সম্ভাবনার বাংলাদেশ

Largest Human Flag


সম্ভাবনার দেশ বাংলাদেশ

  • দ্রুততম সময়ে 160 Million+ মানুষের একটা দেশে একটা রাজনৈতিক দলের ৮০%+ মানুষের সমর্থন লাভ
  • দ্রুততম সময় সবরকম অপরাধ-দুর্নীতি একেবারে নামিয়ে আনা 
  • দ্রুততম সময়ে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হারে (GDP growth rate) বিশাল উন্নতি (৬% থেকে ১০%+)
  • মাথাপিছু আয়ের দিক দিয়ে ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকা এবং অন্যান্য প্রতিবেশী দেশগুলোকে ছাড়িয়ে যাওয়া 

– বাংলাদেশের জন্য সবই সম্ভব।



  • পৃথিবীর সবচেয়ে বড় এনজিও (NGO) বাংলাদেশের ব্র্যাক (BRAC)। [1]
  • সারা বিশ্বে ক্ষুদ্র ঋণ এবং সামাজিক ব্যবসার ধারণা ছড়িয়ে দেওয়ার পথিকৃৎ নোবেল পুরস্কার জয়ী প্রফেসর ডঃ মুহম্মদ ইউনুসের দেশ বাংলাদেশ। [2]
  • ক্রিকেটে বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের দেশ বাংলাদেশ। [3]
  • একসাথে সবচেয়ে বেশি মানুষের জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া [4] 
  • বিশ্বের বৃহত্তম মানব পতাকা [5] 

– Guinness Book Of World Records এ এমন সব বিশ্বরেকর্ড গত ৫ মাসে আমরা অর্জন করেছি। 



বাংলাদেশের এখন এগিয়ে যাওয়ার সময়। বাংলাদেশীদের এখন এক এক ক্ষেত্রে পৃথিবীর চূড়ায় আরোহণ করার সময়। 

নেক্সট ইলেভেনে থাকা ১১টি দেশের একটি বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ অর্থনৈতিক শক্তি হয়ে উঠবে – এমন সম্ভাবনা আমাদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে। 

এগিয়ে চলো বাংলাদেশ। 


রেফরেন্স
আমাদের এগিয়ে যাওয়ার খবর 

নাগরিক শক্তির প্রতীক্ষায় দেশের নাগরিক সমাজ, রাজনীতিবিদরা ও জনগণ

নাগরিক শক্তি আমাদের দেশের নাগরিক সমাজের অনেক বছরের ভিশনের বাস্তবায়ন।

অর্থনীতি ও ভোটের রাজনীতি
– ড. আকবর আলি খান: সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা।

দশম জাতীয় নির্বাচন ইলেকশন নয় সিলেকশন
– ব্যারিস্টার রফিক-উল হক: বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী। 

মধ্যমেয়াদি সংকটের পথে বাংলাদেশ?
– ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য : অর্থনীতিবিদ, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।

সুস্থ অর্থনীতিকে ধ্বংস করছে অসুস্থ রাজনীতি
– সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী, ব্যবসায়ী নেতা ও এপেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা।

বাংলাদেশ একদিন বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পাবে
– ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী: তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা; উপাচার্য, ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক; সভাপতি, বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটি। 


“এখন দেশে চলছে নগ্ন ক্ষমতার লড়াই। মূল্যহীন, অর্থহীন, আদর্শহীন, দেশপ্রেমহীন ক্ষমতার লড়াই।
একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে গণতন্ত্রের এই অবস্থা আমি কোনোক্রমেই আশা করিনি।

তৃতীয় গনতান্ত্রিক শক্তির দিকে নজর দেওয়ার সময় এসেছে।
নাগরিকদের গনতান্ত্রিক অধিকার সম্পর্কে আরও সোচ্চার হতে হবে।
আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ এর জন্য দুইদলের কাছে যেন নির্ভরশীল না থাকি।”
– ‘গণতন্ত্র’ শব্দটাই আর ব্যবহার করা উচিত নয়: মাহফুজ আনাম (ভিডিও)

আমরা এই রাজনীতির তীব্র নিন্দা জানাই
প্লিজ, এ নির্বাচন করবেন না
– মাহফুজ আনাম: সম্পাদক, দ্য ডেইলি স্টার।

যে নির্বাচনে সবাই হারবে
একাদশ সংসদই এখন লক্ষ্য
– ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন: সাবেক নির্বাচন কমিশনার।

নীরব সংখ্যাগরিষ্ঠর কথা
সমঝোতার ভিত্তিতে টেন্ডার ভাগাভাগির মতো
– ড. হোসেন জিল্লুর রহমান: সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও অর্থনীতিবিদ।

ব্যবসা উপযোগী পরিবেশ দরকার
– আতিকুল ইসলাম: সভাপতি, বিজিএমইএ।

তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তি হতে চায় নাগরিক ঐক্য
নাগরিক ঐক্য 
– মাহমুদুর রহমান মান্না: আহ্বায়ক, নাগরিক ঐক্য।

দেশটা শুধু রাজনীতিবিদদের নয়
দূষিত রাজনীতি তরুণদেরই পাল্টাতে হবে 
রাজনীতিতে তৃতীয় শক্তির আবছা রেখা
– মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর: মিডিয়া ও উন্নয়নকর্মী।



“স্বাধীনতার পর দেশের সমগ্র জনগোষ্ঠীকে এক করার, সবার পক্ষে কথা বলার, সবার হয়ে কাজ করার মতো কোনো দল আসেনি। সবাই নিজ নিজ স্বার্থে চলেছে, এখনো চলছে। যারা বাঙালিদের স্বার্থের কথা বলেছে, তারা পাহাড়িদের কথা ভুলে গেছে। যারা মুসলমানের স্বার্থ রক্ষার কথা বলেছে, তারা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টানদের স্বার্থের কথা মনে রাখেনি। যারা জনগণতান্ত্রিক বিপ্লব করবে বলে বুলন্দ আওয়াজ তুলেছিল, তাদের চিন্তায়-কর্মেই জনগণের জায়গা ছিল না। আর সাধারণ মানুষের অবোধগম্য এসব অচেনা স্লোগান দিতে দিতে তারা একসময় জনগণ থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
ফলে বাংলাদেশে গরিব-দুঃখী মানুষের পক্ষে কথা বলার রাজনীতিটাই হারিয়ে গেল।

আসলে কোনো রাজনৈতিক দলই গোটা দেশকে ধারণ করতে পারছে না। তারা কেউ আওয়ামী লীগকে ধারণ করে, কেউ বিএনপিকে, কেউ বা জাতীয় পার্টি বা জামায়াতকে। সবাই গোষ্ঠীগত স্বার্থে মগ্ন। ব্যক্তিস্বার্থে মশগুল। ৪২ বছর ধরেই আমরা নীতি-আদর্শের চেয়ে ক্ষমতাকেই বড় করে দেখছি।

আমরা এমন একটি রাজনৈতিক দল চাই, যে দলটি সব ভেদাভেদ ভুলে বাংলাদেশের সব মানুষকে হেফাজত করবে। কারও নাগরিক অধিকার ও মানবাধিকার হরণ করবে না। ধর্ম ও জাতিগত পরিচয়ে কারও প্রতি বৈষম্য দেখাবে না। আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান সুযোগ ও অধিকার ভোগ করবে। যে দলটি আইনের শাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় মনোযোগী হবে, এবং ব্যক্তি, দল ও গোষ্ঠীর ঊর্ধ্বে জাতীয় স্বার্থকে স্থান দেবে।

হেফাজতে ইসলাম বা অন্য কোনো ধর্ম নয়, কোনো বিশেষ জনগোষ্ঠী নয়, যে দলটি বাংলাদেশের সব মানুষের অধিকার ও স্বার্থ দেখবে, আমরা সেই দলের অপেক্ষায় আছি।“
– হেফাজতে বাংলাদেশ চাই

নির্দলীয় সরকারের দাবি মেনে নিন : আল্লামা শফী
সংকট সমাধানে দুদলকে সমঝোতার আহ্বান
– হেফাজতে ইসলামের আমীর আহমদ শফি।

দেশ ও জাতি এক গভীর সংকটময় মুহূর্ত অতিক্রম করছে
– হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব হাফেজ মুহাম্মদ জুনায়েদ বাবুনগরী। 

আমাদের আম-আদমিরা কোথায়?

চাই অহিংস নৈতিক শক্তির উত্থান

কৃষি ও খাদ্যচিন্তাই জন্ম দেয় দেশনায়ক
– শাইখ সিরাজ: পরিচালক ও বার্তাপ্রধান, চ্যানেল আই।

“শাহবাগের সমাবেশকে অভিনন্দিত করি একটি কারণে। তা হলো, এটি দেখিয়ে দিল যেকোনো পুঞ্জীভূত পাপের বিরুদ্ধে, জঘন্য পাপীদের বিরুদ্ধে অথবা অন্যায়-অবিচার- অত্যাচারের বিরুদ্ধে কিংবা দুর্নীতির বিরুদ্ধে বাংলার মানুষের ফুঁসে ওঠার ক্ষমতা অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন অনেক বেশি। তবে প্রতিবাদকে সৃষ্টিশীলতার দিকে নিয়ে যেতে দক্ষ ও যোগ্য নেতৃত্ব দরকার।
যে রাষ্ট্র আমরা প্রতিষ্ঠা করেছি সীমাহীন রক্তের বিনিময়ে, সেই রাষ্ট্রযন্ত্রটিতে মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটছে না। শাসকশ্রেণী ৪০ বছর যাবৎ পরিচয় দিয়ে যাচ্ছে ক্ষমাহীন ব্যর্থতার। বর্তমান আইন প্রণয়নব্যবস্থা, শাসন বিভাগ ও বিচারব্যবস্থা মানুষের কাছে আর গ্রহণযোগ্য নয়। শাহবাগে সমাবেশে যোগদানকারীদের চোখমুখ থেকে যে বিষয়টি বিচ্ছুরিত হচ্ছে তা হলো, বাংলাদেশের মানুষ আজ চায় না এই রাষ্ট্রব্যবস্থা। তারা চায় বর্তমান রাজনৈতিক ধারার পুনর্গঠন। তারা ভেঙে দিতে চায় এই নষ্ট ব্যবস্থা। কিন্তু উপায়টি খুঁজে পাচ্ছে না। তবে আমরা বলতে পারি, ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়েই যায়।
পূর্ণ হোক সাধারণ মানুষের ইচ্ছা। জয় হোক নিপীড়িত মানুষের।”
জেগে উঠলেই জয় হয় মানুষের
– সৈয়দ আবুল মকসুুদ: গবেষক, প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক।


গণজাগরণ মঞ্চ কি রাজনৈতিক দল হয়ে উঠছে

দেশের সবচেয়ে প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন
– ড. শাহদীন মালিক, আইনজীবী, সুপ্রিম কোর্ট এবং অধ্যাপক, স্কুল অব ল, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি।

মিথ্যা, মিথ্যাচার, অপপ্রচার
– ড. আসিফ নজরুল: অধ্যাপক, আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

“আমার ব্যক্তিগত ধারণা এই মুহুর্তে সারা পৃথিবীর সাথে সাথে বাংলাদেশও একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পৌঁছেছে। আমরা দিল্লীর নির্বাচনে দেখেছি, আম আদমী পার্টি নামে একটা তরুণদের রাজনৈতিক দল সব হিসেব ওলট-পালট করে ক্ষমতায় চলে এসেছে। যেহেতু বাংলাদেশে বিশাল একটা তরুণদের দল আছে, অনেক হিসেবে তারা ভারতবর্ষের তরুণদের থেকে বেশি রাজনীতি সচেতন। তাই তারা চাইলেই কী এই দেশের রাজনীতির জগতেও একটা ওলট-পালট করে ফেলার ক্ষমতা রাখে না?

আমাদের এতো কষ্টের এতো ভালোবাসার দেশকে আমরা যেভাবে চাই, যদি সেভাবে গড়ে তোলা না হয় তাহলে কী এই দেশেও নতুন একটা রাজনৈতিক শক্তি গড়ে উঠতে পারে না? যার চালিকা হবে নতুন প্রজন্ম।”

– এক দুই এবং তিন: মুহম্মদ জাফর ইকবাল

ঐক্যবদ্ধ থেকে ষড়যন্ত্র মোকাবেলার আহ্বান জানিয়েছে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা

তরুণ সমাজকেই রাস্তায় নেমে আসতে হবে: মুহম্মদ জাফর ইকবাল

তরুণ প্রজন্মের কাছে প্রার্থনা: মুহম্মদ জাফর ইকবাল
তরুণ প্রজন্ম এখন নেতৃত্ব নিতে সক্ষম
– ডঃ মুহম্মদ জাফর ইকবাল, বিভাগীয় প্রধান, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। 

ভর্তি, মান ও দক্ষ জনশক্তি
– ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ: অধ্যাপক, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও ফেলো, বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেস।

বিষচক্রের ফাঁদে বাংলাদেশ
মুক্তিযুদ্ধ ও ইসলাম কারও একার নয়
– আনু মুহাম্মদ: অর্থনীতিবিদ ও অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

নির্বাচনে জিততে চাইলে জনগণের পক্ষ নিন
– রফিউর রাব্বি, সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক।



রাজনীতিবিদরা
স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সবার ঐক্য কামনা
– জেনারেল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ: সাবেক রাষ্ট্রপতি, সাবেক সেনাপ্রধান ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান।

ঐকমত্যের সন্ধানে
দেশের ১৬ কোটি মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহবান
– ড. কামাল হোসেন: বাংলাদেশের সংবিধানের প্রণেতা, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও গনফোরাম সভাপতি।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহালের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান
– অধ্যাপক এ.কিউ.এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, FRCP (Glasgow), FRCP(Edin.).: সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট।

৫ জানুয়ারী ইলেকশন হয়নি- হয়েছে সিলেকশন

– বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী: সভাপতি, বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ।

জনগণ তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তি চায়
– আ স ম আবদুর রব: সভাপতি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)।


এককেন্দ্রিক শাসনব্যস্থা আর নয়
জাতীয় পার্টি নির্বাচনে নেই : জি এম কাদের
– গোলাম মোহাম্মদ কাদের: সংসদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী।

“বঙ্গবন্ধু মানুষকে ভালবাসা দিয়ে সম্মান দিয়ে কাছে টানতেন কিন্তু (বর্তমান নেতৃত্ব) জানে কেমন করে প্রদীপ্ত প্রতিভাকে দমিয়ে রাখা যায়। 
বঞ্চিত মানুষের বিজয় হবেই – কেউ রুখতে পারবে না।”
পতাকা দিবস।
বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ ও আমার অন্তর্দ্বন্দ্ব
– নুরে আলম সিদ্দিকী: মুক্তিযুদ্ধের সময়কার স্বাধীন বাংলা সংগ্রাম পরিষদের অবিসংবাদিত নেতা।

সংসদ থেকে গ্রাম পর্যন্ত পুরো দেশ ইজারা নিয়েছে আওয়ামীলীগ ও বিএনপি
– মাহী বি চৌধুরী: বিকল্পধারা বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব। 

তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তি নিয়ে রাজনীতিবিদরা
হাসিনাকে পদত্যাগের আহ্বান বি চৌধুরী, রব, কাদের সিদ্দিকীর



নাগরিক শক্তির প্রতীক্ষায় তরুণ প্রজন্ম

তরুণরাই নাগরিক শক্তির প্রাণ। 

রাজনীতি নিয়ে তরুণদের মাঝে যে অনীহা ছিল, হতাশা ছিল – আমরা তা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছি। তরুণরা এখন সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ নিয়ে, আদর্শের রাজনীতি নিয়ে স্বপ্ন দেখছে, রাজনীতিতে আসতে চাইছে।

“সহমত হব আমরা সবাই একবাক্যে যে সাধারণ মানুষ বড় নিরুপায় ঠিকই, কিন্তু দিন বদলায়ও। ভেতরে ভেতরে ধূমায়িত হচ্ছে ক্ষোভ। কার্যকারণ আবিষ্কার করতেও শিখছে মানুষ। আমাদের এখানে রাজা নেই বহুকাল। রানিরা আছেন। এসব দুর্দশার কারণ তাঁরা। তাঁদের দম্ভ। ক্ষমতার লোভ। ইদিপাসেরও তাই ছিল। নিয়তির চেয়েও ভয়ংকর হলো মানুষের সম্মিলিত শক্তি। মানুষ তার পক্ষের শক্তিকে ঠিক খুঁজে নেয়। পাতা উল্টে দেখুন। ইতিহাস সাক্ষী।”
– প্রিয় নাগরিকবৃন্দ, শুনুন…, মাহমুদুজ্জামান বাবু: গায়ক ও সংস্কৃতিকর্মী।

গণজাগরণ মঞ্চের পর্যবেক্ষণ রিপোর্ট
– ডাঃ ইমরান এইচ সরকার: মুখপাত্র, গণজাগরণ মঞ্চ।

“লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সত্য ও সৎ থাকলে সবকিছুই সম্ভব। আর আমি যে কাজই করি না কেন আত্মবিশ্বাস থাকে প্রচুর। আমি মনে করি নতুনরা কাজ করলে যে কোন জায়গাতেই পরিবর্তন আসে। এটা প্রমাণিত। সেই বিশ্বাস থেকেই পরিবর্তনের স্বপ্ন নিয়ে আমি রাজনীতিতে আসতে চাই।”
– জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়া, ছোট ও বড়পর্দার সামপ্রতিক সময়ের আলোচিত মুখ।

“সারা দেশের মানুষ দুই দলের কাছে জিম্মি হয়ে আছি। আমার কাছে বাংলাদেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রে এটাই প্রধান বাধা হিসেবে মনে হয়।”
– ইব্রাহীম

“আমরা এখনও যদি চিহ্নিত করতে পারি কারা আমাদেরকে পিছনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে তাহলে আমরা আরও সচেতন হতে পারবো “
– নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নাবিল আহমেদ

“প্রত্যেক দলের মধ্যে যদি দেশপ্রেম জাগ্রত হয় তাহলেই এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব।”
– মাদ্রাসা ছাত্র শামিম আহমেদ

“দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার পালাবদল যে দুটি দলের মধ্যে হচ্ছে তাদের বাদ দিয়ে গণতান্ত্রিক উপায়ে নতুনদের হাতে দেশ পরিচালনা করার সুযোগ করে দিতে হবে।”
– শম্পা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী


সূত্র – বাংলাদেশের ভবিষ্যত নিয়ে কি ভাবছে তরুণ প্রজন্ম? বিবিসি বাংলা



“আমার মনে হয় আমাদের পৃথিবীতে যে change আসে – আমাদেরই সেই change আনতে হয়। Be the change you want to see.”

“যে কোন Change এর জন্য Revolutionary Character লাগে। Charismatic কোন Leader থাকলে তার পিছনে এমনিতেই তরুণরা যাবে। কারণ আমরা ৫০% এর উপরে। আমাদের দেশে তো আমাদেরই Power বেশি। আমরা যদি এমন কোন তরুণ পাই – সে হতে পারে নতুন কোন বঙ্গবন্ধু , নতুন একজন জিয়া – এরকম একজন মানুষ হতে হবে। যে Actually আমাদের Move করাতে পারে।”

“বাংলাদেশের যে দুইটি রাজনৈতিক দল আছে, তাতে তরুণদের অংশগ্রহণ দেখতে পাই না। নতুন একটি রাজনৈতিক দল দেখতে চাই।”

“আমি রাজনীতি করতে চাই। আমার মনে হয়, আমরা যদি না আসি – আমার মনে হয় না এটা বদলাবে। এখন যেসব existing দল আছে আমার মনে হয় না তারা আমাদের চাওয়া পাওয়ার কোন খেয়াল রাখে। আমি চাই যোগ্য কোন দল আসুক। নতুন কেউ আসুক। নতুন ধারার রাজনীতি।”

“আমি রাজনীতি আসতে চাই, কারণ আমি যদি কাঁদা পরিস্কার করতে চাই, তাহলে অবশ্যই কাঁদায় নামতে হবে এবং গাঁয়ে কাঁদা লাগাতে হবে।”

“আমরা যারা সচেতন, আমরা যারা পরিবর্তন চাই, আমরা কেন এগুই না? আমরা সবাই – সুশীল সমাজ, তরুণ সমাজ সবাই মিলে কেন একটা প্ল্যাটফর্মে আসতে পারছি না?”

“যতদিন পর্যন্ত না আমরা নতুন একটা দল না করবো, নতুন Political culture তৈরি করবো – ততদিন পর্যন্ত আমার মনে হয় না প্রচলিত দলগুলো আমাদের সাথে compete করার জন্য change আনবে।”

সূত্র – মাক্সিমাস তরুণকণ্ঠ | ১ম পর্ব

 

“আমি নিজেও একসময় রাজনীতিতে বিশ্বাস করতাম না। রাজনীতিকে গালাগালি করতাম, ঘেন্না করতাম। কিন্তু খুব recently আমিও নিজস্ব উপলব্ধি থেকে মানুষের জন্য কিছু করার জন্য Politics এর সাথে কিছুটা হলেও involved হয়েছি।”

“তরুণদের কারনেই আজকে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির রায় কার্যকর হয়েছে। এক্ষেত্রে আমরা সফল।”

“একটা চেতনা আসা দরকার আমরাও কিছু করতে পারি। আমরা যতই ব্লগিং করি, ফেইসবুকিং করি, At the end of the day আমাদের একটা প্ল্যাটফর্মে আসতে হবে। আমাদের রাজনীতিতে যেতে হবে শেষ পর্যন্ত একটা innovative কিছু করার জন্য। আমরা যতদিন না রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেব, আমরা যে পরিবর্তনটা চাই বাংলাদেশের জন্য সেই পরিবর্তনটা আনা সম্ভব না।”

“তরুণরা এখন innovative কিছু চায়। innovative কিছু চিন্তা ধারা তারা প্রকাশ করতে চায় এবং তারা চাই যে একটা different কিছু হোক দেশের মধ্যে। দেশটা যাতে সুন্দরভাবে এগিয়ে যায়। কিন্তু তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না কারণ পুরনোরা ভাবে তাতে আগের মত দেশ চলবে না।”

“তরুণ প্ল্যাটফর্মের অংশ হিসেবে তরুণরা নাগরিক সমাজে অংশগ্রহণ করতে পারে।”
সূত্র – মাক্সিমাস তরুণকণ্ঠ | ২য় পর্ব



যেসব মূলনীতির ভিত্তিতে নাগরিক শক্তির নেতৃত্বে সবাই ঐক্যবদ্ধ হবেন:

১. সবকিছুর উপর জাতীয় স্বার্থ

২. মুক্তিযুদ্ধের চেতনা

৩. জাতি ধর্ম বর্ণ শ্রেণী পেশা নির্বিশেষে সবার একতা, সবার স্বার্থ সংরক্ষণ; সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্নে সবাই ঐক্যবদ্ধ

৪. গণতন্ত্রমনা – দলের প্রতিটি কর্মকাণ্ডে জনগণের মতামত, আশা আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হবে, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে

৫. সকল অন্যায়, অপকর্ম, অত্যাচার, দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান

নাগরিক শক্তির মূলমন্ত্র: “জ্ঞানের আলোয় উন্নত বাংলাদেশ”

নাগরিক শক্তির গ্র্যান্ড ভিশনঃ সারা দেশের ১৬ কোটি বাংলাদেশীকে ঐক্যবদ্ধ করা।

সংগঠন
নাগরিক শক্তিঃ সংগঠন

নাগরিক সমাজ পথ দেখিয়ে দেয়।
কিন্তু স্থায়ী এবং সত্যিকারের পরিবর্তনের জন্য জনগণের মাঝ থেকেই পরিবর্তন আসতে হয়।
বাংলাদেশের ১৬ কোটি জনগণ এবার নাগরিক শক্তির নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হতে প্রস্তুত।

আর আওয়ামী বাংলাদেশ – জাতীয়তাবাদী বাংলাদেশের নামে দেশ বিভক্তি নয়, এবার নাগরিক শক্তির নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ।

বাংলাদেশে গণিত অলিম্পিয়াডের সংস্কৃতি

বাংলাদেশে গণিত অলিম্পিয়াডের সংস্কৃতির সূচনার পর বেশকিছু ব্যাপার আমরা লক্ষ্য করছি।

আমরা লক্ষ্য করছি, অনেকগুলো ছেলেমেয়ে গভীর আগ্রহ নিয়ে গাণিতিক সমস্যা সমাধানে প্রতিদিনের একটা বড় অংশ ব্যয় করে।

স্কুল কলেজে আমরা গণিত বলতে exercise করি – কিছু নির্দিষ্ট ধাপ বা কম্পিউটার বিজ্ঞানের ভাষায় অ্যালগরিদম মেনে চলি মাত্র। কিন্তু গণিত অলিম্পিয়াডের সমস্যাগুলো সমাধানে ধাপগুলো বা অ্যালগরিদমটা নিজেকে দাঁড় করাতে হয়। অন্যকথায়, গণিত সৃষ্টি করতে হয়।

একটা উদাহরণ দেই।

দুটা সংখ্যাকে গুণ করতে আমরা না বুঝেই কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলি – প্রথমে দুটি সংখ্যার সবচেয়ে ডানের অঙ্ক দুটিকে গুণ করি, তারপর হাতে রাখি ইত্যাদি।

কিন্তু গণিত অলিম্পিয়াডের সমস্যাগুলো সমাধানে এই ধাপ বা নিয়মগুলো – কোন ধাপের পর কোন ধাপ হবে – নিজেকে চিন্তা করে বের করতে হয় – অর্থাৎ গণিত সৃষ্টি করতে হয়।

আমরা বলি, স্কুল কলেজে তোমরা exercise কর, আর আমরা গণিত অলিম্পিয়াডে problem solve করি। কাজেই এখনও যারা Problem Solving কর না, আশা করি, তোমরাও দ্রুত আমাদের দলে যোগ দেবে!

যারা Problem Solving করে তাদের অনেক ভাবতে হয়। ভাবতে গিয়ে তাদের “নিউরনে অনুরনন” হয় এবং তারা অনেক ভালভাবে চিন্তা করতে, বিশ্লেষণ করতে শেখে। গণিত অলিম্পিয়াড সূচনার পর একটা প্রজন্ম গড়ে উঠছে যাদের গড় IQ আগের প্রজন্মগুলোর তুলনায় বেশি। নতুন প্রজন্মের এই ছেলেমেয়েরা অনেক ভালভাবে চিন্তা করতে পারে। আমাদের দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দৈনিক এ নিজের ছবি দেখা, বিশ্ব প্রতিযোগিতায় নিজ দেশকে represent করা – অনেক বড় inspirationএই মেধাবী ছেলেমেয়েগুলো যখন দেশ ও সমাজের দায়িত্ব নেবে, তখন আমরা নতুন একটা দেশ গড়ে তুলবো।

আমরা লক্ষ্য করেছি, গণিত অলিম্পিয়াডের অনুষ্ঠানগুলোতে অনেক ভাল ভাল কথা হয়। আলোকিত মানুষ হওয়ার, দেশকে ভালবাসার অনুপ্রেরণা পায় ছেলেমেয়েরা। ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা দেশের গুণী মানুষদের কাছ থেকে দেখার সুযোগ পায়, প্রশ্ন করতে পারে, কথা বলতে পারে এবং এমনকি চাইলে অটোগ্রাফও নিতে পারে!

দুটা চমৎকার ব্যাপারের

  • একটা হল “গণিত শেখো, স্বপ্ন দেখো” থিম – অনেকগুলো ছেলেমেয়ে নিজের জীবন নিয়ে দেশ নিয়ে বড় বড় স্বপ্ন দেখছে এবং তার চেয়েও বড় কথা স্বপ্নগুলোকে বিশ্বাস করছে। বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী দেশের শিশুকিশোর গণিতবিদদের কাছে যে ৩টি স্বপ্নের কথা বলেছিলেন তাদের মাঝে ছিল ২০২২ সালের মধ্যে একজন বাংলাদেশী গনিতবিদের ফিল্ডস মেডল জয় এবং ২০৩০ সালের মধ্যে একজন বাংলাদেশী বিজ্ঞানীর নোবেল পুরষ্কার জয়। আমাদের ক্ষুদে গণিতবিদরাও এই স্বপ্নগুলো বাস্তবায়নে নিজেদের তৈরি করছে। 
  • আরেকটা হল একেবারে ক্লাস থ্রি – ফোরের ছেলেমেয়েরা ড. জাফর ইকবালের ভাষায় “পেন্সিল কামড়ে” অঙ্ক করতে আসে!

আমরা লক্ষ্য করেছি, বাংলা মাধ্যমের বেশ কিছু ছেলেমেয়ে বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আন্ডারগ্রাজুয়েট লেভেল এ পড়ার সুযোগ পেয়েছে। মুন পড়ছে Harvard University তে [1], নাজিয়া MIT তে [2] (তা নাহলে “MIghTy” শব্দটা এভাবে লেখা আমরা কোত্থেকে শিখতাম!), ইশফাক Stanford University তে [3], তানভির Caltech এ [4] (আমাদের শ্রদ্ধেয় প্রফেসর ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল এই বিশ্ববিদ্যালয়ে Post-Doctoral Researcher হিসেবে কর্মরত ছিলেন) [5], সামিন Cambridge University তে [6]।

আগে অ্যামেরিকা, ইউরোপ, এশিয়া বা অস্ট্রেলিয়ার গ্রাজুয়েট স্কুলগুলোতে আমরা এমএস বা পিএইচডি করতে যেতাম। ইংরেজি মাধ্যমের অবস্থাসম্পন্ন ছেলেমেয়েরা পড়তে পারত আন্ডারগ্রাজুয়েট লেভেলে। কিন্তু “বাংলা মাধ্যম” থেকে “স্কলারশিপ নিয়ে” “আন্ডার গ্রাজুয়েট” লেভেলে “বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে” পড়তে যাওয়াটা নতুন!

“বাংলা মাধ্যম” থেকে “স্কলারশিপ নিয়ে” “আন্ডার গ্রাজুয়েট” লেভেলে “বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে” পড়ার পথ দেখানোর কৃতিত্বের একক দাবিদার বাংলাদেশ গণিত দলের কোচ ড. মাহবুব মজুমদার  [7]; যিনি নিজে MIT থেকে Electrical Engineering এ আন্ডারগ্রাড, Stanford University থেকে Civil Engineering এ মাস্টার্স এবং Cambridge University থেকে Theoretical Physics এ PhD করে Imperial College এ [8] Post Doctoral করছিলেন। ২০০৫ সালে বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াডের সাথে সম্পৃক্ত হন এবং স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে দেশে থেকে যান। বিদেশী ও ইঞ্জিনিয়ারিং আন্ডারগ্রাড ডিগ্রি থাকা এবং আরও কিছু হাস্যকর কারণ দেখিয়ে তাকে Dhaka University র Physics Department এ যোগ দিতে দেওয়া হয়নি [9]। তিনি স্বপ্ন দেখেন বাংলাদেশে একটা বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয় এবং গবেষণাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার। তার মত ভাল মানুষ সচরাচর দেখা যায় না। আমরা তার পাশে থাকবো।

১৯০৫ এ আইনস্টাইনের “Miracle Year” [10] স্মরণে ২০০৫ সালের বাংলাদেশ জাতীয় গণিত অলিম্পিয়াডে আইনস্টাইন এবং পদার্থবিজ্ঞানের উপর একটা প্রশ্ন উত্তর পর্ব ছিল। সেখানে কিছু প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলাম। তাই গণিত ক্যাম্পে ড. মাহবুব মজুমদার আগ্রহের সাথে পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে আলোচনা করতেন। মেক্সিকোতে যাওয়ার আগে প্রেস কনফারেন্সে দেখি তিনি স্ট্রিং থিউরি (String Theory) র [11]  একটা জটিল পেপার নিয়ে হাজির!

আরেকটা ব্যাপার লক্ষ্য করার মত। আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে আমাদের সাফল্যের মাত্রা দ্রুত বাড়ছে। আমাদের কিশোর – তরুণ গণিতবিদরা ২০০৬ সালে প্রথমবারের মত অনারেবাল মেনশান, ২০০৯ সালে প্রথমবারের মত ব্রোঞ্জ মেডেল, ২০১২ সালে প্রথমবারের মত সিলভার মেডেল জয় করে এনেছে। আমরা আশা করছি, এই ধারা অব্যাহত রেখে বাংলাদেশ গণিত দল ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াড থেকে গোল্ড মেডেল নিয়ে ফিরবে! গোল্ড মেডেল জয়ী সেই গণিতবিদ হতে পারো তুমিই!

গণিত অলিম্পিয়াড সূচনা এবং সাফল্যের পর বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে অলিম্পিয়াড শুরু হয়েছে।

  • পদার্থবিজ্ঞান অলিম্পিয়াড 
  • রসায়ন অলিম্পিয়াড
  • জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড 
  • প্রাণরসায়ন অলিম্পিয়াড
  • ইনফরমেটিক্স অলিম্পিয়াড 
    • কম্পিউটার প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা। আমাদের স্কুল কলেজের ছেলেমেয়েরা এখন আন্তর্জাতিক প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় মেডেল জয় করে আনছে! ভাবা যায়!  

গণিত অলিম্পিয়াডের এই সংস্কৃতি সম্ভব হয়েছে কিছু তরুণ – তরুণীর স্বেচ্ছা কর্মোদ্যোগে। আমরা তাদের “মুভারস” (MOVERS – Math Olympiad Volunteers) বলে জানি। একটা শুভ উদ্যোগে দেশের তরুণ তরুণীদের উৎসাহী অংশগ্রহণ আমাদের প্রাণশক্তিতে ভরপুর তরুণ প্রজন্মকে সংজ্ঞায়িত করে।

নাগরিক শক্তি গণিত অলিম্পিয়াডের এই সংস্কৃতিকে দেশে আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেবে।

– ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী: তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা; উপাচার্য, ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক; সভাপতি, বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটি।

তরুণ প্রজন্ম এখন নেতৃত্ব নিতে সক্ষম
– ডঃ মুহম্মদ জাফর ইকবাল, বিভাগীয় প্রধান, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

ভর্তি, মান ও দক্ষ জনশক্তি
– ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ: অধ্যাপক, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও ফেলো, বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেস।



তোমাদের জন্য লেখা

আরও কিছু লেখা

বাংলাদেশে বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড

রেফরেন্স

  1. Harvard University
  2. MIT
  3. Stanford University
  4. California Institute Of Technology
  5. Dr. Muhammed Zafar Iqbal
  6. Cambridge University
  7. Dr. Mahbub Majumdar
  8. Imperial College
  9. A painful funny story
  10. Einstein’s Miracle Year
  11. String Theory

নাগরিক শক্তির আত্মপ্রকাশ ঘোষণা

জেনেরাল সেক্রেটারি সাহেব সেক্রেটারিয়েটের মিটিং ডাকবেন এবং সকলের সাথে আলোচনা করে “নাগরিক শক্তি”র আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানের তারিখ নির্দিষ্ট করবেন। আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানের তারিখ ঘোষণার একক ক্ষমতা প্রেসিডেন্ট কর্তৃক জেনেরাল সেক্রেটারি সাহেবের উপর অর্পিত হল। সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করে সম্ভাব্য সবচেয়ে কাছের দিন তারিখ হিসেবে নির্দিষ্ট হবে। নির্দিষ্ট তারিখে আত্মপ্রকাশ ঘোষণা দেওয়া হবে।

মিডিয়াতে এবং জনগণের মনে নাগরিক শক্তির অবস্থান প্রতিটি অতিবাহিত দিনের সাথে দৃঢ় থেকে দৃঢ়তর হবে – সেই লক্ষ্যে পরিকল্পনা।

জেনেরাল সেক্রেটারি সাহেব কো-জেনেরাল সেক্রেটারি সাহেবদের সাথে নিয়ে নাগরিক সমাজ, ব্যবসায়ী সমাজ এবং তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিদের নিয়ে আলোচনা ও মতবিনিময় সভা আয়োজন করবেন।

জনগণ নাগরিক শক্তির সেক্রেটারিয়েটের সক্রিয়তা দেখতে চায়। ব্যক্তিগত উদ্যোগেই হোক আর সম্মিলিতভাবে হোক জনগণের সামনে আসতে হবে।
নির্বাচনকালীন সহিংসতায় প্রায় দেড় শতাধিক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। সনাতনী ধর্মাবলম্বীদের উপর হামলা হয়েছে। দেশের মানুষের বড় চাওয়া জানমালের নিরাপত্তা। নাগরিক শক্তি এই লক্ষ্যে কাজ করবে। প্রথম ধাপ হবে নাগরিক শক্তির সাথে যুক্ত সকল ব্যক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

পরবর্তীতে নাগরিক শক্তির সম্পূর্ণ লিডারশীপ বড় কলেবরে জনগণের সামনে আসবেন।

কর্মসূচী ঘোষণা 

আমাদের প্রতিটি কর্মসূচী (মাদক বিরোধী, যৌতুক বিরোধী, দুর্নীতি বিরোধী) জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষা, চাওয়া পাওয়াকে ধারণ করবে। তবেই জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ থাকবে।

কর্মসূচীর মাধ্যমে জনগণের দাবি দাওয়া আদায় করে নিতে হবে।

বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা


গণতন্ত্র চর্চার অংশ হিসেবে নাগরিক শক্তি শক্তিশালী  বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে।
আমরা বিএনপি-জামায়াতের দেড় শতাধিক খুনের জনসম্পৃক্তহীন আন্দোলন দেখতে চাই না। আমরা দেখতে চাই, সকল অন্যায় অবিচার দুর্নীতি অনিয়মের বিরুদ্ধে লক্ষ লক্ষ প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর।

সরকারের ভুল ত্রুটি ধরিয়ে দিয়ে, জনগণকে অবহিত করে সরকারকে সঠিক পথে রাখতে হবে।

আত্মপ্রকাশ ঘোষণা অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য সূচি 

(কিছু অংশ পরবর্তীতে লিডারশীপ পরিচিতি অনুষ্ঠানে থাকবে)

  • মুক্তিযোদ্ধারা বাংলাদেশ নিয়ে তাদের স্বপ্নের কথা তুলে ধরবেন।
  • বিভিন্ন শ্রেণী পেশা (অন্যান্যদের মধ্যে একজন কৃষক, একজন গার্মেন্টস কর্মী, একজন রিকশা চালক থাকবেন) বিভিন্ন জাতি (পাহাড়ি) ধর্মের মানুষ তাদের প্রত্যাশা, আশা আকাঙ্খার কথা তুলে ধরবেন। (নাগরিক শক্তি জনগণের দল।)
  • একজন তরুণ ব্লগার একজন মাদ্রাসা ছাত্রকে ব্লগ লেখা শিখিয়ে দেবেন এবং মাদ্রাসা ছাত্র ইসলাম কিভাবে আমাদের পথ প্রদর্শক হতে পারে তা নিয়ে একটি ব্লগ পাবলিশ করবেন। আমাদের চিন্তা ভাবনা, মূল্যবোধ, ধ্যান – ধারণায় পার্থক্য থাকতে পারে – কিন্তু একসাথে বসে আলোচনা করলে আমাদের মাঝের দূরত্বটুকু দূর হয়ে যায়।
  • কয়েকজন তরুণ দেশ নিয়ে তাদের স্বপ্ন, আশা আকাঙ্খা প্রত্যাশা তুলে ধরবেন। 
  • বাংলাদেশের মানুষ পরিকল্পনাবিহীন অপরাজনীতি দেখে অভ্যস্ত। জনগণ জানে না সুপরিকল্পিত সুশাসন দেশকে কোথায় নিয়ে যেতে পারে। বাংলাদেশ সঠিকভাবে পরিচালিত হলে স্বপ্নের বাংলাদেশ কেমন হবে তার এবং সেই স্বপ্নের বাংলাদেশে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের জীবনের একটা চিত্র জনগণের সামনে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তুলে ধরে জনগণকে সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্নে উজ্জীবিত করা হবে। দৃঢ়তার সাথে জনগণকে জানানো হবে স্বপ্নের বাংলাদেশের লক্ষ্যে পরিবর্তন এবারই আসছে।
  • জাতি ধর্ম বর্ণ শ্রেণী পেশা নির্বিশেষে কারও উপর যাতে কখনও অন্যায় না হয়, জনগণকে এলাকায় এলাকায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে তা নিশ্চিত করতে আহ্বান জানান হবে এবং দলটি এক্ষেত্রে জনগণের পাশে থাকবে।
  • নাগরিক শক্তি জনগণের দল। জনগণ সব ধরণের মাধ্যম (ওয়েব, সেল ফোন, ইমেইল ইত্যাদি) ব্যবহার করে যাতে দলটির কাছে প্রত্যাশা, মতামত, আশা আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরতে পারে সে লক্ষ্যে বাবস্থা।
  • কয়েকটি দল বিলুপ্ত ঘোষণা করে স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে সকলে মিলে নাগরিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে – ট্রাঞ্জিশানটা স্মুথ হবে – সবাইকে নাগরিক শক্তির অংশ করে নেওয়া। প্রত্যেক দলের দলীয় প্রধান ঘোষণা দেবেন।
  • প্রশ্ন উত্তর পর্ব। 
  • ওয়েবে আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচারিত হবে।
  • স্থানীয় পর্যায়ে আয়োজন। লাইভ টেলিকাস্টিং। কেন্দ্রীয়ভাবে আত্মপ্রকাশ ঘোষণার সাথে সাথে স্থানীয় আয়োজন শুরু হবে।   
  • মেম্বারশিপ ফর্ম (সেল ফোন, ওয়েব, কাগজ – সুনাগরিক হিসেবে দেশের জন্য কি ভূমিকা রাখতে চান, দলীয় সদস্য হিসেবে কোন কোন ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে চান – তা লিখবেন।)
  • জনগণকে প্রতিটি কর্মকাণ্ডে যত বেশি সম্পৃক্ত করা যাবে – জনগণের সাথে দলটির তত বেশি আবেগের সম্পর্ক গড়ে উঠবে।
  • নাগরিক শক্তির অনলাইন প্রেসেন্স
  • মিনি বুকলেট – নাগরিক শক্তি সম্পর্কিত সব লেখার সংকলন।
  • দলটা আমাদের সবার। সবার মতামতের ভিত্তিতেই পরিচালিত হবে দল এবং দেশ। স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে উঠবে তারুণ্যের শক্তিতে। তরুণদের জন্য প্ল্যাটফর্ম গড়ে দেওয়া হবে যাতে তারা বিভিন্ন কল্যাণমুখী, উদ্ভাবনী উদ্যোগ নিতে পারে। তরুণ তরুণীরা সবচেয়ে বেশি উৎসাহ নিয়ে কাজ করবে। টীম গড়ে তুলতে হবে। সবাই একসাথে বসে মিটিং এর পাশাপাশি ভার্চুয়ালি একসাথে কাজ করতে পারে, সাজেশান দিতে পারে, যোগাযোগ দিতে পারে সে লক্ষ্যে বাবস্থা – ফেইসবুক গ্রুপ। তরুণতরুণীদের মাঝ থেকেই ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে উঠবে। নাগরিক শক্তির সুষ্ঠু এবং কল্যাণমুখী রাজনীতির চর্চা তরুণ তরুণীদের রাজনীতিতে আগ্রহী করবে। 

বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুনগত পরিবর্তনের গল্প – ১ [আমি রাজনীতিতে কিভাবে – ২]

১.

৯১ এর নির্বাচনের সময় আমি ছিলাম অনেক ছোট – রীতিমত ৪ বছরের বাচ্চা ছেলে!খুব একটা না বুঝলেও এটুকু বুঝতাম আমি ধানের শিষের সাপোরটার। আর মামা ছিলেন নৌকার সাপোরটার। আমাকে মজা করে বলতেন, ধানের শীষ ডুবে যাবে।

শেষ পর্যন্ত অবশ্য মামার নৌকাই ডুবল!

মানুষ কারও না কারও পক্ষে ভোট দেয় এবং ভোট যার পক্ষে বেশি পড়ে সে জিতে – ইলেকশান কিভাবে হয় এটা চিন্তা করে বুঝেছিলাম আরও কিছুদিন পরে। আব্বুকে জিজ্ঞেস করে জেনে নিয়েছিলাম আমার ধারণা ঠিক কিনা।

মাঝখানে ৪ বছর সৌদি আরবে কাটিয়ে ‘৯৭ এর ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আসি।

পত্রিকা খুললেই চোখে পড়ত আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসের খবর – এক এক নেতা এক এক এলাকায় (নারায়ণগঞ্জ, ফেনী, লক্ষ্মীপুর) সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। আবার কারও কারও ব্যাংক থেকে ঋণ খেলাপির খবর। #TowardsCrimeFreeBangladesh  #StopDrugTrafficking

২০০১ এর সময় আমি পড়তাম ক্লাস নাইনে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পুরো সময়টা ভালমত ফলো করলাম। নির্বাচন ও হল।

এরপর থেকে পত্রিকা খুললেই দেখি দুর্নীতি আর অনিয়মের খবর। যোগ্য ব্যক্তিরা সরকারে মূল্যায়ন পেলেন না।  #SayNoToCorruption

বুঝলাম, এভাবে দেশ চলতে পারে না। পরিবর্তন আসতেই হবে।

২.

২০০৩ সাল থেকে অধ্যাপক ডাঃ বদরুদ্দোজা চৌধুরী এবং ডঃ কামাল হোসেন পরিবর্তনের কথা বললেন।

বিকল্প ধারা আর গণফোরামের খবরগুলো পত্রিকাতে খুঁজে বের করতাম। কী গভীরভাবে চাইতাম বাংলাদেশের “পচা” রাজনীতিতে গুনগত পরিবর্তন আসুক!

দুই নেতার নেতৃত্বাধীন দুই দল মিলে সারা দেশে জনগণের বক্তব্য শোনার অনুষ্ঠানের আয়োজন করলেন। চমৎকার একটা ব্যাপার। এখনকার মত এত চ্যানেল, এত অনুষ্ঠান তখন ছিল না। কাজেই রাজনৈতিক সমাবেশে সাধারণত নেতাদের বক্তব্য শুনেই ফিরে যেতে হয়। এমন একটা সময়ে এই ধরণের অনুষ্ঠান প্রশংসনীয়। চট্টগ্রামের অনুষ্ঠানে আমিও গিয়েছিলাম – জীবনে প্রথমবারের মত কোন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে!

মানুষ নিজের চাওয়া পাওয়া জানাতে চায়। আগ্রহ নিয়ে তাদের কথা শুনলে তারা কত খুশি হয়!

বিএনপি সরকারের কর্মীরা এসব অনুষ্ঠানে ডিম ছুড়ে মারাসহ ব্যাপকভাবে দমন চালিয়ে দুই দলের যে সম্ভাবনা ছিল তাকে থামিয়ে দিল।

৩.

২০০৭ সালে নোবেল বিজয়ী প্রফেসর ডঃ মুহম্মদ ইউনুস পরিবর্তনের ডাক দিলেন।

একটা রাজনৈতিক দল গঠন করবেন। মিডিয়ার মাধ্যমে পরিকল্পনা জানিয়ে জনগণের মতামত চাইলেন।

এবার আশা ছিল, পরিবর্তন আসবেই। পরিছন্ন ভাবমূর্তি, প্রশ্নাতীত সততা, মেধা, প্রশাসনিক দক্ষতা, নাগরিক সমাজের একটা বড় অংশের সমর্থন, গ্রামীণ ব্যাংকের সারাদেশে লক্ষ লক্ষ গ্রাহকের মাধ্যমে গ্রামে গ্রামে পরিচিতি, তরুণ প্রজন্মের আইডল – বাংলাদেশের একমাত্র নোবেল পুরস্কার বিজয়ী।

কিন্তু এবারও আগের কাহিনী – আরও ব্যাপকভাবে।

বিকল্প ধারা – গণফোরামের উপর বিএনপি এককভাবে দমন চালিয়েছিল। ২০০৬ তে অধ্যাপক ডাঃ বদরুদ্দোজা চৌধুরী এবং কর্নেল (অবঃ) ডঃ অলি আহমেদ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি গঠনের পরপরও বিএনপি দ্রুত দমনের পথে গিয়েছিল। আরও আগে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী আলাদা হওয়ার পর আওয়ামী লীগ দমন (খুনসহ) চালিয়েছিল।

এবার দুই দল সম্মিলিতভাবে তাদের সুবিধাভোগী গোষ্ঠীকে সাথে নিয়ে দমনের পথে গেল। মিথ্যা এবং আপত্তিকর নানা শব্দও  ব্যবহার করল (যেমন “ঘুষখোর”; যিনি সামাজিক ব্যবসা নামে এমন ব্যবসা চালু করেছেন যেখান থেকে মালিক শুধুমাত্র প্রাথমিক বিনিয়োগ তুলে নেওয়া ছাড়া কোন লভ্যাংশ নেবেন না, যার প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংকের ৯৭ শতাংশ মালিকানা গরিব মহিলাদের হাতে এমন আদর্শ ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা চালানোর জন্য এসব শব্দ!)।  

বাংলাদেশের তরুণ সমাজ যে পরিবর্তন চাইছিল ২০০৭ এও তা অঙ্কুরেই বিনষ্ট হল।

৪.

এরপর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় প্রশংসনীয় নানা উদ্যোগে সুন্দর বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখা শুরু করলাম।

এমন একটা দেশ – সারাদেশের মানুষের কোন জাতীয় পরিচয়পত্র, ডেটাবেইসে সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেই! ছবিযুক্ত ভোটার আইডি কার্ডের মাধ্যমে আমরা তা পেলাম।

বিচার বিভাগেও প্রয়োজনীয় সংস্কার এল।

শক্তিশালী নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি বাংলাদেশের অনেকদিনের অভাব একটা শক্তিশালী দুর্নীতি দমন কমিশনও পেলাম।

দুর্নীতিবাজ নেতাদের গ্রেপ্তার দেখে স্বস্তি ফিরে এলো। বাংলাদেশের জনগণের মাঝে অনেক জনপ্রিয়তা পেলো।

দুর্নীতিতে বিশ্বসেরার খেতাব জেতা বাংলাদেশে একটা নতুন যুগের সূচনা হল বলে বাংলাদেশের জনগণ আশা করল।

৫.

এরপর ২০০৮ এর নির্বাচন। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলো।

নতুন মন্ত্রিসভার পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির অনেকে প্রশংসা করলেন। প্রথম ১ বছরে মনে হল, ছাত্রলীগ আর যুবলীগের টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দুর্নীতিবাজদের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে যে পরিবর্তনের আশা দেখেছিলাম তা দীর্ঘস্থায়ী হবে। এসময়কার সার্ভেই ও তাই বলে – প্রথম বছরে আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা বেড়ে গিয়েছিল।

এরপরই আমাদের সামনে প্রকাশিত হওয়া শুরু করল দুর্নীতি, সন্ত্রাস আর অনিয়মের মহোৎসবের খবর। বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিবর্তনের যে আশা করেছিলাম – এবার সে আশায় গুড়ে বালি – কয়েক বছরের জন্য হলেও।

৬.

অবশেষে ২০১৩ সালের শেষ তিন মাসে আমরা বাংলাদেশের রাজনীতিতে সত্যি সত্যিই নতুন সূর্যের উদয়ের পথে এগুনোর লক্ষ্যে একত্রিত হলাম। অন্যায় অবিচার দুর্নীতি মুক্ত একটা সুখী, সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন আমাদের একত্রিত করল।

পরবর্তী: সম্মিলিতভাবে সবাই জনগণের সামনে আসবেন।

এবার আমরা জনগনকে সাথে নিয়েই সামনে আসবো। কারণ আমরা জানি, জনগণের ঐক্যের শক্তিই সবচেয়ে বড় শক্তি।

আরও

নাগরিক শক্তির ইলেকশান ক্যাম্পেইন স্ট্রাটেজি

নাগরিক শক্তি নির্বাচনী ক্যাম্পেইন পরিকল্পনায় গতানুগতিকতা থেকে বেরিয়ে এসে সৃজনশীলতা দেখাবে।

নাগরিক শক্তির ইলেকশান মটো – “আমরা করবো জয়”।

স্পিরিটেড নেইশান (Spirited Nation) গড়ে তোলা হবে।
স্বপ্নের বাংলাদেশ। সবাই একসাথে কাজ করতে পছন্দ করে – জনগণের ঐক্য। আর আওয়ামী বাংলাদেশ – জাতীয়তাবাদী বাংলাদেশের নামে দেশ বিভক্তি নয়, এবার নাগরিক শক্তির নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ।

প্রতি নির্বাচনী এলাকায় কোন সামাজিক উদ্যোগ যাতে এলাকার জনগণ লাভবান হয়।

প্রতি নির্বাচনী এলাকায় জনগণের মাঝে নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা। [1] যেসব ভোট প্রতিদ্বন্দ্বীরা পেতে পারে নেটওয়ার্ক গড়ে তুলে সেসব জয় করা – জনগণের মাধ্যমে জনগণের কাছে পৌঁছানো।

জনগণের সমস্যাগুলো বোঝার চেষ্টা করা। দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়কে অবহিত করা। জনসভার একটা অংশ থাকবে জনগণের মতামত নেওয়ার জন্য।

সার্ভেই। পোলিং। সেলফোন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।

যেসব নির্বাচনী এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে সেসব এলাকায় ফোকাস করা।

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এবং তার শক্তি – দুর্বলতা অ্যানালাইসিস করা।

নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হলে কালো টাকার প্রভাব থাকবে না। কালো টাকা ব্যবহার করলে প্রার্থিতা বাতিল হবে। জনগণকে সাথে নিয়ে মাস্তান বাহিনীকে প্রতিরোধ করা হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হবে। এভাবে পেশি শক্তির প্রভাবও চলে যাবে। প্রতিটি জনগণ স্বাধীনভাবে ভোটের অধিকার ফিরে পাবে।

সবরকম মিডিয়া ব্যবহার করে জনগণের কাছে পৌঁছানো।

পুরো দেশকে কয়েকটি নির্বাচনী এলাকায় ভাগ করে প্রতি এলাকার জন্য “নির্বাচন পরিচালনা কমিটি” গঠন।

জরিপ করে জনগণের মন, জনগণের আশাআকাঙ্ক্ষা বোঝার উদ্যোগ নেওয়া হবে – কারা “ক” দলকে ভোট দেবেন? কি কি কারণে? কারা “খ” দলকে ভোট দেবেন? কি কি কারণে? (এসব ভোট কিভাবে নিজেদের পক্ষে আনা যায়?) অতীতে কোনবার কোন দল বা প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন? কেন? ভিন্ন দলকে ভোট দিলে সমর্থন পালটানোর কারণ কি? এলাকার উন্নয়নে কি কি দেখতে চান? কি কি সমস্যার সমাধান চান? (প্রার্থী হিসেবে কাল টাকার মালিক থাকলে তিনি কিভাবে নির্বাচনকে প্রভাবান্বিত করতে পারেন? কতটা?)

এরপর কেন্দ্রীয় ভাবে ডেটা – স্ট্যাটিস্টিক্যাল অ্যানালাইসিস। ভোটারদের বিভিন্ন সেগমেন্টে ভাগ করে ফেলা – এই এই বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন ভোটাররা এই দল / প্রার্থীকে পছন্দ করছেন।

জনগণের গঠনমূলক সমালোচনাকে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে গ্রহণ করে প্রার্থীরা নিজেদের ভুলভ্রান্তি দূর করে কর্মকাণ্ড আরও উন্নততর করার কাজে ব্যবহার করবেন।

প্রতিটি নির্বাচনী সভায় জনগণকে তাদের আশা আকাঙ্ক্ষা প্রত্যাশার কথা বলার সুযোগ দেওয়া হবে। আধুনিক প্রযুক্তি যেমন ভিডিও চিত্রের (বিভিন্ন এলাকার জন্য উপযোগী করে প্রয়োজনে স্থানীয় ভাষায়) মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নে জনগণ উজ্জীবিত হবে।

আধুনিক যোগাযোগ মাধ্যম যেমন ভিডিও কনফারেন্সিং, ইন্টারনেট ভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, মোবাইল প্রযুক্তির ব্যবহার করা হবে।

সবাইকে নিয়ে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এলাকার প্রতিষ্ঠিত বেক্তিরা এগিয়ে আসবেন, বাবসায়িরা সামাজিক এন্টারপ্রাইস প্রতিষ্ঠা করবেন। এলাকার জনগণ একতাবদ্ধ হয়ে নিজেরা নিজেদের সমস্যা সমাধান করবেন।

এভাবে রাজনীতিতে মেধার প্রয়োগ দেখিয়ে নাগরিক শক্তি দেশে নতুন রাজনীতির শুভ সূচনা করবে।

বড় দলগুলো অর্থ দিয়ে মনোনয়ন বিক্রি করে। মনোনয়ন প্রত্যাশীরা অর্থ দিয়ে মনোনয়ন বাণিজ্যের নিলাম হাট থেকে মনোনয়ন কেনেন। কালো টাকা, পেশি শক্তির প্রভাব হয়ে ওঠে যোগ্যতা নির্ধারণের মাপকাঠি।

নাগরিক শক্তি মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে জনপ্রিয়তা, যোগ্যতা, মেধা, সততা, অভিজ্ঞতা, এলাকার উন্নয়ন কাকে দিয়ে হবে – এসব বিষয় বিবেচনায় নেবে। তৃনমূল থেকে প্রার্থীদের নাম প্রস্তাবের আহ্বান জানানো হবে এবং কেন্দ্রিয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একাধিক প্রার্থী প্রায় সমান যোগ্যতা সম্পন্ন হলে সার্ভেই করে দেখা হবে জনগণ কাকে চান।

ফান্ড রেইজিং এর মাধ্যমে যে অর্থ রেইজড হবে তা শুধু মাত্র প্রার্থীদের ইলেকশান ক্যাম্পেইনে বায় করা হবে। প্রতিটি পয়সা খরচের হিসাবও রাখা হবে। স্বচ্ছতা কেন্দ্রিয়ভাবে মনিটারিং করা হবে এবং কারও বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হলে দল থেকে বহিষ্কারসহ কঠোর বাবস্থা নেওয়া হবে।


আরও

রেফরেন্স

নাগরিক শক্তির আত্মপ্রকাশ ঘোষণা অনুষ্ঠান

জেনেরাল সেক্রেটারি, কো-জেনেরাল সেক্রেটারি, সিনিয়র জয়েন্ট জেনেরাল সেক্রেটারি এবং জয়েন্ট জেনেরাল সেক্রেটারির দায়িত্বে যারা আছেন সবাই একত্রিতভাবে নাগরিক শক্তির আত্মপ্রকাশ ঘোষণা অনুষ্ঠান আয়োজনের দায়িত্ব নেবেন। এই লক্ষ্যে সবাইকে নিয়ে একসাথে বসা দরকার। জেনেরাল সেক্রেটারি সাহেব সেক্রেটারিয়েটের সবাইকে এক টেবলে আনার উদ্যোগ নেবেন।

আত্মপ্রকাশ ঘোষণা অনুষ্ঠানে

  • জনগণের ভোটের অধিকার রক্ষায় নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে এবং
  • হরতাল – অবরোধ, জ্বালাও – পোড়াও, সংখ্যালঘু নির্যাতন, ব্যবসাবাণিজ্য এবং শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস সহ সবরকম ধ্বংসাত্মক কর্মসূচী বন্ধ করে শান্তির পক্ষে 

রাজধানী ঢাকায় কর্মসূচী ঘোষণা। জনগণ অহিংসভাবে অধিকার আদায় করে বাড়িতে ফিরবে।

মটো – “আমরা করবো জয়”

“আর নয় ধ্বংসের গান,

জনতার ঐকতান,

সৃষ্টির সুরে হবে গান একদিন।

আমরা মানি নাকো বাঁধা বন্ধন।

সাম্যের সত্যের জয় একদিন।

একদিন সূর্যের ভোর,

একদিন স্বপ্নের ভোর,

একদিন সত্যের ভোর আসবে।

পৃথিবীর মাটি হবে মধুময়,

বাতাস হবে মধুময়,

আকাশ হবে মধুময় একদিন।

বুকের গভীরে আছে প্রত্যয়,

আমরা করবো জয়।”

ঘোষণা অনুষ্ঠান এবং কর্মসূচীর পরিকল্পনা একসাথে চলবে।

দুটি দাবির পক্ষে সারাদেশে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ অভিযান এবং জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করার কাজ শুরু করতে হবে।

জনগণকে আন্দোলনে আনার জন্য emotion arouse করতে হবে। আন্দোলনের থিমটার সাথে যারা একাত্মতা প্রকাশ করে তারাই আবেগ দিয়ে আন্দোলন গড়ে তুলবে। গণজাগরণের আন্দোলন গড়ে উঠেছিল তরুণদের মাঝে “মুক্তিযুদ্ধের আবেগ এবং মুক্তিযুদ্ধকালীন গণহত্যার উপর ঘৃণা”কে কেন্দ্র করে।হেফাজতের আন্দোলন গড়ে উঠেছিল “নাস্তিক্যবাদের বিরুদ্ধে ইসলাম রক্ষার আবেগ”কে কাজে লাগিয়ে। দেশ এখন যে পর্যায়ে – গীতা সেনরাও আন্দোলনে নামবে। সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হওয়া, সুন্দর জীবনের স্বপ্ন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ, “আমরা করবো জয়”, “বাংলাদেশ রুখে দাঁড়াও” সবার আবেগকে নাড়া দেবে।

শেয়ারবাজারে কতিপয় দুর্নীতিবাজের কারসাজির কাছে সর্বস্ব হারানো ৩০ লক্ষের অধিক বিনিয়োগকারির অধিকার রক্ষায় নাগরিক শক্তি আন্দোলন গড়ে তুলবে এবং আইনের আশ্রয় নেবে।

সাগর রুনি হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতেও আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। বিচার না হলে আরেকজন সাগর কিংবা আরেকজন রুনিকে প্রাণ দিতে হবে।

গণতন্ত্র চর্চার অংশ হিসেবে আমাদের বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা পালন করতে হবে। সরকারের ভুল ত্রুটিগুলো জনগণের সামনে তুলে ধরে সরকারকে সঠিক পথে রাখতে হবে, জনগণের ন্যায্য দাবিদাওয়া আদায় করতে হবে।