Nagorik Shakti / Oikko: Who to follow

 

Nagorik Shakti / Oikko: Who to follow

Youth (F)

Youth (M)

Others

বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুনগত পরিবর্তনের গল্প – ১ [আমি রাজনীতিতে কিভাবে – ২]

১.

৯১ এর নির্বাচনের সময় আমি ছিলাম অনেক ছোট – রীতিমত ৪ বছরের বাচ্চা ছেলে!খুব একটা না বুঝলেও এটুকু বুঝতাম আমি ধানের শিষের সাপোরটার। আর মামা ছিলেন নৌকার সাপোরটার। আমাকে মজা করে বলতেন, ধানের শীষ ডুবে যাবে।

শেষ পর্যন্ত অবশ্য মামার নৌকাই ডুবল!

মানুষ কারও না কারও পক্ষে ভোট দেয় এবং ভোট যার পক্ষে বেশি পড়ে সে জিতে – ইলেকশান কিভাবে হয় এটা চিন্তা করে বুঝেছিলাম আরও কিছুদিন পরে। আব্বুকে জিজ্ঞেস করে জেনে নিয়েছিলাম আমার ধারণা ঠিক কিনা।

মাঝখানে ৪ বছর সৌদি আরবে কাটিয়ে ‘৯৭ এর ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আসি।

পত্রিকা খুললেই চোখে পড়ত আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসের খবর – এক এক নেতা এক এক এলাকায় (নারায়ণগঞ্জ, ফেনী, লক্ষ্মীপুর) সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। আবার কারও কারও ব্যাংক থেকে ঋণ খেলাপির খবর। #TowardsCrimeFreeBangladesh  #StopDrugTrafficking

২০০১ এর সময় আমি পড়তাম ক্লাস নাইনে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পুরো সময়টা ভালমত ফলো করলাম। নির্বাচন ও হল।

এরপর থেকে পত্রিকা খুললেই দেখি দুর্নীতি আর অনিয়মের খবর। যোগ্য ব্যক্তিরা সরকারে মূল্যায়ন পেলেন না।  #SayNoToCorruption

বুঝলাম, এভাবে দেশ চলতে পারে না। পরিবর্তন আসতেই হবে।

২.

২০০৩ সাল থেকে অধ্যাপক ডাঃ বদরুদ্দোজা চৌধুরী এবং ডঃ কামাল হোসেন পরিবর্তনের কথা বললেন।

বিকল্প ধারা আর গণফোরামের খবরগুলো পত্রিকাতে খুঁজে বের করতাম। কী গভীরভাবে চাইতাম বাংলাদেশের “পচা” রাজনীতিতে গুনগত পরিবর্তন আসুক!

দুই নেতার নেতৃত্বাধীন দুই দল মিলে সারা দেশে জনগণের বক্তব্য শোনার অনুষ্ঠানের আয়োজন করলেন। চমৎকার একটা ব্যাপার। এখনকার মত এত চ্যানেল, এত অনুষ্ঠান তখন ছিল না। কাজেই রাজনৈতিক সমাবেশে সাধারণত নেতাদের বক্তব্য শুনেই ফিরে যেতে হয়। এমন একটা সময়ে এই ধরণের অনুষ্ঠান প্রশংসনীয়। চট্টগ্রামের অনুষ্ঠানে আমিও গিয়েছিলাম – জীবনে প্রথমবারের মত কোন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে!

মানুষ নিজের চাওয়া পাওয়া জানাতে চায়। আগ্রহ নিয়ে তাদের কথা শুনলে তারা কত খুশি হয়!

বিএনপি সরকারের কর্মীরা এসব অনুষ্ঠানে ডিম ছুড়ে মারাসহ ব্যাপকভাবে দমন চালিয়ে দুই দলের যে সম্ভাবনা ছিল তাকে থামিয়ে দিল।

৩.

২০০৭ সালে নোবেল বিজয়ী প্রফেসর ডঃ মুহম্মদ ইউনুস পরিবর্তনের ডাক দিলেন।

একটা রাজনৈতিক দল গঠন করবেন। মিডিয়ার মাধ্যমে পরিকল্পনা জানিয়ে জনগণের মতামত চাইলেন।

এবার আশা ছিল, পরিবর্তন আসবেই। পরিছন্ন ভাবমূর্তি, প্রশ্নাতীত সততা, মেধা, প্রশাসনিক দক্ষতা, নাগরিক সমাজের একটা বড় অংশের সমর্থন, গ্রামীণ ব্যাংকের সারাদেশে লক্ষ লক্ষ গ্রাহকের মাধ্যমে গ্রামে গ্রামে পরিচিতি, তরুণ প্রজন্মের আইডল – বাংলাদেশের একমাত্র নোবেল পুরস্কার বিজয়ী।

কিন্তু এবারও আগের কাহিনী – আরও ব্যাপকভাবে।

বিকল্প ধারা – গণফোরামের উপর বিএনপি এককভাবে দমন চালিয়েছিল। ২০০৬ তে অধ্যাপক ডাঃ বদরুদ্দোজা চৌধুরী এবং কর্নেল (অবঃ) ডঃ অলি আহমেদ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি গঠনের পরপরও বিএনপি দ্রুত দমনের পথে গিয়েছিল। আরও আগে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী আলাদা হওয়ার পর আওয়ামী লীগ দমন (খুনসহ) চালিয়েছিল।

এবার দুই দল সম্মিলিতভাবে তাদের সুবিধাভোগী গোষ্ঠীকে সাথে নিয়ে দমনের পথে গেল। মিথ্যা এবং আপত্তিকর নানা শব্দও  ব্যবহার করল (যেমন “ঘুষখোর”; যিনি সামাজিক ব্যবসা নামে এমন ব্যবসা চালু করেছেন যেখান থেকে মালিক শুধুমাত্র প্রাথমিক বিনিয়োগ তুলে নেওয়া ছাড়া কোন লভ্যাংশ নেবেন না, যার প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংকের ৯৭ শতাংশ মালিকানা গরিব মহিলাদের হাতে এমন আদর্শ ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা চালানোর জন্য এসব শব্দ!)।  

বাংলাদেশের তরুণ সমাজ যে পরিবর্তন চাইছিল ২০০৭ এও তা অঙ্কুরেই বিনষ্ট হল।

৪.

এরপর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় প্রশংসনীয় নানা উদ্যোগে সুন্দর বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখা শুরু করলাম।

এমন একটা দেশ – সারাদেশের মানুষের কোন জাতীয় পরিচয়পত্র, ডেটাবেইসে সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেই! ছবিযুক্ত ভোটার আইডি কার্ডের মাধ্যমে আমরা তা পেলাম।

বিচার বিভাগেও প্রয়োজনীয় সংস্কার এল।

শক্তিশালী নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি বাংলাদেশের অনেকদিনের অভাব একটা শক্তিশালী দুর্নীতি দমন কমিশনও পেলাম।

দুর্নীতিবাজ নেতাদের গ্রেপ্তার দেখে স্বস্তি ফিরে এলো। বাংলাদেশের জনগণের মাঝে অনেক জনপ্রিয়তা পেলো।

দুর্নীতিতে বিশ্বসেরার খেতাব জেতা বাংলাদেশে একটা নতুন যুগের সূচনা হল বলে বাংলাদেশের জনগণ আশা করল।

৫.

এরপর ২০০৮ এর নির্বাচন। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলো।

নতুন মন্ত্রিসভার পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির অনেকে প্রশংসা করলেন। প্রথম ১ বছরে মনে হল, ছাত্রলীগ আর যুবলীগের টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দুর্নীতিবাজদের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে যে পরিবর্তনের আশা দেখেছিলাম তা দীর্ঘস্থায়ী হবে। এসময়কার সার্ভেই ও তাই বলে – প্রথম বছরে আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা বেড়ে গিয়েছিল।

এরপরই আমাদের সামনে প্রকাশিত হওয়া শুরু করল দুর্নীতি, সন্ত্রাস আর অনিয়মের মহোৎসবের খবর। বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিবর্তনের যে আশা করেছিলাম – এবার সে আশায় গুড়ে বালি – কয়েক বছরের জন্য হলেও।

৬.

অবশেষে ২০১৩ সালের শেষ তিন মাসে আমরা বাংলাদেশের রাজনীতিতে সত্যি সত্যিই নতুন সূর্যের উদয়ের পথে এগুনোর লক্ষ্যে একত্রিত হলাম। অন্যায় অবিচার দুর্নীতি মুক্ত একটা সুখী, সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন আমাদের একত্রিত করল।

পরবর্তী: সম্মিলিতভাবে সবাই জনগণের সামনে আসবেন।

এবার আমরা জনগনকে সাথে নিয়েই সামনে আসবো। কারণ আমরা জানি, জনগণের ঐক্যের শক্তিই সবচেয়ে বড় শক্তি।

আরও

নাগরিক শক্তিঃ সংগঠন

দলের নাম: নাগরিক শক্তি

প্রতীক: বই

মূলমন্ত্র: “জ্ঞানের আলোয় উন্নত বাংলাদেশ”

মূলনীতি

1. সবকিছুর উপর জাতীয় স্বার্থ

2. মুক্তিযুদ্ধের চেতনা

3. জাতি ধর্ম বর্ণ শ্রেণী পেশা নির্বিশেষে সবার একতা, সবার স্বার্থ সংরক্ষণ; সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্নে সবাই ঐক্যবদ্ধ

4. গণতন্ত্রমনা – দলের প্রতিটি কর্মকাণ্ডে জনগণের মতামত, আশা আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হবে, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে

5. সকল অন্যায়, অপকর্ম, অত্যাচার, দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান

সাংগঠনিক কাঠামো

প্রেসিডেন্ট

এক্সিকিউটিভ প্রেসিডেন্ট

ভাইস প্রেসিডেন্ট – ৮ জন

জেনেরাল সেক্রেটারি এবং কো-জেনেরাল সেক্রেটারি – ২ জন

জয়েন্ট জেনেরাল সেক্রেটারি – ১২ জন (আরও কয়েকজন যুক্ত হবেন)



দলে সিধান্ত নিতে গণতন্ত্রের চর্চা থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট, এক্সিকিউটিভ প্রেসিডেন্ট, ভাইস প্রেসিডেন্ট, জেনেরাল সেক্রেটারি এবং কো-জেনেরাল সেক্রেটারি – এর মতামতের ভিত্তিতে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকলে প্রেসিডেন্ট, প্রেসিডেন্ট এর অনুপস্থিতিতে (ফিসিকালি বা ডিজিটালি) এক্সিকিউটিভ প্রেসিডেন্ট এবং এক্সিকিউটিভ প্রেসিডেন্ট এর অনুপস্থিতিতে (ফিসিকালি বা ডিজিটালি) প্রেসিডেন্ট কর্তৃক মনোনীত অ্যাক্টিং এক্সিকিউটিভ প্রেসিডেন্ট এর সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে।

সেক্রেটারিয়েট – Secretariat

জেনেরাল সেক্রেটারি, কো-জেনেরাল সেক্রেটারি এবং জয়েন্ট জেনেরাল সেক্রেটারি এর দায়িত্বে যারা থাকবেন তারা পুরো দলটিকে গোছাবেন। দলের মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করবেন।

Energetic, enthusiastic (স্বপ্নের বাংলাদেশ, দল গড়ে তোলা এসব ব্যাপারে অনেক enthusiasm; আমরা visionary ব্যক্তিদের দেখতে চাই), সবার সাথে ভাল সম্পর্ক – রিপ্রেসেন্টেটিভ হিসেবে সবাই মেনে নেবেন, convince করার ক্ষমতা ভাল, অতীতে কোন সংগঠনকে কাছ থেকে দেখেছেন, এমন বেক্তিরা স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে জনগণকে সংগঠিত করার দায়িত্ব নিয়ে নাগরিক শক্তির সেক্রেটারিয়েটের সাথে যুক্ত হবেন।

গীতা সেনদের, দরিদ্র রিকশাচালকদের, বঞ্চিত স্রমিকদের, অসহায় কৃষকদের, কতিপয় দুর্নীতিবাজের কারসাজির কাছে সর্বস্ব হারানো শেয়ার বাজারে বিনিয়োগকারিদের পাশে গিয়ে দাঁড়াতে হবে। নীরব সংখ্যাগরিষ্ঠ তথা সাইলেন্ট মেজরিটি কে সংগঠিত করতে হবে।

কেউ বিরোধিতা করলে সবাই পাল্টা aggressive হয়ে আরও দূরে সরিয়ে দেয়। আমরা করবো উল্টো – তাকে আরও ভালমত বোঝার চেষ্টা করবো – তার কি কি ভুল ধারণা আছে বোঝার চেষ্টা করবো। প্রথমে যেসব ব্যাপারে একমত সেসব ব্যাপার দিয়ে এক হব। তারপর দূরত্বের ব্যাপারগুলো। আমাদের প্রত্যেককে মনে রাখতে হবে – নিজের সব ধারণা ঠিক নাও হতে পারে – অন্যের যুক্তিযুক্ত মতামত গ্রহণ করার মানসিকতা থাকতে হবে। অপরের চোখ দিয়ে অপরের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখার গুনটি চর্চা করতে হবে।

আমরা যোগ্য ব্যক্তিদের মূল্যায়ন করে তাদের মন জয় করবো। এতে তাদের কাজে উৎসাহও বাড়বে।

জয়েন্ট জেনেরাল সেক্রেটারি নিয়োগ

  • বিজনেস পারসোনালিটি (ব্যবসায়িদের প্রতিনিধি) – ২ জন (একজন সিনিয়র জয়েন্ট জেনেরাল সেক্রেটারি)
  • নারী প্রতিনিধি – ১ জন 
  • জাতিগত এবং ধর্মীয় জনগোষ্ঠীদের প্রতিনিধি – ২ জন (১ জন পাহাড়ি জাতি গোষ্ঠীদের প্রতিনিধিত্ব করবেন, অপরজন সনাতনী এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের প্রতিনিধিত্ব করবেন) 
  • তরুণদের এবং যুব সমাজকে সংগঠিত করার অভিজ্ঞতা আছে, করছেন; দেশের কল্যাণে কাজ করছেন, আরও করতে ইচ্ছুক – ১ জন 
  • দেশের স্বার্থ রক্ষায়, দেশের সম্পদ রক্ষায় জনগণকে সংগঠিত করছেন – ১ জন
  • আদর্শ গ্রামীণ কৃষক, কৃষক সমাজের প্রতিনিধি – ১ জন 

জেনেরাল সেক্রেটারি সাহেব কো-জেনেরাল সেক্রেটারি সাহেবদের পরামর্শের ভিত্তিতে প্রেসিডেন্ট এবং এক্সিকিউটিভ প্রেসিডেন্ট সাহেবের এর অনুমোদন সাপেক্ষে নিয়োগ দেবেন।

স্বপ্ন নিয়ে, enthusiasm নিয়ে যারা দলের সাথে যুক্ত হতে চান প্রত্যেকে যাতে দলে পদ নিয়ে (হতে পারে গ্রাম বা মফস্বল পর্যায়ে জয়েন্ট সেক্রেটারি বা মেম্বার) যুক্ত হতে পারেন তা নিশ্চিত করা হবে। এতে সবার উৎসাহ বাড়বে। প্রতিটি কর্মকান্ডে আমাদের মনে রাখতে হবে আমরা জনগণের দল। নাগরিক শক্তির প্রত্যেক স্থানীয় মেম্বার গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যেকের দলের প্রতি আনুগত্য থাকবে। দলের প্রত্যেক নেতা এবং সদস্য নাগরিক শক্তির মূলনীতিগুলোর উপর আস্থা এবং বিশ্বাস রাখবেন। প্রত্যেকের দায়িত্ব হবে নিজের এলাকায়, পরিচিতদের মাঝে নাগরিক শক্তিকে ছড়িয়ে দেওয়া।

ব্যক্তির চেয়ে দল বড় এবং দলের চেয়ে দেশ বড় – এটি প্রতিষ্ঠিত হবে। আমাদের ক্ষেত্রে কোন নেতার চেয়ে “নাগরিক শক্তি” বড় এবং “নাগরিক শক্তি”র চেয়ে বাংলাদেশ বড়।

দলের প্রতিটি পর্যায়ে ক্ষমতার ভারসাম্য থাকবে। দলে গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা প্রত্যেকের জনগণের কাছে জবাবদিহিতা থাকবে।

সবার কাজ কেন্দ্রিয়ভাবে সমন্বয় করা হবে – নেটওয়ার্ক ম্যাপ করা (আমাদের নেটওয়ার্কে কারা আছেন, কিভাবে বাড়ানো যায়), দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া। [1]

নাগরিক শক্তি হবে জনগণের দল। আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে জনগণের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেব। তৃনমূল পর্যায় থেকে নেতৃত্ব গড়ে উঠবে এবং কাউকে নেতা হতে হলে জনগণের কাছে মান্ডেট নিয়ে, জনগণের মন জয় করে নেতা হয়ে উঠতে হবে – নেতারা হবেন আক্ষরিক অর্থেই জনগণের প্রতিনিধি।

নাগরিক শক্তির নেতা কর্মীদের মাঝে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন, স্নেহের বন্ধন, ভালবাসা এবং স্রদ্ধার বন্ধন থাকবে। নাগরিক শক্তি হবে একটা কমিউনিটির মত।

জনগণের আশা আকাঙ্খা সমস্যা প্রত্যাশা লিপিবদ্ধ করতে হবে। আমরা এ লক্ষ্যে নিজস্ব ডেটাবেইস গড়ে তুলব। ডেটাবেইসে বাংলাদেশ বিষয়ক সব তথ্য, জনগণের আশা আকাঙ্খা সমস্যা মতামত, বিভিন্ন সার্ভেই রেসাল্ট, আমাদের বিভিন্ন নেটওয়ার্ক, প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় দলীয় অবস্থান, প্রার্থীর অবস্থান ইত্যাদি থাকবে। এসব ডেটা এর উপর ডেটা অ্যানালাইসিস, স্ট্যাটিস্টিক্যাল অ্যানালাইসিস হবে, সার্চ করার বাবস্থা থাকবে।

নাগরিক শক্তি জনগণের অন্তর্নিহিত শক্তিতে বিশ্বাসী দল। বাংলাদেশের প্রত্যেকটা মানুষের মাঝে যে বিশাল অন্তর্নিহিত শক্তি লুকিয়ে আছে নাগরিক শক্তি তাকে জাগ্রত করবে।

নাগরিক শক্তির গ্র্যান্ড ভিশনঃ সারা দেশের ১৬ কোটি বাংলাদেশীকে ঐক্যবদ্ধ করা।




ন্যাশনাল কাউন্সিল – National Council

রাজনৈতিক ভাবে প্রতিষ্ঠিত বা সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত বেক্তিরা, দেশের নাগরিক সমাজের সদস্যরা যারা দেশের জন্য, জনগণের জন্য, দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে কাজ করবেন, তারা Member of National Council এবং Associate of National Council হিসেবে যুক্ত হবেন।

ন্যাশনাল কাউন্সিলের Members এবং Associates এর দায়িত্বে যারা থাকবেন তারা নিজ নিজ জেলা সংগঠনের দায়িত্বও পালন করবেন।



অ্যাডভাইসারি কাউন্সিল – Advisory Council

সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত সম্মানিত বেক্তিরা, দেশের নাগরিক সমাজের সদস্যরা যারা দেশ গঠনে গুরুত্ব পূর্ণ ভূমিকা রাখতে ইচ্ছুক এবং দলকে সঠিক পরামর্শ দিয়ে দলের পাশে থাকতে চান, তারা Advisory CouncilAdviser হিসেবে যুক্ত হবেন।

National Council এর Members, Associates এবং Advisory Council এর Advisers রা প্রত্যেকে নিজ নিজ দক্ষতা অনুযায়ী, নিজের পছন্দ অনুসারে কাজের ক্ষেত্র বেছে নেবেন। এতে কাজের ফোকাস থাকবে, কর্মপরিকল্পনা থাকবে। দল এ ব্যাপারে সর্বাত্মক সহায়তা করবে।



জনকল্যাণের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে নাগরিক শক্তি

নাগরিক শক্তি জনকল্যাণের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।

নাগরিক শক্তি দেশের তরুণদের জন্য বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম গড়ে দেবে। এ লক্ষ্যে নাগরিক শক্তি দেশের নাগরিক সমাজ ও ব্যবসায়ী সমাজ এবং তরুণদের মাঝে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করবে।

নাগরিক শক্তির সাথে যুক্ত যে কেউ এক একটা জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ লক্ষ্য হিসেবে নিয়ে কেন্দ্রকে জানাতে পারেন। দেশের জন্য কল্যাণকর মনে হলে কেন্দ্র থেকে সব ধরণের সহায়তা করা হবে। নাগরিক শক্তির নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে দেশের প্রতিটা অঞ্চলে পৌঁছা যাবে।

কেউ লক্ষ্য হিসেবে নেবেন দেশের প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে কোন একটা প্রকল্প – হতে পারে দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে ঢেলে সাজানো। কেউ একটি এলাকার নারী অধিকার নিয়ে কাজ করবেন। কেউ যৌতুক প্রথার বিরুদ্ধে দেশব্যাপী গণসচেতনতা সৃষ্টি করবেন – সারা দেশের মানুষ তার সাথে যোগ দেবেন। সনাতনী ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তার জন্য জনগণকে সংগঠিত করবেন কেউ। কেউ তরুণ উদ্যোক্তাদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে নাগরিক শক্তির সহায়তায় সমাধানে কাজ করবেন। শিল্প বিকাশের পথে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানে নাগরিক শক্তির পুরো নেটওয়ার্ক ব্যবহার করবেন কোন শিল্প ব্যবসায়ী।

পুরো লক্ষ্যটাকে নাগরিক শক্তির পক্ষ থেকে কয়েক ভাগে ভাগ করে বাস্তবায়ন করা হবে। অগ্রগতি নির্দিষ্ট সময় অন্তর পর্যালোচনা করা হবে। সমস্যা, বাঁধাগুলো চিহ্নিত করা হবে এবং সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তরুণ নেতৃত্ব

তরুণরাই নাগরিক শক্তির প্রাণ।

তরুণ প্রজন্মকে ভবিষ্যৎ নির্বাচনগুলোকে সামনে রেখে জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে জনকল্যাণমূলক রাজনীতি করার লক্ষ্যে গড়ে তোলা হবে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সৎ, জনপ্রিয়, মেধাবী, যোগ্য কয়েকজন তরুণ-তরুণীকে আগামী সংসদ নির্বাচনে নাগরিক শক্তির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হবে।

দলে তরুণদের উপযুক্ত দায়িত্ব দেওয়া হবে। জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে সম্পৃক্তকরণের পাশাপাশি পাবলিক রিলেশান্সঃ সোশ্যাল মিডিয়া, যোগাযোগ প্রযুক্তি মাধ্যম (বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মূলত সেলফোন প্রযুক্তি), প্রিন্ট মিডিয়া, টিভি মিডিয়া; সারভেয়িং; বিভিন্ন কর্মসূচী ইত্যাদি।

তরুণরা সকল অন্যায় অবিচার দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর হিসেবে ভূমিকা পালন করবেন। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সারা দেশের মানুষের চাওয়া পাওয়া তুলে ধরবেন।

আমরা চাই তরুণ তরুণীরা নতুন নতুন আইডিয়া, সৃজনশীল কর্ম পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে আসুক।




স্বচ্ছতা – ট্রান্সপারেন্সি

দলের প্রতিটি কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা থাকবে। দলের আয় বায়ের হিসাব (ফান্ড রেইজিং এর হিসাবসহ) নির্দিষ্ট সময় অন্তর জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে

ট্রেসারার হিসেবে একজন গ্রহণযোগ্য বেক্তিকে দায়িত্ব দেওয়া হবে এবং তিনি দলের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবেন।


পার্টি উইংগস – দলীয় অঙ্গসংগঠন

এসব পার্টি উইংগস এর শীর্ষপদধারীরা সেক্রেটারিয়েটের মাধ্যমে দলের সাথে যুক্ত হবেন

  • নাগরিক তরুণ শক্তি
  • নাগরিক নারী শক্তি
  • নাগরিক কৃষক শক্তি
  • নাগরিক শ্রমিক শক্তি
  • নাগরিক ছাত্র শক্তি
  • নাগরিক ওলামা শক্তি
  • নাগরিক পাহাড়ি শক্তি
  • নাগরিক হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য শক্তি
  • নাগরিক গণজাগরণ মঞ্চ
  • নাগরিক উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারি শক্তি
  • নাগরিক প্রবাসী কর্মী শক্তি 
উৎসাহী এবং যোগ্য হলে একই ব্যক্তি একাধিক পার্টি উইংগস এর সদস্য হতে পারেন। সবার মাঝে যত বেশি ইন্টারেকশান হবে তত ভাল।  

এসব পার্টি উইংগস এর শীর্ষপদধারীরা ন্যাশনাল কাউন্সিলের মাধ্যমে দলের সাথে যুক্ত হবেন
  • নাগরিক মুক্তিযোদ্ধা শক্তি
  • নাগরিক শিল্প ব্যবসায়ি শক্তি
  • নাগরিক ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ি শক্তি
  • নাগরিক আইনজীবী শক্তি
  • নাগরিক চিকিৎসক শক্তি
  • নাগরিক প্রকৌশলী শক্তি
  • নাগরিক সাংবাদিক শক্তি
সারা দেশের আইনজীবীদের সংগঠিত করার কাজ শুরু করতে হবে। একইভাবে সারা দেশের চিকিৎসকদের, প্রকৌশলীদের, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়িদের, উদ্যোক্তাদের মাঝে নেটওয়ার্ক গড়ে তুলে সংগঠিত করতে হবে।

অ্যাডভাইসারি কাউন্সিলের মাধ্যমে দলের সাথে যুক্ত হবেনঃ:
  • নাগরিক অর্থনীতি ফোরাম 
  • নাগরিক বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও শিক্ষা ফোরাম
  • নাগরিক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ফোরাম
  • নাগরিক সামাজিক ব্যবসা ফোরাম
  • নাগরিক কৃষি ফোরাম
  • নাগরিক নগর পরিকল্পনা ফোরাম 
  • নাগরিক জাতীয় সম্পদ রক্ষা ফোরাম 
  • নাগরিক সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা ফোরাম
  • নাগরিক নারী অধিকার রক্ষা ফোরাম 
  • নাগরিক ফরেইন পলিসি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক ফোরাম 
  • নাগরিক শিল্প, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ফোরাম 

সর্বজন সম্মানিত ব্যক্তিদের আহ্বায়ক হিসেবে মনোনীত করে পার্টি উইংগসগুলো সংগঠিত করার কাজ শুরু করতে হবে। 



নাগরিক শক্তির এলাকাভিত্তিক সংগঠকদের দায়িত্ব নির্ধারণ করে দিতে হবে। 


যেমন –

জেলা পর্যায়ে

  • নারায়ণগঞ্জ জেলা নাগরিক শক্তি আহ্বায়ক কমিটি 
  • কক্সবাজার জেলা নাগরিক শক্তি আহ্বায়ক কমিটি
  • টাঙ্গাইল জেলা নাগরিক শক্তি আহ্বায়ক কমিটি
  • মুন্সিগঞ্জ জেলা নাগরিক শক্তি আহ্বায়ক কমিটি

সিটি কর্পোরেশান পর্যায়ে 

  • ঢাকা সিটি কর্পোরেশান নাগরিক শক্তি আহ্বায়ক কমিটি
  • চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশান নাগরিক শক্তি আহ্বায়ক কমিটি


এভাবে জেলা, উপজেলা, সিটি কর্পোরেশান, গ্রাম পর্যায়ের আহ্বায়ক কমিটি।


আহ্বায়ক মনোনয়ন 

  • নাগরিক তরুণ শক্তি

রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত, তরুণ রাজনীতিবিদদের রোল মডেল, রাজনীতি এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় তরুণদের সংগঠিত করেছেন – ১ জন

তরুণদের এবং যুব সমাজকে সংগঠিত করার অভিজ্ঞতা আছে, করছেন; দেশের কল্যাণে কাজ করছেন, আরও করতে ইচ্ছুক – ১ জন

শিক্ষাগত যোগ্যতায় এবং কর্মক্ষেত্রে দেশের তরুণদের রোল মডেল – ১০ জন

দেশের তরুণদের সংগঠনের অংশ হিসেবে তরুণদের সংগঠিত করেছেন, নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন ঘরে ঘরে পৌঁছে  দিতে চান  – কয়েকজন 

  • নাগরিক ছাত্র শক্তি

প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজ-মাদ্রাসায় সবার পছন্দের কয়েকজন আদর্শ ছাত্রছাত্রী। 

আমরা শিক্ষাঙ্গনে

  • জ্ঞান চর্চা 
  • জ্ঞানের আদান প্রদান 
  • ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য নিজেকে তৈরি করা 
  • সুস্থ রাজনীতির চর্চা, শিক্ষাঙ্গনের বিভিন্ন সমস্যা নিজেরা সমাধান করা 
  • উদ্ভাবনী উদ্যোগ 

দেখতে চাই।

ছাত্রছাত্রীরা কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে, দেশের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে এবং সবকিছুর উপরে নিজেদের যোগ্য সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে দল বেঁধে কাজ করবে।

  • নাগরিক ওলামা শক্তি

দেশের আলেম ওলামাদের কাছে শ্রদ্ধেয় সম্মানিত বয়োজোষ্ঠ ব্যক্তি – ১ জন

সম্মানিত আলেম, দেশের আলেম ওলামাদের সংগঠিত করেছেন – ৬ জন

  • নাগরিক গণজাগরণ মঞ্চ

দেশের তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে অগ্রগণ্য ভূমিকা পালন করেছেন – ৭ জন

  • নাগরিক উদ্যোক্তা ও ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারি শক্তি

দেশে একটা ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিভলিউশান এর সূচনায় তরুণ প্রজন্মকে সংগঠিত করতে চান, উদ্যোক্তা বা ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী হিসেবে কাজ করছেন – ১০ জন

সম্মানিত সিনিয়ার মুক্তিযোদ্ধাদের আহ্বায়ক হিসেবে মনোনীত করে নাগরিক মুক্তিযোদ্ধা শক্তি সংগঠন।
সম্মানিত সিনিয়ার আইনজীবীদের আহ্বায়ক হিসেবে মনোনীত করে নাগরিক আইনজীবী শক্তি সংগঠন।
সম্মানিত সিনিয়ার চিকিৎসকদের আহ্বায়ক হিসেবে মনোনীত করে নাগরিক চিকিৎসক শক্তি সংগঠন।
সম্মানিত সিনিয়ার প্রকৌশলীদের আহ্বায়ক হিসেবে মনোনীত করে নাগরিক প্রকৌশলী শক্তি সংগঠন।
সম্মানিত সিনিয়ার শিল্প ব্যবসায়িদের আহ্বায়ক হিসেবে মনোনীত করে নাগরিক শিল্প ব্যবসায়ি শক্তি সংগঠন।
সম্মানিত সিনিয়ার সাংবাদিকদের আহ্বায়ক হিসেবে মনোনীত করে নাগরিক সাংবাদিক শক্তি সংগঠন।

আহ্বায়ক মনোনয়ন
জেনেরাল সেক্রেটারি সাহেব কো-জেনেরাল সেক্রেটারি সাহেবদের পরামর্শের ভিত্তিতে প্রেসিডেন্ট এবং এক্সিকিউটিভ প্রেসিডেন্ট সাহেবের অনুমোদন সাপেক্ষে মনোনয়ন দেবেন।

 

দলীয় কর্মসূচী 

জরুরি বিষয় বাদে দলীয় রাজনৈতিক কর্মসূচী ছুটির দিনগুলোতে দেওয়া হবে। এতে অর্থনীতির উপর, জনগণের উপর ক্ষতিকর প্রভাবও পড়বে না, জনসমাগমও বেশি হবে। নাগরিক শক্তি সব দলকে একই পথ অনুসরণ করতে আহ্বান জানাবে।

রেফরেন্স
[1] আদর্শ রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী পরিকল্পনা – ২
[2] আদর্শ রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী পরিকল্পনা – ১

নাগরিক শক্তির নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন

বড় দলগুলো অর্থ দিয়ে মনোনয়ন বিক্রি করে। মনোনয়ন প্রত্যাশীরা অর্থ দিয়ে মনোনয়ন বাণিজ্যের নিলাম হাট থেকে মনোনয়ন কেনেন। কালো টাকা, পেশি শক্তির প্রভাব হয়ে ওঠে যোগ্যতা নির্ধারণের মাপকাঠি। এবারও বিতর্কিত প্রার্থীদের ছড়াছড়ি। ১৯৪ (৩৫ শতাংশ) প্রার্থীর বিরুদ্ধে অতীতে মামলা ছিল

নাগরিক শক্তি মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে জনপ্রিয়তা, যোগ্যতা, মেধা, সততা, অভিজ্ঞতা, এলাকার উন্নয়ন কাকে দিয়ে হবে – এসব বিষয় বিবেচনায় নেবে। তৃনমূল থেকে প্রার্থীদের নাম প্রস্তাবের আহ্বান জানানো হবে এবং কেন্দ্রিয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একাধিক প্রার্থী প্রায় সমান যোগ্যতা সম্পন্ন হলে সার্ভেই করে দেখা হবে জনগণ কাকে চান।

ফান্ড রেইজিং এর মাধ্যমে যে অর্থ রেইজড হবে তা শুধু মাত্র প্রার্থীদের ইলেকশান ক্যাম্পেইনে বায় করা হবে। প্রতিটি পয়সা খরচের হিসাবও রাখা হবে। স্বচ্ছতা কেন্দ্রিয়ভাবে মনিটারিং করা হবে এবং কারও বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হলে দল থেকে বহিষ্কারসহ কঠোর বাবস্থা নেওয়া হবে।

স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে তরুণদের সম্পৃক্তকরণ – ১

আমাদের Beautiful Bangladesh কে স্বপ্নের বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে প্রাণশক্তিতে ভরপুর তরুণ-তরুণীদের উপর আমাদের নির্ভরতা থাকবে সবচেয়ে বেশি।

তরুণদের কাছে “স্বপ্নের বাংলাদেশ” এর ভিডিও চিত্র / শর্ট ডকুমেন্টারি আহবান করা যায়। আমরা জানতে চাই, দেশ নিয়ে তরুণদের ভাবনা। জানতে চাই, তরুণরা স্বপ্নের বাংলাদেশে কি কি দেখতে চান। তরুণরা টীম গঠন করে তাদের সৃজনশীলতা দিয়ে স্বপ্নের বাংলাদেশ কেমন হবে তার একটা চিত্র ফুটিয়ে তুলে প্রস্তাব দেবেন। সবচেয়ে ভাল প্রস্তাবগুলোকে টীমের সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে স্পন্সরের মাধ্যমে ফান্ড দেওয়া হবে। ফান্ড দিয়ে বাছাইকৃত টিমগুলো ভিডিও চিত্র / শর্ট ডকুমেন্টারি তৈরি করবেন। সেরাদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হবে। সেরা ক্লিপ্স / ডকুমেন্টারিগুলো আমরা নাগরিক শক্তির ওয়েবসাইটে রাখব। ফেইসবুক, ইউটিউব, ফোন এর মাধ্যমে ছড়িয়ে দেব। আমাদের দলের নির্বাচনী ইশতেহারে কোন কোন প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করা যায় তা পর্যালোচনা করা হবে। সবচেয়ে বড় কথা – আমাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা থাকবে নতুন প্রজন্মের স্বপ্নগুলো বাস্তবায়নে।

একইসাথে দেশের সব নাগরিকদের কাছে বাংলাদেশ নিয়ে স্বপ্নের কথা লেখার আহবান করা যায়। প্রত্যেকে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্র, অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে লিখবেন। অর্থনীতিবিদরা লিখবেন দেশের অর্থনৈতিক বাবস্থা সংস্কার নিয়ে, বাবসায়ি-উদ্যোক্তারা লিখবেন বাবসা-বাণিজ্যের সংস্কার-সম্ভাবনা নিয়ে, আইনজ্ঞরা লিখবেন বিচার বিভাগ নিয়ে, শিক্ষাবিদরা লিখবেন শিক্ষাবাবস্থা নিয়ে, চিকিৎসকরা লিখবেন স্বাস্থ্য বাবস্থা নিয়ে, শিল্পী – সংস্কৃতি কর্মীরা লিখবেন সংস্কৃতি নিয়ে, প্রতিরক্ষা বাবস্থা নিয়ে লিখবেন বিশেষজ্ঞরা, প্রকৌশলীরা লিখবেন প্রযুক্তি ক্ষেত্রে সম্ভবনা নিয়ে, আলোকিত মানুষ ও আলোকিত সমাজ গড়ে তোলার উপায় নিয়ে লিখবেন কেউ কেউ। আমাদের ওয়েবসাইটে দেশ নিয়ে ভালবাসা আর স্বপ্নের কথার লেখাগুলো রাখা হবে। পরবর্তীতে নির্বাচিত লেখাগুলো বই আকারে প্রকাশ করা যায়।

নাগরিক শক্তির নির্বাচনী ইশতেহার তৈরিতে লেখাগুলো ভূমিকা পালন করবে। জনগণের দল হিসেবে নাগরিক শক্তির সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা থাকবে জনগণের স্বপ্ন বাস্তবায়নে।

গণজোয়ারের মাধ্যমে পরিবর্তন

সবাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে আছে নাগরিক শক্তির ঘোষণার জন্য।

নাগরিক শক্তির শক্তিঃ

  1. মুক্তিযোদ্ধা সমাজ 
  2. নাগরিক সমাজ
  3. ব্যবসায়ি সমাজ
  4. তরুণ প্রজন্ম
  5. গ্রামীণ নারী
  6. মাদ্রাসা সংশ্লিষ্ট, আলেমসমাজ
  7. রাজনৈতিক দল, নেতাকর্মীরা
  8. ঘোষণা দেওয়ার পর আমাদের “স্টার-প্যাকড” নেতৃত্ব

আমাদের অত্যন্ত শক্তিশালী তিনটি নেটওয়ার্ক আছে – তিনটি নেটওয়ার্কের প্রতিটির আওতায় মিলিয়ন মিলিয়ন মানুষ আছেন।

আরও দুটি ডেমগ্রাফিক আছে – প্রত্যেকটি কয়েক মিলিয়ন মানুষের।

এরা সবাই যখন পরিবার, পরিচিতদের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়বে!

সাথে যোগ দেবেন প্রাজ্ঞ রাজনীতিবিদরা।

আমাদের “স্টার-প্যাকড” নেতৃত্বের পাশে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো!

সবার উপরে আমাদের ভিশন এবং জনগণের পাশে থেকে জনগণের জন্য উন্নয়নের রাজনীতি করার অভিপ্রায়। আর মেধা – নেটওয়ার্ক এবং উন্নত ইলেকশান ক্যাম্পেইন স্ট্রাটেজি।

মানুষ সমাজসেবকদের ভোট দেবেন নাকি সন্ত্রাসীদের গডফাদার, দুর্নীতিবাজদের ভোট দেবেন?

সন্ত্রাসীদের গডফাদাররা, দুর্নীতিবাজরা কালো টাকা, পেশি শক্তি ব্যবহার করতে না পারলে (নির্বাচনী আচরণবিধি সঠিকভাবে প্রয়োগ হলে) তাদের কে ভোট দেবে? অভিজ্ঞতা থেকে জানি, এসব নির্যাতনকারী, খুনি সন্ত্রাসীদের গডফাদারদের বিরুদ্ধে মানুষের চরম ক্ষোভ – কাউকে পেলে ছাড়বেন না – প্রাণের ভয়ে চুপ করে থাকেন।

গণজোয়ার উঠবে!

কয়েকমাস আগের সার্ভেই তে AL – ৩৪% এবং BNP – ৪৮%।

শেয়ার বাজার ধ্বস, গ্রামীণ ব্যাংকে অন্যায় হস্তক্ষেপ, দুর্নীতি, সন্ত্রাসী কার্যকলাপ, আস্তিক-নাস্তিক প্রচার – এসব কারণে AL এর এই দশা। এই কয়েক মাসে সমর্থন আরও বেশ খানিকটা কমেছে বলেই ধারণা।

BNP কি মহান কিছু করেছে? আমরা উত্তরটা জানি। AL এর দুঃশাসনে অতিষ্ঠ জনগণ পরিবর্তন চায়। আস্তিক – নাস্তিক প্রচারও পক্ষে গেছে, যদিও ২০০১-২০০৬ তে আমরা এদেরকে দুর্নীতিতে আকণ্ঠ নিমজ্জিত দেখেছিলাম।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে নির্বিচারে মানুষ খুন, অবরোধ-হরতালের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি ধ্বংস জনগণ ভালভাবে নেইনি।

BNP র কোন কালেই কোন আদর্শ ছিল না। ভোটের আগে ইসলামী চেতনার একটা মুখোশ ধারণ করে ক্ষমতায় গিয়ে দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হয়ে সেই চেতনা জলাঞ্জলি দিয়েছে। ইসলামী চেতনার মুখোশ নিয়ে সুযোগ পেলে জামায়াত ইসলামীর নেতৃত্বে সংখ্যালঘুদের উপর ঝাপিয়ে পড়েছে। আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আর অসাম্প্রদায়িকতার আদর্শ যা ছিল এবার তা ভূলুণ্ঠিত করেছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে স্বৈরাচারী চেতনাকে তারা গ্রহণ করেছে। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে তারা শুধু বার্থ হয়নি, বরং ভূমিদস্যুতাকে লক্ষ্য হিসেবে নিয়ে সর্বদলীয় সাম্প্রদায়িক হামলা চালিয়েছে।

অনেক অনেক বছর ধরে বাংলাদেশের জনগণ একটা পরিবর্তন চাচ্ছে। পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাটা এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি।

নাগরিক শক্তি নামের তাৎপর্য

“নাগরিক” সমাজ।

দেশের সকল “নাগরিক”।

অন্যায়-অবিচার-দুর্নীতির বিরুদ্ধে “শক্তি”।

নাগরিক সমাজ পথ দেখাবে। কিন্তু জনগণ পরিবর্তন আনবে।

প্রতীকঃ বই

মূলমন্ত্র: “জ্ঞানের আলোয় উন্নত বাংলাদেশ”

নাগরিক শক্তির গ্র্যান্ড ভিশনঃ সারা দেশের ১৬ কোটি বাংলাদেশীকে ঐক্যবদ্ধ করা।

নাগরিক শক্তির শিক্ষাবিষয়ক পরিকল্পনা

  • শিক্ষা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যেকটা মানুষের মাঝে লুকিয়ে আছে বিশাল সুপ্ত ক্ষমতা। শিক্ষার মাধ্যমে প্রত্যেকে তার সুপ্ত ক্ষমতাকে জাগিয়ে তুলে এক একটা বিশাল শক্তি হয়ে উঠতে পারে। জ্ঞান আর মেধা দিয়ে জীবনে সবকিছু অর্জন করা যায়। যে কেউ প্রায় যে কোন বয়সে সঠিকভাবে চেষ্টা করলে যে কোন কিছু হয়ে উঠতে পারে – এই বিশ্বাসটা সবার মধ্যে জাগিয়ে তুলতে হবে। মানুষগুলোকে জাগিয়ে তুলতে পারলে আর কিছু লাগবে না। এক একটা মানুষ যেখানে বিশাল শক্তি হতে পারে সেখানে ১৬ কোটি মানুষকে জাগিয়ে তুলতে পারলে আমাদের আর পিছে ফিরে তাকাতে হবে না। 
    • শিক্ষা শুধুমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না, আমরা চাইলে জীবনের প্রতিটা মুহূর্তে চারপাশ থেকে শিখতে পারি। 
    • ইতিহাসের যে কোন সময়ের তুলনায় নিজেকে উপরে তোলার সুযোগও সবচেয়ে বেশি আমাদের প্রজন্মের। আধুনিক প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন আমাদের হাতে দিয়েছে অনন্য সব আবিষ্কার – মানুষ এখন যে কোন প্রান্তে বসে যে কোন কিছু শিখতে পারে, যে কারও সাথে যোগাযোগ করতে পারে, কোটি মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে, কাজ করতে পারে, পারে আয় রোজগার করতে।
  • বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হবে।
  • শিক্ষাবিদদের নিয়ে শিক্ষা কমিশন গঠন করা হবে। কমিশনের পরামর্শের ভিত্তিতে শিক্ষার্থী – অভিভাবকদের মতামত নিয়ে প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত শিক্ষাবাবস্থার প্রতিটি পর্যায়ে আমূল সংস্কার আনা হবে। 
  • সৃজনশীল এবং বাস্তব জীবনে প্রয়োগ নির্ভর শিক্ষা বাবস্থা চালু। 
    • বই থেকে শেখা জ্ঞান দিয়ে জগতটাকে দেখতে শেখানো। 
    • “লার্নিং বাই ডুইং” (হাতে কলমে শিক্ষা) চালু করা হবে। এতে বইয়ের জগত এবং বাস্তব জীবনের মধ্যে মেলবন্ধন তৈরি হবে। 
  • শিক্ষার্থীরা আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে নিজেরা শিখবে। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে পারস্পরিক যোগাযোগের মাধ্যমে শিখবে। 
  • দেশের প্রত্যেকটা স্কুলে আধুনিক লাইব্রেরি গড়ে তোলা হবে। 
    • লাইব্রেরিগুলো হবে জ্ঞান চর্চা ও জ্ঞান আদানপ্রদানের কেন্দ্র। 
    • বই, উচ্চগতির ইন্টারনেটসহ কম্পিউটার এবং কিছু যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হবে। 
    • স্কুল লাইব্রেরিগুলো সবসময় খোলা থাকবে। শিক্ষার্থীরা যতক্ষণ খুশি লাইব্রেরিতে সময় কাটাতে পারবে। 
  • সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে পাঠ্যসূচীতে পরিবর্তন। নৈতিকতার শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
  • পরীক্ষা পদ্ধতি, মূল্যায়ন পদ্ধতিতে সংস্কার আনা হবে।
  • শিক্ষার্থীরা মেধাভিত্তিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে। বিভিন্ন অলিম্পিয়াড, প্রতিযোগিতা এবং অন্যান্য উদ্যোগের মাধ্যমে মেধাবী জাতি গড়ে তোলা হবে। 
    • ছাত্র – ছাত্রী, কিশোরকিশোরী, তরুণ-বৃদ্ধ সবাই অবসরে ধাধার সমস্যার সমাধান করবে। মেধা-বুদ্ধি শানিত করবে। সূচনা হবে নতুন সংস্কৃতির। প্রত্যেকে হয়ে উঠবেন চিন্তাশীল, মেধাবী, বুদ্ধিমান।  
    • গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত গণিত অলিম্পিয়াড, বিজ্ঞান প্রকল্প এর সংস্কৃতি ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
  • বাংলাদেশে বিশ্বমানের কয়েকটা বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা হবে। 
    • দেশে বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়ে, বিনিয়োগ নিশ্চিত করে বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে PhD ডিগ্রি প্রাপ্তদের দেশে ফিরিয়ে আনা হবে
    • BUET এবং DU কে এখনই বিশ্বমানের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। পরিবর্তনের হাওয়া লাগলে সবগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে তা ছড়িয়ে পড়বে। একে একে MIST, SUST, CUET, RU, KUET, RUET, CU, KU এবং অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো Ranking এ উপরের দিকে উঠে আসবে। ঠিক যেভাবে ICPC কিংবা TopCoder Ranking এ আমরা শীর্ষস্থানগুলো দখল করছি। 
    • বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সত্যিকারের গবেষণা শুরু হবে – বরাদ্দ বাড়বে, গবেষণা সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনা হবে। 
    • বিশ্ববিদ্যালয় – ইন্ডাস্ট্রি এর মধ্যে যোগাযোগ গড়ে তোলা হবে। 
      • ইন্ডাস্ট্রির চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পাঠ্যক্রমে পরিবর্তন আনা হবে। 
      • প্রোডাক্ট ডেভেলাপমেন্ট এবং রিসার্চে বিশ্ববিদ্যালয় – ইন্ডাস্ট্রি একসাথে কাজ করবে। 
      • কোন শিক্ষার্থীর প্রজেক্ট হয়ে উঠবে আরেকটি ইন্ডাস্ট্রির প্রোডাক্ট। 
      • ফ্যাকাল্টি মেম্বাররা প্রোডাক্ট ডেভেলাপমেন্ট এবং রিসার্চে ইন্ডাস্ট্রির কাছে ফান্ডিং এর আবেদন করবেন। 
    • প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় এবং এদের শাখাগুলোর অনুমতি প্রদানে স্বচ্ছতা আনা হবে – ন্যূনতম মান নিশ্চিত করা হবে।
  • দেশের যেসব জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় নেই, সেসব জেলায় সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হবে।যেগুলো আছে ওগুলোর আসন সংখ্যা বাড়ানো হবে। 
    • সুযোগ দিলে অনেকেই সর্বোচ্চ চেষ্টার মাধ্যমে “কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি নিয়ে ভাল চাকরি” করতে চাইবে। কিছু কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি শুধুমাত্র এইচএসসি বা সমমানের শিক্ষার্থীদের মাঝে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। সমাজে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার এটাই একমাত্র উপায় – অনেকে একটু বড় হওয়ার পর বুঝতে পারে!
  • বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন রাঙ্কিং প্রথা প্রবর্তিত হবে। 
    • রাঙ্কিং প্রথায় বিভিন্ন objective measures ব্যবহার করা হবে – যেগুলো নিয়ে বিতর্কের সুযোগ নেই। জার্নালে এবং কনফারেন্সে পেপার পাব্লিকেশানের উপর এত পয়েন্টস, পেপারের ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টরের উপর এত, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় সাফল্যের উপর এত, পাশ করার ৩ মাসের মধ্যে চাকরি প্রাপ্তির হারের উপর এত, শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও গবেষণা প্রোফাইলের উপর এত, ছাত্র – শিক্ষক অনুপাতের উপর এত পয়েন্টস – এরকম কিছু measures। 
    • প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজেদের মাঝে এবং সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে মেধাবী ছাত্র ভর্তির জন্য এক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা করবে – ফলশ্রুতিতে সবগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের মান বাড়বে। 
    • বিষয়ভিত্তিক রাঙ্কিং প্রথা চালু করা হবে। 
    • কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হয়ত গর্বের সাথে বলবে, জান, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ দেশ সেরা! যাকে বলা হবে সে উত্তর দেবে, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগ দেশ সেরা আর এশিয়ার সেরা ১০টার একটা!  
  • বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী দেশের কিশোর গণিতবিদদের কাছে যে ৩টি স্বপ্নের কথা বলেছিলেন তাদের মধ্যে ছিল ২০২২ সালের মধ্যে একজন বাংলাদেশী গনিতবিদের ফিল্ডস মেডল জয় এবং ২০৩০ সালের মধ্যে একজন বাংলাদেশী বিজ্ঞানীর নোবেল পুরষ্কার জয়। নাগরিক শক্তি ২০৩০ সালের মধ্যে ফিল্ডস মেডেল এবং নোবেল পুরস্কার জয়ের লক্ষ্যে গবেষণা সংস্কৃতিতে নতুন জাগরণ এবং বিশ্বমানের গবেষণা ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠা করবে।
  • উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষা কার্যক্রম যাতে অপরাজনীতির কারণে বাঁধাগ্রস্থ না হয়, দুর্নীতির কারণে ক্ষতিগ্রস্থ (যেমন নিয়োগে অনিয়ম) না হয়, সে ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। 
    • সেশন জটের কারণগুলো চিহ্নিত করে দূর করা হবে। আন্ডারগ্রাজুয়েট শিক্ষার্থীরা ৪ বছরে বাচেলারস ডিগ্রী শেষ করবে। 
    • আমরা শিক্ষাঙ্গনে সুস্থ রাজনীতির চর্চা, উদ্ভাবনী উদ্যোগ দেখতে চাই – ছাত্রছাত্রীরা কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে, মানুষের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে দল বেঁধে কাজ করবে। 
  • মাদ্রাসা শিক্ষাবাবস্থার সংস্কার (সবার মতামতের ভিত্তিতে) – আধুনিক জ্ঞান বিজ্ঞান অন্তর্ভুক্তিকরন – যাতে মাদ্রাসা শিক্ষাবাবস্থায় শিক্ষিতরা মেডিক্যাল, ইঞ্জিনিয়ারিং, বাবসা, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে আরও বেশি সুযোগ পায়।
  • তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রকৌশলী থেকে শুরু করে কৃষক পর্যন্ত সবার জন্য “লাইফলং লার্নিং” (জীবন ব্যাপী শিক্ষা) এর সুযোগ।
শিক্ষা নিয়ে আরও


তোমাদের জন্য লেখা


শিক্ষাবিদরা কি ভাবছেন

– ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী: তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা; উপাচার্য, ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক; সভাপতি, বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটি।


তরুণ প্রজন্ম এখন নেতৃত্ব নিতে সক্ষম
– ডঃ মুহম্মদ জাফর ইকবাল, বিভাগীয় প্রধান, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
 
 

– ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ: অধ্যাপক, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও ফেলো, বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেস।




শিক্ষায় বাংলাদেশী উদ্যোগ 

নাগরিক শক্তির আত্নপ্রকাশ

নাগরিক শক্তির আত্নপ্রকাশঃ ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৩। 
প্রতিবছর বিজয় দিবসের দিনে আমরা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করব।

  • মুক্তিযোদ্ধারা বাংলাদেশ নিয়ে তাদের স্বপ্নের কথা তুলে ধরবেন।
  • বিভিন্ন শ্রেণী পেশা (অন্যান্যদের মধ্যে একজন কৃষক, একজন গার্মেন্টস কর্মী, একজন রিকশা চালক থাকবেন) বিভিন্ন জাতি (পাহাড়ি) ধর্মের মানুষ তাদের প্রত্যাশা, আশা আকাঙ্খার কথা তুলে ধরবেন। (নাগরিক শক্তি জনগণের দল।)
  • একজন তরুণ ব্লগার একজন মাদ্রাসা ছাত্রকে ব্লগ লেখা শিখিয়ে দেবেন এবং মাদ্রাসা ছাত্র ইসলাম কিভাবে আমাদের পথ প্রদর্শক হতে পারে তা নিয়ে একটি ব্লগ পাবলিশ করবেন। আমাদের চিন্তা ভাবনা, মূল্যবোধ, ধ্যান – ধারণায় পার্থক্য থাকতে পারে – কিন্তু একসাথে বসে আলোচনা করলে আমাদের মাঝের দূরত্বটুকু দূর হয়ে যায়।
  • বাংলাদেশের মানুষ পরিকল্পনাবিহীন অপরাজনীতি দেখে অভ্যস্ত। জনগণ জানে না সুপরিকল্পিত সুশাসন দেশকে কোথায় নিয়ে যেতে পারে। বাংলাদেশ সঠিকভাবে পরিচালিত হলে স্বপ্নের বাংলাদেশ কেমন হবে তার এবং সেই স্বপ্নের বাংলাদেশে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের জীবনের একটা চিত্র জনগণের সামনে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তুলে ধরে জনগণকে সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্নে উজ্জীবিত করা হবে। দৃঢ়তার সাথে জনগণকে জানানো হবে স্বপ্নের বাংলাদেশের লক্ষ্যে পরিবর্তন এবারই আসছে।
  • জাতি ধর্ম বর্ণ শ্রেণী পেশা নির্বিশেষে কারও উপর যাতে কখনও অন্যায় না হয়, জনগণকে এলাকায় এলাকায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে তা নিশ্চিত করতে আহ্বান জানান হবে এবং দলটি এক্ষেত্রে জনগণের পাশে থাকবে।
  • নাগরিক শক্তি জনগণের দল। জনগণ সব ধরণের মাধ্যম (ওয়েব, সেল ফোন, ইমেইল ইত্যাদি) ব্যবহার করে যাতে দলটির কাছে প্রত্যাশা, মতামত, আশা আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরতে পারে সে লক্ষ্যে বাবস্থা।
  • কয়েকটি দল বিলুপ্ত ঘোষণা করে স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে সকলে মিলে নাগরিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে – ট্রাঞ্জিশানটা স্মুথ হবে – সবাইকে নাগরিক শক্তির অংশ করে নেওয়া। প্রত্যেক দলের দলীয় প্রধান ঘোষণা দেবেন।
  • ওয়েবে আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচারিত হবে।
  • স্থানীয় পর্যায়ে আয়োজন থাকবে।
  • মেম্বারশিপ ফর্ম (সেল ফোন, ওয়েব, কাগজ – সুনাগরিক হিসেবে দেশের জন্য কি ভূমিকা রাখতে চান, দলীয় সদস্য হিসেবে কোন কোন ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে চান – তা লিখবেন।)
  • জনগণকে প্রতিটি কর্মকাণ্ডে যত বেশি সম্পৃক্ত করা যাবে – জনগণের সাথে দলটির তত বেশি আবেগের সম্পর্ক গড়ে উঠবে।
  • সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
    • ফেইসবুক পেইজ
    • ওয়েবসাইট (মডারেটেড ব্লগ থাকবে)
    • ইউটিউব চ্যানেল (স্বপ্নের বাংলাদেশের ভিডিও, দেশ নিয়ে ভিডিও, দলীয় কর্মকাণ্ডের ভিডিও)
    • বুকলেট
    • ডিজিটাল মিডিয়া / সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, তারুণ্য। স্বপ্নের বংলাদেশের ভিডিও (দলের নাম, প্রতীক) -> লিংকঃ ফেইসবুক, ইউটিউব পেইজ, ওয়েব সাইট (সবাই পড়তে পারবে, কিন্তু সাইটে কমেন্ট করতে / মতামত দিতে ফেইসবুক লগইন। (তা নাহলে স্প্যাম, উদ্দেশ্য প্রণোদিত কমেন্ট – অ্যাডমিন মডারেশান এর পর পাবলিশ) সাইট ব্লগে নিজেদের চিন্তা ভাবনা, প্রত্যাশা প্রকাশ করার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে।)। দলটা আমাদের সবার। সবার মতামতের ভিত্তিতেই পরিচালিত হবে দল এবং দেশ। স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে উঠবে তারুণ্যের শক্তিতে। তরুণদের জন্য প্ল্যাটফর্ম গড়ে দেওয়া হবে যাতে তারা বিভিন্ন কল্যাণমুখী, উদ্ভাবনী উদ্যোগ নিতে পারে। লেখাগুলো ভাগ করে ইমেইজ হিসেবে শেয়ার দেওয়া হবে (দলের নাম, প্রতীক থাকবে ইমেইজে) – সবাই পড়বে, লাইক – শেয়ার দিবে এবং এভাবে ছড়িয়ে পড়বে। গ্রামে সবাই ফোন ব্যবহার করে এক্সেস করবে। কাজেই মোবাইল অপ্টিমাইজড ডিজাইন। (ডিজিটাল মিডিয়া সিকিউরিটি)
    • তরুণ তরুণীরা সবচেয়ে বেশি উৎসাহ নিয়ে কাজ করবে। টীম গড়ে তুলতে হবে। সবাই একসাথে বসে মিটিং এর পাশাপাশি ভার্চুয়ালি একসাথে কাজ করতে পারে, সাজেশান দিতে পারে, যোগাযোগ দিতে পারে সে লক্ষ্যে বাবস্থা – “ক্লোজড গ্রুপ”। তরুণ তরুণীদের মাঝ থেকেই ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে উঠবে।

১৪ ডিসেম্বর, ২০১৩ – বুদ্ধিজীবী, নাগরিক সমাজ, বাবসায়ি সমাজ কে নিয়ে নাগরিক ঐক্যের আলোচনা-সভা। বুদ্ধিজীবীরা, নাগরিক সমাজের সদস্যরা, বাবসায়িরা দেশ গঠনে নিজেদের মতামত, দিক নির্দেশনা তুলে ধরবেন।