বিশ্ব রেকর্ড গড়ে জাতীয় ঐক্য

ঘড়ির কাঁটায় তখন একটা ৩৫ মিনিট। জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে ঠায় দাঁড়িয়ে ২৭ হাজার ১১৭ জন। সবার হাতে একখণ্ড করে বাংলাদেশ। চারদিকে সবুজ আর মাঝখানটায় লাল। গতকাল সোমবার এই মানুষগুলো আর লাল-সবুজ মিলেমিশে রূপ নিল একটি জাতীয় পতাকায়। 

বাংলাদেশের বিজয় দিবসকে স্মরণ করে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানব জাতীয় পতাকা নির্মাণের লক্ষ্যে সেনাবাহিনীর সহায়তায় এই আয়োজন করেছিল রবি আজিয়াটা। 

বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানব পতাকা গড়ে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে স্থান করে নিয়েছে বাংলাদেশ। আজ শনিবার গিনেস বুক কর্তৃপক্ষ এই অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে গত বছর করা পাকিস্তানের জাতীয় মানব পতাকার রেকর্ড আনুষ্ঠানিকভাবে ভেঙে দিল বাংলাদেশ।

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৩ লাখের বেশি বাঙালি এক সময়ে একসঙ্গে গাইলেন তাদের প্রাণের জাতীয় সংগীত। যেনো এতো আবেগ আর এতো সুর আগে কখনও দেখেনি বিশ্ববাসী।

১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের ৪৩তম বিজয় দিবসে সোমবার বিকেল ৪টা ৩১ মিনিটে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমবেত মানুষেরা একসঙ্গে পরম আবেগে সমবেত কণ্ঠে গেয়ে উঠলেন- ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি।’

বিশ্ব রেকর্ডে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত

বিজয় ৪:৩১

বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানব পতাকা তৈরির পর এবার একসঙ্গে সর্বাধিক কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে গিনেস বুকে নাম ওঠানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

আগামী ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের উদ্যোগে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে এই আয়োজন করা হবে।

গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর সবচেয়ে বড় মানব পতাকা তৈরির উদ্যোগেও সহযোগিতা করেছিল সশস্ত্র বাহিনী।
বৃহস্পতিবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ২৬ মার্চ সর্বাধিক গণজামায়েতে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে বাংলাদেশের নাম সংযোজনের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানটি আয়োজনে বৃহস্পতিবার সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের সভাপতিত্বে ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে সমন্বয় সভা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, আনসার বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিজিএমইএর সভাপতি, বিকেএমইএ ও বিটিএমএর প্রতিনিধিরাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।

বিজয় দিবসে শেরেবাংলা নগরের প্যারেড গ্রাউন্ডে লাল-সবুজ বোর্ড মাথার ওপর তুলে ধরে ২৭ হাজার ১১৭ জন কিশোর-তরুণ অংশ নেন। ওই উদ্যোগে সহযোগিতা করেছিল মোবাইল ফোন অপারেটর রবি।

জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে বিশ্ব রেকর্ডের উদ্যোগ

লক্ষ লক্ষ মানুষ এক হয়ে যখন জাতীয় সঙ্গীত গাইবে তখন দেশের প্রতি সবার ভালবাসা মমত্ববোধ বাড়বে এবং লক্ষ লক্ষ মানুষের মাঝে ঐক্য, হৃদ্যতার বন্ধন গড়ে উঠবে। বিশ্ব রেকর্ডের মাধ্যমে সারা পৃথিবীর কাছে আমাদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে। তারা আমাদের সাথে বাণিজ্য সম্প্রসারণে আগ্রহী হবে। আর লক্ষ লক্ষ মানুষের ঐক্যের মাধ্যমেই আমরা দেশ থেকে সকল অন্যায় অপরাধ দুর্নীতি সমূলে উৎপাটন করে সুখী সমৃদ্ধ স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তুলবো। প্রকৃতপক্ষে রাজনীতিবিদরা দেশের মানুষকে দুইটি দলে ভাগ করে বিভেদ তৈরি করে নিজেরা অন্যায় অপরাধ দুর্নীতি করছে। এর বিরুদ্ধে চাই তৈরি করে দেওয়া মিথ্যে বিভেদ ভুলে লক্ষ কোটি মানুষের ঐক্য। এসব অনুষ্ঠান সেই ঐক্যের পথে এক একটি ধাপ।

ইচ্ছা পূরণের গল্প আবেগের গল্প

ইচ্ছা পূরণের একটা সত্যি সত্যি গল্প শোনাই। আজকে দুপুরে নামাজ পরে প্রথম আলোর মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধী নিয়ে বিশেষ সংখ্যাটা খুঁজছিলাম। পেলাম না। একটু পর ঠিক করলাম Barack Obama র Change we can believe in অথবা Dreams from my father বই দুইটার একটা কিনতে কেয়ারিতে যাব। কেয়ারির সামনে গিয়ে আবিষ্কার করলাম আজকে বিজয় দিবস। কাজেই শুধু কেয়ারি না, সব বই এর দোকানই বন্ধ। যাই হোক, আজকে যেহেতু বিজয় দিবস – ভাবলাম, একটা পতাকা কিনে গাড়িতে ওড়াবো। দেখা গেল, পতাকাও কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না।আর তারপরই শুরু হল ইচ্ছাপূরণ।

১।  লালদীঘিতে দেখলাম আজকে স্বাধীনতার বইমেলা হচ্ছে। তবে সব বাংলা বই। কাজেই যে বই খুঁজছিলাম তা পাওয়া যাবে না। যাই হোক, বই দেখার ইচ্ছাটা তো পূরন হল!

২। খালামনির বাসা থেকে ফেরার পর দেখা গেল, আমি ওয়ালেট, চাবি ফেলে এসেছি কাজেই একটা রিকশা নিলাম। রিকশায় দেখলাম বাংলাদেশের পতাকা উড়ছে আমার আরও একটা ইচ্ছা পূরন হল!

৩। এরপর জেবু আপুর বাসায় ঢুকেই দেখি বিছানায় প্রথম আলো পরে আছে। মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে বিচারপতি হাবিবুর রাহমান আর ড. শাহদীন মালিকের লেখা পড়া হল। সেই সাথে পূরন হল আমার আরও একটা ইচ্ছা!
(১৬/১২/১২ তে লেখা)