মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে স্বৈরতান্ত্রিক চেতনা

বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার ছিল না বলে, গনতান্ত্রিক অধিকার ছিল না বলে, ৭০ এর নির্বাচনে জয়ী হয়েও আমরা সরকার গঠন করতে পারিনি বলে, ৭১ এ “ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে” তুলে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম। আজ যে দলটি জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা তো দূরের কথা – ন্যায্য অধিকার কেড়ে নিয়েছে এবং একটি তামাশার নির্বাচনের মাধ্যমে গনতন্ত্রকে ভূলুণ্ঠিত করেছে, সেই দলটি কিভাবে দাবি করে, তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করছে?

আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখার মত যে প্রশংসনীয় কাজটি করেছে তা হল মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করিয়েছে। কিন্তু এই আওয়ামী লীগকে এবং আওয়ামী লীগ সভানেত্রীকে আমরা ৯৬ এর নির্বাচনের আগে জামায়াতে ইসলামী এবং মানবতাবিরধী যুদ্ধাপরাধী গোলাম আজমের সাথে দহরম মহরম দেখেছিলাম।

বিদেশী শক্তিকে তুষ্ট করতে যারা দেশের স্বার্থ বিরোধী চুক্তি করতে দ্বিধা করে না তাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দাবি আজ বড় হাস্যকর শোনায়। (জনসমর্থনহীন একদলীয় স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে বিদেশী শক্তির সমর্থনের মুখাপেক্ষী হতে হয়।)

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার দাবি এবং আওয়ামী লীগের বিরোধিতাকারি সবাইকে যুদ্ধাপরাধীদের দোসর এবং সাম্প্রদায়িক হিসেবে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা চালানো ভোটার টানতে আওয়ামী লীগের মার্কেটিং স্ট্রাটেজি ছাড়া কিছুই না। যিনি এমন ব্যবসা চালু করেছেন যেখান থেকে মালিক শুধুমাত্র প্রাথমিক বিনিয়োগ তুলে নেওয়া ছাড়া কোন লভ্যাংশ নেবেন না এমন আদর্শ ব্যক্তিকেও “ঘুষখোর” হিসেবে আওয়ামী লীগ মিথ্যা প্রোপাগান্ডা চালিয়েছে।

ক্ষমতার লোভে দেশ বিকিয়ে দিয়ে আসবেন না – এতটুকু আস্থাও আমরা রাখতে পারছি না।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দাবিদার দলটি আজ আইন শৃঙ্খলা বাহিনী, বিচার বিভাগ তথা সমগ্র প্রশাসনকে সম্পূর্ণভাবে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে স্বৈরতান্ত্রিক চেতনাকে ধারণ করছে।

“মুক্তিযুদ্ধ নামাবলী গায়ে দিলেই যা খুশি তাই করবার এখতিয়ার তৈরি হয় না। ১৯৭১ এ মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিলো স্বৈরতন্ত্র সাম্প্রদায়িকতা আধিপত্য আর বৈষম্যের বিরুদ্ধে, মানুষের মুক্ত একটি ভূখন্ডের জন্য। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তাই কখনোই চোর ডাকাত আর সন্ত্রাসীদের কাছে জিম্মি হতে পারে না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মানে কখনোই মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার বিসর্জন দেওয়া হতে পারে না। গণতন্ত্রের সঙ্গে কখনো মুক্তিযুদ্ধের চেতনা-র বিরোধিতা হতে পারে না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কখনোই নিপীড়ন, প্রতারণা, বর্বরতা, বৈষম্য, আধিপত্য সমর্থন করতে পারে না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কখনোই অপরাধীদের অপরাধের বর্ম হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের চিহ্ন ব্যবহার অনুমোদন করতে পারে না।”

– আনু মুহাম্মদ, অর্থনীতিবিদ ও অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

আরওঃ

রেফরেন্স
১. ৭০ এর সাধারণ নির্বাচন
২. Autocracy বা স্বৈরতন্ত্র
৩. Jamaat-e-Islami Pakistan

ফলোআপ
দেশ বিকিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া কি তবে শুরু হয়ে গেছে?
ক্ষমতার লোভে কি আমরা কি টেস্ট খেলার অধিকার হারাবো?
“The reality for the BCB is that we cannot afford to go against the BCCI,” the BCB director said. “..majority in the board believe that favouring India would be the best option for us.”
আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান সাবেরের

আওয়ামী লীগ জানে, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে তারা কখনই ক্ষমতায় আসতে পারবে না। কাজেই মরিয়া হয়ে ক্ষমতা ধরে রাখতে বিদেশী শক্তিকে তুষ্ট করতে একদিকে তারা দেশ বিকিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া আরও চরমভাবে শুরু করবে এবং অন্যদিকে জনগণের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনসহ সংবিধান লঙ্ঘন করবে।

নাগরিক শক্তি জনগণকে নিয়ে দেশের জনগণ, সম্পদ এবং সর্বোপরি সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবে।  

নাগরিক শক্তির নির্বাচনী ইশতেহারের রূপরেখা

নাগরিক শক্তির নির্বাচনী ইশতেহারে যেসব বিষয় থাকবেঃ

  1. শিক্ষা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যেকটা মানুষ তার সুপ্ত ক্ষমতাকে জাগিয়ে তুলে এক একটা বিশাল শক্তি হয়ে উঠতে পারে শিক্ষার মাধ্যমে। জ্ঞান আর মেধা দিয়ে জীবনে সবকিছু অর্জন করা যায়। যে কেউ প্রায় যে কোন বয়সে সঠিকভাবে চেষ্টা করলে যে কোন কিছু হয়ে উঠতে পারে – এই বিশ্বাসটা সবার মধ্যে জাগিয়ে তুলতে হবে। মানুষগুলোকে জাগিয়ে তুলতে পারলে আর কিছু লাগবে না। (শিক্ষা শুধুমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না, আমরা চাইলে জীবনের প্রতিটা মুহূর্তে চারপাশ থেকে শিখতে পারি।) ইতিহাসের যে কোন সময়ের তুলনায় নিজেকে উপরে তোলার সুযোগও সবচেয়ে বেশি আমাদের প্রজন্মের। আধুনিক প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন আমাদের হাতে দিয়েছে অনন্য সব আবিষ্কার – মানুষ এখন যে কোন প্রান্তে বসে যে কোন কিছু শিখতে পারে, যে কারও সাথে যোগাযোগ করতে পারে, কোটি মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে, কাজ করতে পারে, পারে আয় রোজগার করতে।
  2. দেশের ৫০ ভাগ মানুষের বয়স ২৩ বা তার কম। এই বিশাল তরুণ প্রজন্মকে, যারা কর্মক্ষেত্রের জন্য নিজেদের তৈরি করছে, তাদের অগ্রাধিকার দিয়ে গড়ে তোলা হবে (এবং সাথে বাবসা বান্ধব, বিনিয়োগ বান্ধব, উদ্যোক্তা বান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা লক্ষ লক্ষ তরুনের জন্য) যাতে তারা নিজেদেরকে এবং দেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। (একটা সামগ্রিক পরিকল্পনা – কত হাজার তরুনের শিক্ষা, দক্ষতা কোথায়, তাদের কর্মসংস্থান / উদ্যোগ কিরকম হতে পারে।)
  3. বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূচকে (মাথাপিছু আয়, জিডিপি প্রবৃদ্ধি, দুর্নীতি হ্রাস ইত্যাদি) উন্নতিকে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে নেওয়া হবে। কিছু সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রার উল্লেখ থাকবে ইশতেহারে। বিভিন্ন সূচকে উন্নতিকে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে নিয়ে কর্ম পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হবে – 
    • জিডিপি প্রবৃদ্ধির হারকে যত দ্রুত সম্ভব ৮% এ উন্নীত করা হবে এবং লক্ষ্য অর্জিত হলে ১০% কে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে নেওয়া হবে।
    • মাথাপিছু আয়ের দিক দিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোকে ছাড়িয়ে যাওয়ার লক্ষ্য থাকবে।
    • দুর্নীতি দমন সূচকে ব্যাপক উন্নতি আনা হবে।
    • অপরাধ শক্তভাবে দমন করে বিভিন্ন অপরাধ দমন সূচকে উন্নতি ঘটানো হবে।
    • বিভিন্ন সামাজিক সূচকে (যেমন শিক্ষা, শিশু মৃত্যু হার, আয়ুষ্কাল ইত্যাদি) লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা হবে।
    • নিজেদের মানদণ্ডে নিজেদের সাফল্য, অপরের বার্থতার প্রচার নয়, বরং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডই সাফল্য – বার্থতার মূল্যায়ন করবে।
  4. বাবসা বান্ধব, বিনিয়োগ বান্ধব, উদ্যোক্তা বান্ধব, শিল্প বান্ধব নীতিমালা প্রনয়ন এবং বাস্তবায়ন।
    • অর্থনীতিবিদদের নেতৃত্বে “ন্যাশনাল ইকোনমিক অ্যান্ড প্ল্যানিং কাউন্সিল” গঠন। অর্থনীতিবিদদের নেতৃত্বে এই কাউন্সিলে যোগ দেবেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, শিল্প বাবসায়ি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি বাবসায়ি, প্রকৌশলী, নগর পরিকল্পনাবিদ, স্থপতি, পরিসংখ্যানবিদ, কৃষক এবং শ্রমিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
    • উন্নত অবকাঠামো তৈরি + জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ + রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা > অধিকতর বিনিয়োগ > জিডিপি প্রবৃদ্ধি।
    • দেশের জনগণকে ভয় দেখিয়ে, “জ্বালাও – পোড়াও” চালিয়ে, জানমালের ক্ষতি করে অর্থনীতির জন্য চরমভাবে ক্ষতিকর হরতাল পালনে কেউ যাতে বাধ্য করতে না পারে – সে লক্ষ্যে কঠোর বাবস্থা।
    • উদ্যোক্তাদের নতুন বাবসা শুরু করার প্রক্রিয়া সহজ করার জন্য বাবস্থা গ্রহণ – সমস্যাগুলো সমাধান করা। উদ্যোক্তাদের জন্য ভেঞ্চার ক্যাপিটাল, ইঙ্কিউবেটার ফার্ম প্রতিষ্ঠায় সহায়তা
    • আইসিটি খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে এই খাতের বিকাশে সামগ্রিক পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন। দক্ষ আইসিটি পেশাজীবী, উদ্যোক্তা গড়ে তোলা, সারা দেশে দ্রুতগতির ইন্টারনেট ছড়িয়ে দেওয়া, আইসিটি ভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলতে দূরদর্শী পরিকল্পনা হাতে নেওয়া।
    • বিভিন্ন সম্ভাবনাময় শিল্প (শিপ বিল্ডিং, পর্যটন শিল্প প্রভৃতি) কে চিহ্নিতকরণ, অগ্রাধিকার দিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ, ক্ষেত্র সংশ্লিষ্ট সমস্যা সমাধান এবং বাস্তবায়ন।
    • বাংলাদেশকে বিভিন্ন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির অফশোরিং এর কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন – অবকাঠামো, জ্বালানি, দক্ষ কর্মী, কূটনৈতিক উদ্যোগ, বিশ্বব্যাপী মার্কেটিং।
    • ক্ষুদ্র এবং মাঝারি শিল্পের বাবসায়িদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া
    • শেয়ারবাজার নিয়ে কেউ যাতে কারসাজি করতে না পারে সেই লক্ষ্যে বাবস্থা গ্রহণ। শেয়ার বাজারে বিনিয়োগকারিদের আস্থা ফিরিয়ে আনা। কোম্পানির মূল্যমান নির্ধারণে আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করা।
    • ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর বাবস্থা। ব্যাংক পরিচালনায় স্বচ্ছতা আনা। দেশের ফাইনান্সিয়াল সিস্টেমকে ঢেলে সাজানো।
    • বিভিন্ন সমস্যা (যেমন ঢাকার যানজট সমস্যা) নিরসনে সৃজনশীল কার্যকরী উদ্যোগ নেওয়া।
    • শিল্পের বিকাশে (যেমন – শুল্ক মুক্ত প্রবেশাধিকার ইত্যাদি) কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করা, কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া।
    • দেশের প্রকৌশলীরা বিভিন্ন শিল্পে উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডে আত্মনিয়োগ করবেন। তাদের উন্নত প্রশিক্ষনের বাবস্থা করা।
  5. দীর্ঘ মেয়াদি এবং স্বল্প মেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়ে বাজেট এ বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ দেওয়া এবং বরাদ্দকৃত অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিতকরণ – বিভিন্ন মন্ত্রনালয়, স্থানীয় সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। কর আদায়ে স্বচ্ছতা আনা। শুল্ক নির্ধারণে বেক্তি স্বার্থ নয়, বরং জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া। যেমন সিগারেট আমদানির উপর শুল্ক বাড়ানো, কম্পিউটার এবং অন্যান্য তথ্যপ্রযুক্তি পণ্যের আমদানির উপর শুল্ক কমানো ইত্যাদি। কাস্টমসের দুর্নীতি বন্ধ করা। 
  6. বিভিন্ন মন্ত্রানলয় এবং স্থানিয় সরকারে বরাদ্দকৃত অর্থ পরিকল্পনা মাফিক ব্যয় নিশ্চিত করার জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া, প্রশিক্ষণ দেওয়া। অনিয়ম তদারক করতে দুর্নীতি দমন কমিশনকে সর্বাত্মক সহায়তা। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সচিবালয়ের আধুনিকায়ন, কার্যকারিতা বাড়ানো।   
  7. শিক্ষাবিদদের পরামর্শের ভিত্তিতে শিক্ষার্থী – অভিভাবকদের মতামত নিয়ে প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত শিক্ষাবাবস্থার প্রতিটি পর্যায়ে আমূল সংস্কার আনা হবে। 
    • শিক্ষার্থীরা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিজেরা শিখবে। 
    • পরীক্ষা পদ্ধতি, মূল্যায়ন পদ্ধতিতে সংস্কার আনা হবে। সৃজনশীল এবং বাস্তব জীবনে প্রয়োগ নির্ভর শিক্ষাবাবস্থা গড়ে তোলা হবে। 
    • শিক্ষার্থীরা মেধাভিত্তিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে। বিভিন্ন অলিম্পিয়াড, প্রতিযোগিতা এবং অন্যান্য উদ্যোগের মাধ্যমে মেধাবী জাতি গড়ে তোলা হবে।
    • বাংলাদেশে বিশ্বমানের কয়েকটা বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা হবে। বিশ্ববিদ্যালয় – ইন্ডাস্ট্রি এর মধ্যে যোগাযোগ গড়ে তোলা হবে। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি প্রদানে স্বচ্ছতা আনা হবে – ন্যূনতম মান নিশ্চিত করা হবে। 
    • উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষা কার্যক্রম যাতে অপরাজনীতির কারণে বাঁধাগ্রস্থ না হয় সে ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আমরা শিক্ষাঙ্গনে সুস্থ রাজনীতির চর্চা, উদ্ভাবনী উদ্যোগ দেখতে চাই – ছাত্রছাত্রীরা কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে, মানুষের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে দল বেঁধে কাজ করবে। 
    • মাদ্রাসা শিক্ষাবাবস্থার সংস্কার (সবার মতামতের ভিত্তিতে) – আধুনিক জ্ঞান বিজ্ঞান অন্তর্ভুক্তিকরন – যাতে তারা মেডিক্যাল, ইঞ্জিনিয়ারিং, বাবসা, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে আরও বেশি সুযোগ পায়।
  8. দলীয় পরিচয়ের উরধে উঠে সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ বিচারের মাধ্যমে মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের সাজা দেওয়া হবে এবং জাতিকে গ্লানিমুক্ত করা হবে। এরপর সমগ্র জাতি ঐক্যবদ্ধ হবে।
  9. সবরকম অপরাধ শক্ত হাতে দমন করা হবে। অপরাধ হারে ব্যাপক হ্রাস আনা হবে। অপরাধী যত বড় হোক, আর অপরাধ যত ছোট হোক না কেন – অপরাধ করে কেউ পার পাবে না। আইনের চোখে সবাই সমান হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। 
    • আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সরকারি প্রভাবমুক্ত করা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং আধুনিক বিজ্ঞান (ফরেনসিক, ডিএনএ টেস্ট ইত্যাদি) সমৃদ্ধ করা, বেতন ভাতাবৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঘুষ – দুর্নীতি বন্ধ, উন্নত প্রশিক্ষন, পুরস্কার প্রবর্তন। 
    • তদন্ত নিরেপেক্ষ এবং প্রভাবমুক্ত থেকে শেষ করা। 
    • শক্তিশালী দুর্নীতি দমন কমিশন এবং দলীয় রাজনীতির প্রভাবমুক্ত বিচার বিভাগ।
    • বিচারে দীর্ঘ সূত্রিতা দূর করা হবে। 
    • মাদকের বিস্তার রোধে কঠোর বাবস্থা। দেশে মাদকের প্রবেশ প্রবেশপথেই থামিয়ে দেওয়া হবে
    • সাইবার ক্রাইম রোধে কঠোর বাবস্থা নেওয়া হবে। দেশে এখন অনলাইন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ সরিয়ে ফেলা, ওয়েবসাইট সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট hack করা, মানুষের বাসাবাড়ি-বাথরুমে লুকিয়ে গোপন ক্যাম বসানো, কাউকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, গুজব রটিয়ে সহিংসতা ছড়ানো এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে আঘাত করার কাজে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ব্যবহার থেকে শুরু করে অনেক রকম সাইবার ক্রাইম ঘটছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তিতে উন্নত প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। সিকিউরিটি, ডিজিটাল ফরেন্সিকে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বাংলাদেশী বিশেষজ্ঞদের কন্সালটান্ট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে। কিন্তু জনগণের মত প্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ বন্ধ করা হবে। 
    • জনগণ অপরাধ এবং অপরাধীকে সামাজিকভাবে বয়কট / প্রতিহত করবে, ঘৃণার চোখে দেখবে।
  10. জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা 
    • ২০০১ নির্বাচন উত্তর সংখ্যালঘু নির্যাতন, রামু, পটিয়া, অন্যান্য হামলা এবং সাম্প্রতিক নির্বাচনকালীন হামলাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সুষ্ঠু বিচারের মাধ্যমে বাংলাদেশে চিরদিনের জন্য সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠিত করা হবে।
    • কোন নির্দিষ্ট জাতি, ধর্ম, বর্ণের মানুষের উপর গুজব রটিয়ে বা অন্য কোন উপায়ে কোন রকম অন্যায় করা হলে, দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে আঘাত এলে, তদন্ত করে দায়ি বাক্তিদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে। 
    • দেশের জনগণ একতাবদ্ধ থেকে সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
  11. দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন, নির্বাচন কমিশন, আইন বিভাগকে (বিচারপতি এবং আইনজ্ঞদের পরামর্শ অনুসারে) সরকারি প্রভাবমুক্ত করে স্বাধীন, শক্তিশালী করে গড়ে তোলা হবে।
  12. দেশের রাজনীতিতে গুনগত পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে সবার মতামত, পরামর্শ নিয়ে শাসন বিভাগ, আইন বিভাগ এবং বিচার বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য রেখে, কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় সরকারের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টনের বিধান রেখে সংবিধানে সংশোধন আনা হবে।
  13. শ্রমিকদের অধিকার সংরক্ষণ
  14. প্রবাসে কর্মসংস্থান 
    • শ্রমিক রপ্তানি বাড়াতে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হবে। 
    • আন্তর্জাতিক চাহিদা বিবেচনায় নি্রয়ে দক্ষ শ্রমিক, দক্ষ কর্মী গড়ে তোলা হবে।
    • প্রবাসে বাংলাদেশ দূতাবাসগুলো থেকে প্রবাসীদের সমস্যা আন্তরিকতার সাথে সমাধান করা হবে। 
  15. জনগণকে সম্পৃক্ত করা। জনগণের জন্য প্ল্যাটফর্ম গড়ে দেওয়া যাতে তারা বিভিন্ন উদ্যোগ নিতে পারে।
  16. গ্রামের উন্নয়ন 
    • শিক্ষায় সাফল্য, স্বাস্থ্য সুবিধা প্রদান, তথ্য প্রযুক্তির বিকাশ, কৃষিতে উদ্ভাবন ইত্যাদি ক্ষেত্রে গ্রামে গ্রামে প্রতিযোগিতা শুরু করা যায়। বিভিন্ন ক্যাটেগরিতে সেরা গ্রাম, সেরা উদ্যোক্তা ইত্যাদি নির্বাচন করা যায়। (প্রত্যেক গ্রামের মানুষ নিজের গ্রাম, নিজের ইউনিয়ন, নিজের থানা নিয়ে গর্ব করে।) এতে গ্রামের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। 
    • বিভিন্ন সামাজিক সূচকে উন্নতির লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে কর্ম পরিকল্পনা হাতে নেওয়া।
  17. কৃষি ও কৃষক সমাজের উন্নয়ন
  18. স্বাস্থ্যখাতে উন্নয়ন
    • স্বাস্থ্য যত ভাল, রোগ-বালাই যত কম, জনগণের সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতাও তত বেশি।
    • গ্রামে গ্রামে স্বাস্থ্যকর্মী। 
    • স্বাস্থ্যখাতে প্রযুক্তির ব্যবহার
  19. নারী অধিকার সংরক্ষণ এবং নারীদের ক্ষমতায়ন 
    • নারী নির্যাতন, যৌতুক, বাল্য বিবাহ এর মত সামাজিক সমস্যাগুলোকে শক্তভাবে দমন করা
    • নারী অধিকার সংরক্ষণে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি। 
    • গ্রামের নারীরা যাতে আইনি সহায়তা পায় – সেই লক্ষ্যে বাবস্থা।
  20. দারিদ্র বিমোচন 
    • সরকারি পরিকল্পনা 
    • এনজিওগুলো যাতে দেশের দারিদ্র বিমোচনে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে কাজ করতে পারে – সেই পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে বাবস্থা নেওয়া। এনজিওগুলোর কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা আনা।
    • দারিদ্র্য দূরীকরণে এবং মানুষের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সামাজিক এন্টারপ্রাইস প্রতিষ্ঠা। 
  21. জনগণের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করা হবে। শিল্পের বিকাশ এবং উদ্যোক্তা বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে বেকারত্ব দূরীকরণ, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রেখে এবং ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে করে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা, নতুন উৎস থেকে তুলনামূলকভাবে স্বল্প ব্যয়ে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা, পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা।  
  22. ন্যায়ভিত্তিক সমাজবাবস্থা প্রতিষ্ঠা – সৎ এবং ন্যায়ের পথে থেকে চেষ্টা করলে জীবনে যে কোন কিছু অর্জন করা যায় এবং অন্যায় করলে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে – এই বোধ জাগ্রত করা হবে।

    পাদটীকাঃ

    1. নির্বাচনী ইশতেহারের বিভিন্ন বিষয় ভিডিও চিত্রের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হবে।
    2. দেশের বড় অপরাধীরা সরাসরি রাজনীতিতে বা রাজনীতিবিদদের ছত্রছায়ায় থেকে নিজেদেরকে আইনের উরধে ভাবে। এক একজন শীর্ষ অপরাধীকে থামিয়ে দেওয়া মানে অনেক অনেক অপরাধ এবং অনেক ছোট অপরাধী / মাস্তানকে থামিয়ে দেওয়া। কয়েকজন শীর্ষ অপরাধীকে থামিয়ে দিতে পারলে / দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে পারলে বাকিরা ভয়ে অপরাধ জগত ছেড়ে দেবে। 
      • আমাদের প্রকৃত বড় অপরাধী আর ভুল বুঝিয়ে, ফাঁদে ফেলে ভুল পথে আনা হয়েছে – এই দুই দলের পার্থক্য করতে হবে। যাদের ভুল বুঝিয়ে ভুল পথে আনা হয়েছে, তাদেরকে সঠিক পথ দেখালে তারাও সঠিক পথে আসবে।
      • শীর্ষ অপরাধীদের (মানবতাবিরধী যুদ্ধাপরাধী, সন্ত্রাসীদের গডফাদার, শীর্ষ দুর্নীতিবাজ, শীর্ষ সন্ত্রাসী) বাদ দিয়ে সমগ্র বাংলাদেশের চেতনাকে ধারণ করা হবে।
    Follow-ups

    নাগরিক শক্তির নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন

    বড় দলগুলো অর্থ দিয়ে মনোনয়ন বিক্রি করে। মনোনয়ন প্রত্যাশীরা অর্থ দিয়ে মনোনয়ন বাণিজ্যের নিলাম হাট থেকে মনোনয়ন কেনেন। কালো টাকা, পেশি শক্তির প্রভাব হয়ে ওঠে যোগ্যতা নির্ধারণের মাপকাঠি। এবারও বিতর্কিত প্রার্থীদের ছড়াছড়ি। ১৯৪ (৩৫ শতাংশ) প্রার্থীর বিরুদ্ধে অতীতে মামলা ছিল

    নাগরিক শক্তি মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে জনপ্রিয়তা, যোগ্যতা, মেধা, সততা, অভিজ্ঞতা, এলাকার উন্নয়ন কাকে দিয়ে হবে – এসব বিষয় বিবেচনায় নেবে। তৃনমূল থেকে প্রার্থীদের নাম প্রস্তাবের আহ্বান জানানো হবে এবং কেন্দ্রিয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একাধিক প্রার্থী প্রায় সমান যোগ্যতা সম্পন্ন হলে সার্ভেই করে দেখা হবে জনগণ কাকে চান।

    ফান্ড রেইজিং এর মাধ্যমে যে অর্থ রেইজড হবে তা শুধু মাত্র প্রার্থীদের ইলেকশান ক্যাম্পেইনে বায় করা হবে। প্রতিটি পয়সা খরচের হিসাবও রাখা হবে। স্বচ্ছতা কেন্দ্রিয়ভাবে মনিটারিং করা হবে এবং কারও বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হলে দল থেকে বহিষ্কারসহ কঠোর বাবস্থা নেওয়া হবে।

    ঐক্যবদ্ধ শক্তির মাধ্যমে জনগণের অধিকার আদায়

    বিরোধী দলের মত আমলে না নিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাবস্থা বাতিল করে বর্তমান সরকার নির্বাচন নিয়ে জনমনে যে সংশয় তৈরি করেছিল, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিনা নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী হয়ে সরকার সেই নির্বাচনকে অর্থহীন করে তুলেছে। ৫ বছর পর পর আমাদের দেশের জনগণের গনতন্ত্রে অংশগ্রহণের যে একমাত্র সুযোগ আসে, আগামী নির্বাচনে তাও নেই।

    অপরদিকে, বিরোধী দল জনগণকে নিয়ে আন্দোলন না করে ককটেল বোমা, আগুন দিয়ে একদিকে নির্বিচারে মানুষ হত্যা এবং অন্যদিকে হরতাল-অবরোধ ডেকে, বাড়িঘর, গার্মেন্টস পুড়িয়ে দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে গেছে।

    তাদের সরবাগ্রে ছিল মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে জামায়াতে ইসলামীর তাণ্ডব, মানুষ হত্যা।

    অর্থনীতি ধ্বংসের পাশাপাশি দেশের শিক্ষাবাবস্থা স্থবির হয়ে পড়েছে – শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন আজ বিপন্ন। পেশাজীবীরা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। অনেকে বিদেশ পাড়ি দেওয়ার পরিকল্পনা নিচ্ছেন। ভিন্ন ধর্মাবলম্বী জাতিগোষ্ঠীর মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা, যারা প্রতিদিনের রোজগারের উপর বেঁচে থাকেন, দেশের অচলাবস্থায় তাদের জীবনধারণ অসম্ভব হয়ে উঠেছে।

    বাংলাদেশে এমন একটি শাসন বাবস্থা প্রচলিত যেখানে সরকারি দল আইন শৃঙ্খলা বাহিনী, বিচার বিভাগ, প্রশাসন সহ সমস্ত কিছুর নিয়ন্ত্রণে থাকে। এমন একটি বাবস্থায় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। সিটি কর্পোরেশান নির্বাচনগুলোতে বিপুল ভোটে হারা এবং সাম্প্রতিক জরিপগুলোতে পিছিয়ে থাকা আওয়ামী লীগ নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্থান্তরে রাজি নয়। কাজেই, যতদিন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর হবে না, ততদিন দেশে একটা অচল অবস্থা বিরাজ করবে। সশস্ত্র বাহিনী মাঠে নামার পর আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও দেশ কার্যত অচল হয়ে আছে – তার দায়ভার সরকারের।

    শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারিতে প্রায় ৩০ লক্ষাধিক বিনিয়োগকারীর অনেকে সর্বস্ব হারিয়ে ফেলেন। হরতাল-অবরোধ এর কারণে বাবসায়িরাও আজ দেউলিয়া হওয়ার পথে। দেশের অর্থনীতি প্রায় ধ্বংসের সম্মুখীন। অনিশ্চিত গন্তব্যে দেশের অর্থনীতি। অনিশ্চয়তায় আগ্রহ হারাচ্ছে পোশাক ক্রেতারা। মধ্যমেয়াদি সংকটের পথে বাংলাদেশ?

    রাজনীতিবিদরা ক্ষমতা ধরে রাখতে কিংবা দখল করতে জনগণকে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড় করিয়ে দেবেন – এ অবস্থা আমরা আর মানতে পারছি না।

    বাংলাদেশ অন্যায় – অপরাধ – দুর্নীতিতে চরমভাবে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। টানা কয়েক বছর বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্থ দেশের তালিকায় বাংলাদেশ শীর্ষে ছিল। দেশে শত শত খুন করেছেন বা করিয়েছেন এবং শত শত ধর্ষণ করেছেন এমন রাজনীতিবিদও আছেন। আইন শৃঙ্খলার উরধে থাকা সাংসদ, নেতাদের কারও রয়েছে নিজস্ব নির্যাতন সেল, কারও খেলাপি ঋণের পরিমাণ কোটি কোটি টাকা, কেউ কেউ খুনের মামলা নিয়ে দিব্যি রাজনীতি করা অব্যাহত রাখেন। আবু রেজা মুহাম্মদ নিজামুদ্দিন নদভি এক বিস্ময় মানব। বিতর্কিত ১২ জন পেলেন আ.লীগের টিকিট। ত্বকীর মত সোনার টুকরা ছেলেকে এদেশে খুন হতে হয়। রাজনীতিবিদরা দুর্নীতি করে কাউকে অবৈধ সুবিধা দিলে কারও কিছু বলার থাকে না। রাজনীতিবিদদের লাখ লাখ টাকা ঘুষ দেওয়া ছাড়া চাকরি মেলে না। কয়েক লাখ টাকা দিয়ে মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র পর্যন্ত কেনা যায় – এমন নজির দেশে স্থাপিত হয়েছে।

    রাজনীতি আজ হয়ে উঠেছে অবৈধ অর্থ উপার্জনের মাধ্যম। কুমিল্লার মন্ত্রী ও আট সাংসদের সম্পদ অনেক বেড়েছে। সাংসদ হয়েছেন তাঁরা সম্পদ বেড়েছে স্ত্রীদের। বদির আয় বেড়েছে ৩৫১ গুণ। ফুলে-ফেঁপে উঠেছে সম্পদ। ৫ বছরেই সম্পদের পাহাড়নূর-ই-আলমের আয় বেড়েছে ৩২ হাজার ৯৮৫ শতাংশ। কারও বিরুদ্ধে ৬ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তোলা হলে তিনি আক্ষেপ করে বলেন ৬০০ কোটি টাকার মালিক হতে পারতাম! (গোস্সা করবেন না হানিফ সাহেব!)

    কিন্তু অন্যায়কারিরা সংখ্যায় মুষ্টিমেয়। জনগণের ঐক্যের সামনে দাঁড়ানোর ক্ষমতা তাদের নেই। আজ সময় এসেছে জনগণের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার।

    একদিকে দেশের অর্থনীতি ধ্বংস হতে থাকবে, আরেকদিকে রাজনীতিবিদরা সম্পদের পাহাড় গড়তে থাকবেন – এ অবস্থা আর চলতে দেওয়া যায় না।

    আমরা দেশের রাজনীতিতে নতুন সূর্যের উদয় দেখতে চাই। এ লক্ষ্যে সবার আগে দরকার জনগনের ভোটের অধিকার সংরক্ষিত হয় নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে এমন একটি নির্বাচন। জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। নিজেদের ভোটের অধিকার, জীবনের নিরাপত্তার অধিকার এবং সম্পদের অধিকার ঐক্যবদ্ধ হয়ে আদায় করতে হবে।

    আর কোন হরতাল – অবরোধ, জ্বালাও – পোড়াও, ধ্বংসাত্মক কর্মসূচী মেনে নেওয়া হবে না।

    ব্লগ, সোশ্যাল মিডিয়ায় উঠুক সমস্ত অন্যায় – অবিচার – দুর্নীতি, মানুষ হত্যা, জ্বালাও পোড়াও এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ।

    ঢাকায় ৭০ লক্ষ থেকে ১ কোটি মানুষ জড়ো হবে

    • জনগণের ভোটের অধিকার রক্ষায় নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে এবং 
    • হরতাল – অবরোধ, জ্বালাও – পোড়াও, সংখ্যালঘু নির্যাতন, ব্যবসাবাণিজ্য এবং শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস সহ সবরকম ধ্বংসাত্মক কর্মসূচী বন্ধ করে শান্তির পক্ষে। 

    অহিংসভাবে অধিকার আদায় করে জনগণ বাড়িতে ফিরবে।

    অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পক্ষে অবস্থান

    (নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের পর পর লেখা)

    বর্তমান নতুন মন্ত্রিসভার সরকারকে “সর্বদলীয়”, “অন্তর্বর্তীকালীন”, “বহুদলীয়”, “মহাজোটিয়” ইত্যাদি কোন বিশেষণে বিশেষায়িত করা যায় তা নিয়ে ভেবে সময় নষ্ট না করে আমরা সাধারণ জনগণ সরকারের কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করব এবং আমাদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরব।

    তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ডঃ ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ নভেম্বর ২০, ২০১৩ তে প্রথম আলোতে লিখিত কিছু প্রস্তাব দিয়েছেন বর্তমান সরকারকে – “চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান পরিচালনা, বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ সরকার পরিচালিত অন্যান্য গণমাধ্যমকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরির কাজে ব্যবহার করা, দলীয়ভাবে চিহ্নিত কর্মকর্তারা জনপ্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকলে তাঁদের অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া, স্থানীয় পর্যায়ের প্রশাসনে কিছু রদবদলের মাধ্যমে নিরপেক্ষ নির্বাচন-প্রক্রিয়ার সপক্ষে একটি স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দেওয়া, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকে দলনিরপেক্ষভাবে কাজ করার লক্ষ্যে কার্যকর প্রকাশ্য নির্দেশনা প্রদান এবং সর্বোপরি প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশনকে আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে পুনর্গঠিত করা।” এসব নিশ্চিত করা বিরোধী দলের মত আমলে না নিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাবস্থা বাতিল করা বর্তমান সরকারের দায়িত্ব। বার্থ হলে বর্তমান সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন কেন সম্ভব নয় আমরা জনগণের সামনে তুলে ধরব – এ ব্যাপারে মাঠ পর্যায়ে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।

    বর্তমান সরকার যদি সরকারি সুবিধা ব্যবহার করে, লোকদেখানো ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে এবং সরকারি অর্থ ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো অব্যাহত রাখে তবে “লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড” সৃষ্টি করে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি প্রহসনের ব্যাপারে পরিণত হবে। বিরোধী দলগুলো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না, ২০ ভাগ ভোটও সুষ্ঠুভাবে পড়বে কিনা তা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ আছে (অনেকগুলো আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন), বিদেশি নির্বাচনী পর্যবেক্ষকরা পর্যবেক্ষণের জন্য থাকবেন না – জনগণের অর্থে বিপুল বায়বহুল এমন একটি সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিরুদ্ধে জনগণ অহিংস অসহযোগ আন্দোলন গড়ে তুলবে। জনগণ নিজেদের ভোটের অধিকার রক্ষায়, স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে আমাদের পাশে থাকবে।

    Electoral Plan for an Ideal Political Party – 1 (আদর্শ রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী পরিকল্পনা – ১)

     

    1. এবার ৩টি পক্ষের (দল / জোট) মধ্যে ভোট ভাগাভাগি হবে। একটি আসনে ৩৫ – ৪০% ভোট পেয়েই প্রার্থী নির্বাচিত হতে পারেন। পুরো দেশে ৩৩% ভোট নিয়েই এক পক্ষ ১৫১+ আসন পেতে পারে। প্রতি আসনে ৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বী থাকায় শক্তিশালী স্বতন্ত্র প্রার্থী কম থাকবেন। গতবার দুই প্রধান জোট মিলে ৮২.২% ভোট ভাগাভাগি করেছিল।
    2. বাংলাদেশের মানুষ পরিকল্পনাবিহীন অপরাজনীতি দেখে অভ্যস্ত। জনগণ জানে না সুপরিকল্পিত সুশাসন দেশকে কোথায় নিয়ে যেতে পারে। আদর্শ রাজনৈতিক দলটি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে জনগণের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেবে। আমাদের রাজনীতি সচেতন জনগণও শুধুমাত্র চায়ের কাপে নেতানেত্রীদের আলোচনা – সমালোচনার মাঝে রাজনীতিকে সীমাবদ্ধ রাখবেন না, বরং তারাই হবেন রাজনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ – তাদের কেন্দ্র করেই দেশের রাজনীতি পরিচালিত হবে – আদর্শ দল তা নিশ্চিত করবে।
    3. আদর্শ রাজনৈতিক দলের নেতারা ইতিহাসের মহানায়কদের মত জানেন, ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির, ভিন্ন আদর্শ, মূল্যবোধে বিশ্বাসী মানুষকে নতুন যুক্তিযুক্ত দৃষ্টিভঙ্গি দেখাতে পারলে তারা তা গ্রহণ করবেন। দলের নেতারা নিজেরাও নিজেদের সবজান্তা ভাবার ধৃষ্টতা না দেখিয়ে, নিজেদের পথই একমাত্র সঠিক পথ না ভেবে, ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি, ভিন্ন মূল্যবোধ গভীরভাবে বোঝার এবং গ্রহণ করার মানসিকতা দেখাবেন। সমগ্র দেশের চেতনাকে ধারণ করতে তারা বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির মানুষদের দূরত্ব দূর করে একতাবদ্ধ করবেন।
    4. দলটি দেশের জনসংখ্যাকে বিভিন্ন ডেমোগ্রাফিকে বিভক্ত করে ভিন্ন ভিন্ন ডেমোগ্রাফিকের কাছে আলাদা আলাদা ভাবে পৌঁছাবে। পরিকল্পনা হাতে নেবে।
      1. তরুণদের কাছে পৌঁছাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোকে ব্যবহার করবে। তরুণদের জন্য প্লাটফর্ম তৈরি করে দেবে যাতে ওরা বিভিন্ন উদ্যোগ নিতে পারে।
      2. গ্রামের গরিব দুঃখী অসহায় মানুষগুলোর পাশে গিয়ে তাদের সমস্যা বোঝার চেষ্টা করবে। গ্রামের বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা সবাই মিলে সমাধানের উদ্যোগ নেবে।
      3. শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে তাদের পাশে দাঁড়াবে।
      4. বাবসায়িদের বাবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির উপায় নিরুপন করে উদ্যোগ নেবে।
      5. সৎ বিনিয়োগকারিদের অভিযোগগুলো বোঝার চেষ্টা করবে।
      6. দেশের সম্পদ রক্ষায়, দেশের বৃহত্তর কল্যাণে যারা কাজ করছে তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়াবে।
      7. বিভিন্ন ক্ষেত্রে যারা অন্যায় করছে, দুর্নীতি করছে, সেই অন্যায়, দুর্নীতিগুলোর বিরুদ্ধে সবাইকে নিয়ে অবস্থান নেবে।
    5. ভোটঃ (rough estimate করার জন্য ৯ লক্ষ ভোট = ১% ধরা যায়)
      1. গ্রামীণ নারী (এবং তাদের পরিবার) – ৬%+
      2. জাতীয় পার্টি, বিকল্প ধারা, গণফোরাম, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, জাসদ(রব) এবং অন্যান্য দল – ৭-১০%
      3. মাদ্রাসা সংশ্লিষ্ট, আলেমসমাজ (এবং তাদের পরিবার) – ২-৩%+
      4. বিভিন্ন সংসদীয় এলাকার নেতা
      5. বুদ্ধিজীবী সমাজ, সুশীল সমাজ
      6. তরুণ প্রজন্ম (১৮-৩৫ বছর – দেশের মোট ভোটারের ৪৫%)
      7. মুসলিম বাতীত অন্যান্য জাতি, ধর্মের জনগোষ্ঠী (দেশের মোট ভোটারের ১০%)
    6. জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবার নিরাপত্তার জন্য ঐক্য। গ্রামে গ্রামে একতার উদ্যোগ। গুজব রটিয়ে সহিংসতা সৃষ্টি যাতে কেউ করতে না পারে সে লক্ষ্যে সচেতনতা সৃষ্টি।
    7. বাংলাদেশ সঠিকভাবে পরিচালিত হলে স্বপ্নের বাংলাদেশ কেমন হবে তার এবং সেই স্বপ্নের বাংলাদেশে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের জীবনের একটা চিত্র জনগণের সামনে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তুলে ধরে জনগণকে সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্নে উজ্জীবিত করা হবে।
    8. ডিজিটাল মিডিয়া / সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, তারুণ্য। স্বপ্নের বংলাদেশের ভিডিও (দলের নাম, প্রতীক) -> লিংকঃ ফেইসবুক, ইউটিউব পেইজ, ওয়েব সাইট (সবাই পড়তে পারবে, কিন্তু সাইটে কমেন্ট করতে / মতামত দিতে ফেইসবুক লগইন। সাইট ব্লগে নিজেদের চিন্তা ভাবনা, প্রত্যাশা প্রকাশ করার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে।)। দলটা আমাদের সবার। সবার মতামতের ভিত্তিতেই পরিচালিত হবে দল এবং দেশ। স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে উঠবে তারুণ্যের শক্তিতে। তরুণদের জন্য প্ল্যাটফর্ম গড়ে দেওয়া হবে যাতে তারা বিভিন্ন কল্যাণমুখী, উদ্ভাবনী উদ্যোগ নিতে পারে। লেখাগুলো ভাগ করে ইমেইজ হিসেবে শেয়ার দেওয়া হবে (দলের ট্রেডমার্ক থাকবে ইমেইজে) – সবাই পড়বে, লাইক – শেয়ার দিবে এবং এভাবে ছড়িয়ে পড়বে। গ্রামে সবাই ফোন ব্যবহার করে এক্সেস করবে। কাজেই মোবাইল অপ্টিমাইজড ডিজাইন।
    9. তরুণদের এমনভাবে গড়ে তোলা হবে যাতে তারা ভবিষ্যতে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে এবং দেশ গঠনে নেতৃত্ব দিতে পারে।

    আদর্শ রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইশতেহারের রূপরেখা

    আদর্শ রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইশতেহারে যেসব বিষয় থাকবেঃ

    1. শিক্ষা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যেকটা মানুষ তার সুপ্ত ক্ষমতাকে জাগিয়ে তুলে এক একটা বিশাল শক্তি হয়ে উঠতে পারে শিক্ষার মাধ্যমে। জ্ঞান আর মেধা দিয়ে জীবনে সবকিছু অর্জন করা যায়। যে কেউ প্রায় যে কোন বয়সে সঠিকভাবে চেষ্টা করলে যে কোন কিছু হয়ে উঠতে পারে – এই বিশ্বাসটা সবার মধ্যে জাগিয়ে তুলতে হবে। মানুষগুলোকে জাগিয়ে তুলতে পারলে আর কিছু লাগবে না। (শিক্ষা শুধুমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না, আমরা চাইলে জীবনের প্রতিটা মুহূর্তে চারপাশ থেকে শিখতে পারি।) ইতিহাসের যে কোন সময়ের তুলনায় নিজেকে উপরে তোলার সুযোগও সবচেয়ে বেশি আমাদের প্রজন্মের। আধুনিক প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন আমাদের হাতে দিয়েছে অনন্য সব আবিষ্কার – মানুষ এখন যে কোন প্রান্তে বসে যে কোন কিছু শিখতে পারে, যে কারও সাথে যোগাযোগ করতে পারে, কোটি মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে, কাজ করতে পারে, পারে আয় রোজগার করতে।
    2. দেশের ৫০ ভাগ মানুষের বয়স ২৩ বা তার কম। এই বিশাল তরুণ প্রজন্মকে, যারা কর্মক্ষেত্রের জন্য নিজেদের তৈরি করছে, তাদের অগ্রাধিকার দিয়ে গড়ে তোলা হবে (এবং সাথে বাবসা বান্ধব, বিনিয়োগ বান্ধব, উদ্যোক্তা বান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা লক্ষ লক্ষ তরুনের জন্য) যাতে তারা নিজেদেরকে এবং দেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। (একটা সামগ্রিক পরিকল্পনা – কত হাজার তরুনের শিক্ষা, দক্ষতা কোথায়, তাদের কর্মসংস্থান / উদ্যোগ কিরকম হতে পারে।)
    3. বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূচকে (মাথাপিছু আয়, জিডিপি প্রবৃদ্ধি, দুর্নীতি হ্রাস ইত্যাদি) উন্নতিকে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে নেওয়া হবে। কিছু সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রার উল্লেখ থাকবে ইশতেহারে। বিভিন্ন সূচকে উন্নতিকে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে নিয়ে কর্ম পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হবে – 
      • জিডিপি প্রবৃদ্ধির হারকে প্রথমে ৮% এ উন্নীত করা হবে এবং লক্ষ্য অর্জিত হলে ১০% কে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে নেওয়া হবে।
      • মাথাপিছু আয়ের দিক দিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোকে ছাড়িয়ে যাওয়ার লক্ষ্য থাকবে।
      • দুর্নীতি দমন সূচকে ব্যাপক উন্নতি আনা হবে।
      • অপরাধ শক্তভাবে দমন করে বিভিন্ন অপরাধ দমন সূচকে উন্নতি ঘটানো হবে।
      • বিভিন্ন সামাজিক সূচকে (যেমন শিক্ষা, শিশু মৃত্যু হার, আয়ুষ্কাল ইত্যাদি) লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা হবে।
      • নিজেদের মানদণ্ডে নিজেদের সাফল্য, অপরের বার্থতার প্রচার নয়, বরং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডই সাফল্য – বার্থতার মূল্যায়ন করবে।
    4. বাবসা বান্ধব, বিনিয়োগ বান্ধব, উদ্যোক্তা বান্ধব, শিল্প বান্ধব নীতিমালা প্রনয়ন এবং বাস্তবায়ন।
      • অর্থনীতিবিদদের নেতৃত্বে “ন্যাশনাল ইকোনমিক অ্যান্ড প্ল্যানিং কাউন্সিল” গঠন। অর্থনীতিবিদদের নেতৃত্বে এই কাউন্সিলে যোগ দেবেন শিল্প বাবসায়ি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি বাবসায়ি, প্রকৌশলী, নগর পরিকল্পনাবিদ, স্থপতি, পরিসংখ্যানবিদ, কৃষক এবং শ্রমিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
      • উন্নত অবকাঠামো তৈরি + জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ + রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা > অধিকতর বিনিয়োগ > জিডিপি প্রবৃদ্ধি।
      • দেশের জনগণকে ভয় দেখিয়ে, “জ্বালাও – পোড়াও” চালিয়ে, জানমালের ক্ষতি করে অর্থনীতির জন্য চরমভাবে ক্ষতিকর হরতাল পালনে কেউ যাতে বাধ্য করতে না পারে – সে লক্ষ্যে কঠোর বাবস্থা।
      • উদ্যোক্তাদের নতুন বাবসা শুরু করার প্রক্রিয়া সহজ করার জন্য বাবস্থা গ্রহণ – সমস্যাগুলো সমাধান করা। উদ্যোক্তাদের জন্য ভেঞ্চার ক্যাপিটাল, ইঙ্কিউবেটার ফার্ম প্রতিষ্ঠায় সহায়তা
      • আইসিটি খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে এই খাতের বিকাশে সামগ্রিক পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন। দক্ষ আইসিটি পেশাজীবী, উদ্যোক্তা গড়ে তোলা, সারা দেশে দ্রুতগতির ইন্টারনেট ছড়িয়ে দেওয়া, আইসিটি ভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলতে দূরদর্শী পরিকল্পনা হাতে নেওয়া।
      • বিভিন্ন সম্ভাবনাময় শিল্প (শিপ বিল্ডিং, পর্যটন শিল্প প্রভৃতি) কে চিহ্নিতকরণ, অগ্রাধিকার দিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ, ক্ষেত্র সংশ্লিষ্ট সমস্যা সমাধান এবং বাস্তবায়ন।
      • বাংলাদেশকে বিভিন্ন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির অফশোরিং এর কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন – অবকাঠামো, জ্বালানি, দক্ষ কর্মী, কূটনৈতিক উদ্যোগ, বিশ্বব্যাপী মার্কেটিং।
      • ক্ষুদ্র এবং মাঝারি শিল্পের বাবসায়িদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া
      • শেয়ারবাজার নিয়ে কেউ যাতে কারসাজি করতে না পারে সেই লক্ষ্যে বাবস্থা গ্রহণ। শেয়ার বাজারে বিনিয়োগকারিদের আস্থা ফিরিয়ে আনা। কোম্পানির মূল্যমান নির্ধারণে আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করা।
      • ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর বাবস্থা। ব্যাংক পরিচালনায় স্বচ্ছতা আনা। দেশের ফাইনান্সিয়াল সিস্টেমকে ঢেলে সাজানো।
      • বিভিন্ন সমস্যা (যেমন ঢাকার যানজট সমস্যা) নিরসনে সৃজনশীল কার্যকরী উদ্যোগ নেওয়া।
      • শিল্পের বিকাশে (যেমন – শুল্ক মুক্ত প্রবেশাধিকার ইত্যাদি) কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করা, কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া।
      • দেশের প্রকৌশলীরা বিভিন্ন শিল্পে উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডে আত্মনিয়োগ করবেন। তাদের উন্নত প্রশিক্ষনের বাবস্থা করা।
    5. দীর্ঘ মেয়াদি এবং স্বল্প মেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়ে বাজেট এ বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ দেওয়া এবং বরাদ্দকৃত অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিতকরণ – বিভিন্ন মন্ত্রনালয়, স্থানীয় সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। কর আদায়ে স্বচ্ছতা আনা। শুল্ক নির্ধারণে বেক্তি স্বার্থ নয়, বরং জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া (যেমন সিগারেট আমদানির উপর শুল্ক বাড়ানো, কম্পিউটার এবং অন্যান্য তথ্যপ্রযুক্তি পণ্যের আমদানির উপর শুল্ক কমানো ইত্যাদি)।
    6. শিক্ষাবিদদের পরামর্শের ভিত্তিতে শিক্ষার্থী – অভিভাবকদের মতামত নিয়ে প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত শিক্ষাবাবস্থার প্রতিটি পর্যায়ে আমূল সংস্কার আনা হবে। 
      • শিক্ষার্থীরা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিজেরা শিখবে। 
      • পরীক্ষা পদ্ধতি, মূল্যায়ন পদ্ধতিতে সংস্কার আনা হবে। সৃজনশীল এবং বাস্তব জীবনে প্রয়োগ নির্ভর শিক্ষাবাবস্থা গড়ে তোলা হবে। 
      • শিক্ষার্থীরা মেধাভিত্তিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে। বিভিন্ন অলিম্পিয়াড, প্রতিযোগিতা এবং অন্যান্য উদ্যোগের মাধ্যমে মেধাবী জাতি গড়ে তোলা হবে।
      • বাংলাদেশে বিশ্বমানের কয়েকটা বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা হবে। বিশ্ববিদ্যালয় – ইন্ডাস্ট্রি এর মধ্যে যোগাযোগ গড়ে তোলা হবে। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি প্রদানে স্বচ্ছতা আনা হবে – ন্যূনতম মান নিশ্চিত করা হবে। 
      • উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষা কার্যক্রম যাতে অপরাজনীতির কারণে বাঁধাগ্রস্থ না হয় সে ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আমরা শিক্ষাঙ্গনে সুস্থ রাজনীতির চর্চা, উদ্ভাবনী উদ্যোগ দেখতে চাই – ছাত্রছাত্রীরা কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে, মানুষের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে দল বেঁধে কাজ করবে। 
      • মাদ্রাসা শিক্ষাবাবস্থার সংস্কার (সবার মতামতের ভিত্তিতে) – আধুনিক জ্ঞান বিজ্ঞান অন্তর্ভুক্তিকরন – যাতে তারা মেডিক্যাল, ইঞ্জিনিয়ারিং, বাবসা, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে আরও বেশি সুযোগ পায়।
    7. দলীয় পরিচয়ের উরধে উঠে সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ বিচারের মাধ্যমে মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের সাজা দেওয়া হবে এবং জাতিকে গ্লানিমুক্ত করা হবে। এরপর সমগ্র জাতি ঐক্যবদ্ধ হবে।
    8. সবরকম অপরাধ শক্ত হাতে দমন করা হবে। অপরাধ হারে ব্যাপক হ্রাস আনা হবে। অপরাধী যত বড় হোক, আর অপরাধ যত ছোট হোক না কেন – অপরাধ করে কেউ পার পাবে না। আইনের চোখে সবাই সমান হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। 
      • আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সরকারি প্রভাবমুক্ত করা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং আধুনিক বিজ্ঞান (ফরেনসিক, ডিএনএ টেস্ট ইত্যাদি) সমৃদ্ধ করা, বেতন ভাতাবৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঘুষ – দুর্নীতি বন্ধ, উন্নত প্রশিক্ষন, পুরস্কার প্রবর্তন। 
      • তদন্ত নিরেপেক্ষ এবং প্রভাবমুক্ত থেকে শেষ করা। 
      • শক্তিশালী দুর্নীতি দমন কমিশন এবং দলীয় রাজনীতির প্রভাবমুক্ত বিচার বিভাগ। 
      • মাদকের বিস্তার রোধে কঠোর বাবস্থা। দেশে মাদকের প্রবেশ প্রবেশপথেই থামিয়ে দেওয়া হবে
      • সাইবার ক্রাইম রোধে কঠোর বাবস্থা নেওয়া হবে। (দেশে এখন মানুষের বাসাবাড়ি-বাথরুমে লুকিয়ে গোপন ক্যাম বসানো, কাউকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, গুজব রটিয়ে সহিংসতা ছড়ানো এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে আঘাত করার কাজে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ব্যবহার থেকে শুরু করে অনেক রকম সাইবার ক্রাইম ঘটছে।) আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তিতে উন্নত প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। কিন্তু জনগণের মত প্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ বন্ধ করা হবে। 
      • জনগণ অপরাধ এবং অপরাধীকে সামাজিকভাবে বয়কট / প্রতিহত করবে, ঘৃণার চোখে দেখবে।
    9. জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা 
      • কোন নির্দিষ্ট জাতি, ধর্ম, বর্ণের মানুষের উপর গুজব রটিয়ে বা অন্য কোন উপায়ে কোন রকম অন্যায় করা হলে, দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে আঘাত এলে, তদন্ত করে দায়ি বাক্তিদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে। 
      • দেশের জনগণ একতাবদ্ধ থেকে সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
    10. দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন, নির্বাচন কমিশন, আইন বিভাগকে (বিচারপতি এবং আইনজ্ঞদের পরামর্শ অনুসারে) সরকারি প্রভাবমুক্ত করে স্বাধীন, শক্তিশালী করে গড়ে তোলা হবে।
    11. দেশের রাজনীতিতে গুনগত পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে সবার মতামত, পরামর্শ নিয়ে শাসন বিভাগ, আইন বিভাগ এবং বিচার বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য রেখে, কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় সরকারের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টনের বিধান রেখে সংবিধানে সংশোধন আনা হবে।
    12. শ্রমিকদের অধিকার সংরক্ষণ
    13. প্রবাসে কর্মসংস্থান 
      • শ্রমিক রপ্তানি বাড়াতে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হবে। 
      • আন্তর্জাতিক চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে দক্ষ শ্রমিক, দক্ষ কর্মী গড়ে তোলা হবে।
    14. জনগণকে সম্পৃক্ত করা। জনগণের জন্য প্ল্যাটফর্ম গড়ে দেওয়া যাতে তারা বিভিন্ন উদ্যোগ নিতে পারে।
    15. গ্রামের উন্নয়ন 
      • শিক্ষায় সাফল্য, স্বাস্থ্য সুবিধা প্রদান, তথ্য প্রযুক্তির বিকাশ, কৃষিতে উদ্ভাবন ইত্যাদি ক্ষেত্রে গ্রামে গ্রামে প্রতিযোগিতা শুরু করা যায়। বিভিন্ন ক্যাটেগরিতে সেরা গ্রাম, সেরা উদ্যোক্তা ইত্যাদি নির্বাচন করা যায়। (প্রত্যেক গ্রামের মানুষ নিজের গ্রাম, নিজের ইউনিয়ন, নিজের থানা নিয়ে গর্ব করে।) এতে গ্রামের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। 
      • বিভিন্ন সামাজিক সূচকে উন্নতির লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে কর্ম পরিকল্পনা হাতে নেওয়া।
    16. নারী অধিকার সংরক্ষণ এবং নারীদের ক্ষমতায়ন 
      • নারী নির্যাতন, যৌতুক, বাল্য বিবাহ এর মত সামাজিক সমস্যাগুলোকে শক্তভাবে দমন করা
      • নারী অধিকার সংরক্ষণে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি। 
      • গ্রামের নারীরা যাতে আইনি সহায়তা পায় – সেই লক্ষ্যে বাবস্থা।
    17. দারিদ্র বিমোচন 
      • সরকারি পরিকল্পনা 
      • এনজিওগুলো যাতে দেশের দারিদ্র বিমোচনে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে কাজ করতে পারে – সেই পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে বাবস্থা নেওয়া। এনজিওগুলোর কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা আনা।
    18. ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠিত হবে – সৎ এবং ন্যায়ের পথে থেকে চেষ্টা করলে জীবনে যে কোন কিছু অর্জন করা যায় এবং অন্যায় করলে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে – এই বোধ জাগ্রত করা হবে।

    পাদটীকাঃ

    1. নির্বাচনী ইশতেহারের বিভিন্ন বিষয় ভিডিও চিত্রের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হবে।
    2. দেশের বড় অপরাধীরা সরাসরি রাজনীতিতে বা রাজনীতিবিদদের ছত্রছায়ায় থেকে নিজেদেরকে আইনের উরধে ভাবে। এক একজন শীর্ষ অপরাধীকে থামিয়ে দেওয়া মানে অনেক অনেক অপরাধ এবং অনেক ছোট অপরাধী / মাস্তানকে থামিয়ে দেওয়া। কয়েকজন শীর্ষ অপরাধীকে থামিয়ে দিতে পারলে / দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে পারলে বাকিরা ভয়ে অপরাধ জগত ছেড়ে দেবে। 
      • আমাদের প্রকৃত বড় অপরাধী আর ভুল বুঝিয়ে, ফাঁদে ফেলে ভুল পথে আনা হয়েছে – এই দুই দলের পার্থক্য করতে হবে। যাদের ভুল বুঝিয়ে ভুল পথে আনা হয়েছে, তাদেরকে সঠিক পথ দেখালে তারাও সঠিক পথে আসবে।
      • শীর্ষ অপরাধীদের (মানবতাবিরধী যুদ্ধাপরাধী, গডফাদার, শীর্ষ দুর্নীতিবাজ, শীর্ষ সন্ত্রাসী) বাদ দিয়ে সমগ্র বাংলাদেশের চেতনাকে ধারণ করা হবে।

    অন্তর্বর্তীকালীন সরকারঃ কিছু প্রস্তাব – ৩

    আমরা সরকারি দলের প্রধান বিরোধী দলকে আমলে না নিয়ে নেতা কর্মীদের গ্রেপ্তার করে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করে দমন নিপীড়ন চালিয়ে একতরফা নির্বাচন করে ফেলার যে সম্ভবনা দেখছি – সেই প্রচেষ্টাকে যেমনি প্রত্যাখ্যান করি, তেমনি প্রধান বিরোধী দলের “দা – কুড়াল”, ককটেল ইত্যাদি দিয়ে “জ্বালাও – পোড়াও” চালিয়ে, জনগণের জানমালের ক্ষতি করে হরতাল পালনে বাধ্য করাকেও একইভাবে প্রত্যাখ্যান করি।

    দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি বিবেচনা করলে একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনই জনগণের কাছে নির্বাচন অনুষ্ঠানের একমাত্র গ্রহণযোগ্য মাধ্যম এবং দেশের সিংহভাগ জনগণ সাম্প্রতিক কিছু জরিপেও এমনটাই জানিয়েছে।

    সরকারি দল একতরফাভাবে নির্বাচন করলে এবং বিরোধী দলগুলো তাতে অংশ না নিলে দেশের ৫০ ভাগের উপর জনগণ ভোট দিতে নির্বাচন কেন্দ্রে যাবে না এবং দেশি বিদেশি নির্বাচনী পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোও নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠাবে না। জনগণের বিপুল অর্থে একটি তথাকথিত নির্বাচনকে জনগণও প্রতিহত করবে। প্রয়োজনে অহিংস অসহযোগ আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া যেতে পারে, কিন্তু জনগণের জানমালের ক্ষতি করে এমন কোন কর্মসূচি মেনে নেওয়া হবে না।

    এমতাবস্থায় সরকারের ভেতরে এবং বাইরে থাকা সবগুলো দলের সাথে আলোচনা করে, সবগুলো দলের কাছে গ্রহণযোগ্য একজনকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধান হিসেবে রাষ্ট্রপতি মনোনয়ন দিতে পারেন এবং বর্তমান সংবিধান সমুন্নত রাখতে প্রয়োজনে তাকে উপনির্বাচনে বিজয়ী করে আনার বাবস্থা করা যেতে পারে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধান এবং রাষ্ট্রপতি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করবেন (সংসদের মেয়াদ যেহেতু এখনও শেষ হয়নি কাজেই প্রয়োজনীয় আইন পাশ করিয়ে আনা যেতে পারে) এবং একটি অবাধ সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন জনগণকে উপহার দিবেন।

    দেশের জনগণের পক্ষে আবেদন

    মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধী দলীয় নেত্রীর নির্বাচনকালীন সরকার প্রস্তাবের মাঝে আমরা যে আশার আলো দেখেছিলাম, তা এক ঝলকে নিভে গেছে তিনদিন ব্যাপী হরতাল এবং সেই তিনদিনের প্রতিদিনই নিহত এবং হতাহতের ঘটনায়।

    দুই নেত্রী বহুদিন পর কথা বলছেন। এমন অবস্থায় আমরা দেশের জনগণ যখন নির্বাচনকালীন সরকার বিষয়ে দুই নেত্রীর মতৈক্যের আশায় ছিলাম, তখন আমরা দেখলাম মূল সমস্যার সমাধান না করে দুই নেত্রীর পারস্পরিক আক্রমণ।

    বিরোধী দল “দা-কুড়াল” বা অন্য কোন উপায়ে সহিংস কর্মসূচি গ্রহন করলে দেশের সচেতন নাগরিকরা তীব্রভাবে এর প্রতিবাদ করবেন এবং জনগণ আগামী নির্বাচনে তাদের প্রত্যাখ্যান করবে।

    অন্যদিকে, সরকারি দল আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করে দমন – নিপীড়ন চালালে তারা সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের যে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে তা হাস্য রসাত্মক বিষয়ে পরিণত হবে।

    দেশে দুই দলের এই মুখোমুখি অবস্থানের সুযোগ নিয়ে মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করতে কোন দল ধর্মের দোহাই দিয়ে যুবকদের সহিংসতা চালানো কিংবা অপপ্রচার, গুজব রটানোর কাজে ব্যবহার করলে সচেতন নাগরিকরা প্রতিবাদ করবেন এবং যুবকরাও এই পথ পরিহার করবেন। ইসলাম ধর্মে উদ্দেশ্য প্রণোদিত সহিংসতা কিংবা অপপ্রচারের (ইসলাম শব্দটি এসেছে “সালাম” থেকে, যার অর্থ “শান্তি”; ইসলামে গীবত করা মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়ার মত বড় অপরাধ) কোন স্থান নেই।

    জনগণ স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে প্রতিবাদ হিসেবে হরতাল পালন করলে তাতে কারোরই সমস্যা থাকার কারন নেই – কারণ যারা প্রতিবাদ জানাতে চান শুধুমাত্র তারাই হরতাল পালন করবেন। কিন্তু জনগণের জানমালের ক্ষতি করে, “জ্বালাও – পোড়াও” চালিয়ে, ভয় দেখিয়ে জনগণকে দেশের অর্থনীতির জন্য চরমভাবে ক্ষতিকর হরতাল পালনে বাধ্য করা হলে জনগণ সম্মিলিতভাবে তা বর্জন করবে। দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার সময় হরতাল দিয়ে আমাদের রাজনীতিবিদরা কোমলমতিদের পড়াশোনার ক্ষতি করবেন না বলেই আমরা আশা করি।

    দেশের জনগণ আর সহিংস কর্মসূচি কিংবা এর বিরুদ্ধে দমন – নিপীড়ন কোনটাই দেখতে চায় না।

    দুই নেত্রী নিজেরা আলোচনা করে ঐক্যমতে পৌঁছাবেন এমন আশাও আমরা করতে পারছি না।

    আমরা উভয় দলের কাছে গ্রহনযোগ্য এমন একজনকে দেখতে চাই যিনি নির্বাচনকালীন সরকার প্রধান হিসেবে দুই দলের প্রস্তাবের দূরত্ব দূর করে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করবেন এবং একটি সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন জাতিকে উপহার দেবেন।

    দুই দল দ্রুত নির্বাচনকালীন সরকার প্রধান হিসেবে গ্রহনযোগ্য একজনকে মনোনীত করে সংবিধান সমুন্নত রাখতে প্রয়োজনে তাকে উপনির্বাচনে বিজয়ী করে আনতে পারে।

    দুই দল এই ব্যাপারে একমত হলে দেশ তার আরও সন্তান হারানোর সম্ভাবনা থেকে মুক্তি পাবে। জনগণের প্রতিনিধি রাজনীতিবিদরা কি আমাদের সাধারণ জনগণের কথা একটি বার ভাববেন না?

    আদর্শ রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ক্যাম্পেইন পরিকল্পনা

    আদর্শ রাজনৈতিক দলটি নির্বাচনী ক্যাম্পেইন পরিকল্পনায় গতানুগতিকতা থেকে বেরিয়ে এসে সৃজনশীলতা দেখাবে।

    জরিপ করে জনগণের মন, জনগণের আশাআকাঙ্ক্ষা বোঝার উদ্যোগ নেওয়া হবে – কারা “ক” দলকে ভোট দেবেন? কি কি কারণে? কারা “খ” দলকে ভোট দেবেন? কি কি কারণে? (এসব ভোট কিভাবে নিজেদের পক্ষে আনা যায়?) অতীতে কোনবার কোন দল বা প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন? কেন? ভিন্ন দলকে ভোট দিলে সমর্থন পালটানোর কারণ কি? এলাকার উন্নয়নে কি কি দেখতে চান? কি কি সমস্যার সমাধান চান? (প্রার্থী হিসেবে কাল টাকার মালিক থাকলে তিনি কিভাবে নির্বাচনকে প্রভাবান্বিত করতে পারেন? কতটা?)

    জনগণের গঠনমূলক সমালোচনাকে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে গ্রহণ করে প্রার্থীরা নিজেদের ভুলভ্রান্তি দূর করে কর্মকাণ্ড আরও উন্নততর করার কাজে ব্যবহার করবেন।

    প্রতিটি নির্বাচনী সভায় জনগণকে তাদের আশা আকাঙ্ক্ষা প্রত্যাশার কথা বলার সুযোগ দেওয়া হবে। আধুনিক প্রযুক্তি যেমন ভিডিও চিত্রের (বিভিন্ন এলাকার জন্য উপযোগী করে প্রয়োজনে স্থানীয় ভাষায়) মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নে জনগণ উজ্জীবিত হবে।

    আধুনিক যোগাযোগ মাধ্যম যেমন ভিডিও কনফারেন্সিং, ইন্টারনেট ভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, মোবাইল প্রযুক্তির ব্যবহার করা হবে।

    সবাইকে নিয়ে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এলাকার প্রতিষ্ঠিত বেক্তিরা এগিয়ে আসবেন, বাবসায়িরা সামাজিক এন্টারপ্রাইস প্রতিষ্ঠা করবেন। এলাকার জনগণ একতাবদ্ধ হয়ে নিজেরা নিজেদের সমস্যা সমাধান করবেন।

    এভাবে রাজনীতিতে মেধার প্রয়োগ দেখিয়ে দলটি দেশে নতুন রাজনীতির শুভ সূচনা করবে।

    অন্তর্বর্তীকালীন সরকারঃ কিছু প্রস্তাব – ২

    রাজপথ থেকে সরে এসে সরকারি দল এবং প্রধান বিরোধী দলের নির্বাচনকালীন সরকার প্রস্তাবের মাঝে আমরা দেশের জনগণ নতুন রাজনীতির আলো দেখি।

    তবে উভয়ে নিজ নিজ অবস্থানে থাকলে আমরা তৃতীয় একজনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি।

    এই তৃতীয় একজনের ভূমিকা নিতে পারেন একজন নিরপেক্ষ গ্রহণযোগ্য দৃঢ়চেতা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধান।

    ভোটের দিন ও ক্ষমতা হস্তান্তর পর্যন্ত নিরপেক্ষ পরিবেশ ধরে রাখার জন্য এবং একটি সুষ্ঠু , নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের স্বার্থে আমরা স্বরাষ্ট্র, সংস্থাপন এবং অন্যান্য স্পর্শকাতর মন্ত্রনালয়গুলো অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিরপেক্ষ উপদেষ্টাদের হাতে নাস্ত করার প্রস্তাব জানাই।

    মন্ত্রীসভা এবং উপদেষ্টা পরিষদ নিয়ে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে।

    বিরোধী দলীয় নেতার প্রতিশোধ – প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে দূরে থাকা, মেধাবী ও যোগ্য নাগরিকদের আগামী দিনের জাতীয় ঐক্যের সরকারের সঙ্গে কাজ করার আগাম আমন্ত্রণ – এসব ঘোষণাকে আমরা ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখি।

    তবে আমরা সচেতন নাগরিকরা অতীতেও উভয় দলের কাছে এমন অনেক প্রতিশ্রুতি শুনেছি যেগুলোর সঠিক বাস্তবায়ন দেখিনি। আমরা আগামী নির্বাচনের আগেই সরকারি দল এবং প্রধান বিরোধী দলের ঘোষণার বাস্তবে প্রতিফলন দেখতে চাই, কথায় এবং কাজে সামঞ্জস্যতা দেখতে চাই।

    অন্তর্বর্তীকালীন সরকারঃ কিছু প্রস্তাব

    মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সর্বদলীয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের প্রস্তাবকে আমরা স্বাগত জানাই।

    দেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে কিছু প্রস্তাবঃ

    1. অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধান হবেন সব দলের কাছে গ্রহণযোগ্য একজন। মাননীয় রাষ্ট্রপতি সব দলের পরামর্শ নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধান নিয়োগ দিবেন।

    2. সংসদ ভেঙে দিতে হবে।

    3. নির্বাচন কমিশন হতে হবে শক্তিশালী, স্বাধীন এবং সকল দলের কাছে গ্রহণযোগ্য।

    4. অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধান সকল দলের পরামর্শ নিয়ে ছোট কলেবরের অন্তর্বর্তীকালীন মন্ত্রীসভা (এবং মন্ত্রীসভাকে সহায়তা করতে উপদেষ্টা পরিষদ) গঠন করবেন।

    5. প্রশাসন যাতে নিরপেক্ষ হয় এবং ক্ষমতা হস্তান্তর পর্যন্ত এই নিরপেক্ষতা বজায় থাকে – অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তা নিশ্চিত করবেন। কোন দল যাতে এক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করতে না পারে সে লক্ষ্যে বাবস্থা নেবেন।

    6. ক্ষমতা হস্তান্তর পর্যন্ত সব প্রক্রিয়া যাতে সংবিধান সম্মতভাবে হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।

    নির্বাচনকালীন সরকারবাবস্থা নিয়ে অবস্থানঃ সহিংসতার বিপক্ষে, শান্তির পক্ষে

    নির্বাচনকালীন সরকারবাবস্থা নিয়ে সরকার এবং প্রধান বিরোধী দলের মুখোমুখি অবস্থানে দেশবাসী আতঙ্কিত। ২৫ অক্টোবর এবং তার পরবর্তী দিনগুলোতে কর্মসূচি নিয়ে সরকার এবং প্রধান বিরোধী – উভয় দলের নেতারা আগ্রাসী বক্তব্য (“লগি – বৈঠা” এর বিপরীতে “দা – কুড়াল”) দিচ্ছেন। দেশের জনগণ চায় তাদের ভোটের অধিকার সুষ্ঠুভাবে প্রয়োগ করতে। কিন্তু তার জন্য জনগণের জানমালের ক্ষতি হোক – এটাও কেউ চায় না।  

    সরকারি এবং বিরোধী দলগুলো নিজ নিজ দাবির পক্ষে গনসচেতনতা সৃষ্টি করতে পারে, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করতে পারে। কিন্তু কোন দল জনগণের জানমালের ক্ষতি করলে জনগণ তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করবে। অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলোকে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের সুযোগ না দিলে, সরকার অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের যে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে – সেই প্রতিশ্রুতি গ্রহণযোগ্যতা হারাবে। 


    সরকার এবং বিরোধী উভয়দলের নেতারা ক্ষমতার লোভে জনগণকে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড় করিয়ে দেবেন – কোন সচেতন নাগরিক তা মেনে নিতে পারেন না।

    আমরা অতীতে দেখেছি দেশের ক্রান্তিলগ্নে জনগণের দায়িত্বপূর্ণ ভূমিকা।

    আজ আরও একবার সময় এসেছে দেশের আপামর জনসাধারণের ঐক্যের।

    সচেতন নাগরিক সমাজ সম্মিলিতভাবে সবরকম সহিংস কর্মসূচি প্রত্যাখ্যান করবেন, জনগণের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করবেন এবং সহিংস কর্মসূচির বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ অবস্থান নেবেন – এই অবস্থান কোন দলের পক্ষে বা বিপক্ষে নয়, এই অবস্থান সহিংস কর্মসূচির বিরুদ্ধে, দেশের জনগণের জানমালের ক্ষতির বিরুদ্ধে, এই অবস্থান শান্তির পক্ষে।

    নির্বাচনকালীন সরকারবাবস্থাঃ জনগণের মতামত প্রতিফলিত হোক

    আগামী নির্বাচন কবে হবে, কিভাবে হবে – এটা সাম্প্রতিককালে দেশের রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়। সরকারি দল চাইছে নিজেদের অধীনে নির্বাচন। বিভিন্ন দল থেকে নির্দলীয় সরকারের দাবি উঠেছে। আবার জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে দেশের অধিকাংশ জনগণ নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের পক্ষে।

    দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি বিবেচনা করলে আমাদের মনে প্রশ্ন জাগে – অন্তর্বর্তী সরকারটি যদি বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিদের নিয়েও গঠিত হয় তবে কি বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিরা প্রশাসনকে নিজেদের মত করে সাজাতে চাইবেন না এবং এক্ষেত্রে প্রশাসন সাজানো নিয়ে বিরোধ কি অনিবার্য না?

    তবে নির্দলীয় সরকারের দাবিতে দেশে অতীতের মত গোলযোগ, নৈরাজ্য, বিশৃঙ্খলা হোক, অর্থনীতির ক্ষতি হোক – এটাও সাধারণ জনগণ চায় না।

    দেশের আপামর জনসাধারণ সমস্যাটির একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান দেখতে চায়।

    দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ যদি নির্বাচনকালীন সরকার হিসেবে বর্তমান সরকারের উপর আস্থা রাখে – তবে সেটিই হবে গ্রহণযোগ্য সমাধান। অন্যদিকে, সরকারের ভেতরে এবং বাইরে থাকা বিভিন্ন দল যারা নির্দলীয় সরকারের পক্ষে, তারা প্রতি আসনে স্বাক্ষর সংগ্রহের মাধ্যমে প্রমাণ করতে পারে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে এবং বিরোধী দল নির্বাচনে না গেলে ৫০ ভাগের উপরে মানুষ ভোট দিতে ভোট কেন্দ্রে যাবে না। দেশের জনগণ যদি নির্দলীয় সরকারকেই তাদের ভোটের অধিকার রক্ষার তথা সুষ্ঠু নির্বাচনের একমাত্র উপায় বলে মনে করে তবে নিজেরাও এই উদ্যোগ নিতে পারে। আর দেশের ৫০ ভাগের উপর মানুষ যদি ভোটকেন্দ্রেই না যায়, তবে কি সরকারি দলের নিজেদের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের নৈতিক অধিকার থাকবে? সেই নির্বাচনের কোন গ্রহণযোগ্যতা থাকবে না, সেই নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত সরকার স্থায়ী হবে না এবং জনগণও চাইবে না জনগণের অর্থে বিপুল বায়বহুল একটি অগ্রহণযোগ্য নির্বাচন হোক।