আজকের উপলব্ধিতে বাংলাদেশ [১৬.০১.১৫]

রাজনীতি – দেশজুড়ে

#SayNoToCorruption

 

তারেকের অর্থ যোগানদাতারা চিহ্নিত

তারেককে ফেরত পাঠাতে যুক্তরাজ্যে চিঠি

 

 

অনেকে পেছনে আছেন, আমি সামনে এসেছি। অপেক্ষা করেন, চমক দেখতে পাবেন।  কৌশলগত কারণেই এখন সব বলা যাচ্ছে না।”

 

 

6cc7007aa9bc0bbe48ccc364819d7115-round

“একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরামর্শ দেন অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ
অধ্যাপিকা দিলারা চৌধুরী বলেন, ‘সেনাবাহিনী দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা রক্ষা করতে প্রস্তুত। … সবার অংশগ্রহণমূলক একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন ভীষণ জরুরি।

সাংবাদিক সাদেক খান বলেন, ‘বাংলাদেশের এখনকার সমস্যা রাষ্ট্র গঠন নিয়ে। এটি এখন গণতন্ত্রও না, প্রজাতন্ত্রও না। অনির্বাচিত একতন্ত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। ’

সাংবাদিক শওকত মাহমুদ বলেন, “বর্তমান সরকার যখন-তখন মানুষকে গুম, খুন ও গুলি করে মারছে। ’
গোলটেবিল আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা আশরাফ উদ্দিন। সঞ্চালনা করেন সিএনএসের চেয়ারম্যান ফাতেমা আনোয়ার।”

 

 

সারাদেশের খবর

 

International Relations – Foreign Policy – Diplomacy

41f6aba0ed75c664d8edcde01478f1b8-28

আজকের উপলব্ধিতে বাংলাদেশ (১৫.৫.২০১৪)

"মাদকমুক্ত বাংলাদেশ" গড়ার পথে অগ্রযাত্রা – ৪

দেশবাসীর সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশকে মাদকমুক্ত করবো।“মাদকমুক্ত বাংলাদেশ” হোক আমাদের শ্লোগান।

 
 


 

‘মাদকমুক্ত নবীনগর চাই’ স্লোগান সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় দীর্ঘ ১৯ কিলোমিটার দীর্ঘ মানববন্ধন

 
 
 

 

“‘মাদকমুক্ত নবীনগর চাই’ স্লোগান সামনে রেখে গতকাল শনিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় দীর্ঘ ১৯ কিলোমিটার দীর্ঘ মানববন্ধন হয়েছে৷

 
কর্মসূচির সমন্বয়ক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘তিন-চার মাস ধরে নবীনগরে চাঁদাবাজি, বিভিন্ন বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, সন্ত্রাসীদের গুলিতে খুনসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যে অবনতি হয়েছে, তার পেছনে মাদক একটি বড় ভূমিকা রাখছে। সে জন্য নবীনগরকে মাদকমুক্ত রাখতে ও মাদককে সমস্বরে “না” বলতে প্রশাসনসহ সব মহলের সহযোগিতায় মাদকবিরোধী আমাদের এ ব্যতিক্রমী আয়োজন।’
 
স্থানীয় সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘মনন’ ও ‘নবীনগর যুব ফোরাম’ যৌথভাবে এর আয়োজন করে। 

 
নবীনগর-কুমিল্লা সড়কের মালাই বাঙ্গরা বাজার থেকে উপজেলার পশ্চিম ইউনিয়নের নবীপুর বাজার পর্যন্ত প্রায় ১৯ কিলোমিটার সড়কে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত মাদকবিরোধী মানববন্ধনে ওই সড়ক সংলগ্ন অর্ধশতাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ-মাদ্রাসার কয়েক হাজার শিক্ষার্থীসহ পথচারী ও নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ অংশ নেন।
এ সময় উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন সরকার, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মোছেনা বেগমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। পরে অতিথিরা প্রায় দুই ঘণ্টা একটি খোলা ট্রাকে চড়ে দীর্ঘ ১৯ কিলোমিটার সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। এ সময় ওই সড়কের দুই পাশে শিক্ষার্থীরা ‘মাদককে না বলুন’ ও ‘মাদকমুক্ত নবীনগর চাই’ স্লোগান দেয়।
বাঙ্গরা বাজারে মানববন্ধনে অংশ নেওয়া চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী চামেলি বলে, ‘মাদককে “না” বলতে এবং নবীনগরকে মাদকমুক্ত রাখতে স্কুলের স্যারদের কথায় এই প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও মানববন্ধনে অংশ নিতে এসেছি। আমরা মাদকমুক্ত সমাজ দেখতে চাই।’” [2]
 
 
“মাদকমুক্ত বাংলাদেশ” গড়ার পথে গত কয়েকদিনে অগ্রগতি
 
 
 

জনগণের প্রতি আহ্বান

 
স্থানীয়ভাবে জনগণ বিভিন্ন ইস্যু (যেমন মাদকবিরোধী, যৌতুক বিরোধী, দুর্নীতি বিরোধী) তে “নাগরিক আন্দোলন” গড়ে তুলবেন। “নাগরিক কর্মসূচী” দেবেন। এলাকায় এলাকায় “নাগরিক কমিটি” গড়ে তুলবেন। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, প্রশাসনের কর্মকর্তাদের “নাগরিক আন্দোলনে” সম্পৃক্ত করবেন।

জনগণের ঐক্যবদ্ধ শক্তির প্রচেষ্টায় গড়ে উঠবে স্বপ্নের বাংলাদেশ।

 
 
 
রেফরেন্স
  1. গুম অপহরণ খুন বন্ধে জনগণ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি
  2. ‘মাদকমুক্ত নবীনগর চাই’
  3. “মাদকমুক্ত বাংলাদেশ” গড়ার পথে অগ্রযাত্রা
  4. “মাদকমুক্ত বাংলাদেশ” গড়ার পথে অগ্রযাত্রা – ২
  5. “মাদকমুক্ত বাংলাদেশ” গড়ার পথে অগ্রযাত্রা – ৩: “মাদকমুক্ত বাংলাদেশ” গড়তে ইয়াবা গডফাদারদের বিরুদ্ধে দৃঢ়তর অবস্থান
  6. “যৌতুক প্রথামুক্ত বাংলাদেশ” গড়ার পথে অগ্রযাত্রা
  7. জনতার ঐক্যের শক্তির মাধ্যমে অন্যায় এবং অন্যায়কারীকে রুখে দাঁড়ানো – ৩
  8. জনতার ঐক্যের শক্তির মাধ্যমে অন্যায় এবং অন্যায়কারীকে রুখে দাঁড়ানো – ২
  9. মন্ত্রী সাংসদদের নিজ সংকীর্ণ স্বার্থে সাংবাদিক, প্রকৌশলী এবং অন্যান্য ব্যক্তিদের গায়ে হাত তোলার অভ্যাস রুখে দেওয়া
  10. মাদক রুখতে ১৯ কিলোমিটার জুড়ে মানববন্ধন

খুনি কাউন্সিলর নূর হোসেনের অপরাধ সাম্রাজ্য বন্ধে অগ্রগতি

খুনি কাউন্সিলর নূর হোসেনের অপরাধ সাম্রাজ্য বন্ধ হচ্ছে। নূর হোসেন দ্রুত গ্রেপ্তার হোক। নারায়ণগঞ্জে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হোক। 



অগ্রগতি 




“নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের(নাসিক) প্যানেল মেয়র ও ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নজরুল ইসলামসহ ৫ জন অপহরণের মামলার প্রধান আসামি আরেক কাউন্সিলর নূর হোসেনের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছে। এসময় রক্তমাখা একটি মাইক্রোবাসসহ আইনজীবী চন্দন সরকারের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। আটক করা হয়েছে দুইজনকে।

শনিবার বেলা সাড়ে ১২টায় ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম উদ্ধারের বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক।

ওই সময় তিনি বলেন, একটি শার্ট উদ্ধার করা হয়েছে যার মধ্যে অনেক দাগ রয়েছে। সেটা আসলে রক্তের দাগ কি না পরীক্ষা করে দেখা হবে। এছাড়াও নূর হোসেনের পাসপোর্ট খতিয়ে দেখা হবে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড় টেকপাড়া এলাকায় অবস্থিত নূর হোসেনের বাড়ির চারপাশ সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ঘেরাও করে রাখে পুলিশ। পরে বেলা ১১টায় নূর হোসেনের বাড়িতে তল্লাশি শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যরা। অভিযান চলাকালে গণমাধ্যমের কোন কর্মীকে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(অপরাধ) শহিদুল ইসলাম অভিযানের সত্যতা স্বীকার করেছেন।”

সূত্র – নূর হোসেনের বাড়িতে রক্তমাখা মাইক্রোবাস, মোবাইল ফোন, আটক ২






কাঁচপুরে শীতলক্ষ্যা নদী দখল করে বালু-পাথরের ব্যবসা, উচ্ছেদে বাধা, পরিবহনে চাঁদাবাজিসহ নানা কারণে বারবার আলোচনায় এসেছেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নূর হোসেন। অভিযোগ রয়েছে, কাঁচপুর ও সিদ্ধিরগঞ্জে চাঁদাবাজি, নদী দখল, মাদক ব্যবসাসহ অনেক কিছুরই নিয়ন্ত্রক তিনি ও তাঁর লোকজন। তাঁর বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লা থানায় ছয়টি হত্যা মামলাসহ ২২টি মামলা রয়েছে।


গত রোববার দুপুরে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়ক থেকে অপহূত কাউন্সিলর নজরুলসহ ছয়জনের লাশ গতকাল বুধবার উদ্ধার করা হয়েছে বন্দর থানার শীতলক্ষ্যা নদী থেকে। একই সড়ক থেকে প্রায় একই সময়ে অপহূত হন নারায়ণগঞ্জের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তাঁর গাড়ির চালক ইব্রাহিম। গতকাল উদ্ধার হওয়া লাশের একটি ইব্রাহিমের।


আওয়ামী লীগ-সমর্থক নজরুলের পরিবারের অভিযোগ, বিরোধের জের ধরে নূর হোসেন ও তাঁর লোকজন এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। রোববার ও সোমবার নূর হোসেন এ অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে মঙ্গলবার থেকে তাঁর মুঠোফোন বন্ধ থাকায় চেষ্টা করেও তাঁর বক্তব্য নেওয়া যায়নি।

এলাকার লোকজন জানান, ট্রাকের সহকারী হিসেবে জীবন শুরু করা নূর হোসেন পরে চালক হন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে তিনি শামীম ওসমানের হাত ধরে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। এরপর সিদ্ধিরগঞ্জে তিনি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে থাকেন। ওই সময় তাঁর বিরুদ্ধে দাঙ্গা-হাঙ্গামাসহ ১৩টি মামলা হয়। বাংলাদেশ ট্রাকচালক শ্রমিক ইউনিয়ন কাঁচপুর শাখার সভাপতিও হন তিনি। ২০০১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত তিনি এলাকায় ছিলেন না। ওই সময় তিনি ছিলেন পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তাঁকে ধরিয়ে দিতে ইন্টারপোলে রেড নোটিশও পাঠানো হয়েছিল। ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নবম সংসদ নির্বাচনের পর তিনি এলাকায় ফেরেন। গত বছর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচনে তিনি ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাজধানীতে প্রবেশের অন্যতম পথ শিমরাইল মোড় ও কাঁচপুরে পরিবহনে চাঁদাবাজিসহ সবকিছু এখন নিয়ন্ত্রণ করেন নূর হোসেন ও তাঁর লোকজন।

পরিবহনে চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে ২০১২ সালের আগস্টে নূর হোসেনের বিরুদ্ধে পুলিশ ও র‌্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ দেন ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েতুল্লাহ। র‌্যাবের মহাপরিচালক বরাবর দেওয়া অভিযোগে বলা হয়, অনেক দিন ধরে কাঁচপুর সেতু ও চিটাগাং রোডে স্থানীয় হোসেন চেয়ারম্যানের (নূর হোসেন) নেতৃত্বে কিছু মাস্তান পরিবহনগুলো থেকে প্রতিদিন দু-তিন লাখ টাকা চাঁদা আদায় করছে। চাঁদা না দিলে পরিবহনকর্মীদের মারধর ও গাড়ি ভাঙচুর করা হচ্ছে।

চাঁদাবাজির প্রতিবাদে ব্যাটারিচালিত রিকশার চালক ও মালিকেরা নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সমাবেশ করেন ও বিভিন্ন জায়গায় স্মারকলিপি দেন। পরে প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর হস্তক্ষেপে ওই চাঁদাবাজি বন্ধ হয়।


নদী দখল ও বিআইডব্লিউটিএর মামলা: বিআইডব্লিউটিএর সূত্র জানায়, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় কাঁচপুর সেতুর নিচে শীতলক্ষ্যার তীর দখল করে নূর হোসেনদের গড়ে তোলা বালু ও পাথরের ব্যবসা উচ্ছেদ করা হলেও নবম সংসদ নির্বাচনের পর আবারও নদী দখল করে এ ব্যবসা করছেন তিনি। হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে কাঁচপুর সেতুর নিচে শীতলক্ষ্যার তীর অবৈধভাবে দখল করে বালু-পাথরের ব্যবসা গড়ে তোলার অভিযোগে নূর হোসেনকে প্রধান আসামি করে ২০১০ সালে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা করেছিলেন বিআইডব্লিউটিএর নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের পোর্ট কর্মকর্তা। মামলায় সরকারি কাজে বাধাদান, সরকারি কর্মকর্তাদের হুমকি দেওয়া এবং নদীতীরের প্রায় ৮০০ শতাংশ জমি দখলের অভিযোগ আনা হয়। গত কয়েক বছরে ওই দখল উচ্ছেদে আট-দশবার অভিযান চালানো হয়। মামলার বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ২২টি চিঠি দেওয়া হয়েছে।

মেলার নামে অশ্লীল নৃত্য-জুয়া: অভিযোগ রয়েছে, সিদ্ধিরগঞ্জে সিটি করপোরেশনের ট্রাক টার্মিনালে এক বছরের বেশি সময় ধরে মেলার নামে চলছে অশ্লীল নৃত্য ও জুয়ার আসর। মেলায় অবাধে মাদকও বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় কাউন্সিলর নূর হোসেনকে এ মেলা বন্ধ করতে গত ১৬ এপ্রিল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল মজুমদার চিঠি দিলেও মেলা বন্ধ হয়নি।

অপহরণের পরে রবি ও সোমবার নূর হোসেনের ফোন খোলা থাকলেও মামলার পরে মঙ্গলবার থেকে ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তাই এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য নেওয়া যায়নি।”




“নূর হোসেনের কাঁচপুর শিমরাইল বাসভবনের সামনে ও পেছনে ২টি পুকুরে রাখা হতো ফেনসিডিল আর অস্ত্র। সীমান্ত থেকে সরাসরি কাভার্ড ভ্যান কিংবা ট্রাকযোগে ফেনসিডিল ও অস্ত্র নিয়মিত প্রতি রাতে উক্ত পুকুর পাড়ে এনে নামানো হতো। গভীর রাতে বস্তায় বস্তায় এসব ফেনসিডিল ও অস্ত্র পুকুরে রাখার দৃশ্য দেখতো এলাকাবাসী।

নূর হোসেনের সিমরাইল বাসভবনে ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার মূল মনিটর। এখানে বসে মাদক ও অস্ত্রসহ আন্ডার গ্র্যাউন্ডের সকল কার্যক্রম মনিটর করতো নূর হোসেন। ইতিমধ্যে পুলিশ তার বাসায় অভিযান চালিয়ে একটি মাইক্রোবাস জব্দ ও ১১ জনকে আটক করে। ঐ দিনই ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে। পুলিশসহ গোয়েন্দা সংস্থা রহস্যজনকভাবে ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার বিষয়টি এড়িয়ে গেছে। ফলে সহজেই নূর হোসেনের ক্যাডার বাহিনী ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরায় ধারণকৃত মূল সফটওয়্যার সরিয়ে ফেলেছে।” [2]
রেফরেন্স

  1. ভেঙে ফেলা হচ্ছে আজমেরী ওসমানের সেই টর্চার সেল
  2. নূর হোসেনের দুই পুকুরে রাখা হতো অস্ত্র, মাদক

"মাদকমুক্ত বাংলাদেশ" গড়ার পথে অগ্রযাত্রা – ৩

“মাদকমুক্ত বাংলাদেশ” গড়তে ইয়াবা গডফাদারদের বিরুদ্ধে দৃঢ়তর অবস্থান


ইয়াবা গডফাদার
 


  • নাম কাটাতে মন্ত্রণালয়ে ইয়াবার গডফাদাররা
    • অসুস্থ হিসেবে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা সংসদ সদস্য বদি মূলত আইন-শৃঙ্খলা-বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা পেতেই হাসপাতালে রয়েছেন বলে তার ঘনিষ্টজন সূত্রে জানা গেছে। 
    • একই সঙ্গে বদির চার ভাইয়ের মধ্যে কেবল আব্দুল শুক্কুর ছাড়া বাকিরা বর্তমানে ঢাকায় আত্মগোপণে রয়েছেন বলে জানা গেছে। এ পরিবারের ১৫ সদস্যই ইয়াবা পাচারের নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন বলে একাধিক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে দেখা গেছে। শুক্কুর বর্তমানে বিদেশে আত্মগোপণে রয়েছেন। 
    • অন্যতম ইয়াবা গডফাদার হাজী সাইফুলও বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে পলাতক রয়েছেন বলে তার ঘনিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
    • টেকনাফ পৌরসভার চেয়ারম্যান জাফর আলমও বর্তমানে ঢাকায় অাত্মগোপণে রয়েছেন। সূত্র মতে, বর্তমানে তিনি ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্র্তি রয়েছেন। গত সপ্তাহে চট্টগ্রামে উপজেলা চেয়ারম্যানদের শপথ অনুষ্ঠানে তাকে গ্রেফতারে অভিযান চালায় গোয়েন্দা পুলিশ। কিন্তু পরিস্থিতি বুঝতে পেরে আগেই গাঢাকা দেন আলোচনার বাইরে থাকা এই ইয়াবার গডফাদার।
  • ইয়াবারোধে একযোগে কাজ করবে বাংলাদেশ-মিয়ানমার
    • সীমান্তে ইয়াবা পাচার রোধে একযোগে কাজ করতে একমত পোষণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি)। 
    • বৈঠক শেষে বাংলাদেশের পক্ষে ২২ সদস্যের নেতৃত্বদানকারী বিজিবির কক্সবাজার সেক্টর কমান্ডার কর্নেল খন্দকার ফরিদ হাসান বাংলানিউজকে জানান, বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে সীমান্তে ইয়াবা ও মদ জাতীয় অবৈধ মাদকদ্রব্য পাচার, ট্রানজিট যাত্রী কর্তৃক অবৈধ মালামাল বহন, দ্রুত প্রতিবাদ লিপির প্রতি উত্তর, সরাসরি টেলিফোন বা মোবাইলে যোগাযোগ স্থাপন, সু-সম্পর্ক বজায় রাখতে ঘন ঘন পতাকা বৈঠকের আয়োজন, সীমান্তবর্তী এলাকায় আই,ই,ডি স্থাপন, সীমান্তবর্তী এলাকায় অস্থায়ী ক্যাম্প ও গমনাগমন, সীমান্ত এলাকায় গুলিবর্ষণ ও উত্তেজনা রোধ, নাগরিক হত্যা, মিয়ানমার জেলে আটক বাংলাদেশিদের মুক্তি ও এশিয়ান হাইওয়ে সড়ক নির্মাণসহ বিভিন্ন দাবির ব্যাপারে আলোচনা হয়।  
    • বৈঠকে বিজিবি বান্দরবান সেক্টর কমান্ডার ও উপ-মহাপরিচালক এ কে এম সাইফুল আলম পিএসসি, চট্টগ্রাম দক্ষিণ-পূর্ব রিজনের অফিসার তাওহিদুল ইসলাম পিএসসি, রামু ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার তৈয়মুর সালাদিন কায়কোবাদ, টেকনাফ ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার আবুজার আল জাহিদ, নাইক্ষংছড়ি ব্যাটালিয়ন কমান্ডার সফিকুর রহমান, কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন কমান্ডার খন্দকার সাইফুল আলমসহ কক্সবাজার-বান্দরবান সেক্টরের অধীনস্থ মায়ানমার সীমান্তবর্তী ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক ও বিভিন্ন পর্যায়ের অফিসারগণ অংশ নেন। 

"মাদকমুক্ত বাংলাদেশ" গড়তে ইয়াবা গডফাদারদের বিরুদ্ধে দৃঢ়তর অবস্থান

“মাদকমুক্ত বাংলাদেশ” গড়তে ইয়াবা গডফাদারদের বিরুদ্ধে দৃঢ়তর অবস্থান



স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর জ্ঞাতসারেই কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম খুন

“স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের জ্ঞাতসারেই চার সহযোগীসহ খুন হয়ে গেলেন নারায়ণগঞ্জের সিটি কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম। খুন হওয়ার আগে তিনি অপহূত হয়েছেন। তারও দুই সপ্তাহ আগে তিনি স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাসায় গিয়ে তাঁকে বলেছিলেন, তাঁকে হত্যা করা হবে। যারা তাঁকে হত্যা করতে চায়, তাদের নামও তিনি স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে বলেছিলেন।

তার সপ্তাহ দুই পর চার সহযোগীসহ সত্যিই অপহূত হলেন কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম। এবার তাঁর স্বজনেরা কাঁদতে কাঁদতে গিয়ে হাজির হলেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাসায়। নজরুলের বৃদ্ধ মা মন্ত্রীর কাছে আকুতি জানালেন, ‘বাবা, যে করেই হোক, আমার ছেলেকে ফিরিয়ে দেন।’ কিন্তু নজরুল জীবিত ফিরে এলেন না। অপহূত আরও ছয়জনের সঙ্গে তিনিও লাশ হয়ে ভাসলেন শীতলক্ষ্যা নদীতে। 

অতঃপর আমাদের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য: ‘আমার কাছে নজরুল এসেছিল, নামও বলে গিয়েছিল। আবার সকালে তার ছেলেমেয়েগুলো এসে কান্নাকাটি করে গেল। সবাই ভালো ছাত্রছাত্রী, জিপিএ-৫ পাওয়া। আমি এখন তাদের কাছে গিয়ে কী বলব?’

জনগণের নিরাপত্তা বিধান ও আইন প্রয়োগ ব্যবস্থার অকার্যকারিতা প্রতিমন্ত্রীর নিজের বক্তব্যেও স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, সাত ব্যক্তির অপহরণ ও হত্যার পর আসামিদের ধরার ব্যাপারে সরকারের চেষ্টার ত্রুটি ছিল না। শুরু থেকেই বিষয়টিকে নাকি অনেক গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অন্য কিছু সূত্রে সংবাদমাধ্যম জানতে পেরেছে, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অপহরণকারীদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলেন না। তিনি অপেক্ষা করছিলেন ‘ওপরের নির্দেশনা’র। সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগতে ভুগতে তিনি সংবাদমাধ্যমকে বারবার বলছিলেন যে তিনি চেষ্টার কোনো ত্রুটি করছেন না। তারপর, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে গণভবন থেকে বেরিয়ে এসে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী আসামিদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন। দু-এক দিনের মধ্যেই ‘বড় একটা কিছু হবে’।

এই অবস্থায় আরও আজব আজব কথা বলছেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। যেমন, শুক্রবার তিনি বললেন, পরিস্থিতি শান্ত না হলে কোনো আসামিকেই গ্রেপ্তার করা যাচ্ছে না। এই কথার মানে কী? ‘পরিস্থিতি’ বলতে কী বোঝাচ্ছেন তিনি?

রাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও দারুণ কথা বলেছেন: আমরা যাদের গ্রেপ্তার করতে চাচ্ছি, তারা তো এখন আর জনসমক্ষে নেই, আত্মগোপনে চলে গেছে। তাঁর কথায় মনে হয়, তিনি এমন প্রত্যাশা করেন যে খুনি-অপহরণকারীরা অপরাধ সেরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর সামনে ঘুরে বেড়াবে, যেন তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়! 


আসলে নারায়ণগঞ্জে অন্তত একজন আসামি সে রকম সুযোগ দিন দুয়েক বহাল রেখেছিলেন। কাউন্সিলর নজরুল তাঁর চার সহযোগীসহ অপহূত হন ২৭ এপ্রিল রোববার দুপুরে। এ ঘটনায় তাঁর পরিবার আরেক কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা নূর হোসেনকে আসামি করে মামলা দায়ের করে। সেদিন ও তার পরদিন সোমবার নূর হোসেন প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়িয়েছেন, সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। কিন্তু তখন তাঁকে স্পর্শ করা হয়নি। সাত অপহরণ নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হলে নূর হোসেন আত্মগোপনে চলে গেলেন।

কিছুদিন আগে পর্যন্ত স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলে আসছিলেন, অপহরণ, খুন ও গুমের ঘটনা গত বছরের তুলনায় এখনো কম। এটা নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই। আর বিরোধী দল যখন সরকারের বিরুদ্ধে তাদের লোকজনকে গুম করার অভিযোগ করছিল, তখন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিষয়টি উড়িয়ে দিয়েছিলেন এই বলে যে বিরোধী দলের অনেক নেতা-কর্মী মামলার আসামি, তাঁরা গ্রেপ্তারের ভয়ে নিজেরাই আত্মগোপনে চলে যাচ্ছেন, বিরোধী দল সেটাকেই গুম বলে দাবি করছে। এর মধ্যে দেশজুড়ে লেগে গেল অপহরণ, খুন ও গুমের মচ্ছব। গত এক সপ্তাহেই অপহরণের ঘটনা ঘটেছে ২৪টি, লাশ পাওয়া গেছে আটজনের। এখন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলছেন, এসব করছে বিরোধী দলের লোকজন।

অপহরণ, খুন ও গুমের মচ্ছব লাগিয়ে দেশজুড়ে যারা ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে, তারা যেই হোক, তাদের এমন ভয়ংকর দৌরাত্ম্যের মধ্য দিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর ব্যর্থতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এ রকম অবস্থায় তাঁর বিদায় নেওয়া উচিত কি না, প্রথম আলোর প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছেন. ‘আমাদের পদত্যাগ কেউ চায়, তা আপনার কাছেই প্রথম শুনলাম।’” [1] [2]



আমরা মনে করি, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান আমাদের নিরাপত্তা দিতে অক্ষম। 

আমরা ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে অক্ষম স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের পদত্যাগ দাবি করছি। 



রেফরেন্স

ত্বকী হত্যাকারী আজমেরী ওসমানকে গ্রেপ্তার করা হবে

ত্বকী হত্যাকারী আজমেরী ওসমান গ্রেপ্তার এড়াতে দেশ ছেড়ে পালিয়েছিলেন।

পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে নাসিম ওসমানের মৃত্যুর পর তাকে নারায়ণগঞ্জে দেখা গেছে।

অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, ওসমান পরিবার নারায়ণগঞ্জে তাদের আধিপত্য ধরে রাখতে বিকারগ্রস্থ খুনি আজমেরীকে রাজনীতিতে আনতে চায়।

ত্বকী হত্যাকারী আজমেরী ওসমানকে গ্রেপ্তার করা হবে।

“নারায়ণগঞ্জে সাংসদ নাসিম ওসমানের ছেলে আজমেরী ওসমানের টর্চার সেলটি (নির্যাতন কেন্দ্র) ভেঙে ফেলা হচ্ছে। মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যা মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে গত আগস্টে এই টর্চার সেলে অভিযান চালায় র‌্যাব। তখন সেখান থেকে নির্যাতনের শিকার এক ব্যক্তির রক্তাক্ত জিনসের প্যান্ট, রক্তমাখা গজারির লাঠি ও বস্তাভর্তি নাইলনের রশি উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই আজমেরী ওসমান কলেজ রোডে এই টর্চার সেল গড়ে তোলেন।”

রেফরেন্স

  1. দেশের সন্ত্রাসীদের গডফাদার দুর্নীতিবাজদের ভয়াবহতার একটি চিত্র – ১
  2. ভেঙে ফেলা হচ্ছে আজমেরী ওসমানের সেই টর্চার সেল
  3. ত্বকী হত্যাকারিদের বিচারের মুখোমুখি করা হোক
  4. আমাদের ছোট ভাই ত্বকী
  5. আজ ত্বকীর জন্মদিন
  6. ত্বকীর হত্যাকারীদের গ্রেফতার দাবিতে অনশন

খুনি কাউন্সিলর নূর হোসেন দ্রুত গ্রেপ্তার হোক

খুনি কাউন্সিলর নূর হোসেন দ্রুত গ্রেপ্তার হোক। নারায়ণগঞ্জে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হোক। 



“নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের(নাসিক) প্যানেল মেয়র ও ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নজরুল ইসলামসহ ৫ জন অপহরণের মামলার প্রধান আসামি আরেক কাউন্সিলর নূর হোসেনের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছে। এসময় রক্তমাখা একটি মাইক্রোবাসসহ আইনজীবী চন্দন সরকারের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। আটক করা হয়েছে দুইজনকে।

শনিবার বেলা সাড়ে ১২টায় ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম উদ্ধারের বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক।

ওই সময় তিনি বলেন, একটি শার্ট উদ্ধার করা হয়েছে যার মধ্যে অনেক দাগ রয়েছে। সেটা আসলে রক্তের দাগ কি না পরীক্ষা করে দেখা হবে। এছাড়াও নূর হোসেনের পাসপোর্ট খতিয়ে দেখা হবে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড় টেকপাড়া এলাকায় অবস্থিত নূর হোসেনের বাড়ির চারপাশ সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ঘেরাও করে রাখে পুলিশ। পরে বেলা ১১টায় নূর হোসেনের বাড়িতে তল্লাশি শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যরা। অভিযান চলাকালে গণমাধ্যমের কোন কর্মীকে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(অপরাধ) শহিদুল ইসলাম অভিযানের সত্যতা স্বীকার করেছেন।”

সূত্র – নূর হোসেনের বাড়িতে রক্তমাখা মাইক্রোবাস, মোবাইল ফোন, আটক ২






কাঁচপুরে শীতলক্ষ্যা নদী দখল করে বালু-পাথরের ব্যবসা, উচ্ছেদে বাধা, পরিবহনে চাঁদাবাজিসহ নানা কারণে বারবার আলোচনায় এসেছেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নূর হোসেন। অভিযোগ রয়েছে, কাঁচপুর ও সিদ্ধিরগঞ্জে চাঁদাবাজি, নদী দখল, মাদক ব্যবসাসহ অনেক কিছুরই নিয়ন্ত্রক তিনি ও তাঁর লোকজন। তাঁর বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লা থানায় ছয়টি হত্যা মামলাসহ ২২টি মামলা রয়েছে।


গত রোববার দুপুরে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়ক থেকে অপহূত কাউন্সিলর নজরুলসহ ছয়জনের লাশ গতকাল বুধবার উদ্ধার করা হয়েছে বন্দর থানার শীতলক্ষ্যা নদী থেকে। একই সড়ক থেকে প্রায় একই সময়ে অপহূত হন নারায়ণগঞ্জের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তাঁর গাড়ির চালক ইব্রাহিম। গতকাল উদ্ধার হওয়া লাশের একটি ইব্রাহিমের।


আওয়ামী লীগ-সমর্থক নজরুলের পরিবারের অভিযোগ, বিরোধের জের ধরে নূর হোসেন ও তাঁর লোকজন এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। রোববার ও সোমবার নূর হোসেন এ অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে মঙ্গলবার থেকে তাঁর মুঠোফোন বন্ধ থাকায় চেষ্টা করেও তাঁর বক্তব্য নেওয়া যায়নি।

এলাকার লোকজন জানান, ট্রাকের সহকারী হিসেবে জীবন শুরু করা নূর হোসেন পরে চালক হন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে তিনি শামীম ওসমানের হাত ধরে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। এরপর সিদ্ধিরগঞ্জে তিনি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে থাকেন। ওই সময় তাঁর বিরুদ্ধে দাঙ্গা-হাঙ্গামাসহ ১৩টি মামলা হয়। বাংলাদেশ ট্রাকচালক শ্রমিক ইউনিয়ন কাঁচপুর শাখার সভাপতিও হন তিনি। ২০০১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত তিনি এলাকায় ছিলেন না। ওই সময় তিনি ছিলেন পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তাঁকে ধরিয়ে দিতে ইন্টারপোলে রেড নোটিশও পাঠানো হয়েছিল। ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নবম সংসদ নির্বাচনের পর তিনি এলাকায় ফেরেন। গত বছর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচনে তিনি ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাজধানীতে প্রবেশের অন্যতম পথ শিমরাইল মোড় ও কাঁচপুরে পরিবহনে চাঁদাবাজিসহ সবকিছু এখন নিয়ন্ত্রণ করেন নূর হোসেন ও তাঁর লোকজন।

পরিবহনে চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে ২০১২ সালের আগস্টে নূর হোসেনের বিরুদ্ধে পুলিশ ও র‌্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ দেন ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েতুল্লাহ। র‌্যাবের মহাপরিচালক বরাবর দেওয়া অভিযোগে বলা হয়, অনেক দিন ধরে কাঁচপুর সেতু ও চিটাগাং রোডে স্থানীয় হোসেন চেয়ারম্যানের (নূর হোসেন) নেতৃত্বে কিছু মাস্তান পরিবহনগুলো থেকে প্রতিদিন দু-তিন লাখ টাকা চাঁদা আদায় করছে। চাঁদা না দিলে পরিবহনকর্মীদের মারধর ও গাড়ি ভাঙচুর করা হচ্ছে।

চাঁদাবাজির প্রতিবাদে ব্যাটারিচালিত রিকশার চালক ও মালিকেরা নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সমাবেশ করেন ও বিভিন্ন জায়গায় স্মারকলিপি দেন। পরে প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর হস্তক্ষেপে ওই চাঁদাবাজি বন্ধ হয়।


নদী দখল ও বিআইডব্লিউটিএর মামলা: বিআইডব্লিউটিএর সূত্র জানায়, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় কাঁচপুর সেতুর নিচে শীতলক্ষ্যার তীর দখল করে নূর হোসেনদের গড়ে তোলা বালু ও পাথরের ব্যবসা উচ্ছেদ করা হলেও নবম সংসদ নির্বাচনের পর আবারও নদী দখল করে এ ব্যবসা করছেন তিনি। হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে কাঁচপুর সেতুর নিচে শীতলক্ষ্যার তীর অবৈধভাবে দখল করে বালু-পাথরের ব্যবসা গড়ে তোলার অভিযোগে নূর হোসেনকে প্রধান আসামি করে ২০১০ সালে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা করেছিলেন বিআইডব্লিউটিএর নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের পোর্ট কর্মকর্তা। মামলায় সরকারি কাজে বাধাদান, সরকারি কর্মকর্তাদের হুমকি দেওয়া এবং নদীতীরের প্রায় ৮০০ শতাংশ জমি দখলের অভিযোগ আনা হয়। গত কয়েক বছরে ওই দখল উচ্ছেদে আট-দশবার অভিযান চালানো হয়। মামলার বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ২২টি চিঠি দেওয়া হয়েছে।

মেলার নামে অশ্লীল নৃত্য-জুয়া: অভিযোগ রয়েছে, সিদ্ধিরগঞ্জে সিটি করপোরেশনের ট্রাক টার্মিনালে এক বছরের বেশি সময় ধরে মেলার নামে চলছে অশ্লীল নৃত্য ও জুয়ার আসর। মেলায় অবাধে মাদকও বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় কাউন্সিলর নূর হোসেনকে এ মেলা বন্ধ করতে গত ১৬ এপ্রিল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল মজুমদার চিঠি দিলেও মেলা বন্ধ হয়নি।

অপহরণের পরে রবি ও সোমবার নূর হোসেনের ফোন খোলা থাকলেও মামলার পরে মঙ্গলবার থেকে ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তাই এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য নেওয়া যায়নি।”




আরও 

অগ্রগতি