ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা

ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল এর পদত্যাগে আমরা যারা ড. ইকবাল এর শুভানুধ্যায়ী, আমাদের যাদের কারও কারও জীবন পালটে গেছে ড. ইকবাল এর কারণে – আমরা কষ্ট পেয়েছি। আমার জীবনে যেসব ভাল ঘটনা ঘটেছে, তাদের একটি হল গণিত অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণ। আমি চিন্তা করতে শিখেছি গণিত অলিম্পিয়াডের বইগুলো পড়ে। এখনও সময় পেলে সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করি। জীবনে বার্থতা এলেও গণিত অলিম্পিয়াডের সাফল্য দিয়ে নিজেকে অনুপ্রাণিত করেছি।

যাই হোক, সমস্যা শুরু সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে।

আমাদের দেশের দরিদ্র ছাত্রদের পক্ষে সারাদেশ ঘুরে ভিন্ন ভিন্ন ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ সম্ভব না। সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা হলে সবাই বাড়ির কাছের কেন্দ্রে গিয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় আলাদা আলাদা ভর্তি পরীক্ষা নিলে একই দিন বা কাছাকাছি দিন দুটি ভর্তি পরীক্ষা পড়লে অবস্থাসম্পন্ন ছাত্রদেরও একটি বিশ্ব বিদ্যালয় বেছে নিতে হয়। আমার নিজের অভিজ্ঞতায়, আমার এক সহপাঠী CUET এবং IBA ভর্তি পরীক্ষা একইদিনে হওয়ায় প্রথম বছর CUET এ পরীক্ষা দিয়ে আডমিশান নেয় এবং পরের বছর IBA তে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে IBA তে ভর্তি হয়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা হলে হয়ত তার জীবনে একটি বছর বেচে যেত।

SUST এবং যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় একসাথে ভর্তি পরীক্ষা নেবে – এই উদ্যোগটার পেছনে সবচেয়ে জোরালো ভূমিকা রেখেছেন ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল। সিলেট বাসি হয়ত এটাকে তাদের দাবি দাওয়ার সাথে সঙ্গতি পূর্ণ মনে করছে না। তারা SUST এর আলাদা ভর্তি পরীক্ষা এবং সেখানেও সিলেট বাসির কোটা আশা করে। ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল এর নিজস্ব মূল্যবোধের কারণে SUST এ অবস্থানকালীন সময়ে এক পক্ষ সবসময় তার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এই দাবিটি নিয়ে এতদিন যারা তারা পাশে ছিলেন তারাও বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ায় এবং তার অনেকদিনের স্বপ্ন সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা বাতিল হওয়ায় পদত্যাগ করেছেন। ড. জাফর ইকবাল হয়ত ভাবছেন দেশের কল্যাণে কিছু করতে চাইলে পাশে থাকার মত কেউ নাই। কিন্তু ড. জাফর ইকবাল কে যারা পছন্দ করেন তারা সবসময়ই উনার পাশে ছিলেন, আছেন, থাকবেন।

২৬/১১/১৩

ড. জাফর ইকবাল এবং ড. ইয়াসমিন এর পদত্যাগের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের খবর আমাদের স্বস্তি এনে দিয়েছে।

SUST কে আজকের অবস্থানে আনার পেছনে ড. ইকবালের অবদান সবচেয়ে বেশি। ঢাকার কোন প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি তে প্রায় ১০ গুন বেতনে শিক্ষকতা না করে SUST কে গড়ে তোলার প্রচেষ্টাকে দেশবাসী স্বীকৃতি দেবে এমনটাই আমরা আশা করি। অনেক ছাত্র ছাত্রী SUST এ পড়তে যেতে চায় শুধুমাত্র ড. ইকবাল ওখানে আছেন বলে।

এর আগে ড. জাফর ইকবাল অন্যান্যদের নিয়ে মোবাইল ফোন এর মাধ্যমে ভর্তি পরীক্ষায় রেজিস্ট্রেশানের সুবিধা চালু করেছিলেন – এই উদ্যোগে দেশের আরও বেশি ছাত্রছাত্রী SUST এর ভর্তি পরীক্ষায় রেজিস্ট্রেশান করেছিল। SUST এ এমন ছাত্রছাত্রী নিশ্চয় খুঁজে পাওয়া যাবে যিনি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশান বাবস্থা না থাকলে যাতায়াত, থাকাখাওয়ার খরচের কথা ভেবে ভর্তি ফর্ম কিনতেই যেতেন না – তার জীবন নিশ্চয় পাল্টে গেছে যারা এই উদ্যোগটা বাস্তবায়ন করেছিলেন তাদের কারণে।

মন্দের ভাল – বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতির দাবি এবার সবার নজরে এসেছে। আমাদের প্রত্যাশা – দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রশাসন এব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের দেশের দরিদ্র, মেধাবী ছাত্রদের কথা, যাতায়াতে অহেতুক অর্থ অপচয়ের কথা বিবেচনায় নেবেন।

২৭/১১/১৩