মৃত্যুদণ্ডের বিধান এবং আমাদের বিচারব্যবস্থা

আমাদের কিছু বিদেশী বন্ধু আমাদের মৃত্যুদন্ডের বিধান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। কিন্তু আমরা মনে করি, এক্ষেত্রে তাদের আমাদের দেশের বিচার বিভাগ, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে বিবেচনায় নেওয়া উচিত।

মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা হতে পারে নিরপরাধ ব্যক্তি যদি এর দ্বারা আক্রান্ত হন। অনেক দেশে সরকার মৃত্যুদণ্ডকে নিজেদের প্রয়োজনে ব্যবহার করেছেন। আরেকটি প্রশ্ন কেউ কেউ তোলেন – মৃত্যুদন্ড দেওয়া হলে একজন অপরাধীকে নিজেকে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হয় না।

কিন্তু জেনসাইড বা গণহত্যা, সিরিয়াল কিলার, টর্চারের মাধ্যমে হত্যা এসব অপরাধে দায়ি ব্যক্তিদের মৃত্যুদন্ড প্রায় সবাই সমর্থন করেন।

৭১ এ দেশে হয়েছিল নারকীয় গণহত্যা। লক্ষ লক্ষ নিরপরাধ মানুষকে হত্যা।

আমরা কি ব্যাপারটা অনুভব করার চেষ্টা করি? এক একটা নিরপরাধ মানুষ হত্যা কত বড় ব্যাপার – এক একটা জীবন শেষ। সেখানে “লক্ষ লক্ষ” মানুষ হত্যা – লক্ষ লক্ষ নিরপরাধ মানুষের জীবন শেষ করে দেওয়া!

কিন্তু যে কোন বিচারে আন্তর্জাতিক মান আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। বিচারের মান, গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে কেউ যাতে প্রশ্ন তুলতে না পারে তা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।

আমাদের দেশের বিচার বিভাগ অনেকটাই এবং আইন শৃঙ্খলা বাহিনী প্রায় পুরোপুরি সরকারি নিয়ন্ত্রণে। শীর্ষ সন্ত্রাসীরা জামিন নিয়ে বের হয়ে আসেন। কেউ “রাজনৈতিক বিবেচনায়” মামলা থেকে অব্যাহতি পান। এমন দেশে কোন অপরাধীকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেওয়া হলে জামিন নিয়ে বের হওয়ার ভয় জনগণের মাঝে থাকে।

“ক্রসফায়ার” এর মাধ্যমে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর বিনা বিচারে মানুষ হত্যা আমরা সমর্থন করি না। কিন্তু আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ, বিচার বিভাগ এবং আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর উপর আস্থা যাদের শূন্যের কোটায় – তারা এটিকে সমর্থন দিয়েছিল এবং আমরাও দেখেছিলাম এর ফলশ্রুতিতে দেশে আইন শৃঙ্খলার কিছুটা হলেও উন্নতি হয়েছিল।

আমরা দেশে স্বাধীন, প্রভাবমুক্ত বিচার ব্যবস্থা এবং সরকারি প্রভাবমুক্ত আইন শৃঙ্খলা বাহিনী দেখতে চাই। আমরা দেখতে চাই আইনের শাসন, ন্যায়ভিত্তিক সমাজব্যবস্থা – যেখানে আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান হবে। যেখানে অপরাধী যত বড় হোক, আর অপরাধ যত ছোট হোক না কেন অপরাধ করলে আইনের মুখোমুখি হতে হবে।
সরকার গঠনের পর নাগরিক শক্তি আইনের শাসন, ন্যায়ভিত্তিক সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাকে অগ্রাধিকার দেবে।

আরও
নির্দিষ্টভাবে মৃত্যুদণ্ড নিষিদ্ধ নেই

রেফারেন্স