নাগরিক শক্তির নির্বাচনী ইশতেহারের রূপরেখা

নাগরিক শক্তির নির্বাচনী ইশতেহারে যেসব বিষয় থাকবেঃ

  1. শিক্ষা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যেকটা মানুষ তার সুপ্ত ক্ষমতাকে জাগিয়ে তুলে এক একটা বিশাল শক্তি হয়ে উঠতে পারে শিক্ষার মাধ্যমে। জ্ঞান আর মেধা দিয়ে জীবনে সবকিছু অর্জন করা যায়। যে কেউ প্রায় যে কোন বয়সে সঠিকভাবে চেষ্টা করলে যে কোন কিছু হয়ে উঠতে পারে – এই বিশ্বাসটা সবার মধ্যে জাগিয়ে তুলতে হবে। মানুষগুলোকে জাগিয়ে তুলতে পারলে আর কিছু লাগবে না। (শিক্ষা শুধুমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না, আমরা চাইলে জীবনের প্রতিটা মুহূর্তে চারপাশ থেকে শিখতে পারি।) ইতিহাসের যে কোন সময়ের তুলনায় নিজেকে উপরে তোলার সুযোগও সবচেয়ে বেশি আমাদের প্রজন্মের। আধুনিক প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন আমাদের হাতে দিয়েছে অনন্য সব আবিষ্কার – মানুষ এখন যে কোন প্রান্তে বসে যে কোন কিছু শিখতে পারে, যে কারও সাথে যোগাযোগ করতে পারে, কোটি মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে, কাজ করতে পারে, পারে আয় রোজগার করতে।
  2. দেশের ৫০ ভাগ মানুষের বয়স ২৩ বা তার কম। এই বিশাল তরুণ প্রজন্মকে, যারা কর্মক্ষেত্রের জন্য নিজেদের তৈরি করছে, তাদের অগ্রাধিকার দিয়ে গড়ে তোলা হবে (এবং সাথে বাবসা বান্ধব, বিনিয়োগ বান্ধব, উদ্যোক্তা বান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা লক্ষ লক্ষ তরুনের জন্য) যাতে তারা নিজেদেরকে এবং দেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। (একটা সামগ্রিক পরিকল্পনা – কত হাজার তরুনের শিক্ষা, দক্ষতা কোথায়, তাদের কর্মসংস্থান / উদ্যোগ কিরকম হতে পারে।)
  3. বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূচকে (মাথাপিছু আয়, জিডিপি প্রবৃদ্ধি, দুর্নীতি হ্রাস ইত্যাদি) উন্নতিকে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে নেওয়া হবে। কিছু সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রার উল্লেখ থাকবে ইশতেহারে। বিভিন্ন সূচকে উন্নতিকে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে নিয়ে কর্ম পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হবে – 
    • জিডিপি প্রবৃদ্ধির হারকে যত দ্রুত সম্ভব ৮% এ উন্নীত করা হবে এবং লক্ষ্য অর্জিত হলে ১০% কে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে নেওয়া হবে।
    • মাথাপিছু আয়ের দিক দিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোকে ছাড়িয়ে যাওয়ার লক্ষ্য থাকবে।
    • দুর্নীতি দমন সূচকে ব্যাপক উন্নতি আনা হবে।
    • অপরাধ শক্তভাবে দমন করে বিভিন্ন অপরাধ দমন সূচকে উন্নতি ঘটানো হবে।
    • বিভিন্ন সামাজিক সূচকে (যেমন শিক্ষা, শিশু মৃত্যু হার, আয়ুষ্কাল ইত্যাদি) লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা হবে।
    • নিজেদের মানদণ্ডে নিজেদের সাফল্য, অপরের বার্থতার প্রচার নয়, বরং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডই সাফল্য – বার্থতার মূল্যায়ন করবে।
  4. বাবসা বান্ধব, বিনিয়োগ বান্ধব, উদ্যোক্তা বান্ধব, শিল্প বান্ধব নীতিমালা প্রনয়ন এবং বাস্তবায়ন।
    • অর্থনীতিবিদদের নেতৃত্বে “ন্যাশনাল ইকোনমিক অ্যান্ড প্ল্যানিং কাউন্সিল” গঠন। অর্থনীতিবিদদের নেতৃত্বে এই কাউন্সিলে যোগ দেবেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, শিল্প বাবসায়ি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি বাবসায়ি, প্রকৌশলী, নগর পরিকল্পনাবিদ, স্থপতি, পরিসংখ্যানবিদ, কৃষক এবং শ্রমিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
    • উন্নত অবকাঠামো তৈরি + জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ + রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা > অধিকতর বিনিয়োগ > জিডিপি প্রবৃদ্ধি।
    • দেশের জনগণকে ভয় দেখিয়ে, “জ্বালাও – পোড়াও” চালিয়ে, জানমালের ক্ষতি করে অর্থনীতির জন্য চরমভাবে ক্ষতিকর হরতাল পালনে কেউ যাতে বাধ্য করতে না পারে – সে লক্ষ্যে কঠোর বাবস্থা।
    • উদ্যোক্তাদের নতুন বাবসা শুরু করার প্রক্রিয়া সহজ করার জন্য বাবস্থা গ্রহণ – সমস্যাগুলো সমাধান করা। উদ্যোক্তাদের জন্য ভেঞ্চার ক্যাপিটাল, ইঙ্কিউবেটার ফার্ম প্রতিষ্ঠায় সহায়তা
    • আইসিটি খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে এই খাতের বিকাশে সামগ্রিক পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন। দক্ষ আইসিটি পেশাজীবী, উদ্যোক্তা গড়ে তোলা, সারা দেশে দ্রুতগতির ইন্টারনেট ছড়িয়ে দেওয়া, আইসিটি ভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলতে দূরদর্শী পরিকল্পনা হাতে নেওয়া।
    • বিভিন্ন সম্ভাবনাময় শিল্প (শিপ বিল্ডিং, পর্যটন শিল্প প্রভৃতি) কে চিহ্নিতকরণ, অগ্রাধিকার দিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ, ক্ষেত্র সংশ্লিষ্ট সমস্যা সমাধান এবং বাস্তবায়ন।
    • বাংলাদেশকে বিভিন্ন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির অফশোরিং এর কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন – অবকাঠামো, জ্বালানি, দক্ষ কর্মী, কূটনৈতিক উদ্যোগ, বিশ্বব্যাপী মার্কেটিং।
    • ক্ষুদ্র এবং মাঝারি শিল্পের বাবসায়িদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া
    • শেয়ারবাজার নিয়ে কেউ যাতে কারসাজি করতে না পারে সেই লক্ষ্যে বাবস্থা গ্রহণ। শেয়ার বাজারে বিনিয়োগকারিদের আস্থা ফিরিয়ে আনা। কোম্পানির মূল্যমান নির্ধারণে আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করা।
    • ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর বাবস্থা। ব্যাংক পরিচালনায় স্বচ্ছতা আনা। দেশের ফাইনান্সিয়াল সিস্টেমকে ঢেলে সাজানো।
    • বিভিন্ন সমস্যা (যেমন ঢাকার যানজট সমস্যা) নিরসনে সৃজনশীল কার্যকরী উদ্যোগ নেওয়া।
    • শিল্পের বিকাশে (যেমন – শুল্ক মুক্ত প্রবেশাধিকার ইত্যাদি) কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করা, কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া।
    • দেশের প্রকৌশলীরা বিভিন্ন শিল্পে উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডে আত্মনিয়োগ করবেন। তাদের উন্নত প্রশিক্ষনের বাবস্থা করা।
  5. দীর্ঘ মেয়াদি এবং স্বল্প মেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়ে বাজেট এ বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ দেওয়া এবং বরাদ্দকৃত অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিতকরণ – বিভিন্ন মন্ত্রনালয়, স্থানীয় সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। কর আদায়ে স্বচ্ছতা আনা। শুল্ক নির্ধারণে বেক্তি স্বার্থ নয়, বরং জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া। যেমন সিগারেট আমদানির উপর শুল্ক বাড়ানো, কম্পিউটার এবং অন্যান্য তথ্যপ্রযুক্তি পণ্যের আমদানির উপর শুল্ক কমানো ইত্যাদি। কাস্টমসের দুর্নীতি বন্ধ করা। 
  6. বিভিন্ন মন্ত্রানলয় এবং স্থানিয় সরকারে বরাদ্দকৃত অর্থ পরিকল্পনা মাফিক ব্যয় নিশ্চিত করার জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া, প্রশিক্ষণ দেওয়া। অনিয়ম তদারক করতে দুর্নীতি দমন কমিশনকে সর্বাত্মক সহায়তা। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সচিবালয়ের আধুনিকায়ন, কার্যকারিতা বাড়ানো।   
  7. শিক্ষাবিদদের পরামর্শের ভিত্তিতে শিক্ষার্থী – অভিভাবকদের মতামত নিয়ে প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত শিক্ষাবাবস্থার প্রতিটি পর্যায়ে আমূল সংস্কার আনা হবে। 
    • শিক্ষার্থীরা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিজেরা শিখবে। 
    • পরীক্ষা পদ্ধতি, মূল্যায়ন পদ্ধতিতে সংস্কার আনা হবে। সৃজনশীল এবং বাস্তব জীবনে প্রয়োগ নির্ভর শিক্ষাবাবস্থা গড়ে তোলা হবে। 
    • শিক্ষার্থীরা মেধাভিত্তিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে। বিভিন্ন অলিম্পিয়াড, প্রতিযোগিতা এবং অন্যান্য উদ্যোগের মাধ্যমে মেধাবী জাতি গড়ে তোলা হবে।
    • বাংলাদেশে বিশ্বমানের কয়েকটা বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা হবে। বিশ্ববিদ্যালয় – ইন্ডাস্ট্রি এর মধ্যে যোগাযোগ গড়ে তোলা হবে। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি প্রদানে স্বচ্ছতা আনা হবে – ন্যূনতম মান নিশ্চিত করা হবে। 
    • উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষা কার্যক্রম যাতে অপরাজনীতির কারণে বাঁধাগ্রস্থ না হয় সে ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আমরা শিক্ষাঙ্গনে সুস্থ রাজনীতির চর্চা, উদ্ভাবনী উদ্যোগ দেখতে চাই – ছাত্রছাত্রীরা কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে, মানুষের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে দল বেঁধে কাজ করবে। 
    • মাদ্রাসা শিক্ষাবাবস্থার সংস্কার (সবার মতামতের ভিত্তিতে) – আধুনিক জ্ঞান বিজ্ঞান অন্তর্ভুক্তিকরন – যাতে তারা মেডিক্যাল, ইঞ্জিনিয়ারিং, বাবসা, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে আরও বেশি সুযোগ পায়।
  8. দলীয় পরিচয়ের উরধে উঠে সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ বিচারের মাধ্যমে মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের সাজা দেওয়া হবে এবং জাতিকে গ্লানিমুক্ত করা হবে। এরপর সমগ্র জাতি ঐক্যবদ্ধ হবে।
  9. সবরকম অপরাধ শক্ত হাতে দমন করা হবে। অপরাধ হারে ব্যাপক হ্রাস আনা হবে। অপরাধী যত বড় হোক, আর অপরাধ যত ছোট হোক না কেন – অপরাধ করে কেউ পার পাবে না। আইনের চোখে সবাই সমান হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। 
    • আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সরকারি প্রভাবমুক্ত করা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং আধুনিক বিজ্ঞান (ফরেনসিক, ডিএনএ টেস্ট ইত্যাদি) সমৃদ্ধ করা, বেতন ভাতাবৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঘুষ – দুর্নীতি বন্ধ, উন্নত প্রশিক্ষন, পুরস্কার প্রবর্তন। 
    • তদন্ত নিরেপেক্ষ এবং প্রভাবমুক্ত থেকে শেষ করা। 
    • শক্তিশালী দুর্নীতি দমন কমিশন এবং দলীয় রাজনীতির প্রভাবমুক্ত বিচার বিভাগ।
    • বিচারে দীর্ঘ সূত্রিতা দূর করা হবে। 
    • মাদকের বিস্তার রোধে কঠোর বাবস্থা। দেশে মাদকের প্রবেশ প্রবেশপথেই থামিয়ে দেওয়া হবে
    • সাইবার ক্রাইম রোধে কঠোর বাবস্থা নেওয়া হবে। দেশে এখন অনলাইন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ সরিয়ে ফেলা, ওয়েবসাইট সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট hack করা, মানুষের বাসাবাড়ি-বাথরুমে লুকিয়ে গোপন ক্যাম বসানো, কাউকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, গুজব রটিয়ে সহিংসতা ছড়ানো এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে আঘাত করার কাজে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ব্যবহার থেকে শুরু করে অনেক রকম সাইবার ক্রাইম ঘটছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তিতে উন্নত প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। সিকিউরিটি, ডিজিটাল ফরেন্সিকে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বাংলাদেশী বিশেষজ্ঞদের কন্সালটান্ট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে। কিন্তু জনগণের মত প্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ বন্ধ করা হবে। 
    • জনগণ অপরাধ এবং অপরাধীকে সামাজিকভাবে বয়কট / প্রতিহত করবে, ঘৃণার চোখে দেখবে।
  10. জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা 
    • ২০০১ নির্বাচন উত্তর সংখ্যালঘু নির্যাতন, রামু, পটিয়া, অন্যান্য হামলা এবং সাম্প্রতিক নির্বাচনকালীন হামলাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সুষ্ঠু বিচারের মাধ্যমে বাংলাদেশে চিরদিনের জন্য সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠিত করা হবে।
    • কোন নির্দিষ্ট জাতি, ধর্ম, বর্ণের মানুষের উপর গুজব রটিয়ে বা অন্য কোন উপায়ে কোন রকম অন্যায় করা হলে, দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে আঘাত এলে, তদন্ত করে দায়ি বাক্তিদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে। 
    • দেশের জনগণ একতাবদ্ধ থেকে সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
  11. দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন, নির্বাচন কমিশন, আইন বিভাগকে (বিচারপতি এবং আইনজ্ঞদের পরামর্শ অনুসারে) সরকারি প্রভাবমুক্ত করে স্বাধীন, শক্তিশালী করে গড়ে তোলা হবে।
  12. দেশের রাজনীতিতে গুনগত পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে সবার মতামত, পরামর্শ নিয়ে শাসন বিভাগ, আইন বিভাগ এবং বিচার বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য রেখে, কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় সরকারের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টনের বিধান রেখে সংবিধানে সংশোধন আনা হবে।
  13. শ্রমিকদের অধিকার সংরক্ষণ
  14. প্রবাসে কর্মসংস্থান 
    • শ্রমিক রপ্তানি বাড়াতে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হবে। 
    • আন্তর্জাতিক চাহিদা বিবেচনায় নি্রয়ে দক্ষ শ্রমিক, দক্ষ কর্মী গড়ে তোলা হবে।
    • প্রবাসে বাংলাদেশ দূতাবাসগুলো থেকে প্রবাসীদের সমস্যা আন্তরিকতার সাথে সমাধান করা হবে। 
  15. জনগণকে সম্পৃক্ত করা। জনগণের জন্য প্ল্যাটফর্ম গড়ে দেওয়া যাতে তারা বিভিন্ন উদ্যোগ নিতে পারে।
  16. গ্রামের উন্নয়ন 
    • শিক্ষায় সাফল্য, স্বাস্থ্য সুবিধা প্রদান, তথ্য প্রযুক্তির বিকাশ, কৃষিতে উদ্ভাবন ইত্যাদি ক্ষেত্রে গ্রামে গ্রামে প্রতিযোগিতা শুরু করা যায়। বিভিন্ন ক্যাটেগরিতে সেরা গ্রাম, সেরা উদ্যোক্তা ইত্যাদি নির্বাচন করা যায়। (প্রত্যেক গ্রামের মানুষ নিজের গ্রাম, নিজের ইউনিয়ন, নিজের থানা নিয়ে গর্ব করে।) এতে গ্রামের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। 
    • বিভিন্ন সামাজিক সূচকে উন্নতির লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে কর্ম পরিকল্পনা হাতে নেওয়া।
  17. কৃষি ও কৃষক সমাজের উন্নয়ন
  18. স্বাস্থ্যখাতে উন্নয়ন
    • স্বাস্থ্য যত ভাল, রোগ-বালাই যত কম, জনগণের সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতাও তত বেশি।
    • গ্রামে গ্রামে স্বাস্থ্যকর্মী। 
    • স্বাস্থ্যখাতে প্রযুক্তির ব্যবহার
  19. নারী অধিকার সংরক্ষণ এবং নারীদের ক্ষমতায়ন 
    • নারী নির্যাতন, যৌতুক, বাল্য বিবাহ এর মত সামাজিক সমস্যাগুলোকে শক্তভাবে দমন করা
    • নারী অধিকার সংরক্ষণে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি। 
    • গ্রামের নারীরা যাতে আইনি সহায়তা পায় – সেই লক্ষ্যে বাবস্থা।
  20. দারিদ্র বিমোচন 
    • সরকারি পরিকল্পনা 
    • এনজিওগুলো যাতে দেশের দারিদ্র বিমোচনে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে কাজ করতে পারে – সেই পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে বাবস্থা নেওয়া। এনজিওগুলোর কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা আনা।
    • দারিদ্র্য দূরীকরণে এবং মানুষের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সামাজিক এন্টারপ্রাইস প্রতিষ্ঠা। 
  21. জনগণের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করা হবে। শিল্পের বিকাশ এবং উদ্যোক্তা বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে বেকারত্ব দূরীকরণ, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রেখে এবং ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে করে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা, নতুন উৎস থেকে তুলনামূলকভাবে স্বল্প ব্যয়ে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা, পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা।  
  22. ন্যায়ভিত্তিক সমাজবাবস্থা প্রতিষ্ঠা – সৎ এবং ন্যায়ের পথে থেকে চেষ্টা করলে জীবনে যে কোন কিছু অর্জন করা যায় এবং অন্যায় করলে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে – এই বোধ জাগ্রত করা হবে।

    পাদটীকাঃ

    1. নির্বাচনী ইশতেহারের বিভিন্ন বিষয় ভিডিও চিত্রের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হবে।
    2. দেশের বড় অপরাধীরা সরাসরি রাজনীতিতে বা রাজনীতিবিদদের ছত্রছায়ায় থেকে নিজেদেরকে আইনের উরধে ভাবে। এক একজন শীর্ষ অপরাধীকে থামিয়ে দেওয়া মানে অনেক অনেক অপরাধ এবং অনেক ছোট অপরাধী / মাস্তানকে থামিয়ে দেওয়া। কয়েকজন শীর্ষ অপরাধীকে থামিয়ে দিতে পারলে / দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে পারলে বাকিরা ভয়ে অপরাধ জগত ছেড়ে দেবে। 
      • আমাদের প্রকৃত বড় অপরাধী আর ভুল বুঝিয়ে, ফাঁদে ফেলে ভুল পথে আনা হয়েছে – এই দুই দলের পার্থক্য করতে হবে। যাদের ভুল বুঝিয়ে ভুল পথে আনা হয়েছে, তাদেরকে সঠিক পথ দেখালে তারাও সঠিক পথে আসবে।
      • শীর্ষ অপরাধীদের (মানবতাবিরধী যুদ্ধাপরাধী, সন্ত্রাসীদের গডফাদার, শীর্ষ দুর্নীতিবাজ, শীর্ষ সন্ত্রাসী) বাদ দিয়ে সমগ্র বাংলাদেশের চেতনাকে ধারণ করা হবে।
    Follow-ups

    আদর্শ রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইশতেহারের রূপরেখা

    আদর্শ রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইশতেহারে যেসব বিষয় থাকবেঃ

    1. শিক্ষা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যেকটা মানুষ তার সুপ্ত ক্ষমতাকে জাগিয়ে তুলে এক একটা বিশাল শক্তি হয়ে উঠতে পারে শিক্ষার মাধ্যমে। জ্ঞান আর মেধা দিয়ে জীবনে সবকিছু অর্জন করা যায়। যে কেউ প্রায় যে কোন বয়সে সঠিকভাবে চেষ্টা করলে যে কোন কিছু হয়ে উঠতে পারে – এই বিশ্বাসটা সবার মধ্যে জাগিয়ে তুলতে হবে। মানুষগুলোকে জাগিয়ে তুলতে পারলে আর কিছু লাগবে না। (শিক্ষা শুধুমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না, আমরা চাইলে জীবনের প্রতিটা মুহূর্তে চারপাশ থেকে শিখতে পারি।) ইতিহাসের যে কোন সময়ের তুলনায় নিজেকে উপরে তোলার সুযোগও সবচেয়ে বেশি আমাদের প্রজন্মের। আধুনিক প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন আমাদের হাতে দিয়েছে অনন্য সব আবিষ্কার – মানুষ এখন যে কোন প্রান্তে বসে যে কোন কিছু শিখতে পারে, যে কারও সাথে যোগাযোগ করতে পারে, কোটি মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে, কাজ করতে পারে, পারে আয় রোজগার করতে।
    2. দেশের ৫০ ভাগ মানুষের বয়স ২৩ বা তার কম। এই বিশাল তরুণ প্রজন্মকে, যারা কর্মক্ষেত্রের জন্য নিজেদের তৈরি করছে, তাদের অগ্রাধিকার দিয়ে গড়ে তোলা হবে (এবং সাথে বাবসা বান্ধব, বিনিয়োগ বান্ধব, উদ্যোক্তা বান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা লক্ষ লক্ষ তরুনের জন্য) যাতে তারা নিজেদেরকে এবং দেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। (একটা সামগ্রিক পরিকল্পনা – কত হাজার তরুনের শিক্ষা, দক্ষতা কোথায়, তাদের কর্মসংস্থান / উদ্যোগ কিরকম হতে পারে।)
    3. বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূচকে (মাথাপিছু আয়, জিডিপি প্রবৃদ্ধি, দুর্নীতি হ্রাস ইত্যাদি) উন্নতিকে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে নেওয়া হবে। কিছু সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রার উল্লেখ থাকবে ইশতেহারে। বিভিন্ন সূচকে উন্নতিকে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে নিয়ে কর্ম পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হবে – 
      • জিডিপি প্রবৃদ্ধির হারকে প্রথমে ৮% এ উন্নীত করা হবে এবং লক্ষ্য অর্জিত হলে ১০% কে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে নেওয়া হবে।
      • মাথাপিছু আয়ের দিক দিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোকে ছাড়িয়ে যাওয়ার লক্ষ্য থাকবে।
      • দুর্নীতি দমন সূচকে ব্যাপক উন্নতি আনা হবে।
      • অপরাধ শক্তভাবে দমন করে বিভিন্ন অপরাধ দমন সূচকে উন্নতি ঘটানো হবে।
      • বিভিন্ন সামাজিক সূচকে (যেমন শিক্ষা, শিশু মৃত্যু হার, আয়ুষ্কাল ইত্যাদি) লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা হবে।
      • নিজেদের মানদণ্ডে নিজেদের সাফল্য, অপরের বার্থতার প্রচার নয়, বরং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডই সাফল্য – বার্থতার মূল্যায়ন করবে।
    4. বাবসা বান্ধব, বিনিয়োগ বান্ধব, উদ্যোক্তা বান্ধব, শিল্প বান্ধব নীতিমালা প্রনয়ন এবং বাস্তবায়ন।
      • অর্থনীতিবিদদের নেতৃত্বে “ন্যাশনাল ইকোনমিক অ্যান্ড প্ল্যানিং কাউন্সিল” গঠন। অর্থনীতিবিদদের নেতৃত্বে এই কাউন্সিলে যোগ দেবেন শিল্প বাবসায়ি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি বাবসায়ি, প্রকৌশলী, নগর পরিকল্পনাবিদ, স্থপতি, পরিসংখ্যানবিদ, কৃষক এবং শ্রমিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
      • উন্নত অবকাঠামো তৈরি + জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ + রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা > অধিকতর বিনিয়োগ > জিডিপি প্রবৃদ্ধি।
      • দেশের জনগণকে ভয় দেখিয়ে, “জ্বালাও – পোড়াও” চালিয়ে, জানমালের ক্ষতি করে অর্থনীতির জন্য চরমভাবে ক্ষতিকর হরতাল পালনে কেউ যাতে বাধ্য করতে না পারে – সে লক্ষ্যে কঠোর বাবস্থা।
      • উদ্যোক্তাদের নতুন বাবসা শুরু করার প্রক্রিয়া সহজ করার জন্য বাবস্থা গ্রহণ – সমস্যাগুলো সমাধান করা। উদ্যোক্তাদের জন্য ভেঞ্চার ক্যাপিটাল, ইঙ্কিউবেটার ফার্ম প্রতিষ্ঠায় সহায়তা
      • আইসিটি খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে এই খাতের বিকাশে সামগ্রিক পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন। দক্ষ আইসিটি পেশাজীবী, উদ্যোক্তা গড়ে তোলা, সারা দেশে দ্রুতগতির ইন্টারনেট ছড়িয়ে দেওয়া, আইসিটি ভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলতে দূরদর্শী পরিকল্পনা হাতে নেওয়া।
      • বিভিন্ন সম্ভাবনাময় শিল্প (শিপ বিল্ডিং, পর্যটন শিল্প প্রভৃতি) কে চিহ্নিতকরণ, অগ্রাধিকার দিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ, ক্ষেত্র সংশ্লিষ্ট সমস্যা সমাধান এবং বাস্তবায়ন।
      • বাংলাদেশকে বিভিন্ন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির অফশোরিং এর কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন – অবকাঠামো, জ্বালানি, দক্ষ কর্মী, কূটনৈতিক উদ্যোগ, বিশ্বব্যাপী মার্কেটিং।
      • ক্ষুদ্র এবং মাঝারি শিল্পের বাবসায়িদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া
      • শেয়ারবাজার নিয়ে কেউ যাতে কারসাজি করতে না পারে সেই লক্ষ্যে বাবস্থা গ্রহণ। শেয়ার বাজারে বিনিয়োগকারিদের আস্থা ফিরিয়ে আনা। কোম্পানির মূল্যমান নির্ধারণে আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করা।
      • ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর বাবস্থা। ব্যাংক পরিচালনায় স্বচ্ছতা আনা। দেশের ফাইনান্সিয়াল সিস্টেমকে ঢেলে সাজানো।
      • বিভিন্ন সমস্যা (যেমন ঢাকার যানজট সমস্যা) নিরসনে সৃজনশীল কার্যকরী উদ্যোগ নেওয়া।
      • শিল্পের বিকাশে (যেমন – শুল্ক মুক্ত প্রবেশাধিকার ইত্যাদি) কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করা, কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া।
      • দেশের প্রকৌশলীরা বিভিন্ন শিল্পে উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডে আত্মনিয়োগ করবেন। তাদের উন্নত প্রশিক্ষনের বাবস্থা করা।
    5. দীর্ঘ মেয়াদি এবং স্বল্প মেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়ে বাজেট এ বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ দেওয়া এবং বরাদ্দকৃত অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিতকরণ – বিভিন্ন মন্ত্রনালয়, স্থানীয় সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। কর আদায়ে স্বচ্ছতা আনা। শুল্ক নির্ধারণে বেক্তি স্বার্থ নয়, বরং জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া (যেমন সিগারেট আমদানির উপর শুল্ক বাড়ানো, কম্পিউটার এবং অন্যান্য তথ্যপ্রযুক্তি পণ্যের আমদানির উপর শুল্ক কমানো ইত্যাদি)।
    6. শিক্ষাবিদদের পরামর্শের ভিত্তিতে শিক্ষার্থী – অভিভাবকদের মতামত নিয়ে প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত শিক্ষাবাবস্থার প্রতিটি পর্যায়ে আমূল সংস্কার আনা হবে। 
      • শিক্ষার্থীরা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিজেরা শিখবে। 
      • পরীক্ষা পদ্ধতি, মূল্যায়ন পদ্ধতিতে সংস্কার আনা হবে। সৃজনশীল এবং বাস্তব জীবনে প্রয়োগ নির্ভর শিক্ষাবাবস্থা গড়ে তোলা হবে। 
      • শিক্ষার্থীরা মেধাভিত্তিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে। বিভিন্ন অলিম্পিয়াড, প্রতিযোগিতা এবং অন্যান্য উদ্যোগের মাধ্যমে মেধাবী জাতি গড়ে তোলা হবে।
      • বাংলাদেশে বিশ্বমানের কয়েকটা বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা হবে। বিশ্ববিদ্যালয় – ইন্ডাস্ট্রি এর মধ্যে যোগাযোগ গড়ে তোলা হবে। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি প্রদানে স্বচ্ছতা আনা হবে – ন্যূনতম মান নিশ্চিত করা হবে। 
      • উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষা কার্যক্রম যাতে অপরাজনীতির কারণে বাঁধাগ্রস্থ না হয় সে ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আমরা শিক্ষাঙ্গনে সুস্থ রাজনীতির চর্চা, উদ্ভাবনী উদ্যোগ দেখতে চাই – ছাত্রছাত্রীরা কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে, মানুষের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে দল বেঁধে কাজ করবে। 
      • মাদ্রাসা শিক্ষাবাবস্থার সংস্কার (সবার মতামতের ভিত্তিতে) – আধুনিক জ্ঞান বিজ্ঞান অন্তর্ভুক্তিকরন – যাতে তারা মেডিক্যাল, ইঞ্জিনিয়ারিং, বাবসা, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে আরও বেশি সুযোগ পায়।
    7. দলীয় পরিচয়ের উরধে উঠে সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ বিচারের মাধ্যমে মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের সাজা দেওয়া হবে এবং জাতিকে গ্লানিমুক্ত করা হবে। এরপর সমগ্র জাতি ঐক্যবদ্ধ হবে।
    8. সবরকম অপরাধ শক্ত হাতে দমন করা হবে। অপরাধ হারে ব্যাপক হ্রাস আনা হবে। অপরাধী যত বড় হোক, আর অপরাধ যত ছোট হোক না কেন – অপরাধ করে কেউ পার পাবে না। আইনের চোখে সবাই সমান হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। 
      • আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সরকারি প্রভাবমুক্ত করা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং আধুনিক বিজ্ঞান (ফরেনসিক, ডিএনএ টেস্ট ইত্যাদি) সমৃদ্ধ করা, বেতন ভাতাবৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঘুষ – দুর্নীতি বন্ধ, উন্নত প্রশিক্ষন, পুরস্কার প্রবর্তন। 
      • তদন্ত নিরেপেক্ষ এবং প্রভাবমুক্ত থেকে শেষ করা। 
      • শক্তিশালী দুর্নীতি দমন কমিশন এবং দলীয় রাজনীতির প্রভাবমুক্ত বিচার বিভাগ। 
      • মাদকের বিস্তার রোধে কঠোর বাবস্থা। দেশে মাদকের প্রবেশ প্রবেশপথেই থামিয়ে দেওয়া হবে
      • সাইবার ক্রাইম রোধে কঠোর বাবস্থা নেওয়া হবে। (দেশে এখন মানুষের বাসাবাড়ি-বাথরুমে লুকিয়ে গোপন ক্যাম বসানো, কাউকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, গুজব রটিয়ে সহিংসতা ছড়ানো এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে আঘাত করার কাজে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ব্যবহার থেকে শুরু করে অনেক রকম সাইবার ক্রাইম ঘটছে।) আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তিতে উন্নত প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। কিন্তু জনগণের মত প্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ বন্ধ করা হবে। 
      • জনগণ অপরাধ এবং অপরাধীকে সামাজিকভাবে বয়কট / প্রতিহত করবে, ঘৃণার চোখে দেখবে।
    9. জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা 
      • কোন নির্দিষ্ট জাতি, ধর্ম, বর্ণের মানুষের উপর গুজব রটিয়ে বা অন্য কোন উপায়ে কোন রকম অন্যায় করা হলে, দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে আঘাত এলে, তদন্ত করে দায়ি বাক্তিদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে। 
      • দেশের জনগণ একতাবদ্ধ থেকে সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
    10. দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন, নির্বাচন কমিশন, আইন বিভাগকে (বিচারপতি এবং আইনজ্ঞদের পরামর্শ অনুসারে) সরকারি প্রভাবমুক্ত করে স্বাধীন, শক্তিশালী করে গড়ে তোলা হবে।
    11. দেশের রাজনীতিতে গুনগত পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে সবার মতামত, পরামর্শ নিয়ে শাসন বিভাগ, আইন বিভাগ এবং বিচার বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য রেখে, কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় সরকারের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টনের বিধান রেখে সংবিধানে সংশোধন আনা হবে।
    12. শ্রমিকদের অধিকার সংরক্ষণ
    13. প্রবাসে কর্মসংস্থান 
      • শ্রমিক রপ্তানি বাড়াতে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হবে। 
      • আন্তর্জাতিক চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে দক্ষ শ্রমিক, দক্ষ কর্মী গড়ে তোলা হবে।
    14. জনগণকে সম্পৃক্ত করা। জনগণের জন্য প্ল্যাটফর্ম গড়ে দেওয়া যাতে তারা বিভিন্ন উদ্যোগ নিতে পারে।
    15. গ্রামের উন্নয়ন 
      • শিক্ষায় সাফল্য, স্বাস্থ্য সুবিধা প্রদান, তথ্য প্রযুক্তির বিকাশ, কৃষিতে উদ্ভাবন ইত্যাদি ক্ষেত্রে গ্রামে গ্রামে প্রতিযোগিতা শুরু করা যায়। বিভিন্ন ক্যাটেগরিতে সেরা গ্রাম, সেরা উদ্যোক্তা ইত্যাদি নির্বাচন করা যায়। (প্রত্যেক গ্রামের মানুষ নিজের গ্রাম, নিজের ইউনিয়ন, নিজের থানা নিয়ে গর্ব করে।) এতে গ্রামের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। 
      • বিভিন্ন সামাজিক সূচকে উন্নতির লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে কর্ম পরিকল্পনা হাতে নেওয়া।
    16. নারী অধিকার সংরক্ষণ এবং নারীদের ক্ষমতায়ন 
      • নারী নির্যাতন, যৌতুক, বাল্য বিবাহ এর মত সামাজিক সমস্যাগুলোকে শক্তভাবে দমন করা
      • নারী অধিকার সংরক্ষণে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি। 
      • গ্রামের নারীরা যাতে আইনি সহায়তা পায় – সেই লক্ষ্যে বাবস্থা।
    17. দারিদ্র বিমোচন 
      • সরকারি পরিকল্পনা 
      • এনজিওগুলো যাতে দেশের দারিদ্র বিমোচনে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে কাজ করতে পারে – সেই পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে বাবস্থা নেওয়া। এনজিওগুলোর কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা আনা।
    18. ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠিত হবে – সৎ এবং ন্যায়ের পথে থেকে চেষ্টা করলে জীবনে যে কোন কিছু অর্জন করা যায় এবং অন্যায় করলে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে – এই বোধ জাগ্রত করা হবে।

    পাদটীকাঃ

    1. নির্বাচনী ইশতেহারের বিভিন্ন বিষয় ভিডিও চিত্রের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হবে।
    2. দেশের বড় অপরাধীরা সরাসরি রাজনীতিতে বা রাজনীতিবিদদের ছত্রছায়ায় থেকে নিজেদেরকে আইনের উরধে ভাবে। এক একজন শীর্ষ অপরাধীকে থামিয়ে দেওয়া মানে অনেক অনেক অপরাধ এবং অনেক ছোট অপরাধী / মাস্তানকে থামিয়ে দেওয়া। কয়েকজন শীর্ষ অপরাধীকে থামিয়ে দিতে পারলে / দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে পারলে বাকিরা ভয়ে অপরাধ জগত ছেড়ে দেবে। 
      • আমাদের প্রকৃত বড় অপরাধী আর ভুল বুঝিয়ে, ফাঁদে ফেলে ভুল পথে আনা হয়েছে – এই দুই দলের পার্থক্য করতে হবে। যাদের ভুল বুঝিয়ে ভুল পথে আনা হয়েছে, তাদেরকে সঠিক পথ দেখালে তারাও সঠিক পথে আসবে।
      • শীর্ষ অপরাধীদের (মানবতাবিরধী যুদ্ধাপরাধী, গডফাদার, শীর্ষ দুর্নীতিবাজ, শীর্ষ সন্ত্রাসী) বাদ দিয়ে সমগ্র বাংলাদেশের চেতনাকে ধারণ করা হবে।