জনকল্যাণের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে নাগরিক শক্তি

নাগরিক শক্তি জনকল্যাণের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।

নাগরিক শক্তি দেশের তরুণদের জন্য বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম গড়ে দেবে। এ লক্ষ্যে নাগরিক শক্তি দেশের নাগরিক সমাজ ও ব্যবসায়ী সমাজ এবং তরুণদের মাঝে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করবে।


নাগরিক শক্তির সাথে যুক্ত যে কেউ এক একটা জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ লক্ষ্য হিসেবে নিয়ে কেন্দ্রকে জানাতে পারেন। দেশের জন্য কল্যাণকর মনে হলে কেন্দ্র থেকে সব ধরণের সহায়তা করা হবে। নাগরিক শক্তির নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে দেশের প্রতিটা অঞ্চলে পৌঁছা যাবে।


কেউ লক্ষ্য হিসেবে নেবেন দেশের প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে কোন একটা প্রকল্প – হতে পারে দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে ঢেলে সাজানো। কেউ একটি এলাকার নারী অধিকার নিয়ে কাজ করবেন। কেউ যৌতুক প্রথার বিরুদ্ধে দেশব্যাপী গণসচেতনতা সৃষ্টি করবেন – সারা দেশের মানুষ তার সাথে যোগ দেবেন। সনাতনী ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তার জন্য জনগণকে সংগঠিত করবেন কেউ। কেউ তরুণ উদ্যোক্তাদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে নাগরিক শক্তির সহায়তায় সমাধানে কাজ করবেন। শিল্প বিকাশের পথে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানে নাগরিক শক্তির পুরো নেটওয়ার্ক ব্যবহার করবেন কোন শিল্প ব্যবসায়ী। আবার কেউ দেশের শিল্প শ্রমিকদের সমস্যা সমাধানে, তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে কাজ করবেন। 


পুরো লক্ষ্যটাকে নাগরিক শক্তির পক্ষ থেকে কয়েক ভাগে ভাগ করে বাস্তবায়ন করা হবে। অগ্রগতি নির্দিষ্ট সময় অন্তর পর্যালোচনা করা হবে। সমস্যা, বাঁধাগুলো চিহ্নিত করা হবে এবং সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে।


তরুণ তরুণীদের মাঝে স্বপ্ন, উদ্যম, উৎসাহের কোন ঘাটতি নেই। ওরা পরাজয় খুব একটা দেখেনি – তাই পরাজয় মানতেও চায় না। ওরা পছন্দ করে একসাথে সময় কাটাতে, connected হতে।connected হওয়ার এই ইচ্ছাটাকে জনকল্যাণমূলক নানা কাজে রুপান্তর করা যায় তরুণদের একত্রিত করে। বাংলাদেশে গণিত অলিম্পিয়াডের মত দেশ পাল্টে দেওয়া বিশাল কর্মযজ্ঞ ঘটছে শুধুমাত্র কিছু তরুণের স্বেচ্ছা কর্মোদ্যোগে। তরুণরা নিজেদের আর দশজনের চেয়ে আলাদা প্রমাণ করতে চাইবে! নাগরিক শক্তি বিভিন্ন রকম কল্যাণমুখী প্ল্যাটফর্ম গড়ে দিয়ে ওদের কর্মস্পৃহা জাগিয়ে তুলবে। তরুণদের হাতের কাছেই Google. ওরা চাইলেই জ্ঞানের দিক দিয়ে যে কাউকে হারিয়ে দিতে পারে। নাগরিক শক্তি তরুণদের এই অফুরন্ত সম্ভাবনাকে কাজে লাগাবে।   

প্রতিহিংসা – অপপ্রচার নয়, চাই উন্নয়নের রাজনীতি

একজন সম্মানিত মানুষ সারাজীবন তিল তিল করে একটি প্রতিষ্ঠানকে দাঁড় করিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটির উপর কাজের কারণে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটিকে এমনভাবে গড়ে তুলেছেন যে বাবস্থায় গ্রামের দরিদ্র মহিলারা প্রতিষ্ঠানটির মালিকানায় (প্রতিষ্ঠানের ৯৭ শতাংশ মালিকানা গরিব মহিলাদের হাতে) এসেছে। সেই প্রতিষ্ঠান – গ্রামীণ ব্যাংক থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া শুধুমাত্র অন্যায় নয়, এটি দেশে দারিদ্র্য দূরীকরণে, নারীর ক্ষমতায়নে বিশাল ভূমিকা রাখা, দেশের প্রায় ৮৪ লক্ষ মানুষ যে প্রতিষ্ঠানের সাথে নিজেকে যুক্ত করে লাভবান হয়েছেন এবং হচ্ছেন, অন্যান্য দেশেও যে প্রতিষ্ঠানটির আদলে প্রতিষ্ঠান তৈরি হয়েছে, সেই প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতে সঠিকভাবে চলবে কিনা তা নিয়েও সংশয় তৈরি করে দিয়েছে। শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে অন্যায় করা, না বুঝে অপপ্রচার চালানো এবং দেশের ক্ষতি করা – এমন রাজনীতি দেশে চলতে পারে না।
ড. মুহম্মদ ইউনুস এর

  • মেধা (নোবেল শান্তি পুরষ্কার বিজয়ী, ২০০৬; বিশ্বব্যাপী ক্ষুদ্রঋণ এবং সামাজিক ব্যবসার প্রবর্তক)
  • সততা (বর্তমান সরকার সকল শক্তি ব্যবহার করেও কিছু খুঁজে পায়নি) 
  • প্রশাসনিক দক্ষতা (বাংলাদেশ সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিজ মডেলের উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন)

প্রশ্নাতীত।

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তার যে ব্যাপক সুপরিচিতি আছে তা ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশের সাথে সম্পর্ক জোরদার করা, কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া (বিভিন্ন সুবিধা যেমন বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শুল্কমুক্ত প্রবেশ ইত্যাদি) – সরকার এসব করতে পারত।

তা না করে প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে গ্রামীণ ব্যাংকে হাত দেওয়াকে আমরা চরম অন্যায় বলে মনে করি। যে দেশে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে অবাবস্থাপনা এবং হাজার হাজার কোটি টাকার লোপাট-দুর্নীতি চলে, সে দেশে গ্রামের অসহায় মানুষদের ব্যাংকটিকে রাষ্ট্রায়ত্ত করার প্রচেষ্টা আমাদের শঙ্কিত করে।

যে দেশের ৫০ ভাগ মানুষের বয়স ২৩ বা তার চেয়ে কম, যে বিশাল তরুণ প্রজন্ম কর্মক্ষেত্রের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করছে, যাদেরকে ঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারলে দ্রুত দেশের চেহারা পাল্টে যাবে – সেই দেশে আজ উন্নয়নের রাজনীতি খুব বেশি জরুরী।

আরও

“… by dividing up and splitting up the Grameen Bank in 19 pieces only – you’ll destroy the bank. If somebody wants to destroy the bank, that’s the best way to do this – cut it up, chop it off and it’s gone.”

৮৪ লক্ষ ঋণগ্রহীতার প্রতিষ্ঠানকে ভেঙে ১৯ টুকরা করার প্রচেষ্টা – আমরা হাসব নাকি কাঁদব!


“Making money is a happiness. Making other people happy is a superhappiness.”

“Within two years, more than 25,000 beggars stopped begging completely. Because they become such a successful door-to-door salesperson.”

“So you see, you give people a chance, they bring out their own ability. So that’s the message here.”

– Muhammad Yunus And ‘A Cinderella Moment’ At The Forbes Philanthropy Summit – Forbes

“গ্রামীণ ব্যাংক গরিব মহিলাদের নিজস্ব অর্থে গড়া সম্পদ। যে প্রতিষ্ঠানের ৯৭ শতাংশ মালিকানা গরিব মহিলাদের হাতে, সেখানে তদন্ত কমিশন কীভাবে প্রস্তাব করে যে এটার বৃহত্তর মালিকানা সরকারকে দিয়ে দিতে হবে। গরিব মানুষের মালিকানাকে গায়ের জোরে কেড়ে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে কেন?

যে ব্যাংক নাগরিকদের নিজের টাকায় চলে সেখানে সরকারকে কেন ৫১ শতাংশ বা তারও বেশি মালিকানা দিতে হবে এবং সরকারের আজ্ঞাবহদের হাতে এই ব্যাংক পরিচালনার (তথা লুটপাটের) ব্যবস্থা করে দিতে হবে, এর ব্যাখ্যা কি কমিশন জাতির সামনে উপস্থাপন করবে?

এই ব্যাংক সরকারের কাছ থেকে কোনো টাকা নেয় না, কোনো দাতা সংস্থা থেকেও টাকা নেয় না। এটা সম্পূর্ণরূপে স্বনির্ভর প্রতিষ্ঠান। এটা গরিব মহিলাদের মালিকানায় এবং তাদেরই পরিচালনায় একটি ব্যাংক।

গ্রামীণ ব্যাংক চিরজীবী হোক। গরিব মহিলাদের ক্ষমতা চিরস্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত হোক।”

– দেশের মানুষ গ্রামীণ ব্যাংককে ছিনিয়ে নিতে দেবে না