বিশ্বের বেসরকারি সশস্ত্র সংগঠনের তালিকায় তৃতীয় স্থানে শিবির




“২০১৩ সালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সবচেয়ে সক্রিয় অরাষ্ট্রীয় সশস্ত্র সংগঠনগুলোর তালিকায় তৃতীয় শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে ইসলামী ছাত্র শিবির।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইএইচএস জেইন টেরোরিজম অ্যান্ড ইনসার্জেন্সি সেন্টার তাদের জরিপের ভিত্তিতে এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

তাদের জরিপ অনুযায়ী, এধরনের অরাষ্ট্রীয় সশস্ত্র সংগঠনের মধ্যে প্রথম অবস্থানে রয়েছে থাইল্যান্ডের বারিসান রেভোলুসি নাসিওনাল এবং দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে তালিবান। এরপরেই রয়েছে বাংলাদেশের ইসলামী ছাত্রশিবির।

আইএইচএস’র ওয়েবসাইটে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি এ তালিকা প্রকাশ করা হয়। বিভিন্ন দেশের উন্মুক্ত সূত্র থেকে প্রাপ্ত উপাত্তের ভিত্তিতে প্রতিবছর আইএইচএস জেইন টেরোরিজম অ্যান্ড ইনসার্জেন্সি সেন্টার সূচক অনুযায়ী এ তালিকা প্রস্তুত করা হয় প্রতিষ্ঠানটির ভোক্তাদের জন্য।

১৯৯৭ সাল থেকে আইএইচএস জেইন এ ধরনের উপাত্ত সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করে আসছে বলে জানানো হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে।

স্বাধীনতার আগে জামায়াতে ইসলামী এই ছাত্রসংগঠনটির নাম ছিলো ইসলামী ছাত্রসংঘ। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ১৯৭৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ‘ইসলামী ছাত্রশিবির’ নাম নিয়ে পুনরায় আত্নপ্রকাশ ঘটে সংগঠনটির।

২০১২ সালের শেষদিকে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জামায়াত নেতাদের বিচার প্রক্রিয়া শুরুর পরপরই পুলিশের ওপর ঝটিকা মিছিল থেকে হামলা চালানো শুরু করে ইসলামী ছাত্র শিবির।
এরপর বিভিন্ন সময়ে নাশকতা ও চোরাগোপ্তা হামলা চালিয়ে মানুষ হত্যা ও আহত করার জন্য সংগঠনটিকে দায়ী করে আসছে সরকার ও পুলিশ।”

সূত্র – ‘তৃতীয় বৃহত্তম সশস্ত্র সংগঠন ছাত্রশিবির’

“২০১৩ সালে বিশ্বের ১০টি সক্রিয় বেসরকারি সশস্ত্র সংগঠনের তালিকার যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী-সমর্থিত ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবির। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক তথ্য ও মতামত সরবরাহকারী ওপেন সোর্স সংস্থা হিসেবে পরিচিতআইএইচএসের ‘আইএইচএস জেনস ২০১৩ গ্লোবাল টেরোরিজম অ্যান্ড ইনসারজেন্সি অ্যাটাক ইনডেক্স’-এ বাংলাদেশের এ সংগঠনটির নাম উঠে আছে।

বিশ্বব্যাপী জঙ্গি ও অন্যান্য হামলার ভয়াবহতা বিশেষ করে আরব বসন্ত আন্দোলনের ছোঁয়া লাগা দেশগুলোর ওপর হামলা, আত্মঘাতী হামলা, আল-কায়েদার আরও পাঁচ বেসরকারি সশস্ত্র সংস্থার আত্মপ্রকাশ এবং আফ্রিকার সাব-সাহারা অঞ্চলে সন্ত্রাসের ভয়াবহতা বাড়াকে প্রাধান্য দিয়ে আইএইচএস এই সূচকটি তৈরি করেছে। এই তালিকার তিন নম্বরে এসেছে ছাত্রশিবিরের নাম।”

সূত্র – বিশ্বের বেসরকারি সশস্ত্র সংগঠনের তালিকায় শিবির

Top 10 most active non-state armed groups in 2013

1. Barisan Revolusi Nasional (Thailand)

2. Taliban

3. Islami Chhatra Shibir (Bangladesh)

4. Communist Party of India – Maoist

5. Al-Qaeda in Iraq

6. Harakat al-Shabaab al-Mujahideen (Al-Shabaab)

7. FARC (Colombia)

8. New People’s Army (Philippines)

9. Jabhat al-Nusra (Syria)

10. Unified Communist Party of Nepal – Maoist

জঙ্গিবাদ দমনে চাই জাতীয় ঐক্য

“ময়মনসিংহের ত্রিশালে আজ রোববার সকালে প্রকাশ্যে প্রিজনভ্যানে গুলি চালিয়ে ও বোমা মেরে জঙ্গি মামলার তিন আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ সময় গুলিতে এক পুলিশ সদস্য নিহত হন। এক উপপরিদর্শকসহ (এসআই) আহত হন প্রিজনভ্যানে থাকা পুলিশের তিনজন সদস্য। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কে ত্রিশালের সাইনবোর্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, ছিনিয়ে নেওয়া তিন আসামিই নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) সঙ্গে যুক্ত।”

সূত্র – জেএমবির তিন দুর্ধর্ষ জঙ্গি প্রকাশ্যে ছিনতাই

আয়মান আল-জাওয়াহিরির বক্তব্য কি জঙ্গিদের উত্তেজিত করেছে?

ইসলাম শান্তির ধর্ম। হজরত মুহম্মদ (সঃ) মক্কা বিজয়ের পর শান্তি ও সংযমের যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন, আজকের দিনের মুসলিমদের কাছ থেকেও আমরা একই আচরণ প্রত্যাশা করি। শান্তির ধর্ম ইসলামের অপব্যাখ্যা দিয়ে সন্ত্রাস এবং অন্যান্য ঘৃণ্য কার্যকলাপ সংগঠিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে।

“জঙ্গিবাদ মোকাবিলা করতে হলে এর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও সামাজিক পদক্ষেপ নিতে হবে এবং তাতে দল-মতনির্বিশেষে সবাইকে একত্র করা জরুরি।

সরকার জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছে, এটি অবশ্যই ভালো দিক। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক যে, এর সঙ্গে রাজনৈতিক মতৈক্য প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেই; বরং দোষারোপের রাজনীতি চলছে। সম্প্রতি পুলিশের গাড়ি থেকে জঙ্গি ছিনতাইয়ের যে ঘটনা ঘটল, তা নিয়েও অভিযোগের তির ছুড়ছে একে অপরের বিরুদ্ধে। এর অর্থ, জঙ্গিবাদের বিষয়টি কেউ-ই গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে না। এ থেকে দলীয় ফায়দা লোটার চেষ্টা চালাচ্ছে উভয় পক্ষ।

আমাদের সমাজটি মারাত্মকভাবে বিভাজিত। রাজনৈতিকভাবে যেমন, তেমনি মতাদর্শিকভাবেও। যেসব গোষ্ঠী বা সংগঠন ধর্ম নিয়ে কাজ করে, তাদের মধ্যে একধরনের বিচ্ছিন্নতাবোধ কাজ করে। এর কারণ যা-ই হোক, রাষ্ট্র বা সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে সেই বিচ্ছিন্নতা বাড়তে না দেওয়া এবং তাদের মূলধারায় ফিরিয়ে আনা। কেননা, সামাজিক সংঘবদ্ধতাই রাষ্ট্রের নিরাপত্তার পূর্বশর্ত। এর অর্থ এই নয় যে যারা সন্ত্রাস করছে বা জননিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ, সরকার তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে না।

বাংলাদেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ হলেও ধর্মান্ধ নন। তবে ধর্মপ্রাণ মানুষ আহত হন এমন কিছু করলে জঙ্গিবাদীরা সেই সুযোগ নিতে পারে। অন্যদিকে শহর ও গ্রামাঞ্চলের মধ্যে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিভাজনটি অনেক বেশি প্রকট। সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বার্থেই এই বৈষম্য দূর করতে হবে, শিক্ষার বিস্তার ঘটাতে হবে।

আয়তনে বাংলাদেশ ছোট হলেও এর রয়েছে বিশাল জনগোষ্ঠী। এত বড় সমাজে কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিয়ে জঙ্গি মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। এর জন্য রাজনৈতিক, শিক্ষাগত, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।

সর্বোপরি জঙ্গিবাদ নির্মূলে চাই রাজনৈতিক ঐকমত্য। বিরোধী দলের সঙ্গে যতই মতবিরোধ থাকুক না কেন, এ ব্যাপারে সরকারের উচিত হবে তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসা।”

সূত্র – জঙ্গি দমনে জাতীয় ঐকমত্য প্রয়োজন

এরপর

দেশের সন্ত্রাসীদের গডফাদার দুর্নীতিবাজদের ভয়াবহতার একটি চিত্র – ৫

“১০ ট্রাক অস্ত্র আটকের বিষয়ে সবকিছু তৎকালীন চারদলীয় জোট সরকারের শিল্পমন্ত্রী ও জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামী অবগত ছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছিলেন সাবেক শিল্পসচিব শোয়েব আহাম্মদ। তিনি ২০১০ সালের ১০ জুলাই আদালতে ১৬৪ ধারায় ওই জবানবন্দি দেন।

একপর্যায়ে মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের হাইয়েস্ট অথরিটিও এ বিষয়ে অবগত আছে। সরকার সব ব্যবস্থা নিচ্ছে। আপনি কি মনে করেন, আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলি নাই।’ প্রসঙ্গত, ওই সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পূর্ণ মন্ত্রী ছিলেন না, প্রধানমন্ত্রী ওই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন।”

সূত্র – নিজামী সবকিছু অবগত ছিলেন

“চট্টগ্রামে ১০ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালান মামলায় সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামী, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুত্ফুজ্জামান বাবরসহ ১৪ জনকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেক আসামিকে পাঁচ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া অস্ত্র আটক মামলার দুটি ধারায় এই ১৪ জনকে যাবজ্জীবন ও সাত বছর কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

সাক্ষ্যে উঠে এসেছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে উলফার জন্য বাংলাদেশের জলসীমা ব্যবহার করে অস্ত্রগুলো নিয়ে এসেছে।”

সূত্র – নিজামী-বাবরসহ ১৪ জনের ফাঁসি

“১০ ট্রাক অস্ত্র আটকের কথা শুনে নীরব ছিলেন তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদ জিয়া। প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) মহাপরিচালক সাদিক হাসান রুমী তাঁকে অস্ত্র আটকের কথা জানিয়েছিলেন। রায় ঘোষণার সময় চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ এসএম মজিবুর রহমান তাঁর পর্যবেক্ষণ আজ বৃহস্পতিবার এসব কথা বলেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, বিচারক রায়ের পর্যবেক্ষণে আরও বলেন, সাক্ষীদের জবানবন্দির ভিত্তিতে এ মামলায় হাওয়া ভবনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। এনএসআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুর রহিমকে টাকা দিতে উইং কমান্ডার (অব.) সাহাব উদ্দিনের মাধ্যমে টাকা দেন এআরওয়াই গ্রুপ। এ গ্রুপের আবদুর রাজ্জাক ইউসুফের সঙ্গে পাকিস্তানের আইএসআইয়ের যোগাযোগ ছিল বলেও পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে।

বিচারক আরও বলেন, ডিজিএফআইয়ের তত্কালীন মহাপরিচালক সাদিক হাসান রুমী সাক্ষ্য দেওয়ার সময় জানিয়েছিলেন, তিনি তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে এ ঘটনা জানিয়েছিলেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী এ কথায় তখন নীরব ছিলেন। এ ঘটনাও মামলায় এসেছে।”

সূত্র – নীরব ছিলেন খালেদা, হাওয়া ভবন সম্পৃক্ত

“আইনের হাত অনেক দীর্ঘ। সেই দীর্ঘ হাত এখন ক্রমেই খালেদা জিয়াকে আঁকড়ে ধরছে।

খালেদার আমলে অনেক অঘটনই ঘটেছে, তবে যে দুটি ঘটনা আর সব ঘটনাকে ছাপিয়ে যায় তা হলো ২০০৪ সালের এপ্রিলে ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলা এবং সে বছরের ২১ আগস্টের রক্তাক্ত গ্রেনেড হামলা। শেষের ঘটনাটি এখনো রহস্যাবৃত, কিন্তু প্রথমটির অবগুণ্ঠন খুলে গেছে। দীর্ঘ তদন্ত ও বিচার-প্রক্রিয়া শেষে রায় হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ১৪ জনের ফাঁসির রায় ঘোষিত হয়েছে। তাঁরা খালেদা জিয়ার আমলে মন্ত্রিসভার সদস্য ও গোয়েন্দা বিভাগের হর্তাকর্তা ছিলেন। সেই সরকারের যিনি প্রধান, যাঁর নাকের ডগায় এমন ঘটনা ঘটেছিল, সেই খালেদা জিয়া এখনো অভিযুক্ত হননি।

তদন্ত ও বিচারের রায়ে দুটি জিনিস স্পষ্ট।

এক. ১০ ট্রাক অস্ত্র অবৈধভাবে পাচারের ঘটনাটি প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) সাদেক হাসান রুমী নিজে প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছিলেন। তৎকালীন শিল্পমন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী, যিনি এই মামলার অন্যতম অপরাধী, তাঁর সাক্ষ্য থেকেও জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে অস্ত্র ধরা পড়ার ঘটনাটি নিয়ে তিনি আলোচনা করেছেন।

দুই. খালেদা জিয়া ঘটনার কথা জেনেছিলেন, অথচ এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। প্রমাণিত হয়েছে যে তাঁর সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশেই অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। চট্টগ্রামের স্থানীয় পুলিশ এ নিয়ে থানায় মামলা করেছিল, কিন্তু পরে মামলাটি গোয়েন্দা বিভাগের কাছে হস্তান্তরিত হয়। তারা এ নিয়ে কার্যত কিছুই করেনি। খালেদার আমলে এ বিষয়ে মামলা করা হয় এবং তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়—এ কথা ঠিক। কিন্তু সেই কমিটির কোনো প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশিত হয়নি, কারও বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাও নেওয়া হয়নি। উল্টো পুরো ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা হয়।

অপরাধের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত না হলেও সেই ঘটনার প্রতিকার করেননি—এ জন্য খালেদা জিয়াকে অভিযুক্ত করা যায়। সব দেশের অপরাধ আইনেই অপরাধের সাথিকে—আইনের ভাষায় অ্যাকমপ্লিস ও অ্যাকসেসরি—বিচারের সম্মুখীন করার বিধান রয়েছে। ১৮৭২ সালের ভারতীয় সাক্ষ্য আইন (এভিডেন্স অ্যাক্ট) অনুসারে, যেকোনো ব্যক্তি যদি কোনো অপরাধ বিষয়ে জ্ঞাত থাকেন, সংঘটিত অপরাধ বিষয়ে জানা সত্ত্বেও এ বিষয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে অবহিত না করেন, বিচার ও তদন্তকাজে বাধা সৃষ্টি করেন, অথবা বিচার ধামাচাপা দিতে চান বা তা বিলম্বিত করার চেষ্টা করেন, তাহলে তেমন ব্যক্তি অপরাধী বলে বিবেচিত হবেন।

একই কথা ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার ঘটনা নিয়ে। সেই ঘটনায় আওয়ামী লীগের প্রথম সারির এক নেত্রীসহ মোট ২৩ জন নিহত হন। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর তখনো নিজ দায়িত্বে সমাসীন। হাওয়া ভবনে বসে খালেদা-পুত্র তারেক তখনো সমান্তরাল সরকার পরিচালনা করছেন, তাঁর মায়ের জ্ঞাতসারে, সম্ভবত তাঁর সমর্থনে। এই হাওয়া ভবনেই আওয়ামী লীগের সভায় গ্রেনেড হামলাকারীরা বৈঠক করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। খালেদা জিয়া যখন প্রধানমন্ত্রী, তাঁর সরকার সে সময় নানাভাবে চেষ্টা করেছে গ্রেনেড হামলার সব দায়-দায়িত্ব উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপাতে। একদম নিরীহ একজন জজ মিয়াকে সেই হামলায় জড়িয়ে নাটকের চেষ্টাও হয়েছে।

একটা সময় ছিল, যখন দেশের রাজা যা খুশি করতেন, যাকে খুশি তাকেই শূলে চড়াতে পারতেন। মানবসভ্যতা সেই সামন্ততান্ত্রিক স্বেচ্ছাচারের যুগ অতিক্রম করেছে গণতান্ত্রিক দায়বদ্ধতায় প্রবেশের মাধ্যমে। আইনের চোখে সবাই সমান, এটি কেবল কথার কথা নয়, এটি আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থার অন্যতম মৌল ভিত্তি। আমরা সেই রকম দায়বদ্ধ আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা নির্মাণ করতে চাই।
এ কথা প্রমাণের একটি সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ হবে সাবেক এই সরকারপ্রধানকে এক বা একাধিক অপরাধের দোসর হিসেবে আইনের দাঁড়িপাল্লায় টেনে তোলা।”

সূত্র – বিচারপতি, এবার হবে তোমার বিচার

“১০ ট্রাক অস্ত্র মামলা, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলা, কিবরিয়া হত্যা মামলা, সিলেটে ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরীর ওপর হামলা, যশোরে উদীচীর সম্মেলনে বোমা হামলা, পল্টনে সিপিবির জনসভায় বোমা হামলা কিংবা পয়লা বৈশাখে রমনার বটমূলে বোমা হামলা মামলাগুলোর ব্যাপারে তারা কেন নিশ্চুপ ছিল, সেই প্রশ্নের জবাব নেই। এ ঘটনাগুলো হয় আগের আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ দিকে অথবা বিএনপি সরকারের আমলেই ঘটেছে। এসব অঘটনের হোতা হরকাতুল জিহাদের নেতা মুফতি আবদুল হান্নান ও তাঁর সহযোগীরা। সেই সহযোগীদের সঙ্গে বিএনপির কার কী সম্পর্ক ছিল, কোন মন্ত্রী বা মেয়র বাংলা ভাইয়ের সঙ্গে গোপন বোঝাপড়া করেছেন, বিএনপির নেতৃত্বের কাছে দেশবাসী সেসব প্রশ্নেরও জবাব চাইবে।
হরকাতুল জিহাদ বা জেএমবি ঘোষিত সন্ত্রাসী ও জঙ্গি সংগঠন। তাদের কোনো জবাবদিহি নেই। কিন্তু বিএনপি তো একটি গণতান্ত্রিক দল। তাদের নেতা-কর্মীরা কীভাবে এই ভয়ংকর সংগঠনের সঙ্গে হাত মেলান, এসব অঘটনের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত করেন?

বিচারিক দায়িত্ব বিএনপি সরকার সঠিকভাবে পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারও কিবরিয়া হত্যাসহ অনেক হত্যা মামলার বিচার করতে পারেনি। সেটি তাদের প্রশাসনিক ব্যর্থতা। কিন্তু সন্ত্রাসী বা জঙ্গি সংগঠনগুলোর সঙ্গে বিএনপি নিজেদের বিযুক্ত করতে না পারা বিএপির সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ব্যর্থতা বলে মনে করি। একজন লুৎফুজ্জামান বাবর কিংবা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পাপ দলটির গায়ে স্থায়ী কালিমা লেপন করে দিয়েছে। সন্ত্রাসী ও নাশকতার ঘটনার সঙ্গে বিএনপির যেসব নেতা-মন্ত্রী-সাংসদ বা উপদেষ্টা জড়িত বলে খবর বের হয়েছিল, বিএনপি নেতৃত্ব তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দূরে থাক, তদন্ত পর্যন্ত করেননি।

তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীকে (বেগম খালেদা জিয়া) পিডব্লিউ-৩৭ মেজর জেনারেল (অব.) সাদিক হাসান রুমি ডিজিএফআইয়ের প্রধান হিসেবে এই মামলাসংক্রান্ত অস্ত্র ও গোলাবারুদ আটকের ঘটনা টেলিফোনে অবহিত করলে তিনি কোনোরূপ প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে ঘটনাটি অবগত আছেন এবং একটি কমিটি করে দেবেন বলে পিডব্লিউ-৩৭-কে জানান। এত বড় একটি ঘটনার বিষয়ে অবহিত হয়ে কোনোরূপ কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত না করে তৎকালীন সরকারপ্রধানের এরূপ নীরব ভূমিকা পালনও রহস্যজনক বলে প্রতীয়মান হয়। একইভাবে তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ঘটনার প্রায় এক বছর পর ঘটনাস্থলের চাক্ষুষ সাক্ষী পিডব্লিউ-৯ সার্জেন্ট আলাউদ্দিন ও পিডব্লিউ-১০ সার্জেন্ট হেলাল উদ্দিনকে অস্ত্র মামলায় জড়িয়ে এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে তাঁদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালিয়েছেন বলে তাঁরা আদালতে এসে সাক্ষ্য দিয়েছেন।’

এতে বলা হয় ‘দোষ স্বীকারোক্তি প্রদানকারী আসামি এনএসআইয়ের কর্মকর্তাদের স্বীকারোক্তিতে এসব তথ্যও বেরিয়ে এসেছে যে তাঁরা আরও কিছু দেশের দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে হাজার হাজার ডলার ও আকর্ষণীয় উপহারসামগ্রী গ্রহণ করেছেন এবং উলফা নেতা পরেশ বড়ুয়াসহ অন্য দেশের আতিথেয়তা গ্রহণপূর্বক দেশ-বিদেশে একাধিক গোপন মিটিংয়ে উপস্থিত থেকেছেন। তাঁদের এসব উক্তি থেকে বোঝা যায় যে তাঁরা নিজ দেশের অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়ে গোটা জাতিকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন।”

সূত্র – যে প্রশ্নের জবাব খালেদাকে দিতে হবে

১০ ট্রাক অস্ত্র মামলা নিয়ে আরও

সন্ত্রাসমুক্ত সাম্প্রদায়িকতামুক্ত দেশ গড়ার লক্ষ্যে জনগণের ঐক্য

জামায়াত ইসলামী বাংলাদেশী কোন দল না। একই নামে পাকিস্থানের একটি রাজনৈতিক দলের বাংলাদেশের শাখা ছিল এটি ৭১ পর্যন্ত। ৭১ এ তারা সক্রিয় ভাবে পাকিস্থানি সেনা বাহিনীকে সমর্থন করেছিল এবং গণহত্যায় অংশ নিয়েছিল। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উপর নির্মম হত্যাযজ্ঞ এবং নির্যাতন চালিয়েছিল। বুদ্ধিজীবীদের হত্যার মাধ্যমে নতুন দেশকে পঙ্গু করে দেওয়ার পরিকল্পনায় ও তারা ছিল।

স্বাধীনতা যুদ্ধের বেশ কয়েক বছর পর তারা বাংলাদেশে সক্রিয় ভাবে রাজনীতি শুরু করে।

জামায়াতে ইসলামীর সাথে অঙ্গাঙ্গী ভাবে জড়িত সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবির।

আমরা মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হওয়ার পর জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসী এবং রাষ্ট্র বিরোধী কার্যকলাপ (পুলিশের উপর হামলা, জাতীয় পতাকা অবমাননা) লক্ষ্য করেছি।

এর আগে ২০০১ সালে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উপর হামলায় আমরা ৭১ এর প্রতিচ্ছবি দেখেছিলাম। একই ছবি এবারের নির্বাচনের সময় ও দেখা গেলো।

“রগ কাটা” শিবির হিসেবে তাদের কার্যকলাপ এবার মিডিয়ায় উঠে এসেছে।

২০০১ এর পর দেশে জঙ্গিবাদের উত্থানে জামায়াত শিবিরের প্রশ্রয় আমরা লক্ষ্য করেছি।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে নাগরিক শক্তি বদ্ধপরিকর।

জামায়াত- শিবিরের যেসব সদস্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত নাগরিক শক্তি অন্য সব সন্ত্রাসীদের মতই তাদের বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করাবে। এরা এখনও মনে প্রাণে ৭১ এর পূর্বের পাকিস্তানি চেতনাকে ধারণ করে।

কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে, দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে, স্বাধীনতার সময়ে যাদের জন্মই হয়নি তাদেরও এরা ইসলামী চেতনা, লোক দেখানো আদর্শের কথা বলে দল ভারি করার চেষ্টা করেছে।

আমাদের লক্ষ্য হবে তরুণ প্রজন্মকে বিপথে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করা। যাদের ভুল বুঝিয়ে ভুল পথে নেওয়া হয়েছে, তাদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা।

মহানবী হজরত মুহম্মদ (স) আমাদের শিখিয়েছেন “দেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ”।
আর যারা বিনা অপরাধে মানুষ খুন করতে পারে, তাদের মুখে ইসলামের কথা মানায় না।

এ লক্ষ্যে দেশের সব বয়সের সব শ্রেণী পেশার মানুষকে একযোগে কাজ করতে হবে।

ইসলামী চেতনার কথা বলে এবং সন্ত্রাসীদের ভাড়া করে তারা আক্রমণাত্মক কার্যকলাপ চালিয়ে শক্তি দেখাতে পারে। কিন্তু বেশ কয়েক মাস আগের জরিপে আমরা দেখেছিলাম, জামায়াত ইসলামীর সমর্থন শতকরা ৩ ভাগের কম। এ কয়েক মাসে নিবন্ধন অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা এবং নাক্কারজনক কার্যকলাপের মাধ্যমে তাদের সমর্থন আরও বেশ খানিকটা কমেছে।

আমরা প্রচেষ্টা চালালে শুধুমাত্র ৭১ এর মানবতাবিরধী অপরাধী এবং কতিপয় চরমপন্থী (Extremist) সন্ত্রাসী ছাড়া জামায়াত-শিবির বলে কিছু থাকবে না।

নাগরিক শক্তি দেশের জনগণকে সেই লক্ষ্যে নেতৃত্ব দেবে।


রেফরেন্স 
[2] Bangladesh Jamaat-e-Islami
[3] Global Terrorism & Insurgency Attacks Rapidly Increase in Five Years, According to IHS Jane’s Terrorism and Insurgency Centre

আরও 
[1] জামাত নিষিদ্ধের দাবি ও বাস্তবতা
[2] জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীসহ ১৪ জনকে ফাঁসির দণ্ডাদেশ দেওয়ার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামি।
[3] বিশ্বের বেসরকারি সশস্ত্র সংগঠনের তালিকায় শিবির

“২০১৩ সালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সবচেয়ে সক্রিয় অরাষ্ট্রীয় সশস্ত্র সংগঠনগুলোর তালিকায় তৃতীয় শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে ইসলামী ছাত্র শিবির।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইএইচএস জেইন টেরোরিজম অ্যান্ড ইনসার্জেন্সি সেন্টার তাদের জরিপের ভিত্তিতে এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

তাদের জরিপ অনুযায়ী, এধরনের অরাষ্ট্রীয় সশস্ত্র সংগঠনের মধ্যে প্রথম অবস্থানে রয়েছে থাইল্যান্ডের বারিসান রেভোলুসি নাসিওনাল এবং দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে তালিবান। এরপরেই রয়েছে বাংলাদেশের ইসলামী ছাত্রশিবির।

আইএইচএস’র ওয়েবসাইটে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি এ তালিকা প্রকাশ করা হয়। বিভিন্ন দেশের উন্মুক্ত সূত্র থেকে প্রাপ্ত উপাত্তের ভিত্তিতে প্রতিবছর আইএইচএস জেইন টেরোরিজম অ্যান্ড ইনসার্জেন্সি সেন্টার সূচক অনুযায়ী এ তালিকা প্রস্তুত করা হয় প্রতিষ্ঠানটির ভোক্তাদের জন্য।

১৯৯৭ সাল থেকে আইএইচএস জেইন এ ধরনের উপাত্ত সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করে আসছে বলে জানানো হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে।

স্বাধীনতার আগে জামায়াতে ইসলামী এই ছাত্রসংগঠনটির নাম ছিলো ইসলামী ছাত্রসংঘ। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ১৯৭৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ‘ইসলামী ছাত্রশিবির’ নাম নিয়ে পুনরায় আত্নপ্রকাশ ঘটে সংগঠনটির।

২০১২ সালের শেষদিকে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জামায়াত নেতাদের বিচার প্রক্রিয়া শুরুর পরপরই পুলিশের ওপর ঝটিকা মিছিল থেকে হামলা চালানো শুরু করে ইসলামী ছাত্র শিবির।
এরপর বিভিন্ন সময়ে নাশকতা ও চোরাগোপ্তা হামলা চালিয়ে মানুষ হত্যা ও আহত করার জন্য সংগঠনটিকে দায়ী করে আসছে সরকার ও পুলিশ।”
 – ‘তৃতীয় বৃহত্তম সশস্ত্র সংগঠন ছাত্রশিবির’

An Interim Neutral Government holding Elections Can Lead to Peaceful Resolution In Syria

An Interim Neutral Government holding Elections Can Lead to Peaceful Resolution In Syria 

[Published: 01.24.14]

In Syria, People belonging to the “rebels” groups who have lost their family members in the civil war, are not ready to accept Bashar Al-Assad as the President.

There are talks going on at the moment organized by UN for transition of power to a transitional government.

The Syrian regime has no intentions for handing over power. We have observed support to Bashar Al-Assad’s government from both Iran and Russia.

More than 110,000 people have lost their lives. What is the point of adding more to that?

Syrian land has become a fertile ground for growth of opposing groups of militants and extremists.

Our carefree attitude might make us pay price in the longer term.

Democracy has to be restored. People should be given the right to choose their own leaders and representatives and it’s the responsibility of leaders to win people’s hearts.

United States can propose for a caretaker government to hold a free and fair election and hand over power to the winning political party.

In Bangladesh, we have experience of Interim Neutral Caretaker Government successfully holding free and fair elections in the years 1996, 2001 and 2008. An advisory council led by the last retired Chief Justice of the Supreme Court rules the country for three months and holds the election before an elected government takes over power in Bangladesh.


The Interim Neutral Caretaker Government could be such that

  • The chief of the caretaker government is acceptable to all the parties involved.
  • Military and arms support from outside countries are stopped immediately. 
  • The caretaker government shows zero tolerance to extremists and militias, no matter what ideology they represent.
  • The situation in Syria returns at least close to normal. Initiatives are taken to bring back all the refugees back to Syria. The refugee situation is causing disastrous effects in the Middle East. Humanitarian efforts are undertaken.
  • A definite time period is determined during which the Caretaker Government rules. Before the time period ends, a free, fair, credible and internationally acceptable election is held.


Iran and Russia can make sure the Syrian regime accepts the proposal.


Tolerance for the sake of humanity is expected from Leaders.

Influence & Impact of this Article: [As of 04.09.15]

The proposed Model was adopted by Hamas and Fatah to form an Interim Government for West Bank and Gaza Region in 2014 and led to a historic union between Hamas and Fatah.

FatahHamasPalestine

 

Conflicting Interest in Regional Dominance is Nurturing Militants and Extremists in Middle East: Is this Acceptable?

In Middle East, regional dominance and Shiite-Sunni conflict is giving rise to and encouraging militants and extremists.Saudi Arabia and it’s allies and Iran and it’s allies are in opposite groups, with Saudi Arabia being Sunni dominant and Iran being Shiite dominant.

 

Because of power conflict and interest in regional dominance, both sides are encouraging groups of opposing militants and extremists.

But does “Islam”, a word derived from “Salam”, which literally means “peace”, really encourage or even approve such conflicts?
Suicide and collateral damage are forbidden in Islam and the person who commits suicide is destined to go to hell.
Prophet Muhammad declared unity of humanity in his last sermon, “All mankind is from Adam and Eve, an Arab has no superiority over a non-Arab nor a non-Arab has any superiority over an Arab; also a white has no superiority over black nor a black has any superiority over white except by piety and good action.” [1]

In the age of globalization, it’s the mutual economic relationship and mutual economic engagement, not military engagement, that brings prosperity.



Follow-ups

Reference