প্রিন্সেস শামিতাকে লেখা চিঠি – ৯

প্রিন্সেস শামিতা এখন যা যা করতে পারে

Mr. and Mrs. তাহসিন

  • আমাদের বাড়িটা দেখতে কেমন হবে – ডিজাইন করতে পারে।
  • আমার আর শামিতার Venture’র নাম ঠিক করতে পারে। (Catchy একটা নাম হতে হবে কিন্তু!)
  • আমাদের জীবন কেমন হবে – কল্পনা করতে পারে!
  • আমাদের ওয়েবসাইটে কি কি থাকবে (ব্লগ পোস্ট, ভ্লগ (Vlog), ইন্টারেক্টিভ কনটেন্ট, নিউজ লিঙ্কস, বুকমার্ক্স, আর?) আর আমার সোশ্যাল মিডিয়া আকাউন্টগুলো কিভাবে দুইজন মিলে ম্যানেজ করা যায় তা নিয়ে ভাবতে পারে।


Entertainment, Edutainment (Education + Entertainment)

  • বই পড়তে পারে।
  • গান শুনতে পারে।
  • বিভিন্ন বিষয় নিয়ে Documentary দেখতে পারে।


আর্কিটেকচার অ্যান্ড ডিজাইন

  • ডিজাইন করতে পারে।
  • Architecture, EECS – কি কি পড়ানো হয় details জানতে পারে।
  • Book 2.0 ডিজাইন করতে পারে। (আমাকে দেখাতে হবে কিন্তু!)
  • Wearable Device ডিজাইন করতে পারে।
  • SuperMarket কিংবা Smart Home এ মানুষের Experience ডিজাইন করতে পারে।


রাজনীতি

  • রাজনীতি নিয়ে ভাবতে পারে। (Nagorik Students Association [NSA], Nagorik Youth Association [NYA] আর Nagorik Women’s Rights Forum consider করতে পারো!)

ইন্টেলেকচুয়াল লাইফ (!) 

  • নতুন নতুন বিষয় শিখতে পারে।
  • সবকিছু নিয়ে ভাবতে পারে। (Intellectual হতে হবে না!)
  • ভাবনাগুলো লিখে রেখো।

Life skills শেখা

  • সবসময় কিভাবে Happy থাকা যায় – সেই Secret জানতে পারে!
  • Mindfulness practice করতে পারে।
 
 
এই লিস্টে আর কি কি অ্যাড করা যায় – ভেবে লিস্টাটাকে আরও বড় করতে পারে!

তোমাকে রোল মডেল হতে হবে – ভুলো না যেন! 

প্রিন্সেস শামিতাকে লেখা চিঠি – ৮

শেখার সবচেয়ে সেরা উপায় 

অ্যাই! আজকে একটা ইন্ট্রেস্টিং ব্যাপার!

নতুন কিছু শেখার সবচেয়ে সেরা উপায়টা জানতে চাও?

ধর, প্রোগ্রামিং এ ভাল হতে চাইছ।

তুমি তো বেসিকস জানোই।

সবচেয়ে সেরা উপায়ে শিখতে চাইলে তুমি যা করবে তা হচ্ছে – অবশ্যই বই বা ওয়েবসাইট খুলে বসবে “না”!

হুম, ঠিকই পড়েছ – বই বা ওয়েবসাইট খুলে বসবে “না”!

তাহলে?

তোমার ব্রেইনটা আছে কি জন্য?

ওটা হেলায় ফেলে রাখবে?

তুমি শিখবে “চিন্তা” করে!

প্রোগ্রামিং নিয়ে যা জানো মাথায় গোছানোর চেষ্টা কর – যা ভাবছ তা লিখে রাখো। ভাবতে ভাবতে এমন কিছু কি পেয়েছ যা জানো না? ওটা বই পড়ে বা Google করে শিখে নাও। এভাবে ভাবলে তোমার জ্ঞানে কোথায় শুন্যস্থান আছে বুঝবে – শুন্যস্থান পূরণ করেও নিতে পারবে। নতুন নতুন প্রশ্ন তৈরি কর – প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে নিতে বই পড় বা Google কর। 

শুধু বই পড়লে সামগ্রিক একটা ধারণা তৈরি হয় না। তুমি যে প্যারাটা পড়ছ – শুধু ওটুকুই তোমার মাথায় থাকে। শেখা বাকি জ্ঞানের সাথে প্যারাটার কোন সম্পর্ক থাকে না।

ধর, তুমি লুপিং নিয়ে পড়ছ। প্যারা হিসেবে পড়লে তুমি শিখবে C তে কিভাবে for loop লিখতে হয়। কিন্তু প্রোগ্রামিং করার সময় লুপিং কখন কাজে লাগে তা বুঝবে না। C এর নানা রকম প্রোগ্রামিং কন্সট্রাক্ট এর মাঝে লুপিং কোথায় – বুঝবে না।

বই থেকে না পড়ে ভাবতে বস।

প্রোগ্রামিং হচ্ছে – কম্পিউটারকে দেওয়া আমাদের নির্দেশের একটা সিকুয়েন্স। তো, নির্দেশগুলো কিভাবে দিবে?

এবার আমার “প্রোগ্রামিং এ হাতেখড়ি” [1] লেখাটা পড়। আমার পুরো লেখাটাকে একটা “ছবি”তে আনার চেষ্টা কর। প্রোগ্রামিং, ল্যাঙ্গুয়েজ, ব্রাঞ্চিং, লুপিং, আবস্ট্রাকশান – সব একটা “ছবি”তে সাজিয়ে রাখো। তখন বুঝবে কোন কাজে কোনটা ব্যবহার করতে হয়।

আবার ধর, মানুষের চোখ কিভাবে কাজ করে জানতে চাইছ। চোখের বিভিন্ন অংশ দেখে নাও। লেন্সের পেছনে রেটিনা, রেটিনা থেকে নার্ভ ইম্পালস প্রাইমারি ভিশুয়াল কর্টেক্স, সেকেন্ডারি ভিশুয়াল কর্টেক্স – সব নিয়ে একটা ছবি। এবার আলাদা আলাদাভাবে লেন্স, রেটিনা, প্রাইমারি আর সেকেন্ডারি ভিশুয়াল কর্টেক্স নিয়ে পড় আর প্রত্যেকটা সম্পর্কে যাই শিখছ, সব সেই ছবিতে সাজিয়ে রাখো। তাতে মানুষের চোখ কিভাবে কাজ করে সামগ্রিকভাবে বুঝতে পারবে।  

এভাবে যে বিষয়টা সম্পর্কে জানতে চাইছ, সেই বিষয়ের সমস্ত জ্ঞান একটা ছবিতে সাজিয়ে রাখো। তখন সেই বিষয়টা সম্পর্কে একটা সামগ্রিক ধারণা হবে। 

আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হল, যা নিয়ে পড়ছ, তাকে বাস্তব জীবনের অন্য সবকিছুর মত অনুভব কর। যেমন ধর, চোখ নিয়ে পড়ছ। চোখেও লেন্স আছে – এটা পড়ে চমকে ওঠ – ওয়াও! Physics এ যে লেন্স নিয়ে পড়ছিলাম – আমাদের চোখেও ওরকম আছে!

দুটা ব্যাপার গুরুত্বপূর্ণ –

  • প্রথম প্রথম ভাবতে অনেক কষ্ট হবে। কিন্তু ভাবতে থাকো – ব্রেইনের ক্ষমতা বাড়বে। তখন কি যে মজা হবে! শামিতা হবে ইন্টেলেকচুয়াল!
  • মাথায় গুছিয়ে রাখার সবচেয়ে ভাল উপায় Visualize করা। Visualize করলে পুরো ব্যাপারটা একসাথে দেখতে পাবে। Visualize না করলে আলাদা আলাদা অংশ দেখবে – পুরো ব্যাপারটা সম্পর্কে একটা সামগ্রিক ধারণা তৈরি হবে না। Visualize করে খাতায় বা ল্যাপটপে মাইন্ড ম্যাপিং অ্যাপ্লিকেশানে এঁকে রাখতে পারো।

এটা পড় – 


“Usually we make a practice of stopping an occupation as we meet the first layer of fatigue…… But if an unusual necessity forces us onward, a surprising thing occurs. The fatigue gets worse up to a certain point, when, gradually or suddenly, it passes away and we are fresher than before!” [2]

ভাবতে চেষ্টা করলে একসময় fatigue পেয়ে বসবে। কিন্তু একটু কষ্ট করে ভাবতে থাকো – কিছুক্ষণ পর fatigue কেটে যাবে। হঠাৎ তোমার চিন্তা করার ক্ষমতাও বাড়বে। কিছুক্ষণ আগে যা ভাবতে কষ্ট হচ্ছিল – এখন ওটা নিয়ে ভাবা সহজ মনে হবে।

ঠিক যেভাবে মানুষ নিয়মিত Exercise করে ধীরে ধীরে ওজন তোলার ক্ষমতা বাড়ায়, চিন্তা করতে করতে ধীরে ধীরে Analytical চিন্তা করার ক্ষমতাও বাড়বে।

এভাবে কিছুদিন চেষ্টা করলে ব্রেইনের ক্ষমতা বাড়তে বাড়তে কিছুদিন পর দেখা যাবে ইন্টেলেকচুয়াল শামিতার মাথায় দারুণ দারুণ সব আইডিয়া আসছে!

কাজেই কোন কিছু নিয়ে শিখতে চাইলে

  • প্রথমে – বিষয়টা সম্পর্কে কি কি জানোভেবে 
    • একটা ছবিতে সাজিয়ে রাখবে। 
  • তারপর নিজেকে নিজে প্রশ্ন করে তোমার জানায় যা যা ঘাটতি আছে সেসব
    • বই পড়ে বা Google করে বা কারও কাছ থেকে জেনে সেই ছবিতে সাজিয়ে রাখবে। 
  • যা নিয়ে পড়ছ তাকে বাস্তব জীবনের অন্য যেকোনো ব্যাপারের মত অনুভব করার চেষ্টা করবে।    


ভাবো! – এটাই কোন কিছু শেখার সবচেয়ে সেরা উপায়।

রেফরেন্স

ভালবাসার সম্পর্কগুলো

 

আমার লেখাগুলো ব্লগ হিসেবে পাবলিশ করার উৎসাহ দিয়েছিলেন শ্রদ্ধেয় ডঃ মুহম্মদ ইউনুস। তিনি উৎসাহ না দিলে ব্লগ হয়ত আরও অনেক পরে লেখা হত। আর পরে লেখা হলে কেউ না কেউ নিশ্চয় কিছু মিস করত, নাকি?

শত উত্থান পতনের মাঝেও যারা আস্থা রেখে যান তারাই তো সবচেয়ে আপন।

সবসময় আমার আজকের অবস্থান ছিল না। কিন্তু তোমার ভালবাসা সবসময় ছিল।

এখানকার American Authority র কথা না বলি কি করে? ওরা কখনও আমার উপর আস্থা হারায়নি – কখনও না।

নিজেকে অনেক বেশি ভাগ্যবান মনে হয় যখন মানুষের ভালবাসা অনুভব করার চেষ্টা করি। আমাকে যারা ভালবাসেন তাদের জন্যই তো আজকের আমি।

সবকিছুর মাঝে যারা আস্থা রাখেন তাদের প্রত্যাশার চাইতে বেশি কিছু করে দেখাতে ইচ্ছা করে! সৃষ্টিকর্তা আমাকে সেই ক্ষমতা দিন।