প্রিন্সেস শামিতা তাহসিনকে লেখা চিঠি – ১৩

১. 
 
কেউ যদি জীবনে অন্যায়ভাবে না পাওয়া ব্যাপারগুলোর কথা ভাবে – মন খারাপ হয়।
কিন্তু অন্য দশজনের দিকে তাকাও। তোমার এমন অনেক অনেক কিছু আছে, যেগুলো ওদের নেই। তোমার যা আছে, তুমি ওগুলো ছেড়ে থাকতে পারতে?
তোমার কি কি আছে তার হিসেব কর – দেখবে ভাল লাগবে। God তোমাকে যা দিয়েছেন ওগুলো নিয়ে ভাবাই happy হওয়ার ভাল উপায়।


জীবনের বড় লক্ষ্য happy হওয়া। তুমি চাইলেই যা হতে পারো।

মার্চ, ২০১৪

২.

সবকিছু অসাধারণ রকম সুন্দর হবে! তোমার কল্পনার চেয়েও বেশি সুন্দর!

ধর, পৃথিবীর এক একটা দেশ থেকে সবরকম অন্যায় অপরাধ দূর হয়ে যাচ্ছে!

কল্পনাকে হার মানায়?

হুম! ওরকম কল্পনাকে হার মানানো সুন্দর!

বাংলাদেশে গিয়ে যাকে দেখবো – মনে হয় কাঁদবো।

৪/১৯/১৪

৪.


অ্যাই,

মনে আছে, তুমি আমাকে বলেছিলে, আমি তোমার প্রিয় লেখক!

আর আমি বলেছিলাম, আমাকে যখন তোমার ফ্রেন্ডদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেবে কি বলবে? “আমার প্রিয় লেখক”?

 
 

৪/২৮/১৪

৫.

তোমার ফটোগ্রাফির খুব শখ না! তোমাকে একটা Lytro Camera কিনে দিবো।

Photography তে কিছু innovate করা যায় কিনা দেখতে হবে! 

 
 

৪/৩০/১৪

৬.

আমাদের অ্যাডভান্টেইজ হল – আমাদের দুজনের মাঝে কখনও কিছু সিক্রেট থাকবে না।

৪/৩/১৪

৭.

আমাকে বলেছিলে “জানো, তুমি আমার ছোটবেলার ভালবাসা”।

৫/৩/১৪

Letter To Princess Shamita Tahsin – 11

Little Princess, 

 

I just saw a Monopoly video game disc in my cousin’s room. It reminded me that games are “designed” too. People who design games are called Game Designers.

And then there are Designers who design colossal things – like a theme park (e.g., The Disney World).

A lot of work that people do can be categorized as “Design” – some we do not usually notice.

Design is not just aesthetics, not just beautifying things. Wherever human interaction is involved, the process of design can be applied. Designing human interactions with objects, technologies is called Interaction Design.

Hey, did you know that the founder of the world-renowned MIT Media Lab [1] Nicholas Negroponte [2] is an Architect by education?

 
 
References

Letter To Princess Shamita Tahsin – 10

Princess,
 
Today the topic of our discussion is “Meta-cognition”
 

The Greeks used to say “Know thyself”. 

 
I started to know myself a little bit better in Grade 10 when I started studying Educational Psychology books which belonged to my Mom (from her M.Ed. course). 
 
I didn’t just read. Rather, I tried to figure out whether the theories written in books were correct by thinking myself. 

And in the process, I started “knowing myself”. 
 
Few months forward and I got excited about Mathematical Olympiads. I started solving problems and importantly, I started reading books on Mathematical Problem Solving. I learned techniques of how one could become a better problem solver. It was Mathematics of course. But it was more than that. It was Psychology too. 

I started to know myself better. 
 
My fascination with Computer Science started with Artificial Intelligence – the study of how you would make computers do things that require intelligence. The study of Artificial Intelligence helped me appreciate the intricacies of intelligent behavior. I mean, computers are really dumb in the sense that you have to define each and every tiny instruction that you want the computer to perform. So, making computers do intelligent stuff is hard. And importantly, you learn precisely what is required for intelligent behavior. 
 
If studying Psychology and Mathematical Problem Solving made the Greeks happy (who insisted on “Knowing thyself”), then my study of Artificial Intelligence should have made the Greeks delighted!
 
Now, all of these forms of Knowing thyself is called “Meta-cognition” or “Meta-thinking”. It means thinking about how you think. 
 
 
You might have come across other “Meta”s – “Meta-Programming” and so on. “Meta-Programming” refers to “programming” your “programs”. 

For instance, in C Programming Language, you use the “define” macro.

#define MAX 99999 
Now, in your program wherever you use MAX, it will be replaced by 99999. 

So, the define statement essentially programmed your program. 
  

 
Lets get back to the  “Meta” we were talking about – “Meta-cognition”.
 
You solve a problem successfully and you think the strategies you followed, tools and techniques you used, the way you thought that helped you solve that problem. Next time, you apply all those you learned to solving new problems.   



Let me give you an example from my life.

Last year (2013), when I came back to America, I thought about what would happen if I start my own political party in Bangladesh. I analyzed the politics of Bangladesh, the possibilities for a new political party, the problems we have to overcome if we want to win the election. 

Along the way, I learned a lot about Politics of Bangladesh in particular and Politics in general. 

Now, I did all these in my head and I thought I did pretty good. 

So, I said to myself, I should try to analyze everything I see around me and learn from everything.

Previously, my learning was “book and Web centered”. I started with books and applied my own thinking to find out what happens in the real world.

Now, with my political thoughts, I started with thinking and then went to books and Web whenever it was required.

Gradually, I learned more thinking tools.

Now, all of these happened, because I thought about how I was thinking. Otherwise, no improvements in my thinking would have taken place.

That’s the power of Meta-cognition.

So from now on, do a lot of Meta-cognition. Think a lot about how you think and become a better thinker.

I am waiting excitedly to see the new “Thinker Shamita”!  

প্রিন্সেস শামিতা তাহসিনকে লেখা চিঠি – ৯

প্রিন্সেস শামিতা তাহসিন এখন যা যা করতে পারে

Mr. and Mrs. তাহসিন

  • আমাদের বাড়িটা দেখতে কেমন হবে – ডিজাইন করতে পারে।
  • আমার আর শামিতার Venture’র নাম ঠিক করতে পারে। (Catchy একটা নাম হতে হবে কিন্তু!)
  • আমাদের জীবন কেমন হবে – কল্পনা করতে পারে!
  • আমাদের ওয়েবসাইটে কি কি থাকবে (ব্লগ পোস্ট, ভ্লগ (Vlog), ইন্টারেক্টিভ কনটেন্ট, নিউজ লিঙ্কস, বুকমার্ক্স, আর?) আর আমার সোশ্যাল মিডিয়া আকাউন্টগুলো কিভাবে দুইজন মিলে ম্যানেজ করা যায় তা নিয়ে ভাবতে পারে।


Entertainment, Edutainment (Education + Entertainment)

  • বই পড়তে পারে।
  • গান শুনতে পারে।
  • বিভিন্ন বিষয় নিয়ে Documentary দেখতে পারে।


আর্কিটেকচার অ্যান্ড ডিজাইন

  • ডিজাইন করতে পারে।
  • Architecture, EECS – কি কি পড়ানো হয় details জানতে পারে।
  • Book 2.0 ডিজাইন করতে পারে। (আমাকে দেখাতে হবে কিন্তু!)
  • Wearable Device ডিজাইন করতে পারে।
  • SuperMarket কিংবা Smart Home এ মানুষের Experience ডিজাইন করতে পারে।


রাজনীতি

  • রাজনীতি নিয়ে ভাবতে পারে। (Nagorik Students Association [NSA], Nagorik Youth Association [NYA] আর Nagorik Women’s Rights Forum consider করতে পারো!)

ইন্টেলেকচুয়াল লাইফ (!) 

  • নতুন নতুন বিষয় শিখতে পারে।
  • সবকিছু নিয়ে ভাবতে পারে। (Intellectual হতে হবে না!)
  • ভাবনাগুলো লিখে রেখো।

Life skills শেখা

  • সবসময় কিভাবে Happy থাকা যায় – সেই Secret জানতে পারে!
  • Mindfulness practice করতে পারে।
 
 
এই লিস্টে আর কি কি অ্যাড করা যায় – ভেবে লিস্টাটাকে আরও বড় করতে পারে!

তোমাকে রোল মডেল হতে হবে – ভুলো না যেন! 

প্রিন্সেস শামিতা তাহসিনকে লেখা চিঠি – ৮

শেখার সবচেয়ে সেরা উপায় 

অ্যাই!

আজকে একটা ইন্ট্রেস্টিং ব্যাপার!

নতুন কিছু শেখার সবচেয়ে সেরা উপায়টা জানতে চাও?

ধর, প্রোগ্রামিং এ ভাল হতে চাইছ।

তুমি তো বেসিকস জানোই।

সবচেয়ে সেরা উপায়ে শিখতে চাইলে তুমি যা করবে তা হচ্ছে – অবশ্যই বই বা ওয়েবসাইট খুলে বসবে “না”!

হুম, ঠিকই পড়েছ – বই বা ওয়েবসাইট খুলে বসবে “না”!

তাহলে?

তোমার ব্রেইনটা আছে কি জন্য?

ওটা হেলায় ফেলে রাখবে?

তুমি শিখবে “চিন্তা” করে!

প্রোগ্রামিং নিয়ে যা জানো মাথায় গোছানোর চেষ্টা কর – যা ভাবছ তা লিখে রাখো। ভাবতে ভাবতে এমন কিছু কি পেয়েছ যা জানো না? ওটা বই পড়ে বা Google করে শিখে নাও। এভাবে ভাবলে তোমার জ্ঞানে কোথায় শুন্যস্থান আছে বুঝবে – শুন্যস্থান পূরণ করেও নিতে পারবে। নতুন নতুন প্রশ্ন তৈরি কর – প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে নিতে বই পড় বা Google কর। 

শুধু বই পড়লে সামগ্রিক একটা ধারণা তৈরি হয় না। তুমি যে প্যারাটা পড়ছ – শুধু ওটুকুই তোমার মাথায় থাকে। শেখা বাকি জ্ঞানের সাথে প্যারাটার কোন সম্পর্ক থাকে না।

ধর, তুমি লুপিং নিয়ে পড়ছ। প্যারা হিসেবে পড়লে তুমি শিখবে C তে কিভাবে for loop লিখতে হয়। কিন্তু প্রোগ্রামিং করার সময় লুপিং কখন কাজে লাগে তা বুঝবে না। C এর নানা রকম প্রোগ্রামিং কন্সট্রাক্ট এর মাঝে লুপিং কোথায় – বুঝবে না।

বই থেকে না পড়ে ভাবতে বস।

প্রোগ্রামিং হচ্ছে – কম্পিউটারকে দেওয়া আমাদের নির্দেশের একটা সিকুয়েন্স। তো, নির্দেশগুলো কিভাবে দিবে?

এবার আমার “প্রোগ্রামিং এ হাতেখড়ি” [1] লেখাটা পড়। আমার পুরো লেখাটাকে একটা “ছবি”তে আনার চেষ্টা কর। প্রোগ্রামিং, ল্যাঙ্গুয়েজ, ব্রাঞ্চিং, লুপিং, আবস্ট্রাকশান – সব একটা “ছবি”তে সাজিয়ে রাখো। তখন বুঝবে কোন কাজে কোনটা ব্যবহার করতে হয়।

আবার ধর, মানুষের চোখ কিভাবে কাজ করে জানতে চাইছ। চোখের বিভিন্ন অংশ দেখে নাও। লেন্সের পেছনে রেটিনা, রেটিনা থেকে নার্ভ ইম্পালস প্রাইমারি ভিশুয়াল কর্টেক্স, সেকেন্ডারি ভিশুয়াল কর্টেক্স – সব নিয়ে একটা ছবি। এবার আলাদা আলাদাভাবে লেন্স, রেটিনা, প্রাইমারি আর সেকেন্ডারি ভিশুয়াল কর্টেক্স নিয়ে পড় আর প্রত্যেকটা সম্পর্কে যাই শিখছ, সব সেই ছবিতে সাজিয়ে রাখো। তাতে মানুষের চোখ কিভাবে কাজ করে সামগ্রিকভাবে বুঝতে পারবে।  

এভাবে যে বিষয়টা সম্পর্কে জানতে চাইছ, সেই বিষয়ের সমস্ত জ্ঞান একটা ছবিতে সাজিয়ে রাখো। তখন সেই বিষয়টা সম্পর্কে একটা সামগ্রিক ধারণা হবে। 

আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হল, যা নিয়ে পড়ছ, তাকে বাস্তব জীবনের অন্য সবকিছুর মত অনুভব কর। যেমন ধর, চোখ নিয়ে পড়ছ। চোখেও লেন্স আছে – এটা পড়ে চমকে ওঠ – ওয়াও! Physics এ যে লেন্স নিয়ে পড়ছিলাম – আমাদের চোখেও ওরকম আছে!

দুটা ব্যাপার গুরুত্বপূর্ণ –

  • প্রথম প্রথম ভাবতে অনেক কষ্ট হবে। কিন্তু ভাবতে থাকো – ব্রেইনের ক্ষমতা বাড়বে। তখন কি যে মজা হবে! শামিতা হবে ইন্টেলেকচুয়াল!
  • মাথায় গুছিয়ে রাখার সবচেয়ে ভাল উপায় Visualize করা। Visualize করলে পুরো ব্যাপারটা একসাথে দেখতে পাবে। Visualize না করলে আলাদা আলাদা অংশ দেখবে – পুরো ব্যাপারটা সম্পর্কে একটা সামগ্রিক ধারণা তৈরি হবে না। Visualize করে খাতায় বা ল্যাপটপে মাইন্ড ম্যাপিং অ্যাপ্লিকেশানে এঁকে রাখতে পারো।

এটা পড় – 


“Usually we make a practice of stopping an occupation as we meet the first layer of fatigue…… But if an unusual necessity forces us onward, a surprising thing occurs. The fatigue gets worse up to a certain point, when, gradually or suddenly, it passes away and we are fresher than before!….We have evidently tapped a new level of energy. There may be layer after layer of this experience, a third and a fourth ‘wind’. We find amounts of ease and power that we never dreamed ourselves to own……habitually we never push through the obstruction of fatigue.” [2]

ভাবতে চেষ্টা করলে একসময় fatigue পেয়ে বসবে। কিন্তু একটু কষ্ট করে ভাবতে থাকো – কিছুক্ষণ পর fatigue কেটে যাবে। হঠাৎ তোমার চিন্তা করার ক্ষমতাও বাড়বে। কিছুক্ষণ আগে যা ভাবতে কষ্ট হচ্ছিল – এখন ওটা নিয়ে ভাবা সহজ মনে হবে।

ঠিক যেভাবে মানুষ নিয়মিত Exercise করে ধীরে ধীরে ওজন তোলার ক্ষমতা বাড়ায়, চিন্তা করতে করতে ধীরে ধীরে Analytical চিন্তা করার ক্ষমতাও বাড়বে।

এভাবে কিছুদিন চেষ্টা করলে ব্রেইনের ক্ষমতা বাড়তে বাড়তে কিছুদিন পর দেখা যাবে ইন্টেলেকচুয়াল শামিতা তাহসিনের মাথায় দারুণ দারুণ সব আইডিয়া আসছে!

কাজেই কোন কিছু নিয়ে শিখতে চাইলে

  • প্রথমে – বিষয়টা সম্পর্কে কি কি জানোভেবে 
    • একটা ছবিতে সাজিয়ে রাখবে। 
  • তারপর নিজেকে নিজে প্রশ্ন করে তোমার জানায় যা যা ঘাটতি আছে সেসব
    • বই পড়ে বা Google করে বা কারও কাছ থেকে জেনে সেই ছবিতে সাজিয়ে রাখবে। 
  • যা নিয়ে পড়ছ তাকে বাস্তব জীবনের অন্য যেকোনো ব্যাপারের মত অনুভব করার চেষ্টা করবে।    


ভাবো! – এটাই কোন কিছু শেখার সবচেয়ে সেরা উপায়।

রেফরেন্স

প্রিন্সেস শামিতা তাহসিনকে লেখা চিঠি – ৭

একজন Designer শুধুমাত্র একটা Object বা Product ডিজাইন করেন না, মানুষের Interaction, Experience ও ডিজাইন করেন।

Designer হিসেবে তুমি ভাববে একটা সমস্যা সমাধানে Technology কিভাবে ব্যবহার করা যায়।

ডিজাইন প্রসেস একটা প্রশ্ন দিয়ে শুরু কোরো। প্রশ্ন আমাদের জ্ঞানে শূন্যস্থান দেখিয়ে দেয়, আমাদেরকে ফোকাসড রাখে। যেমন একটা প্রশ্ন হতে পারে – কাগজের বই পড়তে যে সুবিধাগুলো পাওয়া যায়, ওগুলো ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসে আনতে ডিভাইস কিভাবে ডিজাইন করতে হবে?

সামনে Internet Of Things চারপাশে ছড়িয়ে পড়বে। চারপাশের সবকিছু Internet এর মাধ্যমে connected থাকবে, একটা যন্ত্র আরেকটা যন্ত্রের সাথে communicate করবে। তখন তুমি করবে Experience Design।

ব্যাপারটা কেমন? 

ধর, একটা লোক কোন supermarket এ গেলো। Supermarket এর কম্পিউটারগুলো করল কি – লোকটার পকেটে থাকা স্মার্টফোন ব্যবহার করে লোকটাকে চিনে নিল আর তার সম্পর্কে সমস্ত তথ্য Internet থেকে সংগ্রহ করে supermarket এর বিভিন্ন screen এ লোকটা পছন্দ করতে পারে এমন সব product এর advertisements দেখাল – বিক্রি বাড়ানোর জন্য। সবকিছু কিন্তু যন্ত্রই করছে। একজন Experience Designer হিসেবে  Supermarket এ লোকটার পুরো  Experience, Interaction তুমি ডিজাইন করবে। 

Screen দেখতে কেমন হবে? কোথায় কোথায় Screen সাজানো থাকবে? Software লোকটা সম্পর্কে কি কি তথ্য জেনে নেবে? Advertisements গুলো কেমন হবে?  
এমন সব প্রশ্ন দাঁড় করিয়ে Design এর মাধ্যমে answer দিতে হবে। 

আর তখন কি হবে জানো? 

কেউ যখন জানতে চাইবে আমার ওয়াইফের নাম কি, আমি উত্তর দেব, আর্কিটেক্ট অ্যান্ড ডিজাইনার প্রিন্সেস শামিতা তাহসিন!    


Design 2.0

প্রিন্সেস শামিতা তাহসিনকে লেখা খোলা চিঠি – ৬


“ছুটির ঘন্টা”র গল্প

ছোট্ট বেলায় প্রতিদিন দুপুরে আম্মু যখন ঘুম পাড়াত, আমি একই গল্প প্রতিদিন শুনতে চাইতাম – বাংলা চলচিত্র “ছুটির ঘন্টা”র গল্প।

একটা ছোট ছেলে। রমজানের ১ মাসের ছুটি হওয়ার আগের দিন স্কুলে। সবাই খুশি – কিছুক্ষণ পর স্কুল ছুটি হবে আর তারপর ১ মাসের বন্ধ।

ছোট ছেলেটা বাথরুমে গেলো। আর স্কুলের কাজের লোক ভুল করে দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে দিল।

একসময় স্কুল ছুটির ঘন্টা বাজল। কিন্তু ছেলেটা কিছুতেই বেরুতে পারল না।

৩০ দিনের ছুটি। কেউ নেই এসে খুলে দেবে।

ছেলেটা ৩০টা দাগ কাটল দেয়ালে। এক একটা দিন যায় আর এক একটা দাগ কাটে।

পাইপের পানি, কাগজ, টাকা খেয়ে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখল।

ছেলেটা স্কুলের ফাঙ্কশানে গেয়েছিল – “একদিন ছুটি হবে, অনেক দূরে যাব, নীল আকাশে সবুজ ঘাসে খুশিতে হারাব”। ছেলেটার আর ছুটি হল না।

তার আগেই বাথরুমেই মারা গেলো।

এই হল গল্প।

গল্প প্রতিদিন একই ছিল। গল্পের এক পর্যায়ে প্রতিদিন একই ঘটনা ঘটত – আমার চোখে পানি আসতো। তারপর প্রতিদিন আমি একইভাবে অন্যপাশে ফিরে একই কথা বলতাম – চোখে ময়লা লেগেছে, তাই পানি পড়ছে!

আম্মু গানটাও শোনাত – “একদিন ছুটি হবে”। ইউটিউবে আজকে গানটা প্রথমবারের মত শুনছি।

ফেইসবুক যেমন বহু বছরের পুরনো বন্ধুদের সাথে দেখা করিয়ে দেয়, ইউটিউব দেখছি শৈশবের সাথে দেখা করিয়ে দিল!

২/২৬/১৩

প্রিন্সেস শামিতা তাহসিনকে লেখা চিঠি – ৫

শাম নামের গল্প

আমার নানি আমার ডাকনাম ঠিক করেছিলেন শাম। আমাকে আদর করে ডাকতেন “শাম বাদশাহ”।

নামের বই এ “শাম” নামের অর্থ খোঁজা হল। পাওয়া গেলো না। কেউ কেউ বলল, এটা সনাতনী ধর্মাবলম্বীদের নাম। নাম আরবি হওয়া ভাল। তাই শাম নামটারও আমার ডাকনাম হয়ে ওঠা হল না।

হারিয়েই গিয়েছিল নামটা।

অনেক অনেক বছর পর একদিন নর্থ সাউথে একটা মেয়ের সাথে কথা হল।

তাকে বললাম, তোমার নাম জানা হয়নি।

সে বলল, শামিতা।

আমি ঠিকমত শুনতে পাইনি। কি নাম বলল? শামিতা নাকি শামরিতা?

বললাম, মেজর?

সিএসই (CSE – Computer Science & Engineering)।

নর্থ সাউথে প্রথম দুই দিন ক্লাস করতে এসে ওকে খেয়াল করেছিলাম জানালাম।

“খেয়াল করে” ভবিষ্যৎ নিয়ে ভেবেছিলাম তা অবশ্য বলা হয়নি!

পরদিন ভোরে উঠে মনে পড়ে গেলো আমার ছোট্টবেলার সেই নাম – “শাম”।

অনেক অনেক বছর পর আবারও ছোট্টবেলার নামটা ফিরে এলো – এবার “তুমি” হয়ে ।

পরে অবশ্য দেখেছি, শাম নামটা Arabic. অর্থ Damascus.

[24.02.14]

প্রিন্সেস শামিতা তাহসিনকে লেখা খোলা চিঠি – ৪

আজকে কল্পনা করছিলাম, তোমাকে নিয়ে আমাদের বাসায় গিয়েছি। আব্বু, আম্মু, মাইশা, আলিফ, রাইসা – সবার মাঝে তুমি আর আমি। এর চেয়ে আনন্দের মনে হয় আর কিছু হতে পারে না!অপেক্ষায় আছি।

সময় কাটছে কেমন?

নতুন কিছু ডিজাইন করতে দেই – কি বল?

বিভিন্ন রকম Wearable Technology ডিজাইন করতে পারবে?

মানে এমন সব Technology যেগুলো মানুষ পরে।

যেমন ধর Google Glass.

কিংবা ধর, Smart watch.

Wearable Technology ডিজাইন করতে তোমাদের মেয়েদের খুব দরকার! মানুষ আবার এসব ব্যাপারে খুব ফ্যাশন সচেতন কিনা!

তুমি কি কখনও বিচ্ছিরি দেখতে একটা চশমা, তা যত হাই টেকই হোক না কেন, পরে ঘুরবে?

আরেকটা ব্যাপার মনে রেখো – Extreme Conditions, যখন Smart Phone হাতে নিয়ে দেখার সুযোগ থাকে না, তখন Wearable Technology অনেক কাজের হয়ে উঠে।

যেমন ধর, আমি সাঁতার পারি না, কিন্তু তুমি পারো। তুমি আমাকে শিখিয়ে দিলে। তুমি এত ভাল শেখালে যে আমি একেবারে সময় মেপে সাঁতার কাটা শুরু করলাম! আমি কি সাঁতার কাটার সময় বারবার Smart Phone বের করে “কেমন করছি” – তা দেখতে পারবো?

মোটেই না। কাজেই তোমাকে আমার জন্য একটা Smart Glass ডিজাইন করে দিতে হবে – goggles এর মত, কিন্তু glass এ সময় ওঠে।

আমার এমন একটা Smart Glass পেলে আর কি লাগে! তুমি খেতে ডাকলেও দেখা যাবে সাঁতার আগের বারের চেয়ে দ্রুত কাটছি কিনা তা মাপায় ব্যস্ত!

দাও না এমন একটা Smart Glass এর ডিজাইন!

Smart Glass, Smart Watch এর মত আর কি কি Wearable Technology হতে পারে? Wristband হতে পারে। আর? শার্ট বা জামায় sensor? দেহের কোন একটা quantity নির্দিষ্ট সময় পর পর মাপবে। অসুস্থদের কাজে আসতে পারে। আর কিছু?

ওগুলোতে কি কি feature থাকতে পারে? User Interface কেমন হবে? User কিভাবে interact করবে?
হেই! ডিজাইন করার সময় Flexible Electronics এর কথা মাথায় রাখতে পারো। চারপাশে যেসব Electronic Gadget দেখো, ওগুলো বাঁকানো যায় না – rigid. Flexible Electronics বাঁকানো যায়। চিন্তা ভাবনা করে দেখতে পারো Flexible Electronics দিয়ে কি কি বানানো যায়।  

প্রিন্সেস শামিতা তাহসিনকে লেখা চিঠি – ৩

অ্যাই!

তুমি সবকিছু একটু বেশি বেশি উপভোগ করতে চাও? পড়াশোনায় বেশি কন্সান্ট্রেশান চাও? স্ট্রেস ফ্রি লাইফ চাও? অনেক অনেক হ্যাপি হতে চাও?

আজকে একটা নতুন জিনিস শেখাই – মাইন্ডফুলনেস (Mindfulness)

কঠিন নামের আড়ালে ব্যাপারটা আসলে খুবই সহজ – যা-ই করছ, একটু বেশি বেশি মনোযোগ দিয়ে করা।

ধর, ভাত খাচ্ছ। নাহয় একটু বেশি মনোযোগ দিয়ে খেলে। ফ্রাইড চিকেনের ঝাল টেস্ট আর আচারের টক টেস্ট একটু ভালমত অনুভব করলে।

কিংবা ধর গান শুনছো। প্রতিটা বাক্য নিজের বলে কল্পনা করলে। প্রিয় ইন্সট্রুমেন্টাল মিউসিকের বিট মনের চোখে দেখলে।

আবার ধর বই পড়ছ। যা পড়ছ সবকিছু মনের চোখে দেখে নিলে।

আর মাঝে মাঝে করলে কি একদম কিছু না করে টরে শুধু চুপ হয়ে বসে থাকলে। হাতের উপর মৃদু বাতাস বয়ে যাওয়া অনুভব করলে। মনোযোগ কখনও কালকের একটা ঘটনার দিকে চলে গেলো। আবার মনোযোগ ফিরিয়ে আনলে। এবার নিঃশ্বাসের উপর। কয়েক সেকেন্ড ধরে শ্বাস নিয়ে লাংগস ভরে ফেললে। আবার কয়েক সেকেন্ড ধরে শ্বাস ছাড়লে। এভাবে অনেকবার।

মানে যা – ই করছ শুধু তাতেই মনোযোগ।

তাতে কি হবে জানো?

ফ্রাইড চিকেনটা আগের চেয়ে বেশি মজা লাগবে!

আগের চেয়ে বেশি সুমধুর লাগবে প্রিয় গানটা!

পড়াশোনায় কন্সান্ট্রেশান বাড়বে। অল্প সময়ে অনেক কিছু শিখে নিতে পারবে।

আর স্বাস্থ্য ভাল থাকবে।

এরপর আরও দারুণ ব্যাপার!

মন খারাপ? টেনশান হচ্ছে? শরীরের ঠিক কোন কোন জায়গায় মন খারাপ লাগাটা ফীল করছ থার্ড পারসন ভিউ থেকে মনোযোগ দিয়ে বোঝার চেষ্টা করতো। টেনশান কোথায় ফীল করছ? এবার ওটাকে দূর করার চেষ্টা কর। মনে মনে বিশ্বাস কর, তুমি চাইলেই ওটা দূর করতে পারবে। কিছুদিন ট্রাই কর। সত্যি সত্যি মন খারাপ দূর করে ফেলতে পারবে!

আমাদের হয় কি, পারিপার্শ্বিকের একটা ঘটনা দেখে ইমোশানাল রেসপন্স হিসেবে মন ভাল বা খারাপ হয়। রেসপন্সটা অটোম্যাটিক। অন্তত এতদিন তোমার বেলায় তাই ছিল। আজকে থেকে তুমি চাইলেই ইমোশানাল রেসপন্সটা নিউট্রালাইয করতে পারো!

আমি বলেছিলাম না, “পারিপার্শ্বিক” আমাদের যতটা না মন ভাল বা খারাপ করে তার চেয়ে বেশি করে “পারিপার্শ্বিক দেখে আমরা কি ভাবলাম”।

এবার বুঝলে?

একটা ব্যাপার মনে রেখো। এগুলো কিন্তু প্র্যাকটিসের ব্যাপার। প্রথমদিকে মনোযোগ এক জায়গায় রাখতেই অনেক কষ্ট হবে। যত প্রাক্টিস করবে তত ভাল করতে পারবে।