দেশের অর্থনৈতিক সমস্যা এবং সমাধান

ব্যবসায়ীদের পরামর্শ 

  • শিল্পকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুতের সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তাঁরা বলেছেন, নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুতের অভাবে শিল্পমালিকদের খরচ বাড়ছে। আবার নতুন শিল্প কারখানায় গ্যাস-বিদ্যুৎ মিলছে না। বিনিয়োগ পড়ে আছে।
  • ব্যবসায়ীরা আরও বলেন, আমদানি ও রপ্তানি-প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক উন্নয়নসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করতে হবে। 
  • বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সুদের হার কমাতে হবে। 
    • ব্যাংক সুদের হার হ্রাস
      • নিচে     
  • রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্যকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।
  • জিএসপি সুবিধাসহ অন্যান্য বাণিজ্যিক সুবিধা আদায় করতে সরকারের পক্ষ থেকে লবিস্ট নিয়োগের পাশাপাশি অর্থনৈতিক কূটনীতি বাড়ানোর পরামর্শ দেন ব্যবসায়ীরা।
  • দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে বিনিয়োগ বোর্ডে জমা পড়া প্রস্তাবগুলো দ্রুত সমাধানের তাগিদ দেন তাঁরা। 
  • আগামী রমজান মাসে তেল, চিনি, পেঁয়াজসহ নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় থাকবে বলে আশ্বাস দেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
  • সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী বলেন, শিল্পজমির সমস্যার কারণে বিনিয়োগ বোর্ডে অনেক প্রস্তাব জমা পড়ে আছে। তিনি জানান, ১১৮ কোটি ডলারের বেশ কিছু যৌথ বিনিয়োগের প্রস্তাব পড়ে আছে, যা দ্রুত সমাধান করা উচিত। এ ছাড়া তিনি প্রতিটি বৈঠকে আগের বৈঠকের সিদ্ধান্তগুলোর অগ্রগতি মূল্যায়নের পরামর্শ দেন।
  • মন্ত্রী ও সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি তপন চৌধুরী বলেন, ‘আপনারা যদি ব্যবসা করতেন, তাহলে হয়রানি-ভোগান্তি বুঝতে পারতেন। আমরা দিনের পর দিন একই দাবি করে আসছি, কিন্তু কাজ হয় না। স্থানীয় বিনিয়োগকারীরা কেন বিনিয়োগ করছেন না, সেটাও বুঝতে হবে।’ বিদ্যুতের সমস্যার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো শিল্পমালিক ইচ্ছা করে জেনারেটর চালান না। কারণ, জেনারেটর চালালে খরচ বাড়ে।
  • এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুনের মতে, বিনিয়োগ বাড়াতে ব্যাংকঋণে সুদের হার কমাতে হবে। তিনি খাতভিত্তিক উপপরামর্শক কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন।
  • এফবিসিসিআইয়ের আরেক সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন বলেন, ‘আমরা পরিবেশ বাঁচাতে চাই, আবার শিল্পও করতে চাই। এখন শিল্প না পরিবেশ—এক জায়গা সমঝোতা করতেই হবে।’ তিনি বলেন, দেশে অপহরণ ও গুম হচ্ছে। এটা সবাইকে শঙ্কিত করছে। এটা রাজনৈতিক কারণে হতে পারে। সরকারকে ব্যক্তিগত নিরাপত্তায় আরও জোর দিতে হবে।
  • এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আনিসুল হক জানান, অনেক শিল্পমালিক কারখানার জন্য শত শত কোটি টাকার যন্ত্রপাতি কিনে বসে আছেন। কিন্তু জ্বালানির সংযোগ না দেওয়ায় কারখানা চালু করতে পারছেন না। তিনি জিএসপি সুবিধাসহ অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা পেতে লবিস্ট নিয়োগের পরামর্শ দেন।
  • তবে লবিস্ট নিয়োগের পরিবর্তে অর্থনৈতিক কূটনীতি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন অ্যামচেমের সভাপতি আফতাব উল ইসলাম। এ ছাড়া তিনি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে (পিপিপি) অবকাঠামো উন্নয়নের পরামর্শ দেন।
  • এফবিসিসিআইয়ের আরেক সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ বলেন, ব্যাংকঋণ নিয়ে কেলেঙ্কারির ঘটনা কমাতে পারলে সুদের হার কমবে
  • এফবিসিসিআইয়ের বর্তমান সভাপতি কাজী আকরাম আহমদের মতে, গত বছর রাজনৈতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও ব্যবসায়ীরা ঐক্যবদ্ধ ছিলেন বলেই অর্থনীতিতে গতি রয়েছে।
  • সিটি গ্রুপের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান, মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল ও আবুল খায়ের গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম সভায় আশ্বাস দেন, আগামী রমজানে নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকবে। সরবরাহ ব্যবস্থায় যথেষ্ট পণ্য রয়েছে।
  • সভায় আরও বক্তব্য দেন বাণিজ্যসচিব মাহবুব আহমেদ, তৈরি পোশাক কারখানার মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি আতিকুল ইসলাম, ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এফআইসিসিআই) সভাপতি রূপালী চৌধুরী, ঢাকা চেম্বার সভাপতি শাহজাহান খান, রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি সালাম মুর্শেদী, বিটিএমএর সভাপতি জাহাঙ্গীর আলামিন, প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদক সমিতির সভাপতি জসিম উদ্দিন, হিমায়িত পণ্য রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি আমিনউল্লাহ, উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি সঙ্গীতা আহমেদ প্রমুখ।


ব্যাংক সুদের হার হ্রাস 

  • সুদের হার কমাতে দেশের পুরো ফাইনান্সিয়াল সিস্টেমে সংস্কার প্রয়োজন। শিল্প ঋণ কমাতে ব্যাংকে যারা অর্থ জমা রাখেন তাদের সুদও কমবে। 
    • আবার ব্যাংকে অর্থ রেখে লাভের পরিমাণ কমলে মানুষ ব্যাংকে অর্থ রাখার পরিবর্তে বিনিয়োগে আকৃষ্ট হবে। 
    • বিনিয়োগের জন্য শেয়ার বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।
    • জনগণ জমি কেনা, ব্যবসা ইত্যাদিতেও বিনিয়োগ করবে।
    • বিনিয়োগ বাড়লে জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়বে।     
  • ব্যাংকঋণ নিয়ে কেলেঙ্কারির ঘটনা কমাতে পারলে সুদের হার কমবে। দুর্নীতি দমন কমিশনের নিরপেক্ষ শক্তিশালী ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
দেশের অর্থনীতির সমস্যাগুলো সমাধানে আমরা সরকারের কার্যকর ভূমিকা দেখতে চাই। 
রেফরেন্স

স্বপ্নের বাংলাদেশ অভিমুখে অগ্রযাত্রা (২৬.০৪.২০১৪)

বাংলাদেশ দৃপ্ত পদক্ষেপে এগিয়ে যাচ্ছে।


প্রতিদিন নতুন নতুন ক্ষেত্রে আমাদের অগ্রযাত্রার খবর প্রকাশিত হচ্ছে। 

আজকের (২৬.০৪.২০১৪) পত্রিকায় আমাদের অগ্রযাত্রার খবর



অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশের পথে অগ্রযাত্রা 


তথ্য প্রযুক্তিগত উৎকর্ষে উন্নত বাংলাদেশ অভিমুখে অগ্রযাত্রা 
বাংলাদেশ তথ্য প্রযুক্তিগত উৎকর্ষে উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর সাথে প্রতিযোগিতা করবে। 


নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা
বাল্যবিবাহ রোধ, “যৌতুক প্রথামুক্ত বাংলাদেশ”, নারী নির্যাতন রোধ, ইভটিজিং রোধ 




অন্যায়-অপরাধ-দুর্নীতি-সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ অভিমুখে অগ্রযাত্রা

U.S.: A ‘Rising Star’ Of Global Manufacturing

“A new ranking of the competitiveness of the world’s top 25 exporting countries says the United States is once again a “rising star” of global manufacturing thanks to falling domestic natural gas prices, rising worker productivity and a lack of upward wage pressure.

The report, released on Friday by the Boston Consulting Group (BCG,) found that while China remains the world’s No. 1 country in terms of manufacturing competitiveness, its position is “under pressure” as a result of rising labor and transportation costs and lagging productivity growth.

The United States, meanwhile, which has lost nearly 7.5 million industrial jobs since employment in the sector peaked in 1979 as manufacturers shipped production to low-cost countries, is now No. 2 in terms of overall competitiveness, BCG said.

The biggest factor driving the U.S. rebound, according to BCG: cheap natural gas prices, which have tumbled 50 percent over the last decade as a result of the shale gas revolution.

Also contributing to the country’s attractiveness, according to BCG, is “stable wage growth” – a euphemism for the fact that, in inflation-adjusted terms, industrial wages here are lower today than they were in the 1960s even though worker productivity has doubled over the same period of time.

“Overall costs in the U.S.,” the report’s authors write, “are 10 to 25 percent lower than those of the world’s ten leading goods-exporting nations other than China” and on par with Eastern Europe. [1]

Here is BCG’s ranking of the world’s Top 10 countries in terms of manufacturing competitiveness:

1. China

2. United States

3. South Korea

4. United Kingdom

5. Japan

6. Netherlands

7. Germany

8. Italy

9. Belgium

10. France

Previous Posts

References

শিল্পের মালিকরা যখন কর্মীদের নিয়ে জয়ী হন

“Western Marine workers were trained to use the protective gear. Notices in English and Bangla, and pictorial signs for illiterate workers, were put up throughout the shipyard. At first, some workers didn’t want to wear hard hats, boots and goggles in Chittagong’s hot climate. But those who didn’t follow rules received verbal warnings, got further training and were even fined or fired. Western Marine also gave bonuses to workers who used proper safety gear. Strict enforcement at the shipyard had almost immediate results. Over the next 15 months, Western Marine dramatically reduced its injury rate by 99 percent, to 10 a month by June 2012, from 1,000.

Western Marine had not intended to seek international certification but ended up doing so since it was using those guidelines anyway. By August 2012, the shipyard was awarded the world’s most reputable occupational health and safety management standard, OHSAS 18001. It also received ISO 14001, the internationally recognized standard for environment management. It was the only shipyard and one of few companies in Bangladesh to have both certificates. Western Marine says the certifications have led to new ship orders from New Zealand, Tanzania and Kenya.

During the 40-month partnership between Western Marine and GIZ, the shipbuilder paid 250,000 euros of the cost of equipment and implementing safety programs while the German aid agency contributed 265,000 euros. It was a significant amount of money for Western Marine, but the company found that treatment costs for workers at its clinic dropped from 15,000 euros a year in 2010 to only 341 euros in 2012. Workers were far more productive in general. There was also a strong business case for the OHSAS and ISO certifications, since they are increasingly required for eligibility to bid on international shipping contracts.” [1]


নাগরিক শক্তির অর্থনৈতিক দর্শন

নাগরিক শক্তির অর্থনৈতিক দর্শনের মূলে রয়েছে দুটি বিষয়

  • প্রত্যেকটি মানুষের মাঝে বিপুল শক্তি লুকিয়ে আছে। এই শক্তি জাগ্রত হয় এমন ব্যবস্থা চালু করতে হবে। 
  • Win-win, Non-zero sum games. এমন ব্যবস্থা যেখানে সব পক্ষই জিতবে। 


সমাজতান্ত্রিকরা মনে করেন, পুঁজিবাদের বিকাশ ঘটলে পুঁজিবাদীরা শ্রমিক শ্রেণী থেকে লুট করে ধনী হন। কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি, এমন পদ্ধতি চালু করা সম্ভব যেখানে সব পক্ষ সর্বোচ্চ লাভবান হবে, সব পক্ষই জিতবে। পুঁজিবাদের বিকাশ ঘটলে মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। শিল্পের মালিকরা শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে ব্যবস্থা নিলে, কারখানার পরিবেশ উন্নত করলে অধিকতর উৎপাদনশীলতা থেকে মালিকরা লাভবান হন। শ্রমিকদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটলে তারা শিল্প পণ্য আরও বেশি কেনেন। এভাবে শিল্পের বিকাশ ত্বরান্বিত হয়। [2]

Western Marine এর ক্ষেত্রে আমরা দেখেছি, কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত, স্বাস্থ্য সুবিধা নিশ্চিত করার পর কর্মীদের উৎপাদনশীলতা বেড়েছে। স্বাস্থ্য খরচ কমে এসেছে। আগে যেখানে প্রায় ৩৫০০ কর্মীর মাঝে ১০০০ জন প্রতিমাসে আহত হয়ে উৎপাদনশীলতা কমিয়ে দিতেন সেখানে এসেছে বিশাল পরিবর্তন। নিরাপত্তা – স্বাস্থ্য বিষয়ক বিদেশী সারটিফিকেশান পাওয়ার পর নতুন নতুন দেশ থেকে অর্ডার আসছে।

এটা Win-win, Positive-sum game এর একটা উদাহরণ – এমন ব্যবস্থা যেখানে সব পক্ষই জিতবে। 


“Bangladesh is the second largest maker of “ready-made garments” after China. The industry helped annual economic growth reach 6 percent in recent years; garments represent more than 80 percent of the country’s exports. Bangladesh’s garment factories employ about 3.8 million people, most of whom are women.

These steady factory jobs have raised incomes and help lift millions out of abject poverty. Development and public health experts acknowledge that this employment helped Bangladesh dramatically improve child and maternal health. Indeed, it is one of only eight countries to have reduced deaths of children below age five by at least two-thirds since 1990 in accordance with the United Nations’ Millennium Development Goals.
Improving garment factories is imperative for Bangladesh.

Change can happen in Bangladesh. It has before. The country, for instance, has a surprisingly effective cyclone warning system that relies on village volunteers. This simple, grass-roots system has been credited with saving tens of thousands of lives during violent storms. [3]

Safety standards can be upheld if they’re taken seriously enough, as they have been in Bangladesh’s oil and gas industry.” [1]



References
My Articles on Positive-Sum Games

অস্ত্র-গোলাবারুদ-ড্রোন হোক বাংলাদেশের পরবর্তী রপ্তানি পণ্য


অস্ত্র ও গোলাবারুদ হতে পারে বাংলাদেশের পরবর্তী রপ্তানি পণ্য। অস্ত্র ও গোলাবারুদ রপ্তানি শুরু করলে আমরা ড্রোন এর মত আধুনিক প্রযুক্তিও অচিরেই রপ্তানি করতে পারবো।

তবে অস্ত্র ও গোলাবারুদ মত স্পর্শকাতর পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন জরুরি। অস্ত্র ও গোলাবারুদ কোন দেশে কোথায় রপ্তানি করা হচ্ছে, তাদের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক কেমন – রপ্তানির সময় এসব বিবেচনা করেই সিধান্ত নেবে বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানা (বিওএফ)।

“অস্ত্র-গোলাবারুদ রপ্তানি করতে চায় বাংলাদেশ

অস্ত্র ও গোলাবারুদ রপ্তানি করতে চায় বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানা (বিওএফ)। এ ব্যাপারে অনুমোদন চেয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে বিওএফ।

১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ প্রথম চার কোটি ডলারের অস্ত্র ও গোলাবারুদ রপ্তানি করেছিল। ৩০ বছর পর আবার এই উদ্যোগ নেওয়া হলেও বর্তমানে অস্ত্র ও গোলাবারুদ রপ্তানির কোনো আইন বা নীতিমালা নেই। পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ‘অস্ত্র ছাড়া সবকিছু’ (এভরিথিং বাট আর্মস)—এই নীতি অনুসরণ করে আসছে।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সেনাসদর অস্ত্র রপ্তানির বিষয়টির অনুমোদন দেয়। এর আগে অনুমোদন দিয়েছে আগের সরকারের আমলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। তৎকালীন কমিটির প্রধান ইদ্রিস আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি এখনো মনে করি, অস্ত্র ও গোলাবারুদ রপ্তানি করা যেতে পারে।’

বিওএফের চিঠি সূত্রে জানা যায়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা পরিদপ্তর ২০১৩ সালের ২৮ জুলাই বাংলাদেশ থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ রপ্তানির ব্যাপারে প্রথম আগ্রহ দেখায়। এরপর ২১ জানুয়ারি এই আগ্রহের সূত্র ধরে ‘বিওএফ কর্তৃক অস্ত্র ও গোলাবারুদ রপ্তানিকরণের লক্ষ্যে মতামত প্রসঙ্গে’ শীর্ষক বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয় বিওএফ।

চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের সমরাস্ত্র উৎপাদনে সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে বিওএফ তার উৎপাদন পরিসর অনেক সম্প্রসারিত করেছে। ২০১২ সালে আন্তর্জাতিক মান সংস্থার (আইএসও) সনদ পেয়েছে বিওএফ। অস্ত্র ও গোলাবারুদ রপ্তানির অনুমোদন পাওয়া গেলে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা যাবে। এ বিষয়ে পরনির্ভরশীলতা কমবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
এ জন্য তৎকালীন রপ্তানি নীতি আদেশ (২০০৯-১২) সংশোধনের অনুরোধও জানায় বিওএফ। নিষিদ্ধ পণ্য তালিকায় অস্ত্র থাকার কথা উল্লেখ করেও বিওএফ বলেছে, শর্ত সাপেক্ষে রপ্তানিবিষয়ক যে ধারাটি রপ্তানি আদেশে রয়েছে, সেটি শিথিল করে অস্ত্র রপ্তানির অনুমতি দেওয়া যায়।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, অস্ত্র রপ্তানির জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় রপ্তানি নীতি আদেশের ২.৩ ধারা সংশোধনের উদ্যোগও নিয়েছে। ‘রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ শিথিল করার ক্ষমতা’ শিরোনামের এই ধারায় বলা হয়েছে, ‘উপযুক্ত কারণ দেখিয়ে সরকার পরিশিষ্ট-১-এ বর্ণিত কোনো নিষিদ্ধ পণ্য রপ্তানির অনুমতি প্রদান করতে পারবে। এ ছাড়া, সরকার বিশেষ বিবেচনায় কোনো পণ্য রপ্তানি, রপ্তানি-কাম-আমদানি অথবা পুনঃ রপ্তানির অনুমতিপত্র জারি করতে পারবে।’

বিদ্যমান রপ্তানি নীতি আদেশের পরিশিষ্ট-১-এ রপ্তানি নিষিদ্ধ পণ্যের তালিকা দেওয়া রয়েছে। পরিশিষ্টের ৮.৬ অনুযায়ী ‘আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ ও সংশ্লিষ্ট উপকরণ’ রপ্তানি নিষিদ্ধ। পরিশিষ্ট-২-এ শর্ত সাপেক্ষে রপ্তানি পণ্যের তালিকা দেওয়া রয়েছে, সেখানেও অস্ত্র ও গোলাবারুদ নেই।
এতে আরও বলা হয়েছে, রাসায়নিক অস্ত্র (নিষিদ্ধকরণ) আইন, ২০০৬-এর তফসিল ১, ২ ও ৩-এ বর্ণিত রাসায়নিক দ্রব্যাদি উক্ত আইনের ৯ ধারার বিধান মোতাবেক রপ্তানি নিষিদ্ধ বা রপ্তানিযোগ্য হবে।
রপ্তানি আদেশ সংশোধনে বাণিজ্যসচিব মাহবুব আহমেদের তৈরি করা একটি সারসংক্ষেপ অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে উপস্থাপনের অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে গত ১০ মার্চ এ বিষয়ে অনুমোদন দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। যুগ্ম সচিব এ কে মফিজুল হক স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘অস্ত্র গোলাবারুদ রপ্তানির সময় দেশের অভ্যন্তরে পরিবহনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা প্রদানের লক্ষ্যে এ মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তি জানানো হলো।’
এ অনাপত্তির কথা সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, পুলিশের মহাপরিদর্শক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ঢাকা কাস্টম হাউসের কমিশনার এবং হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালককে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক সেনাপ্রধান কে এম সফিউল্লাহ বলেন, অস্ত্র ও গোলাবারুদ রপ্তানি দেশের অর্থনীতির প্রসারের জন্য ইতিবাচক হবে। তবে এমন কোনো দেশে রপ্তানি করা যাবে না, যারা সন্ত্রাসের সঙ্গে যুক্ত।

আরেক সাবেক সেনাপ্রধান মাহবুবুর রহমান বলেন, অস্ত্র রপ্তানি করলে বন্ধুপ্রতিম দেশে করা উচিত। নইলে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, গাজীপুরের জয়দেবপুরে অবস্থিত সমরাস্ত্র কারখানাটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু ১৯৭০ সালে। সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ পরিচালিত এই কারখানা মুক্তিযুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ১৯৮২ সালে এর আধুনিকায়নের কাজ শুরু হয়। বর্তমানে পাঁচটি কারখানা পরিচালনা করছে বিওএফ। চীন, অস্ট্রিয়া, অস্ট্রেলিয়া, বেলজিয়াম, জার্মানি ও ইতালির প্রযুক্তি সহায়তায় বিওএফ বর্তমানে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ সংস্থা।

সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ভারত ও পাকিস্তান অস্ত্র-গোলাবারুদ রপ্তানি করে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিলে বাংলাদেশ হবে সার্কভুক্ত দেশের মধ্যে তৃতীয় অস্ত্র রপ্তানিকারক দেশ।
বিশ্বের সব দেশের ওপরই বিশ্বব্যাংক প্রতিবছর ‘বিশ্ব উন্নয়ন নির্দেশক: সামরিক ব্যয় ও অস্ত্র স্থানান্তর’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ প্রথম অস্ত্র রপ্তানি করে চার কোটি ডলার আয় করে। এর আগে বা পরে অস্ত্র বা গোলাবারুদ রপ্তানির কোনো উদাহরণ খুঁজে পাওয়া যায়নি।

শীর্ষ ১০ অস্ত্র রপ্তানিকারক: স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এসআইপিআরআই) অস্ত্র উৎপাদন, রপ্তানি ও আমদানি নিয়ে সমীক্ষা করে। গত মার্চে ‘ট্রেন্ডস ইন ইন্টারন্যাশনাল আর্মস ট্রান্সফার’ শীর্ষক সমীক্ষা অনুযায়ী, বিশ্বের শীর্ষ ১০ অস্ত্র রপ্তানিকারক দেশ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, জার্মানি, চীন, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, স্পেন, ইউক্রেন, ইতালি ও ইসরায়েল।

– অস্ত্র-গোলাবারুদ রপ্তানি করতে চায় বাংলাদেশ




অস্ত্র ও গোলাবারুদ রপ্তানি বিষয়ক তথ্য 




বাংলাদেশে হোক ড্রোন শিল্পের বিকাশ

“আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে ঢাকার পুলিশও পিছিয়ে থাকছে না। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা ও ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে নজরদারির উপকরণ হিসেবে ঢাকা মহানগর পুলিশে (ডিএমপি) চালকবিহীন বিমান বা ড্রোন সংযুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।
ওই প্রক্রিয়ার প্রাথমিক ধাপ হিসেবে আজ বুধবার ডিএমপি সদর দপ্তরে দেশের চার উদ্ভাবকের তৈরি করা একটি ড্রোন পরীক্ষামূলকভাবে ওড়ানো হয়। সদর দপ্তরের সামনের বাগানে দূর নিয়ন্ত্রিত চার পাখাওয়ালা সরাসরি মাটি থেকে উড়তে ও নামতে সক্ষম ওই ড্রোনটির (কোয়াড কপ্টার) পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন দেখেন ডিএমপি কমিশনার বেনজীর আহমেদসহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
বাংলাদেশের চার যুবকের গড়ে তোলা কোম্পানি অ্যারো রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ এই ড্রোনটি বানিয়েছে। বুয়েট থেকে পাশ করা খায়রুজ্জামান বিপ্লব, শাহনেওয়াজ ভুঁইয়া, আজিজুল ইসলাম এবং খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য পাশ করা আব্দুল্লাহ আল মামুন ওই কোম্পানির উদ্যোক্তা।
১০ মিনিটের পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন দেখার পরে ডিএমপি কমিশনার বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘নিরাপত্তার জন্য ডিএমপিতে অনেকগুলো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও উপকরণ আমরা সংযুক্ত করেছি। কিছুদিন আগে মোবাইল কমান্ড কন্ট্রোল সেন্টার যুক্ত হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় আমরা ডিএমপিতে চারটি ড্রোন যুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছি। এই ধরনের কোয়াটো কপ্টার ডিএমপিতে প্রয়োজন রয়েছে।’
এদিকে ড্রোনের উদ্যোক্তারা জানান, ডিএমপিতে প্রদর্শিত যানটির নাম তাঁরা দিয়েছেন বাংলা ড্রোন। এতে লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি শক্তির উত্স হিসেবে ব্যবহার করা হয়। বর্তমান অবস্থায় বাংলা ড্রোন একটানা সর্বোচ্চ ২৫ মিনিট আকাশে উড়তে পারে। এটির ওজন প্রায় দেড় কেজি। এটি আরো এক কেজি পরিমাণ ওজন বহন করতে পারে। তবে ডিএমপির চাহিদা অনুযায়ী আরো উন্নত বৈশিষ্ট্যের যান বানানো সম্ভব। আর ঘুড়ি-১ নামে আরেকটি কোয়াড কপ্টার নির্মাণাধীন আছে। এটি সর্বোচ্চ তিন কেজি ওজন বহন করতে পারবে।
এ বিষয়ে পুলিশ কমিশনার বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘এ দেশীয় উদ্যোক্তাদের উত্সাহিত করাও একটা অন্যতম লক্ষ্য।’ দেশীয় প্রযু্ক্তিতে তৈরি করা মোবাইল কমান্ড সেন্টারের উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটি তৈরি করতে বিদেশের তুলনায় তিন ভাগের এক ভাগ খরচ হয়েছে। আমরা নিচ থেকে দেখেছি, এবার উপর থেকে দেখতে চাই। ইতিমধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে। আমরা যাচাই-বাছাই করে দেখছি।’
উদ্যোক্তা শাহনেওয়াজ ভুঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, দুই বছর আগে প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিতে তাঁরা ড্রোন নিয়ে গবেষণা করছেন। গতকাল প্রদর্শনীর মূল উদ্দেশ্য ছিল ডিএমপি ড্রোনে কী ধরণের বৈশিষ্ট্য চায়, তা নির্ধারণ করা। যেমন: এই ড্রোনের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, ক্যামেরা বা অন্যান্য পর্যবেক্ষণযন্ত্র ধারণ ক্ষমতা, একনাগাড়ে চলার ক্ষমতা ইত্যাদি ডিএমপির চাহিদার ওপরে নির্ভর করবে। তিনি বলেন, ‘এমনিতে এই ধরণের কোয়াড কপ্টার কম্পিউটার থেকে বেতারের মাধ্যমে খুব সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এর গতিপথও নির্দিষ্ট করে দেওয়া যায়, যাতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি এলাকা পর্যবেক্ষণ করে আবার আগের জায়গায় ফিরে আসতে পারে।’
শাহনেওয়াজ বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি। ডিএমপি এই ড্রোন নিলে তাঁরাই হবে আমাদের প্রথম গ্রাহক।’
ডিএমপির জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, ‘ড্রোনের কী কী বৈশিষ্ট্য থাকতে হবে তা চার উদ্যোক্তা প্রকৌশলীকে বলা হয়েছে। তাঁরা গবেষণা করে জানালে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
পুলিশ কর্মকর্তারা আরও জানান, এই উড়োযানে শক্তিশালী লেন্সসহ ক্যামেরা বহনক্ষমতা, সহজ নিয়ন্ত্রণ, একনাগাড়ে অনেকক্ষণ ওড়ার ক্ষমতাসহ বেশ কিছু বৈশিষ্ট্যের কথা প্রকৌশলীদের জানানো হয়েছে।
অ্যারো রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশের আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আমরা ডিএমপির সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছি। বিষয়টি আমরা গবেষণা শুরু করেছি। পরে আর্থিক ব্যয় ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে আবারও কথা বলব।’

এর আগে ২০১২ সালের এপ্রিল মাসে বর্ষবরণের নিরাপত্তা মহড়ায় প্রথমবারের মতো একটি বোমা অপসারণকারী রোবটের ব্যবহার করে ডিএমপি। সম্প্রতি যুক্ত হয় মোবাইল কন্ট্রোল।”

ড্রোন দিয়ে নজরদারি করবে ঢাকার পুলিশ 



“বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মনুষ্যবিহীন বিমান তৈরির চেষ্টা নিয়ে সারা দেশে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যেই নবীন গবেষকদের ‘নিয়ম’ মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী।
বৃহস্পতিবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ ধরনের ‘পরীক্ষামূলক ড্রোন বা রিমোট কন্ট্রোল চালিত বিমান/হেলিকপ্টার’ ওড়ানোর আগে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ও বিমান বাহিনীর অনুমোদন নিতে হবে।

আইএসপিআর বলছে, বাংলাদেশের আকাশসীমায় সব ধরনের বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হয় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের বিধি এবং বিমান বাহিনীর নির্ধারিত নিয়ম মেনে।

ফলে ‘নির্ধারিত আকাশ পথগুলো’ ছাড়া অন্য স্থানের আকাশে এসব ড্রোন বা রিমোট কন্ট্রোল চালিত হালকা বিমান ওড়ালে তা সামরিক-বেসামরিক উড়োজাহাজের নিরাপত্তার জন্য ‘মারাত্মক ঝুঁকি’ সৃষ্টি করতে পারে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

“বাংলাদেশের আকাশসীমা রক্ষার গুরু দায়িত্ব বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর উপর অর্পিত বিধায় বাংলাদেশের আকাশে যে কোনো ধরণের উড্ডয়নের ব্যাপারসমূহ বিমান বাহিনী কর্তৃপক্ষের অবহিত হওয়া অত্যাবশ্যক।”

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের ফ্লাইট সেফটি ও রেগুলেশনস বিভাগের পরিচালক এস এম নাজমুল আনাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, যে কোনো ধরনের ‘ফ্লাইং মেশিন’ আকাশে ওড়াতে গেলে আগে তাদের অনুমতি নেয়ার নিয়ম।

“যেগুলো খেলনা ফ্লাইং অবজেক্ট, ৫ বা ১০ ফুট ওপরে ওঠে- সেগুলোর কথা আলাদা। কিন্তু যেটাকে ড্রোন বলা হচ্ছে- সেটি আরো বড়, আরো ক্ষমতাশালী। হয়তো ক্যামেরাও লাগানো রয়েছে, এগুলো ১০০ থেকে ২০০ ফুট উঠতে পারে। এগুলোর ক্ষেত্রে অবশ্যই অনুমতি নিতে হবে।”

পরীক্ষামূলক উড্ডয়নেও অনুমতি লাগবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “অনেকেই না জেনে ওড়াচ্ছেন। হয়তা তারা নিয়মই জানেন না। তবে বিষয়টি আমাদের জানা থাকতে হবে। তা না হলে হয়তো সেই সময় সেই দূরত্বে একটি লো-ফ্লাইং হেলিকপ্টার উড়ে গেল, তখন কি হবে?”

– ‘ড্রোন’ ওড়াতে অনুমতি লাগবে


বাংলাদেশে বিদেশীদের বিনিয়োগে বাঁধা দূরীকরণ

নাগরিক শক্তি দেশী ব্যবসায়ীদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে দেশে শিল্পের বিকাশে বিদেশী বিনিয়োগের পথে বাঁধাগুলো দূর করতে সম্ভাব্য সবরকম পদক্ষেপ নেবে। 

আমরা সরকারকে বিদেশী বিনিয়োগের পথে যুক্তিসংগত বাঁধাগুলো দূর করার লক্ষ্যে যথাযথ উদ্যোগ নিতে আহ্বান জানাই।

“সস্তা শ্রম ও ইউরোপসহ উন্নত দেশগুলোতে জিএসপি সুবিধার হাতছানিতে ছুটে আসা বিদেশি ব্যবসায়ীদের বিমুখ হতে সময় লাগে না। বিষয়টি নিয়ে তাঁরা রীতিমতো গবেষণা করেছেন। প্রতিবেদনও তৈরি করেছেন। এই গবেষণা প্রতিবেদন থেকে বিদেশিদের চোখে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ১৩টি বড় বাধার কথা জানা গেছে। তাঁরা এগুলো সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে বলেছেন, এসব বাধা দূর না করা হলে বাংলাদেশ থেকে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা মুখ ফিরিয়ে নিতেই থাকবেন।


বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের বাধাসংক্রান্ত এই গবেষণা প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে জাপান এক্সটারনাল ট্রেড অরগানাইজেশন (জেট্রো), কেআরআই ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন, মিৎসুবিশি ইউএফজে রিসার্চ অ্যান্ড কনসালটিং এবং মুড়ি হামাদা অ্যান্ড মাৎসুমুটু। 

বাংলাদেশে থাকা জাপানি বিনিয়োগকারী এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী বিদেশি উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে এ প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে তারা। জাপানের ট্রেড পলিসি ব্যুরোর দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়াবিষয়ক পরিচালক মিকিও এওকি ও জেট্রোর নয়াদিল্লি কার্যালয়ের ডিরেক্টর অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি রিসার্চার ইচিরো অ্যাবে গতকাল মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমেদের কাছে এ গবেষণা প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। এ সময় বাণিজ্যসচিবকে তাঁরা জানিয়েছেন, আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতা এবং বিজিএমইএর মৌখিক আপত্তির কারণে পোশাক খাতসহ অন্যান্য অনেক খাতে বিনিয়োগ করতে আসা জাপানি ব্যবসায়ীরা ফিরে গেছেন। বাংলাদেশে গাড়ি প্রস্তুতকারী শিল্প প্রতিষ্ঠার আগ্রহের কথাও জানান তাঁরা।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা বাধাগুলো হলো-

১. শিল্প ও সেবাখাতে বিদেশি বিনিয়োগের আইন-কানুন ও অবস্থা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকা। 
২. ইউডি না দেওয়ার মাধ্যমে বিজিএমইএ দ্বারা পোশাক খাতে বিনিয়োগে পরোক্ষ নিষেধাজ্ঞা আরোপ।
৩. কেন্দ্রীয়ভাবে সংশ্লিষ্ট আইন-কানুন ও বিধি-বিধান ইংরেজিতে রূপান্তর না করা। 
৪. বিনিয়োগ বোর্ড শক্তিশালী করে ওয়ান স্টপ সার্ভিস ব্যবস্থা না থাকা। 
৫. জমির ধরন ও মালিকানা নির্ণয়ে জটিলতা। 
৬. বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনুমোদন পেতে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর জটিলতা। 
৭. স্থানীয় বাজারে পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে রাজস্ব বোর্ডে ‘বিক্রয় মূল্য’র নিবন্ধন জটিলতা। 
৮. চলতি মূলধন জোগাতে বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা। 
৯. বৈদেশিক মুদ্রায় অ-বাণিজ্যিক রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে বাধা। 
১০. বন্ডেড ওয়্যারহাউস ব্যবস্থায় স্থানীয় বাজারে পণ্য বিক্রির ব্যবস্থা না থাকা। 
১১. বাজার মূল্যের সঙ্গে তুলনা করে শুল্কারোপ করা, যা প্রকৃত মূল্যের চেয়ে বেশি। 
১২. স্থানীয় জনবল নিয়োগের বাধ্যবাধকতা এবং 
১৩. পিপিপি আইন কার্যকর না হওয়া।”
 
 
 
 
নাগরিক শক্তির অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আরও 

পাকিস্তান ভারতকে ছাড়িয়ে বাংলাদেশ


অর্থনীতির সূচকে পাকিস্তানকে টপকে বাংলাদেশ

“রপ্তানি বাণিজ্যে বাংলাদেশের চেয়ে অনেকটাই পেছনে পড়েছে পাকিস্তান। দুই দেশের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর হিসাবে দেখা যায়, ২০১২-১৩ অর্থবছরে বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের পরিমাণ ২৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে আর পাকিস্তানের রপ্তানির পরিমাণ ২৪ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার। চলতি অর্থবছর শেষে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় পাকিস্তানের চেয়ে আরো অনেক বেশি হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

কেবল রপ্তানি বাণিজ্যই নয়, দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতেও বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা আমদানি-নির্ভরতা অনেকটাই কমিয়েছে, যতটা পারেনি পাকিস্তান। শিল্পের কাঁচামালের জোগানদাতা ও আমদানি-বিকল্প শিল্প কারখানা বিকশিত হওয়ায় শিল্প খাতে বাংলাদেশের আমদানি ব্যয় কমছে। আবার খাদ্য উৎপাদন পাকিস্তান আমলের ৯৬ হাজার টন থেকে বেড়ে তিন কোটি টনে দাঁড়িয়েছে। ফলে খাদ্য আমদানি ব্যয়ও কমেছে। তাই রপ্তানি আয়ে পিছিয়ে থাকা পাকিস্তানের আমদানির পরিমাণও বাংলাদেশের চেয়ে বেশি হয়ে গেছে। গত অর্থবছরে পাকিস্তান ৪৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। সেখানে বাংলাদেশের আমদানি ব্যয়ের পরিমাণ ৩৪ বিলিয়ন ডলার। রপ্তানি আয়ে এগিয়ে থাকার পাশাপাশি আমদানি ব্যয় কমে যাওয়ায় সামগ্রিক বৈদেশিক বাণিজ্যে ঘাটতিও পাকিস্তানের চেয়ে বাংলাদেশের অনেক কম। ২০১২-১৩ অর্থবছরে পাকিস্তানের বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০ বিলিয়ন ডলার। সেখানে বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে ঘাটতি সাত বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের আরেকটি বড় খাত হলো প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স। সেদিক থেকেও পাকিস্তানকে বহু পেছনে ফেলেছে বাংলাদেশ। গত অর্থবছরে প্রবাসীদের কাছ থেকে পাকিস্তান রেমিট্যান্স পেয়েছে ৯ বিলিয়ন ডলার। সেখানে বাংলাদেশের প্রবাসীরা পাঠিয়েছে ১৪ বিলিয়ন ডলার।

এসব সূচকে এত দূর এগিয়ে থাকার প্রভাবটা আরো বেশি স্পষ্ট করে দিয়েছে দুই দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে। গত ১৭ মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ১৯ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। সেখানে তুলনামূলকভাবে বেশি আমদানি ব্যয়ের দেশ পাকিস্তানের রিজার্ভের পরিমাণ ৯ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, একটি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ ওই দেশের কমপক্ষে তিন মাসের আমদানি ব্যয়ের সমান হতে হয়। সেই হিসাবে, পাকিস্তানের রিজার্ভ তার চেয়েও কম। দেশটির তিন মাসের আমদানি ব্যয়ের পরিমাণ ১১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। আর বাংলাদেশের তিন মাসের আমদানি ব্যয় ৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার।

অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশের অগ্রগতির কারণে সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হারও ছাড়িয়ে গেছে পাকিস্তানের প্রবৃদ্ধিকে। গত অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৬.২ শতাংশ আর পাকিস্তানের প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৩.৬ শতাংশ। পাঁচ বছর ধরে বাংলাদেশ কম-বেশি ৬ শতাংশ হারে ধারাবাহিকভাবে প্রবৃদ্ধি অর্জন করে আসছে। সেখানে পাঁচ বছরে পাকিস্তানের গড় জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার বছরান্তে ২.৯ শতাংশ।

অন্যান্য সূচকেও অনেক ক্ষেত্রেই পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশে মাথাপিছু সঞ্চয়ের হার প্রায় ২৮ শতাংশ, সেখানে পাকিস্তানের মাত্র ১৫ শতাংশ। সঞ্চয় কমে গেলে স্বাভাবিকভাবেই একটি দেশের জাতীয় মূলধন বিনিয়োগও কমে যায়। আর এর প্রভাবে জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার কমাটাও স্বাভাবিক।

পরিসংখ্যান ঘেঁটে দেখা গেছে, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানবসম্পদ উন্নয়নেও পাকিস্তানকে হার মানিয়েছে বাংলাদেশ। ‘পাকিস্তান ইকোনমিক সার্ভে ২০১২-১৩’-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১১-১২ অর্থবছরে দেশটির ১০ বছরের বেশি বয়স্কদের মধ্যে শিক্ষিতের হার ৫৮ শতাংশ। আর বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ১৫ বছরের ঊর্ধ্বে বাংলাদেশে শিক্ষিতের হার প্রায় ৬০ শতাংশ। ১০ বছরের বেশি বয়স্কদের হিসাব নিলে এ হার আরো বাড়বে।


পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর ওয়েবসাইটে ‘দুই অর্থনীতির গল্প ১৯৭১-বর্তমান বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের তুলনা’ শিরোনামে ১৯৮০ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে ওই সব সূচকের আগামী কয়েক বছরের সম্ভাব্য অগ্রগতি ও পতনের দিকনির্দেশনাও রয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনীর ওয়েবসাইটটিতে। তুলনামূলক চিত্রে দেখানো হয়েছে যে বিভিন্ন সূচকে পাকিস্তানের অবস্থান বাংলাদেশের চেয়ে নিম্নমুখী। ওয়েবসাইটটিতে দুই দেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার, জিডিপি অনুপাতে সামষ্টিক বিনিয়োগ, সঞ্চয়ের গতি-প্রকৃতি, মূল্যস্ফীতির হার তুলে ধরা হয়েছে। এসব সূচকের প্রতিটিতে বাংলাদেশ পাকিস্তানের চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশের এই অগ্রগতি ও পাকিস্তানের পতনের কারণ সম্পর্কে সাইটটিতে সাধারণ মানুষের মন্তব্য চাওয়া হয়েছে।
কারান নামের এক পাকিস্তানি মতামত দিতে গিয়ে বলেছেন, বাংলাদেশ শিগগিরই পাকিস্তানকে অর্থনৈতিকভাবে পেছনে ফেলবে। বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার ‘নতুন প্রিয় দেশ’ (নিউ ডার্লিং) হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর্যায়ে রয়েছে।

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সভাপতি ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেশ স্বাধীনের আগ পর্যন্ত পশ্চিম পাকিস্তানের শোষণ আর শাসনের কারণে দুর্বল থেকে দুর্বলতর হয়েছিল পূর্ব পাকিস্তানের অর্থনীতি। মূলত পূর্ব পাকিস্তানের আয় পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নয়নকাজে ব্যয় করা হতো। ফলে তখন পশ্চিম পাকিস্তান দ্রুত উন্নত হলেও পূর্ব পাকিস্তান নাজুক হয়ে পড়ছিল। ওই অবস্থা থেকে মুক্তির জন্যই আমরা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। এখন অন্য কারো শোষণ-বঞ্চনা নেই। নিজেদের কর্মকাণ্ডের সুফল আমরা পাচ্ছি। ফলে কেবল পাকিস্তানই নয়, অনেক উন্নয়নশীল দেশের চেয়ে বাংলাদেশ নানা দিক দিয়ে ভালো করছে। গত অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধি ভারতের প্রবৃদ্ধিকেও ছাড়িয়ে গেছে।’ [1]


The economy expanded at an annual rate of 4.7% in the three months to December, down from 4.8% in the previous quarter. [2]



The Gross Domestic Product (GDP) in Bangladesh expanded 6.01 percent in the fiscal year 2012/2013 from the previous year. GDP Annual Growth Rate in Bangladesh is reported by the Bangladesh Bank. From 1994 until 2013, Bangladesh GDP Annual Growth Rate averaged 5.6 Percent reaching an all time high of 6.7 Percent in June of 2011. [3]

সামাজিক সূচকে ভারত পাকিস্তানকে ছাড়িয়ে বাংলাদেশ


References

  1. পাকিস্তানকে টপকে গেছে বাংলাদেশ
  2. India’s economy grows slower than expected
  3. BANGLADESH GDP ANNUAL GROWTH RATE
নাগরিক শক্তির পরিকল্পনা

“ভারতের মাথাপিছু জিডিপি (পিপিপি) $3,991, পাকিস্তানের $3,144, আর বাংলাদেশের $2,083।

বাংলাদেশের জিডিপির মোট আকার – $324.628 বিলিয়ন। ধরা যাক, শীর্ষ দুর্নীতিবাজদের কালো টাকা দেশে ফিরিয়ে এনে বিনিয়োগ করা হল এবং তাতে ১ বছরে পণ্য এবং সেবার আকার বাড়ল $108 বিলিয়ন। তাহলে মাথাপিছু জিডিপি হবে $2,776।

আমাদের হিসাবে মতে ২০১১ সালের শেয়ারবাজার ধ্বসে ৪০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বা প্রায় ৩ লক্ষ কোটি টাকার উপর অর্থ কারসাজির মাধ্যমে সরানো হয়েছে।

কালো টাকা ফিরিয়ে আনতে পারলে এবং দুর্নীতি রুখে দিতে পারলে, সেই সাথে বাবসা-বিনিয়োগ-উদ্যোক্তা-শিল্প বান্ধব পরিকল্পনা হাতে নিয়ে বাস্তবায়ন করতে পারলে মাথাপিছু আয়ের দিক দিয়ে কয়েক বছরে ভারত-পাকিস্তানকে ছাড়িয়ে যাওয়া সম্ভব।” [1]



“জিডিপি প্রবৃদ্ধির হারকে বর্তমান ৬% থেকে যত দ্রুত সম্ভব ১০% এ উন্নীত করা হবে। জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৮% হলে মাথাপিছু আয় দ্বিগুণ হতে ৯ বছর (rough estimate)লাগবে। হার ১০% হলে দ্বিগুণ হতে ৭ বছর (rough estimate) লাগবে। ১২% হলে দ্বিগুণ হতে ৬ বছর লাগবে। {(1+ 0.08)^x = 2, x = 9} {(1.10)^x = 2, x = 7.27} {(1.12)^x = 2, x = 6.12}

মাথাপিছু আয়ের দিক দিয়ে কয়েক বছরে প্রতিবেশী দেশগুলোকে ছাড়িয়ে যাওয়ার লক্ষ্য থাকবে। ভারতের মাথাপিছু জিডিপি (পিপিপি) $3,991, পাকিস্তানের $3,144, আর বাংলাদেশের $2,083; হিসাবটি খুব সহজ। মাথাপিছু জিডিপির দিক দিয়ে পাকিস্তানকে ছাড়িয়ে যেতে দেশে উৎপাদিত মোট পণ্য ও সেবার পরিমাণ দেড়গুণ করতে হবে আর ভারতকে ছাড়িয়ে যেতে দেশে উৎপাদিত মোট পণ্য ও সেবার পরিমাণ দ্বিগুণ করতে হবে। অন্যভাবে বললে, দেশে এখন যেসব প্রতিষ্ঠান আছে, প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠান যদি পণ্য / সেবা উৎপাদন দ্বিগুণ করতে পারে তবে সম্মিলিতভাবে আমরা প্রতিবেশী দেশগুলোকে ছাড়িয়ে যেতে পারবো।” [2]




Bangladesh As An Emerging Country

Bangladesh As An Emerging Country As Identified By International Economic & Financial Research Institutes 


Next Eleven

“The Next Eleven (known also by the numeronym N-11) are the eleven countries – Bangladesh, Egypt, Indonesia, Iran, Mexico, Nigeria, Pakistan, the Philippines, Turkey, South Korea, and Vietnam – identified by Goldman Sachs investment bank and economist Jim O’Neill in a research paper as having a high potential of becoming, along with the BRICs, the world’s largest economies in the 21st century.

The criteria that Goldman Sachs used were macroeconomic stability, political maturity, openness of trade and investment policies, and the quality of education.”

Reference
Next Eleven – Wikipedia

10 New Emerging Countries


The Philippines, Indonesia, Bangladesh and Ethiopia are among 10 countries set to take over as emerging economies from the powerful BRICS nations, a French credit body said.

“After 10 years of frenetic growth” the big 5 emerging economies of Brazil, Russia, India, China and South Africa – the BRICS – “are slowing down sharply,” the French trade credit and insurance group Coface said.

But “at the same time, other emerging countries are accelerating their development,” it said.

Coface broke the 10 new emerging economies it has identified into two groups.

The first comprises Peru, the Philippines, Indonesia, Colombia and Sri Lanka, which it named the PPICS.

They had “strong potential confirmed by a sound business environment,” Coface said.

The second group comprises Kenya, Tanzania, Zambia, Bangladesh and Ethiopia.

But these countries are marked by “very difficult or extremely difficult business environments which could hamper their growth prospects,” Coface said.


Reference

বাজেটে শুল্ক নির্ধারণে অর্থনীতি এবং ব্যবসা-শিল্প বিকাশে সহায়ক চাহিদাগুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হোক



বাজেটে শুল্ক নির্ধারণে দেশের অর্থনীতি এবং ব্যবসা-শিল্প বিকাশে সহায়ক চাহিদাগুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

ব্যবসায়ীদের উপর করের বোঝা কমিয়ে এনবিআরের কর আদায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা উচিত।

নাগরিক শক্তি কর আদায়ে স্বচ্ছতা আনবে। বাজেটে শুল্ক নির্ধারণে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেবে। যেমন সিগারেট আমদানির উপর শুল্ক বাড়ানো, কম্পিউটার এবং অন্যান্য তথ্যপ্রযুক্তি, ব্যবসার কাঁচামাল ইত্যাদি পণ্যের আমদানির উপর শুল্ক কমানো ইত্যাদি। [1]

“তিন বছর ধরে একই দাবি
বৈদ্যুতিক যন্ত্র ও যন্ত্রাংশ তৈরির মূল কাঁচামাল ‘ইউরিয়া রেজিনস’ আমদানিতে শুল্ক ২৫%। একই শুল্কে আমদানি করা যায় সম্পূর্ণ তৈরি বৈদ্যুতিক যন্ত্রও
ফটো স্টুডিওগুলোর দাবি আরোপিত ৪.৫% মূসক প্রত্যাহার
রং উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় দাবি ৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার

‘‘ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর অনেক দাবি বাস্তবায়নযোগ্য থাকে। কিন্তু যেহেতু তাদের অনেকেই প্রভাব বিস্তার করতে পারে না, তাই তাদের দাবিও পূরণ হয় না
আবদুল হক
পরিচালক, এফবিসিসিআই

সূত্র – প্রাক-বাজেট ২০১৪-১৫: দাবি পূরণ হয় না, পরিবর্তনও নেই

রেফরেন্স

তরুণ উদ্যোক্তাদের তথ্যের অভাব পূরণে উইকিধর্মী সাইট

আমাদের দেশের তরুণ ছাত্রছাত্রীরা উদ্যোক্তা ক্ষেত্রে বিশ্ব প্রতিযোগিতা থেকে পুরস্কার জয় করে আনছে। দেশে তরুণ উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে “চাকরি খুঁজব না চাকরি দেবো”  [2]থেকে শুরু করে নানারকম উদ্যোগ ও শুরু হয়েছে।

পুরোপুরি নিজের একটা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান – অনেক তরুণের কাছে স্বপ্নের মত একটা ব্যাপার!

আমরা সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে এগিয়ে আসতে পারি।

কিভাবে?

তরুণ উদ্যোক্তারা তথ্যের অভাব প্রায়ই অনুভব করেন।

ব্যবসা করবো, কিন্তু কোন সেক্টরে করা যায়? ওই সেক্টরের সম্ভাবনা কেমন? বাজারে চাহিদা? সমস্যা কি কি হতে পারে? ঋণ কোথা থেকে পাওয়া যাবে? দ্রুত অনুমোদন পেতে কি করা যায়? মারকেটিং কিভাবে করলে বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানো যাবে?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর পেতে সাহায্য করার জন্য আমরা একটা উইকিধর্মী ওয়েবসাইট চালু করতে পারি। উইকিপিডিয়ার মতই। এক একটা সেক্টরে ব্যবসা শুরু করার সমস্ত তথ্য আলাদা আলাদাভাবে গোছানো থাকবে। যে কেউ তথ্য যোগ করতে পারবে (চাইলে নিজের নাম, পরিচয় ও জুড়ে দিতে পারবে) এবং অ্যাডমিনরা পরবর্তীতে এডিট করবেন। পাশাপাশি প্রশ্ন-উত্তরের জন্য একটা আলাদা অংশ রাখা যেতে পারে (Stack Overflow বা Quora এর আদলে) – কেউ প্রশ্ন করবেন, অন্যরা উত্তর দেবেন। আমাদের যাদের বইয়ে পড়া জ্ঞান বা বাস্তব অভিজ্ঞতা আছে আমরা আমাদের জ্ঞান অভিজ্ঞতা শেয়ার করব।

যেমন ধরা যাক, কেউ হয়ত একটা ওয়েব সাইট চালু করতে চাইছে – তথ্যবহুল, সংবাদ বা কোন সার্ভিস ভিত্তিক। আমাদের দেশে bdjobs.com, prothom-alo.com এবং অন্যান্য খবরের ওয়েবসাইট উদাহরণ হিসেবে আছে। এরা ব্যবহারকারিকে তথ্য বা সেবা (যেমন চাকরির খবর জানা আর ঘরে বসে চাকরির জন্য সিভি পাঠানো) দেয়। অনেক অনেক ব্যবহারকারি এদের ওয়েবসাইট ভিসিট করে। আর এরা অর্থের বিনিময়ে নিজেদের ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দেওয়ার সুযোগ দেয়। লাভের অঙ্কটা কেমন? আমাদের দেশের কোটি মানুষ কিন্তু এখন ইন্টারনেট ব্যবহার করে। কয়েক বছর আগেই bdjobs.com এর বিজ্ঞাপন এবং অন্যান্য খাত থেকে বছরে আয় ৬ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। [3] এবার আমরা সবচেয়ে জনপ্রিয় বাংলাদেশী ওয়েবসাইট প্রথম আলোর আয় কল্পনা করি! [4]

এর মাঝে নিশ্চয় অনেকেই ভাবা শুরু করেছেন, কি নিয়ে ওয়েব সাইট বানানো যায়। এই সেক্টরের সব তথ্য একসাথে থাকলে দারুণ হত না?

উৎসাহীদের জন্যই উইকিধর্মী ওয়েব সাইটটা জরুরি।

মজার ব্যাপার হল – উদ্যোক্তাদের জন্য এই উইকিধর্মী ওয়েবসাইট নির্মাণই হতে পারে আপনার উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে প্রথম ধাপ! আমরা আপনার মতই কাউকে খুঁজছি!

অ্যাডভারটাইয থেকে আয় আসা শুরু করলে আরও সেবা চালু করা যায়। যেমন, ধরা যাক, কেউ চাইলে ফোন করে যাতে কোন সেক্টর সংক্রান্ত ব্যবসার তথ্য জেনে নিতে পারে সেই সেবা।

ডেভেলাপমেন্ট অনেক বেশি কঠিন মনে হচ্ছে? এখন কিন্তু Open Source হিসেবেই অনেক কিছু পাওয়া যায়। যেমন ধরা যাক, MediaWiki ব্যবহার করে Wikipedia র মত একটা ওয়েবসাইট কিছুক্ষণের মাঝেই দাঁড় করিয়ে ফেলা যায়! [5] 

ব্যবহার শিখে নিলে বন্ধুদের চমকে দিতে পারবেন, উইকিপিডিয়ার মত একটা সাইট চাও? আমি কয়েক মিনিটে দাঁড় করিয়ে ফেলতে পারবো!

আসলে মধ্যস্বত্ব ভোগীর (Middle-men) ধারণা যেখানেই আছে – আইসিটি (ICT) সেখানেই কাজে লাগানো যেতে পারে। যেমন, আমাদের কৃষকদের ফসল অনেক মধ্যস্বত্ব ভোগীর হাত ঘুরে আমাদের কাছে পৌঁছে। এতে একদিকে দাম বেড়ে যায়। আবার অন্যদিকে কৃষকের লাভ কমে যায়। [6] আমাদের কোন তরুণ হয়ত, মোবাইল ফোন দিয়ে এর একটা সমাধান বের করে ফেলবে!

আমাদের উইকিধর্মী ওয়েবসাইটে আইটি ব্যবসার পাশাপাশি মুরগির ফার্ম থেকে শুরু করে এক্সপোর্ট ইম্পোরট পর্যন্ত সব ধরণের ব্যবসার সব রকম খুঁটিনাটি তথ্য থাকবে।

নেক্সট ইলেভেনে থাকা বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ হয়ে উঠবে – নাগরিক শক্তি সেই লক্ষ্যে কাজ করবে। আর সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে তরুণ উদ্যোক্তাদেরই অগ্রগণ্য ভূমিকা পালন করতে হবে।


তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য তথ্য
[1] Yunus Social Business
[2] চাকরি খুঁজব না চাকরি দেবো
[3] Job site plans to widen reach
[4] Prothom Alo Advertising Rates

[5] MediaWiki
[6] আলুচাষিদের মাথায় হাত, লাভ ব্যবসায়ীদের