পারেন – তা কেবল তিনিই জানেন।) গ্রামে মসজিদের ইমামকে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে মসজিদের মাইকে এমন গুজব রটিয়ে জনগণকে নিয়ে হামলা চালায়। সনাতনী ধর্মাবলম্বীরাও তাদের হামলার শিকার হন।

    গণজাগরণ মঞ্চ থেকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি বন্ধ করতে জামায়াত গুজব রটায় – গণজাগরণ মঞ্চের সব ব্লগার নাস্তিক। তারা ইসলামী চেতনা ধ্বংস করছে।

    আমরা জানি, দেশের কিছু তরুণ ধর্ম নিয়ে ব্লগে আপত্তিকর কথা লিখেছিল। তাদের এই কাজ নিন্দনীয়। পৃথিবীর কোন ব্যক্তি নিজেকে সবজান্তা ভাবার ধৃষ্টতা দেখাতে পারেন না। সীমিত জ্ঞান দিয়ে ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর লেখা প্রকাশ করে কারো ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত দেওয়া, সহিংসতার পরিবেশ সৃষ্টি করা সঠিক নয়।

    তবে তাই বলে যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে শাহবাগের সমস্ত ব্লগারকে নাস্তিক আখ্যা দেওয়াটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

    ব্লগার শব্দটিই হয়ে ওঠে নাস্তিক্যবাদের প্রতিশব্দ।

    গণজাগরণ মঞ্চের কিছু তরুণের দুই একটি শ্লোগান হয়ত আবেগের বাড়াবাড়ি প্রকাশ ছিল, কিন্তু যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হতেই হবে – এ নিয়ে দ্বিমত প্রকাশ করার কোন অবকাশ নেই।

    আমরা প্রত্যাশা করবো, যেসব তরুণদের ভুল বুঝিয়ে ভুল পথ দেখানো হচ্ছে, স্বাধীনতার সময়ে যাদের জন্মই হয়নি, আমাদের নতুন প্রজন্মের স্বপ্নযোদ্ধারা তাদেরও সঠিক পথে ফিরিয়ে আনবে।

    পাশাপাশি আমরা নতুন প্রজন্মের কাছে “জয় বাংলা”র সাথে “জয় বাংলাদেশ” শুনতে চাই। আমাদের এখন স্বাধীন একটা দেশ আছে – বাংলাদেশ। শ্লোগানটি যে সময়কার – তখন ছিল না। “জয় বাংলা” শ্লোগানটি বেশ পুরনো – ৭১ এর আগের – যখন “বাংলা” ঠিক “দেশ” হয়ে ওঠেনি। “জয় বাংলা” শ্লোগানটির গুরুত্ব এখানেই যে এটি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময়কার আবেগকে ধারণ করে, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ৭১ এ ফিরিয়ে নিয়ে যায় (স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র, “জয় বাংলা, বাংলার জয়”)। ৭১ এর আগে পূর্ব পাকিস্তান না বলে “বাংলা” বলতেই আমরা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতাম।

    আমাদের দেশের সাধারণত সবচেয়ে অসহায়, এতিম সন্তানরা মাদ্রাসায় ভর্তি হয়। (বেতিক্রম অবশ্যই আছে – অনেক সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তানকেও ইসলামী শিক্ষা দেওয়ার জন্য মাদ্রাসায় পাঠান হয়।) এই অসহায় এতিম ছাত্ররা অবহেলিত। এদের হয়ে কথা বলার মত কেউ নেই। কাজেই জামায়াতে ইসলামী যখন যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর দুরভিসন্ধিমূলক উদ্দেশ্যে শাহবাগের আন্দোলন বন্ধ করতে তাদের কাজে লাগাতে চায়, অসহায় অবহেলিত মাদ্রাসা ছাত্ররা তখন রাস্তায় নেমে পড়ে। গড়ে ওঠে আরেকটি আন্দোলন।

    ইন্টারনেট এর মাধ্যমে সারা পৃথিবীর সমস্ত তথ্য, সমস্ত জ্ঞান আমাদের হাতের মুঠোয়। ইন্টারনেটের আরেকটি ভাল ব্যাপার হল – যে কেউ এই মাধ্যমে নিজের লেখা প্রকাশ করতে পারে এবং সারা পৃথিবীর মানুষ সেই লেখা পড়তে পারে। যারা নিজের লেখা ইন্টারনেটে প্রকাশ করেন তাদের বলা হয় ব্লগার।

    “ব্লগার” শব্দটির সাথে নাস্তিক্যবাদের কোন সম্পর্ক নেই।

    মানবতাবিরধী অপরাধীদের বিচার বন্ধ করতে শাহবাগের আন্দোলন বন্ধ করার দরকার ছিল। জামায়াত শিবির শাহবাগের আন্দোলন বন্ধ করতে উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে পত্রিকায় বানোয়াট সংবাদ পরিবেশন করে এবং শাহবাগের সমস্ত আন্দোলনকারী সম্পর্কে বানোয়াট কথা প্রচার করে মাদ্রাসা ছাত্রদের আন্দোলনে নামিয়েছে। পাশাপাশি, ব্লগার শব্দটির সাথে নাস্তিক্যবাদকে জুড়িয়ে দিয়েছে। 

    হাদিসে আছে – “বিদ্বানের কলমের কালি শহীদের রক্তের চেয়েও বেশি পবিত্র”।

    আমরা প্রত্যাশা করব – আমাদের দেশের মাদ্রাসার বিদ্বান ছাত্ররা ইসলামের কথা, নিজেদের গ্রামের বিভিন্ন সমস্যার কথা, তথা জ্ঞান বিজ্ঞানের কথা এযুগের মাধ্যম ইন্টারনেটে প্রকাশ করবেন এবং ব্লগার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবেন। তাদের এই লেখা থাকবে সারা পৃথিবীর জন্য উন্মুক্ত। কারো কারো লেখা হয়ত দেশ বিদেশের লক্ষ মানুষ পড়বেন।

    আমাদের একের সাথে অন্যের যে মত পার্থক্য রয়েছে, দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য রয়েছে তার সমাধান হবে ব্লগে আলোচনা, যুক্তি-পাল্টা যুক্তির মাধ্যমে। ব্লগ হয়ে উঠতে পারে জ্ঞান চর্চার একটা মাধ্যম।

    আর এভাবেই আমরা ভুল বুঝে নিজেরা নিজেদের মাঝে যে দূরত্ব তৈরি করেছিলাম, তার অবসান ঘটবে।
    সবাই মিলে সুখে স্বাচ্ছন্দ্যে ভরপুর একটা পৃথিবী গড়ব।

    আরও

    প্রতিহিংসা – অপপ্রচার নয়, চাই উন্নয়নের রাজনীতি

    একজন সম্মানিত মানুষ সারাজীবন তিল তিল করে একটি প্রতিষ্ঠানকে দাঁড় করিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটির উপর কাজের কারণে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটিকে এমনভাবে গড়ে তুলেছেন যে বাবস্থায় গ্রামের দরিদ্র মহিলারা প্রতিষ্ঠানটির মালিকানায় (প্রতিষ্ঠানের ৯৭ শতাংশ মালিকানা গরিব মহিলাদের হাতে) এসেছে। সেই প্রতিষ্ঠান – গ্রামীণ ব্যাংক থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া শুধুমাত্র অন্যায় নয়, এটি দেশে দারিদ্র্য দূরীকরণে, নারীর ক্ষমতায়নে বিশাল ভূমিকা রাখা, দেশের প্রায় ৮৪ লক্ষ মানুষ যে প্রতিষ্ঠানের সাথে নিজেকে যুক্ত করে লাভবান হয়েছেন এবং হচ্ছেন, অন্যান্য দেশেও যে প্রতিষ্ঠানটির আদলে প্রতিষ্ঠান তৈরি হয়েছে, সেই প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতে সঠিকভাবে চলবে কিনা তা নিয়েও সংশয় তৈরি করে দিয়েছে। শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে অন্যায় করা, না বুঝে অপপ্রচার চালানো এবং দেশের ক্ষতি করা – এমন রাজনীতি দেশে চলতে পারে না।
    ড. মুহম্মদ ইউনুস এর

    • মেধা (নোবেল শান্তি পুরষ্কার বিজয়ী, ২০০৬; বিশ্বব্যাপী ক্ষুদ্রঋণ এবং সামাজিক ব্যবসার প্রবর্তক)
    • সততা (বর্তমান সরকার সকল শক্তি ব্যবহার করেও কিছু খুঁজে পায়নি) 
    • প্রশাসনিক দক্ষতা (বাংলাদেশ সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিজ মডেলের উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন)

    প্রশ্নাতীত।

    আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তার যে ব্যাপক সুপরিচিতি আছে তা ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশের সাথে সম্পর্ক জোরদার করা, কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া (বিভিন্ন সুবিধা যেমন বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শুল্কমুক্ত প্রবেশ ইত্যাদি) – সরকার এসব করতে পারত।

    তা না করে প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে গ্রামীণ ব্যাংকে হাত দেওয়াকে আমরা চরম অন্যায় বলে মনে করি। যে দেশে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে অবাবস্থাপনা এবং হাজার হাজার কোটি টাকার লোপাট-দুর্নীতি চলে, সে দেশে গ্রামের অসহায় মানুষদের ব্যাংকটিকে রাষ্ট্রায়ত্ত করার প্রচেষ্টা আমাদের শঙ্কিত করে।

    যে দেশের ৫০ ভাগ মানুষের বয়স ২৩ বা তার চেয়ে কম, যে বিশাল তরুণ প্রজন্ম কর্মক্ষেত্রের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করছে, যাদেরকে ঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারলে দ্রুত দেশের চেহারা পাল্টে যাবে – সেই দেশে আজ উন্নয়নের রাজনীতি খুব বেশি জরুরী।

    আরও

    “… by dividing up and splitting up the Grameen Bank in 19 pieces only – you’ll destroy the bank. If somebody wants to destroy the bank, that’s the best way to do this – cut it up, chop it off and it’s gone.”

    ৮৪ লক্ষ ঋণগ্রহীতার প্রতিষ্ঠানকে ভেঙে ১৯ টুকরা করার প্রচেষ্টা – আমরা হাসব নাকি কাঁদব!


    “Making money is a happiness. Making other people happy is a superhappiness.”

    “Within two years, more than 25,000 beggars stopped begging completely. Because they become such a successful door-to-door salesperson.”

    “So you see, you give people a chance, they bring out their own ability. So that’s the message here.”

    – Muhammad Yunus And ‘A Cinderella Moment’ At The Forbes Philanthropy Summit – Forbes

    “গ্রামীণ ব্যাংক গরিব মহিলাদের নিজস্ব অর্থে গড়া সম্পদ। যে প্রতিষ্ঠানের ৯৭ শতাংশ মালিকানা গরিব মহিলাদের হাতে, সেখানে তদন্ত কমিশন কীভাবে প্রস্তাব করে যে এটার বৃহত্তর মালিকানা সরকারকে দিয়ে দিতে হবে। গরিব মানুষের মালিকানাকে গায়ের জোরে কেড়ে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে কেন?

    যে ব্যাংক নাগরিকদের নিজের টাকায় চলে সেখানে সরকারকে কেন ৫১ শতাংশ বা তারও বেশি মালিকানা দিতে হবে এবং সরকারের আজ্ঞাবহদের হাতে এই ব্যাংক পরিচালনার (তথা লুটপাটের) ব্যবস্থা করে দিতে হবে, এর ব্যাখ্যা কি কমিশন জাতির সামনে উপস্থাপন করবে?

    এই ব্যাংক সরকারের কাছ থেকে কোনো টাকা নেয় না, কোনো দাতা সংস্থা থেকেও টাকা নেয় না। এটা সম্পূর্ণরূপে স্বনির্ভর প্রতিষ্ঠান। এটা গরিব মহিলাদের মালিকানায় এবং তাদেরই পরিচালনায় একটি ব্যাংক।

    গ্রামীণ ব্যাংক চিরজীবী হোক। গরিব মহিলাদের ক্ষমতা চিরস্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত হোক।”

    – দেশের মানুষ গ্রামীণ ব্যাংককে ছিনিয়ে নিতে দেবে না