জঙ্গিবাদ দমনে চাই জাতীয় ঐক্য

“ময়মনসিংহের ত্রিশালে আজ রোববার সকালে প্রকাশ্যে প্রিজনভ্যানে গুলি চালিয়ে ও বোমা মেরে জঙ্গি মামলার তিন আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ সময় গুলিতে এক পুলিশ সদস্য নিহত হন। এক উপপরিদর্শকসহ (এসআই) আহত হন প্রিজনভ্যানে থাকা পুলিশের তিনজন সদস্য। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কে ত্রিশালের সাইনবোর্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, ছিনিয়ে নেওয়া তিন আসামিই নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) সঙ্গে যুক্ত।”

সূত্র – জেএমবির তিন দুর্ধর্ষ জঙ্গি প্রকাশ্যে ছিনতাই

আয়মান আল-জাওয়াহিরির বক্তব্য কি জঙ্গিদের উত্তেজিত করেছে?

ইসলাম শান্তির ধর্ম। হজরত মুহম্মদ (সঃ) মক্কা বিজয়ের পর শান্তি ও সংযমের যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন, আজকের দিনের মুসলিমদের কাছ থেকেও আমরা একই আচরণ প্রত্যাশা করি। শান্তির ধর্ম ইসলামের অপব্যাখ্যা দিয়ে সন্ত্রাস এবং অন্যান্য ঘৃণ্য কার্যকলাপ সংগঠিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে।

“জঙ্গিবাদ মোকাবিলা করতে হলে এর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও সামাজিক পদক্ষেপ নিতে হবে এবং তাতে দল-মতনির্বিশেষে সবাইকে একত্র করা জরুরি।

সরকার জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছে, এটি অবশ্যই ভালো দিক। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক যে, এর সঙ্গে রাজনৈতিক মতৈক্য প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেই; বরং দোষারোপের রাজনীতি চলছে। সম্প্রতি পুলিশের গাড়ি থেকে জঙ্গি ছিনতাইয়ের যে ঘটনা ঘটল, তা নিয়েও অভিযোগের তির ছুড়ছে একে অপরের বিরুদ্ধে। এর অর্থ, জঙ্গিবাদের বিষয়টি কেউ-ই গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে না। এ থেকে দলীয় ফায়দা লোটার চেষ্টা চালাচ্ছে উভয় পক্ষ।

আমাদের সমাজটি মারাত্মকভাবে বিভাজিত। রাজনৈতিকভাবে যেমন, তেমনি মতাদর্শিকভাবেও। যেসব গোষ্ঠী বা সংগঠন ধর্ম নিয়ে কাজ করে, তাদের মধ্যে একধরনের বিচ্ছিন্নতাবোধ কাজ করে। এর কারণ যা-ই হোক, রাষ্ট্র বা সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে সেই বিচ্ছিন্নতা বাড়তে না দেওয়া এবং তাদের মূলধারায় ফিরিয়ে আনা। কেননা, সামাজিক সংঘবদ্ধতাই রাষ্ট্রের নিরাপত্তার পূর্বশর্ত। এর অর্থ এই নয় যে যারা সন্ত্রাস করছে বা জননিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ, সরকার তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে না।

বাংলাদেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ হলেও ধর্মান্ধ নন। তবে ধর্মপ্রাণ মানুষ আহত হন এমন কিছু করলে জঙ্গিবাদীরা সেই সুযোগ নিতে পারে। অন্যদিকে শহর ও গ্রামাঞ্চলের মধ্যে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিভাজনটি অনেক বেশি প্রকট। সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বার্থেই এই বৈষম্য দূর করতে হবে, শিক্ষার বিস্তার ঘটাতে হবে।

আয়তনে বাংলাদেশ ছোট হলেও এর রয়েছে বিশাল জনগোষ্ঠী। এত বড় সমাজে কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিয়ে জঙ্গি মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। এর জন্য রাজনৈতিক, শিক্ষাগত, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।

সর্বোপরি জঙ্গিবাদ নির্মূলে চাই রাজনৈতিক ঐকমত্য। বিরোধী দলের সঙ্গে যতই মতবিরোধ থাকুক না কেন, এ ব্যাপারে সরকারের উচিত হবে তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসা।”

সূত্র – জঙ্গি দমনে জাতীয় ঐকমত্য প্রয়োজন

এরপর