প্রিন্সেস শামিতা তাহসিনকে লেখা চিঠি – ৩

অ্যাই!

তুমি সবকিছু একটু বেশি বেশি উপভোগ করতে চাও? পড়াশোনায় বেশি কন্সান্ট্রেশান চাও? স্ট্রেস ফ্রি লাইফ চাও? অনেক অনেক হ্যাপি হতে চাও?

আজকে একটা নতুন জিনিস শেখাই – মাইন্ডফুলনেস (Mindfulness)

কঠিন নামের আড়ালে ব্যাপারটা আসলে খুবই সহজ – যা-ই করছ, একটু বেশি বেশি মনোযোগ দিয়ে করা।

ধর, ভাত খাচ্ছ। নাহয় একটু বেশি মনোযোগ দিয়ে খেলে। ফ্রাইড চিকেনের ঝাল টেস্ট আর আচারের টক টেস্ট একটু ভালমত অনুভব করলে।

কিংবা ধর গান শুনছো। প্রতিটা বাক্য নিজের বলে কল্পনা করলে। প্রিয় ইন্সট্রুমেন্টাল মিউসিকের বিট মনের চোখে দেখলে।

আবার ধর বই পড়ছ। যা পড়ছ সবকিছু মনের চোখে দেখে নিলে।

আর মাঝে মাঝে করলে কি একদম কিছু না করে টরে শুধু চুপ হয়ে বসে থাকলে। হাতের উপর মৃদু বাতাস বয়ে যাওয়া অনুভব করলে। মনোযোগ কখনও কালকের একটা ঘটনার দিকে চলে গেলো। আবার মনোযোগ ফিরিয়ে আনলে। এবার নিঃশ্বাসের উপর। কয়েক সেকেন্ড ধরে শ্বাস নিয়ে লাংগস ভরে ফেললে। আবার কয়েক সেকেন্ড ধরে শ্বাস ছাড়লে। এভাবে অনেকবার।

মানে যা – ই করছ শুধু তাতেই মনোযোগ।

তাতে কি হবে জানো?

ফ্রাইড চিকেনটা আগের চেয়ে বেশি মজা লাগবে!

আগের চেয়ে বেশি সুমধুর লাগবে প্রিয় গানটা!

পড়াশোনায় কন্সান্ট্রেশান বাড়বে। অল্প সময়ে অনেক কিছু শিখে নিতে পারবে।

আর স্বাস্থ্য ভাল থাকবে।

এরপর আরও দারুণ ব্যাপার!

মন খারাপ? টেনশান হচ্ছে? শরীরের ঠিক কোন কোন জায়গায় মন খারাপ লাগাটা ফীল করছ থার্ড পারসন ভিউ থেকে মনোযোগ দিয়ে বোঝার চেষ্টা করতো। টেনশান কোথায় ফীল করছ? এবার ওটাকে দূর করার চেষ্টা কর। মনে মনে বিশ্বাস কর, তুমি চাইলেই ওটা দূর করতে পারবে। কিছুদিন ট্রাই কর। সত্যি সত্যি মন খারাপ দূর করে ফেলতে পারবে!

আমাদের হয় কি, পারিপার্শ্বিকের একটা ঘটনা দেখে ইমোশানাল রেসপন্স হিসেবে মন ভাল বা খারাপ হয়। রেসপন্সটা অটোম্যাটিক। অন্তত এতদিন তোমার বেলায় তাই ছিল। আজকে থেকে তুমি চাইলেই ইমোশানাল রেসপন্সটা নিউট্রালাইয করতে পারো!

আমি বলেছিলাম না, “পারিপার্শ্বিক” আমাদের যতটা না মন ভাল বা খারাপ করে তার চেয়ে বেশি করে “পারিপার্শ্বিক দেখে আমরা কি ভাবলাম”।

এবার বুঝলে?

একটা ব্যাপার মনে রেখো। এগুলো কিন্তু প্র্যাকটিসের ব্যাপার। প্রথমদিকে মনোযোগ এক জায়গায় রাখতেই অনেক কষ্ট হবে। যত প্রাক্টিস করবে তত ভাল করতে পারবে।